১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির যুদ্ধের আগে-পরে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়ে সিকান্দার আবু জাফর রচনা করেন ‘সিরাজউদ্দৌলা’। এটি এক ইতিহাসনির্ভর করুণ নাটক। নাট্যকার এখানে সিরাজউদ্দৌলাকে ট্র্যাজেডির নায়কের মতো অসামান্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন, যিনি এক অনিবার্য ও ভয়াবহ পরিণতির মুখেও নিজের লক্ষ্যে অটল থাকেন। এই নাটকের মাধ্যমে নাট্যকার বাঙালিকে বুঝিয়েছেন যে সিরাজউদ্দৌলা ঘন ঘন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন, আর তিনি সেই ষড়যন্ত্র টের পেয়েও নিজের ঔদার্য ও মানবিকতা কখনো ত্যাগ করেননি, তাই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারেননি।
Table of Contents
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মূলভাব
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সিকান্দার আবু জাফর রচনা করেন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নামের ইতিহাসভিত্তিক করুণ নাটকটি। নাটকে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের শেষ সময়, ইংরেজদের ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি ফুটে উঠেছে। নানা বিপদ ও প্রতারণার মধ্যেও সিরাজ নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর চারপাশে বিশ্বাসঘাতকতার জাল তৈরি হচ্ছে, তবুও আপনজনদের ওপর সহজে বিশ্বাস হারাতে পারেননি। তাঁর এই উদারতা ও মানবিক মনই শেষ পর্যন্ত তাঁর পতনের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নাট্যকার তাঁকে একজন ট্র্যাজিক নায়কের মর্যাদা দিয়েছেন।
সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন নবাব আলিবর্দি খাঁর দৌহিত্র। ১৭৫২ সালের মে মাসে আলিবর্দি খাঁ তাঁকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো তাঁকে অভিনন্দন জানায়। ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল আলিবর্দি খাঁ মারা গেলে সিরাজউদ্দৌলা নবাব হন। নবাব হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে তাঁর বিরোধ শুরু হয়। ইংরেজরা নবাবের অনুমতি ছাড়াই কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ মজবুত করছিল। তারা মুঘল সম্রাটের দেওয়া বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার করছিল, যাতে বাংলার সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তারা সরকারি অর্থের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কৃষ্ণ দাসকে আশ্রয় দেয়। সিরাজ ইংরেজদের ভুল স্বীকার করে আগের নিয়ম মেনে চলার সুযোগ দেন, কিন্তু তারা তাঁর কথায় কর্ণপাত করে না এবং তাঁর দূতকেও অপমান করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সিরাজ প্রথমে কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠি ঘেরাও করেন, পরে কলকাতা দখল করে ইংরেজদের তাড়িয়ে দেন।
কিন্তু মাদ্রাজ থেকে কর্নেল রবার্ট ক্লাইভ বিপুল সৈন্য নিয়ে ফিরে আসেন। ক্লাইভ ছিলেন বুদ্ধিমান, কৌশলী ও প্রতারক। তিনি নবাবের লোভী সেনাপতি ও অমাত্যদের টাকা ও পদপ্রলোভনে নিজের দলে টেনে নেন। সিরাজ সব ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পারলেও আপনজনদের বিরুদ্ধে কঠোর হননি। তাঁর সরলতা ও বিশ্বাসই তাঁর দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধ শুরু হয়। নবাবের বাহিনীতে সৈন্য ও অস্ত্র বেশি ছিল, কিন্তু তাঁর অনেক সেনাপতি ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চুক্তিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। নবাবের পক্ষে থাকা বিশ্বস্ত কর্মকর্তারা একে একে নিহত হন। শেষে সিরাজ বাধ্য হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেন। তিনি নতুন শক্তি সঞ্চয় করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পাটনার পথে ধরা পড়েন। ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই মিরজাফরের ছেলে মিরনের নির্দেশে কৃতঘ্ন মোহাম্মদি বেগের হাতে তিনি নিহত হন। এভাবেই বাংলার স্বাধীন নবাদের করুণ পরিণতি ঘটে। তাঁর পতনে ইংরেজদের চেয়ে নিজের লোকদের বিশ্বাসঘাতকতাই বেশি কাজ করেছিল। নাট্যকার এই ইতিহাসের মাধ্যমে দেখিয়েছেন কীভাবে লোভ ও ষড়যন্ত্র একজন সাহসী শাসককে ধ্বংস করে, আর সিরাজের উদারতা তাঁকে স্মরণীয় ট্র্যাজিক নায়কে পরিণত করেছে।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মূলভাব বড় করে
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে সংঘটিত ঐতিহাসিক যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সিকান্দার আবু জাফরের ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকটি রচিত। এটি ইতিহাসভিত্তিক একটি করুণ নাটক। নাটকের কাহিনিতে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের শেষ সময়, ইংরেজদের ষড়যন্ত্র এবং পলাশির যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। নানা বিপদ ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও সিরাজ নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর চারপাশে বিশ্বাসঘাতকতার জাল তৈরি হচ্ছে, তবুও আপনজনদের ওপর সহজে বিশ্বাস হারাতে পারেননি। তাঁর এই উদারতা ও মানবিক মনই শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে নাট্যকার সিরাজউদ্দৌলাকে একজন ট্র্যাজিক নায়কের মর্যাদায় তুলে ধরেছেন।
সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার নবাব আলিবর্দি খাঁর দৌহিত্র। আলিবর্দি খাঁ ১৭৫২ সালের মে মাসে সিরাজউদ্দৌলাকে তাঁর পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলায় থাকা ইউরোপীয় বণিক কোম্পানিগুলোও ভবিষ্যৎ নবাবকে অভিনন্দন জানায়। এরপর ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল আলিবর্দি খাঁ মারা গেলে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাবের আসনে বসেন। তখন তাঁর বয়স কম হলেও তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ও সাহসী শাসক।
নবাব হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরোধ শুরু হয়। ইংরেজরা বাংলায় ব্যবসা করলেও ধীরে ধীরে তারা নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে চেষ্টা করছিল। নবাবের অনুমতি ছাড়াই তারা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গকে শক্তিশালী ও মজবুত করে তুলছিল। একজন স্বাধীন নবাবের রাজ্যে তাঁর অনুমতি ছাড়া এভাবে দুর্গ নির্মাণ সিরাজের কাছে অত্যন্ত অন্যায় মনে হয়।
শুধু দুর্গ নির্মাণই নয়, ইংরেজরা মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে পাওয়া বাণিজ্যিক সুযোগেরও অপব্যবহার করছিল। তারা নানা ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে ব্যবসা করত এবং এর ফলে বাংলার সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো। তাদের এই আচরণে নবাব বুঝতে পারেন যে ইংরেজরা শুধু ব্যবসা করতে বাংলায় আসেনি; তারা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষমতাও দখল করতে চাইছে।
এর পাশাপাশি ইংরেজরা কৃষ্ণ দাসকে আশ্রয় দেয়। কৃষ্ণ দাস ছিলেন রাজভল্লভের ছেলে এবং সরকারি অর্থের অনিয়মের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িত ছিল। নবাব তাঁকে নিজের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ইংরেজরা সেই নির্দেশ মানতে চায়নি। এতে নবাবের সঙ্গে কোম্পানির সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে যায়।
সিরাজউদ্দৌলা প্রথমে যুদ্ধের পথে যেতে চাননি। তিনি ইংরেজদের ভুল স্বীকার করে আগের নিয়ম মেনে ব্যবসা করার সুযোগ দেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, ইংরেজরা যদি মুর্শিদকুলি খাঁর সময়কার নিয়ম ও শর্ত মেনে চলে এবং বেআইনি কাজ বন্ধ করে, তাহলে তিনি তাদের ক্ষমা করতে প্রস্তুত। কিন্তু ইংরেজ কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা নবাবের এই উদারতাকে দুর্বলতা মনে করে। তারা তাঁর কথা মানেনি। এমনকি নবাবের পাঠানো দূতের সঙ্গেও অসম্মানজনক আচরণ করে।
এতে সিরাজউদ্দৌলা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। তিনি বুঝতে পারেন, ইংরেজদের আর শুধু সতর্ক করে লাভ হবে না। তাদের শক্তি দেখানো দরকার। তাই প্রথমে তিনি কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠি ঘেরাও করেন। পরে তিনি কলকাতার দিকে অগ্রসর হন এবং ইংরেজদের পরাজিত করে কলকাতা দখল করেন। ইংরেজদের গভর্নর ড্রেক তখন ভয়ে গোপনে কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে যান।
কিন্তু ইংরেজরা এত সহজে পরাজয় মেনে নেয়নি। মাদ্রাজ থেকে কর্নেল রবার্ট ক্লাইভ বিপুলসংখ্যক সৈন্য নিয়ে বাংলায় ফিরে আসেন। ক্লাইভ ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সাহসী ও কৌশলী ব্যক্তি। একই সঙ্গে নিজের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তিনি মিথ্যা, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিতেও পিছপা হননি। তিনি কলকাতা পুনরায় দখল করেন। এরপর নবাবের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে নানা কৌশলে তাঁর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন।
ক্লাইভ বুঝতে পেরেছিলেন যে শুধু যুদ্ধ করে সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করা সহজ হবে না। কারণ নবাবের হাতে যথেষ্ট সৈন্য, অস্ত্র ও কামান ছিল। তাই তিনি যুদ্ধের আগেই নবাবের ভেতরের লোকদের দুর্বল করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি একে একে সিরাজের অমাত্য, সেনাপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। যাদের মধ্যে লোভ ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাদের তিনি টাকা, পদ ও নানা ধরনের সুবিধার প্রলোভন দেখান।
ক্লাইভের এই ষড়যন্ত্রে নবাবের নিজের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মানুষও জড়িয়ে পড়ে। তারা বাইরে থেকে সিরাজের প্রতি অনুগত থাকার ভান করলেও গোপনে ইংরেজদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। এভাবে ক্লাইভ ধীরে ধীরে নবাবকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। সিরাজউদ্দৌলা এসব ষড়যন্ত্রের কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে তাঁর আশপাশের সবাই সমানভাবে বিশ্বস্ত নয়। কিন্তু তিনি আপনজনদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
সিরাজের এই আচরণের পেছনে ছিল তাঁর সরলতা, উদারতা ও মানুষের ওপর বিশ্বাস। তিনি মনে করতেন, কাছের মানুষগুলো শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। তিনি তাদের ওপর আস্থা রাখতে চেয়েছিলেন। এই মানবিক মনোভাবই তাঁর বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি যদি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারতেন, তাহলে হয়তো ইতিহাসের ঘটনা অন্য রকম হতে পারত।
অবশেষে ক্লাইভ নবাবের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেন। দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সংঘর্ষের জন্য ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু পলাশির যুদ্ধ ছিল সাধারণ যুদ্ধের মতো নয়। এখানে অস্ত্রের পাশাপাশি বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। সিরাজউদ্দৌলার বাহিনীতে ইংরেজদের তুলনায় সৈন্য, কামান ও গোলাবারুদের পরিমাণ বেশি ছিল। তাই সামরিক শক্তির বিচারে নবাবের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।
কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেখা গেল, নবাবের অনেক সেনাপতি যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে লড়াই করছেন না। তারা নিজেদের বাহিনী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও ইংরেজদের বিরুদ্ধে কার্যকর আক্রমণ চালায়নি। তারা গোপনে ইংরেজদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী নিষ্ক্রিয় ছিল। ফলে নবাবের বড় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও সেই বাহিনীর শক্তি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে থাকা কয়েকজন সাহসী ও বিশ্বস্ত সেনা কর্মকর্তা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। কিন্তু একের পর এক তাঁরা নিহত হতে থাকেন। ফলে নবাবের অবস্থাও ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি বুঝতে পারেন, যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে আর পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত তিনি বাধ্য হয়ে পলাশির যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেন।
তবে সিরাজউদ্দৌলার এই চলে যাওয়াকে কাপুরুষতার লক্ষণ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি নিজের জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে গিয়ে আরাম করতে চাননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল অন্য কোথাও গিয়ে নতুন করে শক্তি সংগ্রহ করা এবং আবার ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করা। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
পলাশির যুদ্ধের পর সিরাজউদ্দৌলা বিভিন্ন পথ ঘুরে পাটনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি আশা করেছিলেন, সেখানে গিয়ে নতুনভাবে শক্তি সংগঠিত করতে পারবেন। কিন্তু পথের মধ্যেই তিনি ধরা পড়েন। তাঁকে বন্দি করে মিরজাফরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মিরজাফরের ছেলে মিরন তাঁর হত্যার নির্দেশ দেয়।
অবশেষে ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতক মোহাম্মদি বেগের হাতে সিরাজউদ্দৌলা নির্মমভাবে নিহত হন। এভাবেই বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ জীবনের শেষ হয়। তাঁর পতনের পেছনে শুধু ইংরেজদের সামরিক শক্তি নয়, বরং নিজের দেশের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতাও বড় ভূমিকা রেখেছিল।
সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় তাই কেবল একটি যুদ্ধে পরাজয় ছিল না; এর মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার ওপরও বড় আঘাত আসে। নাট্যকার সিকান্দার আবু জাফর এই ইতিহাসকে তুলে ধরে দেখিয়েছেন, কীভাবে লোভ, স্বার্থ, ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা একজন সাহসী শাসককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। একই সঙ্গে সিরাজের উদারতা, মানুষের প্রতি বিশ্বাস এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টা তাঁকে একজন স্মরণীয় ট্র্যাজিক নায়কে পরিণত করেছে। তাঁর জীবনের করুণ পরিণতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত লোভ ও স্বার্থকে বড় করে দেখলে তার ফল পুরো জাতিকেই ভোগ করতে হয়।