লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

‘লালসালু’ মূলত একটি সামাজিক উপন্যাস, যার উপজীব্য হলো যুগ-যুগ ধরে চলে আসা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় ভীতি। মজিদ নামে এক স্বার্থান্বেষী ও ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে। স্বার্থের খাতিরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে শেষ পর্যন্ত সে মহব্বতনগর গ্রামে খালেক ব্যাপারীর বাড়িতে ঘাঁটি গাড়ে। সেই গ্রামের বাঁশঝাড়ের পাশে ছিল একটি পরিচয়হীন কবর। এরপর মজিদ প্রচার করতে শুরু করে যে কবরটি ‘মোদাচ্ছের’ (অজ্ঞাতনামা) পীরের, আর স্বপ্নাদেশেই তিনি এই গ্রামে মাজারের তদারকি করতে এসেছেন। গ্রামবাসী তার স্বপ্নের বিবরণ শুনে ভীত হয় এবং একইসঙ্গে তা বিশ্বাস করে। তারা দ্রুত কবরটি পরিষ্কার করে লালসালুতে ঢেকে সেটিকে একটি পীরের মাজারে রূপান্তরিত করে, আর মজিদ হয়ে ওঠে সেই মাজারের খাদেম। এভাবেই মাজারটি মজিদের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। অল্পদিনের মধ্যে সে গ্রামের মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে ধীরে ধীরে সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বলে প্রচার করে গ্রামের প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তিতে পরিণত হয়।

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [ঢাকা বোর্ড ২০২৫]
নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা হাকিম। জীবন-জীবিকার জন্য সে চলে যায় শহরে। রিকশা চালিয়ে জীবিকা শুরু করলেও অবৈধ ব্যাবসার সাথে যুক্ত হয়ে ক্রমেই প্রতিপত্তির মালিক হয়ে অভিজাতদের দলভুক্ত হয়।

ক. “নাফরমানি করিও না”- উক্তিটি কার?

খ. “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখ।

ঘ. “উদ্দীপকের হাকিম এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত”- তোমার মতামত দাও।

উত্তরঃ

ক. “নাফরমানি করিও না”- উক্তিটি মজিদের।

খ. “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ।”- শিলাবৃষ্টির পর মজিদসহ মহব্বতনগরবাসী সম্পর্কে বলা হয়েছে “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ।”

‘লালসালু’ উপন্যাসের শেষ দিকে মহব্বতনগরে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি হয়। এতে গ্রামের ধানখেত নষ্ট হয়ে যায় এবং চারদিকে ধ্বংসের চিত্র দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে মজিদসহ গ্রামের লোকজন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। শিলাবৃষ্টিতে তাদের আশা-ভরসা যেন ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তাদের চোখেমুখে তখন গভীর চিন্তা ও দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা যায়। এমন সময় মজিদ সবাইকে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে বলে। তার কথা শুনে মানুষের মনে আবার আশা ও ভরসা জাগে। তাদের চোখে সেই বিশ্বাসের দৃঢ়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই তাদের চোখকে ‘বিশ্বাসের পাথরে খোদাই’ করা হয়েছে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কঠিন বিপদের মধ্যেও তাদের মনে যে বিশ্বাস ও আশা তৈরি হয়েছিল, তা ছিল খুব শক্ত ও অটুট।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের আত্মপ্রতিষ্ঠার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘লালসালু’ উপন্যাসের প্রধান পটভূমি মহব্বতনগর গ্রাম। জীবিকার সন্ধানে শস্যহীন এলাকা থেকে মজিদ এই গ্রামে এসে আশ্রয় নেয়। পরে নিজের বুদ্ধি ও কৌশল কাজে লাগিয়ে একটি পুরোনো পরিত্যক্ত কবরকে ঘিরে ধর্মের নামে ব্যবসা শুরু করে। এভাবে সে ধীরে ধীরে নিজের স্বার্থ পূরণ করে এবং গ্রামে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, নাজিরপুরের বাসিন্দা হাকিম জীবিকার জন্য শহরে গিয়ে রিকশা চালায়। কিন্তু পরে সে অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে অর্থ ও ক্ষমতার মালিক হয়। হাকিমের মতো মজিদও সহজ-সরল মানুষকে ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্ত করে। মহব্বতনগরের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে মজিদ তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। কবরের ভয় দেখিয়ে সে নিজের কথা মানতে বাধ্য করে এবং সমাজে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হাকিম ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের আত্মপ্রতিষ্ঠার পদ্ধতির মধ্যে বেশ মিল রয়েছে।

ঘ. অবস্থানগত দিক থেকে বলা যায় “উদ্দীপকের হাকিম এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত” মন্তব্যটি যথার্থ।

‘লালসালু’ উপন্যাসে অস্তিত্ববাদী ভাবনা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। শস্যহীন ও দরিদ্র এলাকা থেকে মজিদের মতো অনেক মানুষ দুবেলা খাবার জোগাড় করে বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়। জীবনে টিকে থাকার প্রয়োজনেই তারা অনেক সময় ভালো-মন্দ বিচার না করে নানা পথ বেছে নেয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে হাকিম জীবিকার জন্য শহরে আসে এবং রিকশা চালায়। কিন্তু পরে বেশি টাকা পাওয়ার আশায় সে অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। তার এই কাজে নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার ইচ্ছাই প্রধান কারণ। একইভাবে মজিদের জীবনেও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদ ছিল খুব প্রবল।

‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য এমন এক পথ বেছে নেয়, যা ছিল প্রতারণায় ভরা। সে জানত তার কাজ ভুল, তাই মনে ভয়ও ছিল। কিন্তু নিজের জীবন ও অবস্থান রক্ষা করার তাড়নায় সে সেই ভয়কে গুরুত্ব দেয়নি। মহব্বতনগরের মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে সে একটি পুরোনো কবরকে কেন্দ্র করে ধর্মের ব্যবসা শুরু করে। তার কাছে বৈধ-অবৈধের চেয়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে হাকিমও জীবিকার প্রয়োজন থেকে ধীরে ধীরে অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, হাকিম ও মজিদ দুজনের কাজের ধরন আলাদা হলেও উভয়ের মধ্যেই বেঁচে থাকা ও নিজের অবস্থান ধরে রাখার তাগিদ কাজ করেছে। এই দিক থেকে দুজনের চরিত্রেই অস্তিত্ববাদী চেতনার মিল রয়েছে।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [ঢাকা বোর্ড ২০২৫]
আসামের চা বাগানে কুলি জোগাড় করা খুবই কঠিন। দলে দলে লোক কালাজ্বরে মরে। মজুর খাটতে সেখানে কোনো লোক যেতে চায় না। সেই সমস্যা নিরসনে এবং কমিশন পাওয়ার লোভে সুন্দরলাল সাঁওতাল পরগনার অশিক্ষিত, অসহায় ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের শিং বোঙ্গার দৈববাণীর ভয় দেখিয়ে কুলির কাজ করতে বাধ্য করায়।

ক. সাত ছেলের বাপের নাম কী?

খ. “দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা।”- উক্তিটি কার? কোন প্রসঙ্গে বলেছে?

গ. উদ্দীপকের দৈববাণীর সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কীসের সাদৃশ্য রয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।

ঘ. “উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো যেন মহব্বতনগরের গ্রামবাসীর প্রতিনিধি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ

ক. সাত ছেলের বাপের নাম দুদু মিঞা।

খ. “দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা।”- দুনিয়ায় বাস করতে গেলে সময়ে-অসময়ে মিথ্যা কথা না বললেই নয় এ প্রসঙ্গে মজিদ এ উক্তিটি করেছে।

‘লালসালু’ উপন্যাসের এই অংশে দেখা যায়, মজিদ মহব্বতনগরের আহত মানুষদের খোঁজ নিতে করিমগঞ্জ হাসপাতালে যায়। অসুস্থ লোকদের দেখে এবং তাদের চিকিৎসার অবস্থা জেনে সে গ্রামে ফিরে আসে। এরপর গুরুতর আহত কালু মিয়ার বাবাকে জানায় যে হাসপাতালে তার ছেলের ভালোভাবে সেবা করা হচ্ছে এবং ওষুধেরও কোনো অভাব নেই। মজিদ আরও বলে, হাসপাতালের ডাক্তার তার মুরিদ। কিন্তু বাস্তবে কথাটি সত্য নয়। মজিদ জেনেশুনেই এই মিথ্যা কথা বলে। কারণ সে মনে করে, মানুষের জীবনে সব সময় সত্য কথা বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে নিজের সুবিধার জন্য মিথ্যা বলতেও হয়। তার মতে, দুনিয়া খুব জটিল জায়গা এবং এখানে টিকে থাকতে কখনো কখনো মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়।

গ. উদ্দীপকের দৈববাণীর সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মোদাচ্ছের পিরের মাজারের সাদৃশ্য রয়েছে।

‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদের ক্ষমতা ও প্রভাবের মূল কেন্দ্র হলো মোদাচ্ছের পিরের মাজার। একটি পুরোনো পরিত্যক্ত কবরকে মাজারের রূপ দিয়ে মজিদ সেটিকে ঘিরে ধর্মের ব্যবসা শুরু করে। গ্রামের মানুষ অশিক্ষিত, সহজ-সরল ও কুসংস্কারে বিশ্বাসী হওয়ায় তারা মজিদের কথা সহজেই মেনে নেয়। মাজারের ভয় দেখিয়ে মজিদ তাদের ওপর নিজের কর্তৃত্ব তৈরি করে এবং নানা ভাবে তাদের শোষণ করতে থাকে।

উদ্দীপকে সুন্দরলালও গ্রামের অসহায় ও অশিক্ষিত মানুষদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিজের কাজে লাগায়। সে তাদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজের লাভ করে এবং শিং বোঙ্গার দৈববাণীর ভয় দেখিয়ে তাদের কুলির কাজ করতে বাধ্য করে। মানুষ তার কথাকে সত্য মনে করায় সুন্দরলালের প্রভাব আরও বেড়ে যায়।

একইভাবে মজিদও মহব্বতনগরের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে নিজের ক্ষমতা বাড়ায়। মোদাচ্ছের পিরের মাজারের ভয় দেখিয়ে সে গ্রামের মানুষকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে। সুন্দরলাল যেমন দৈববাণীকে নিজের শক্তির মাধ্যম বানিয়েছে, তেমনি মজিদ মাজারকে তার প্রভাবের প্রধান হাতিয়ার করেছে। তাই উদ্দীপকের শিং বোঙ্গার দৈববাণী এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মোদাচ্ছের পিরের মাজারের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য দেখা যায়।

ঘ. কুসংস্কারে বিশ্বাস করে প্রতারিত হওয়ার দিক থেকে বলা যায় “উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো যেন মহব্বতনগরের গ্রামবাসীর প্রতিনিধি” মন্তব্যটি যথার্থ।

‘লালসালু’ উপন্যাসের কাহিনি মহব্বতনগর গ্রামের মানুষকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাই তারা নানা কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসে আচ্ছন্ন। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থপর লোকেরা সহজেই তাদের ঠকাতে পারে।

উদ্দীপকের ঘটনায় দেখা যায়, সাঁওতাল পরগনার অসহায় ও অশিক্ষিত মানুষের সরলতার সুযোগ নেয় সুন্দরলাল। সে দৈববাণীর ভয় দেখিয়ে তাদের আসামের চা-বাগানে কুলির কাজ করতে যেতে বাধ্য করে। মানুষগুলো অজ্ঞ হওয়ায় সুন্দরলালের কথা বিশ্বাস করে এবং তার প্রতারণার শিকার হয়। একইভাবে ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ মহব্বতনগরে এসে একটি পুরোনো কবরকে মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। সে মাজারের ভয় দেখিয়ে গ্রামের মানুষকে নিজের কথা মানতে বাধ্য করে। গ্রামবাসীরাও সরল বিশ্বাসে তার কথা মেনে নেয়।

মহব্বতনগরের মানুষের অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারই মজিদের প্রতারণার প্রধান সুযোগ তৈরি করে দেয়। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মজিদ নিজের অবস্থান শক্ত করে এবং ধীরে ধীরে গ্রামের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষও একইভাবে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে সুন্দরলালের ফাঁদে পড়ে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো ‘লালসালু’ উপন্যাসের মহব্বতনগরের গ্রামবাসীরই প্রতিচ্ছবি।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [রাজশাহী বোর্ড ২০২৫]
আইমান রহমান বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে আসে। সে নিজ গ্রামের যুবসমাজকে নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তারা প্রতিজ্ঞা করে- এলাকা থেকে সকল প্রকার অনিয়ম, অন্যায়, অবিচার দূর করবে। নির্বিচারে গাছ কাটা, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তে একটি মিথ্যা মামলায় আইমান এখন জেলে।

ক. ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম কী?

খ. “মেয়ে লোকের মনের মশকরা সহ্য করবে অতটা দুর্বল নয় সমাজ।”- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।

গ. উদ্দীপকের আইমানের সঙ্গে ‘লালসালু’ উপন্যাসের আক্কাসের তুলনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের সমগ্র বক্তব্যকে ধারণ করেনি।”- স্বীকার কর কি? তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [রাজশাহী বোর্ড ২০২৫]
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্বন্ধে সাধারণ মানুষ খুবই অসচেতন। এটি যে তাদের দেহ ও মনের উপর কী পরিমাণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা তারা জানে না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো ক্ষতিকর দিকটি জেনেও এর প্রচার ও প্রসারের জন্য নিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নীতি, আদর্শ, স্বাস্থ্য কিংবা মানুষের জীবন নয়; কোম্পানিগুলোর কাছে মুখ্য তাদের মুনাফা ও অস্তিত্ব।

ক. হাসুনির মাকে মজিদ কী রঙের শাড়ি কিনে দেয়?

খ. “বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।”- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।

গ. উদ্দীপকের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের তুলনা কর।

ঘ. “পরিস্থিতি স্বতন্ত্র হলেও উদ্দীপকের কোম্পানিগুলো ও মজিদের উদ্দেশ্য অভিন্ন।”- স্বীকার কর কি? তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [যশোর বোর্ড ২০২৫]
উদরাজপুর একটি ছোট গ্রামীণ বাজার। ফসলের মৌসুমে মানুষের হাতে টাকা থাকে। তখন দোকানগুলোতে ভিড় থাকে। এ সময়ে ভিক্ষুকের আনা-গোনাও বেড়ে যায়। ভিখারির দল বিচিত্র কণ্ঠে গান করে ভিক্ষা চায়। মানুষের মনে দয়া জন্মায়। মানুষ টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করে। কিন্তু স্থানীয় ভিক্ষুকরা এতে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বহিরাগত ভিক্ষুকদের ওপর হামলা চালায়।

ক. “মরা মানুষ জিন্দা হয় কেমনে?”- উক্তিটি কার?

খ. “যতসব শয়তানি, বেদাতি কাজ কারবার।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুকদের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত মজিদের অনুসারীদের তুলনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের ভিক্ষুক ও ‘লালসালু’র পির উভয়েই ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধ।”- মন্তব্যটি যাচাই কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [যশোর বোর্ড ২০২৫]
দিন কাটিয়া যায়। জীবন অতিবাহিত হয়। পদ্মার ভাঙন-ধরা’ তীরে মাটি ধসিতে থাকে। পদ্মার বুকে জল ভেদ করিয়া জাগিয়া উঠে চর। অর্ধ শতাব্দীর বিস্তীর্ণ চর পদ্মার জলে আবার বিলীন হইয়া যায়। জেলেপাড়ার শিশুর ক্রন্দন কোনোদিন বন্ধ হয় না। ক্ষুধা-তৃষ্ণার দেবতা, হাসি-কান্নার দেবতা, অন্ধকার আত্মার দেবতা- ইহাদের পূজা কোনো দিন সাঙ্গ হয় না।

ক. মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?

খ. “আমার হাত হইতে দুষ্ট আত্মা, ভূতপ্রেতও রক্ষা পায় নাই।”-উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।

গ. উদ্দীপকের শেষ বাক্যের সঙ্গে ‘লালসালু’ উপন্যাসের সূচনা অংশের যে দিকটির মিল পাওয়া যায়, সে দিকটি তুলে ধর।

ঘ. উদ্দীপকে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।”- মন্তব্যটির যৌক্তিকতা আলোচনা কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫]
বিয়ের সাত বছর পরও রশিদ ও মেরিনার কোনো সন্তান নেই। তারা পাশের গ্রামের এক কামেল পিরের কাছে যায়। পির সাহেব রশিদকে বলে যে, “আপনাদের ইচ্ছা পূরণ হবার নয়; আপনি আবার বিয়ে করেন।” রশিদ তার নির্দেশ অমান্য করে স্ত্রীকে শহরের ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যায়। ডাক্তারের, চিকিৎসায় পরের বছর তাদের ঘর আলো করে সন্তান আসে।

ক. ‘লালসালু’ উপন্যাসে হাসপাতালটি কোথায় অবস্থিত?

খ. “তাই তারা ছোটে, ছোটে।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের মেরিনার সাথে আমেনা বিবির বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।

ঘ. “উদ্দীপকের রশিদ এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী দুজন দুই মেরুর বাসিন্দা।”- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫]
ডাক্তারি পেশায় যশ কামিয়ে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়েও নিজ গ্রামের মানুষকে ভুলে যাননি ডা. সামি। তিনি সেখানে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। গ্রামের প্রভাবশালী হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার সামাদ মিয়ার আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গ্রামের সাধারণ, মানুষের চিকিৎসা সুবিধার কথা ভেবে ডা. সামিকে দাতব্য হাসপাতাল স্থাপনে সহযোগিতা করেন।

ক. “তোমার জন্য আমার মায়া হয়”- মজিদ কাকে এ কথাটি বলেছিল?

খ. “শত্রুর আভাস পাওয়া হরিণের চোখের মতোই সতর্ক হয়ে ওঠে তার চোখ।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের ডা. সামির উদ্যোগ ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন বিশেষ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের সামাদ মিয়া আর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ ভিন্ন চেতনার মানুষ।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯। [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫]
অম্বলপুর গ্রাম ও আশপাশে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় গ্রামের লোকজন সন্তানদেরকে তাদের বাপ-দাদার পেশায় নিয়োজিত রাখতে বাধ্য হয়। শিক্ষিত যুবক সাজেদুল বিষয়টি উপলব্ধি করে গ্রামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। গ্রামের মোড়ল কাশেম মিঞা শিক্ষাবিরোধী। কারণ গ্রামের মানুষের সাক্ষরজ্ঞান থাকলে টিপসই নিয়ে জমিজমা দখল নেওয়া, ফসল ভাগের ক্ষেত্রে ঠকানো ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যাবে তার। কিন্তু সাজেদুল স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্পবন্ধ।

ক. রহিমা অতি সঙ্গোপনে মজিদের কাছে কী আর্জি জানায়?

খ. “সে ঝংকার মানুষের প্রাণে লাগে, কানে লাগে।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সাজেদুলের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “স্বার্থ ভিন্ন হলেও প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাশেম মিঞা ও মজিদ চরিত্র অভিন্ন।”- মন্তব্যটি বিচার কর।

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ

📄PDF
📖 পড়ুন

Related Posts

Leave a Comment