সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সিকান্দার আবু জাফরের লেখা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রধান বিষয় হলো বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর করুণ ইতিহাস। নাটকে একদিকে সিরাজের দেশের প্রতি ভালোবাসা ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে মিরজাফর, রাজবল্লভ ও অন্য স্বার্থপর ব্যক্তিদের লোভ ও ষড়যন্ত্রের চিত্রও দেখানো হয়েছে।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [ঢাকা বোর্ড ২০২৫]
মিলি ও লিলি দুই বোন। মিলি দীর্ঘদিন পরে বিদেশ থেকে দেশে ফিরল এবং জানল যে তাদের বাবার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে তাদের বাবা সম্পত্তির কিছু অংশ লিলিকে দান করে যান। এই নিয়ে মিলি ভীষণ গোলযোগ সৃষ্টি করে। সে মনে করে লিলি তাদের বাবাকে ভুলিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। সে প্রতিশোধ নিতে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। লিলির একমাত্র ছেলেকে সে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করে।

ক. ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের শেষ সংলাপটি কার?

খ. “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের কোন চরিত্রের সাথে ঘসেটি বেগমের চরিত্রের মিল রয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।

ঘ. “উদ্দীপকের দ্বন্দ্ব পারিবারিক কিন্তু ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক”- বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ

ক. ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের শেষ সংলাপটি মোহাম্মদি বেগের।

খ. “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে, সবই সম্ভব”- নবাব সিরাজউদ্দৌলা বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের অপকর্ম প্রসঙ্গে এ কথাটি বলেছেন।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্যরা তাঁকে রক্ষা করার জন্য পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ করেছিলেন। তারা নবাবের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার এবং প্রয়োজনে তাঁর জন্য জীবন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু পরে তাদের অনেকেই সেই শপথ ভুলে গিয়ে গোপনে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায়। নবাবকে পরাজিত করার জন্য তারা নানা ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। এই বিশ্বাসঘাতকতার প্রধান ব্যক্তি ছিলেন নবাবের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর। তার নেতৃত্বেই নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়। ফলে নবাব নিজের লোকদের কাছ থেকেই সবচেয়ে বড় আঘাত পান। অমাত্যদের এই দ্বিচারিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনাই প্রশ্নে উল্লেখিত মন্তব্যের মূল বিষয়।

গ. উদ্দীপকের মিলি চরিত্রের সাথে ঘসেটি বেগম চরিত্রের মিল রয়েছে।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। নিজের কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতা ও গোপন ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হন। শেষ পর্যন্ত এই ষড়যন্ত্রের ফলেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারাতে হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মৃত্যুর আগে মিলি ও লিলির বাবা তাঁর সম্পত্তির কিছু অংশ লিলিকে দিয়ে যান। এতে মিলি খুব অসন্তুষ্ট হয়। সে সম্পত্তির বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে লিলির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একসময় প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সে লিলির একমাত্র ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনাও করে। তার এই আচরণে হিংসা, লোভ ও প্রতিশোধের মনোভাব প্রকাশ পায়।

উদ্দীপকের মিলির মতো ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঘসেটি বেগমের মধ্যেও এমন স্বার্থপরতা ও ষড়যন্ত্রের মনোভাব দেখা যায়। ছোট বোন আমিনার ছেলে সিরাজ নবাব হওয়ায় ঘসেটি বেগম তা মেনে নিতে পারেননি। নিজের পালিত ছেলে শওকতজঙ্গকে সিংহাসনে বসানোর জন্য তিনি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন এবং দেশি-বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাই বলা যায়, নিজের স্বার্থের জন্য ষড়যন্ত্র ও প্রতিশোধের পথে যাওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের মিলি এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঘসেটি বেগমের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।

ঘ. প্রেক্ষাপটের দিক থেকে বলা যায় “উদ্দীপকের দ্বন্দ্ব পারিবারিক কিন্তু ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক” মন্তব্যটি যথার্থ।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পেছনে তাঁর নিজের কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতা বড় ভূমিকা রাখে। তাঁর খালা ঘসেটি বেগম এবং প্রধান সেনাপতি মিরজাফর নবাবের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করেন। তাঁরা ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে সিরাজকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। আপনজনদের এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় এবং এর ফলে বাংলার স্বাধীনতাও বিপদের মুখে পড়ে।

উদ্দীপকে লিলি ও মিলির পারিবারিক বিরোধের কথা বলা হয়েছে। লিলির বাবা মৃত্যুর আগে তাঁর সম্পত্তির কিছু অংশ লিলিকে দিয়ে যান। এতে মিলি রাগ ও হিংসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সে বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে লিলির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। পরে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য লিলির একমাত্র সন্তানকে হত্যার ষড়যন্ত্র পর্যন্ত করে। এখানে মূল কারণ হলো সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা। অন্যদিকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নবাবের সিংহাসন দখল করা।

তবে দুই ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, উদ্দীপকের বিরোধটি সম্পূর্ণ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত। কিন্তু ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের দ্বন্দ্ব ছিল রাজনৈতিক এবং এর প্রভাব ছিল অনেক বড়। সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুধু একটি পরিবারের বিষয় ছিল না; এর সঙ্গে বাংলার শাসনক্ষমতা ও স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত ছিল। আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশির যুদ্ধে সিরাজ ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দ্বন্দ্ব পারিবারিক হলেও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের দ্বন্দ্ব ছিল রাজনৈতিক এবং জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [ঢাকা বোর্ড ২০২৫]
দেশমাতৃকার টানে রমিজ কাউকে কিছু না বলে যুদ্ধে গিয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল। এ কারণে তারা রমিজের ভিটেবাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে নদীর তীরে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেছিল।

ক. ঘসেটি বেগম কাকে ‘সাপিনী’ বলেছে?

খ. “তুমিও আমার বিচার করতে বসলে”- কে এবং কেন বলেন?

গ. উদ্দীপকের প্রতিপক্ষের লোকজন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ‘কোন চরিত্রসমূহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখ।

ঘ. “স্বার্থপরতা সর্বনাশের কারণ উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

উত্তরঃ

ক. ঘসেটি বেগম তার বোন আমিনা বেগমকে ‘সাপিনী’ বলেছেন।

খ. “তুমিও আমার বিচার করতে বসলে”- ঘসেটি বেগমের ক্ষেত্রে নবাবের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য স্ত্রী লুৎফুন্নেসাকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এ কথাটি বলেন।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজ জানতে পারেন যে তাঁর নিজের খালা ঘসেটি বেগম তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি নবাবের ক্ষতি করার জন্য নানা ধরনের পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজ ঘসেটি বেগমের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁকে নিজের বাড়িতে এনে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশও দেন। নবাবের এই কঠোর সিদ্ধান্তে ঘসেটি বেগম খুব রেগে যান। এমনকি নবাবের স্ত্রী লুৎফুন্নেসাও মনে করেন, সিরাজের এই সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। তখন নিজের সিদ্ধান্তের কারণ বোঝাতে নবাব সিরাজ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।

গ. উদ্দীপকের প্রতিপক্ষের লোকজন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফর, উমিচাঁদ, মানিকচাঁদ, ঘসেটি বেগম, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, মোহাম্মদি বেগ ও রায়দুর্লভ চরিত্রসমূহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের পলাশির যুদ্ধের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এই যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। ফলে বাংলার স্বাধীনতার শেষ আশাটিও নষ্ট হয়ে যায়। পরে নবাব সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

উদ্দীপকে দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা থেকে রমিজ গোপনে যুদ্ধে অংশ নেয়। কিন্তু শত্রুপক্ষ তার এই কাজের কথা জানতে পারে। এরপর তারা রমিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করে। এখানে প্রতিপক্ষের লোকজন রমিজের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কাজ করে এবং তার পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও নবাবের কাছের কয়েকজন মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। প্রধান সেনাপতি মিরজাফর, ঘসেটি বেগম, উমিচাঁদ ও মানিকচাঁদসহ কয়েকজন রাজ-অমাত্য ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে হাত মেলায়। তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই সিরাজ পলাশির যুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিপক্ষের লোকজনের শত্রুতাপূর্ণ আচরণের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী ও বিশ্বাসঘাতক চরিত্রগুলোর যথেষ্ট মিল রয়েছে।

ঘ. পরিণতির দিক থেকে বলা যায়, “স্বার্থপরতা সর্বনাশের কারণ”। মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে যথার্থ।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে স্বার্থের জন্য মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার ভয়ংকর ফল দেখানো হয়েছে। নিজের লাভের কথা ভেবে সিরাজের কাছের মানুষরাই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। তাদের এই স্বার্থপরতার কারণেই নবাব সিরাজের পতন ঘটে এবং বাংলার স্বাধীনতা হারিয়ে যায়।

উদ্দীপকে রমিজের দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে সে গোপনে যুদ্ধে অংশ নিতে যায়। কিন্তু তার বিরোধীরা বিষয়টি জানতে পেরে রমিজের বাড়িঘর ও সম্পদ পুড়িয়ে দেয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। তাদের হিংসা ও স্বার্থপরতার কারণে রমিজের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। একইভাবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও নবাবের কাছের মানুষদের স্বার্থপরতার কারণে সিরাজ ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন।

নাটকে ঘসেটি বেগম, মিরজাফরসহ কয়েকজন লোভী রাজ-অমাত্য নিজেদের স্বার্থ পূরণের জন্য সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। তাঁরা নবাবের বিশ্বাসের মূল্য না দিয়ে ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে হাত মেলান। ফলে পলাশির যুদ্ধে সিরাজ একা ও অসহায় হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। তাঁদের স্বার্থপরতার ফলেই বাংলার স্বাধীনতা নষ্ট হয়। তাই উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখলে তার পরিণতি ভয়াবহ হয়।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [রাজশাহী বোর্ড ২০২৫]
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের একজন বীর শহিদ তার মা-বাবাকে চিঠি লিখে ‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। স্যরি আব্বুজান! তোমার কথা অমান্য করে বের হলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাইয়েরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাজপথে নেমে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অকাতরে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, ৭ বছরের বাচ্চা, ল্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকব? আমার মনে হয় স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ…।

ক. যুদ্ধে সিরাজদৌলার পতন হলে কোম্পানি কত টাকা পাবে বলে দলিলে উল্লেখ আছে?

খ. “সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না। তো?”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের শহিদের সঙ্গে নাটকের মোহনলাল চরিত্রের তুলনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের শহিদের মতো দেশপ্রেম নবাব পক্ষের সব সেনাপতির মনে থাকলে বাংলাকে দুইশ বছর ইংরেজদের গোলামি করতে হতো না।”- তোমার অভিমত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [রাজশাহী বোর্ড ২০২৫]
জননী এগ্রোর মালিক হাবিব সাহেব। এর ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হলেও হাবিব সাহেব কাদেরকে নিজের সন্তানের মতোই সেহ করেন। তাই ব্যবসার সমস্ত ভার হাবিব সাহেব কাদেরকে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন। কিছুদিনের জন্য হাবিব সাহেব বিদেশে যান। ব্যবসার সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে যান কাদেরকে। এদিকে কাদের হাবিব সাহেবের শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জাল দলিলপত্র করে জননী এগ্রোর মালিক বনে যায়। বিদেশ থেকে এসে হাবিব সাহের স্তম্ভিত হয় যান। মানুষ এত বড় বিশ্বাসঘাতক হতে পারে- তিনি বিশ্বাসই করতে পারেন না।
ক. পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কামানের সংখ্যা কত ছিল?

খ. “ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।”- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।

গ. উদ্দীপকের আব্দুল কাদেরের সাথে মিরজাফর চরিত্রের সাদৃশ্য। আলোচনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের বক্তব্য পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।”- তুমি এ মত সমর্থন কর কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [যশোর বোর্ড ২০২৫]
ওই দেখ, ওই যেন চিত্রিত প্রাচীর ওই তব সৈন্যগণ দাঁড়াইয়া অকারণ, গনিতেছে লহরী কি রণ-পয়োধির?
দেখিছ না সর্বনাশ সম্মুখে তোমার?
যায় বঙ্গ সিংহাসন
যায় স্বাধীনতা-ধন
যেতেছে ভাসিয়া সব, কি দেখিছ আর?

ক. “আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।”- উক্তিটি কার?

খ. “আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”-সংলাপটি বুঝিয়ে লেখ।

গ. উদ্দীপকের ‘ওই তব সৈন্যগণ দাঁড়াইয়া অকারণ’ প্রসঙ্গটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সঙ্গে কীভাবে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকে নবাব সিরাজের পরিণতির আশঙ্কাই যেন বর্ণিত হয়েছে।”- তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [যশোর বোর্ড ২০২৫]
ট্র্যাজেডি বিয়োগাত্মক সাহিত্য। ট্র্যাজেডিতে মহৎ চরিত্রের পতন ঘটে। ‘ইডিপাসে’ আমরা দেখি ইডিপাসের পতন। সেটা ছিল নিয়তি নির্ধারিত। ‘ওথেলো’ নাটকে নিজের ভুলে স্ত্রীকে অবিশ্বাস করে নিজের নির্মম পরিণতি ডেকে আনে। ওথেলোর অধীনস্থ সৈনিক ইয়াগো তার স্ত্রীর সহযোগিতায় ওথেলোর মনে স্ত্রী সম্পর্কে সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে।

ক. ইংরেজের পক্ষে মোট সৈন্যসংখ্যা কত ছিল?

খ. “দেশবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছি যে, তাঁদের দুর্ভোগের হয়েছে অবসান।।”- বুঝিয়ে লেখ।

গ. উদ্দীপকের ইয়াগো হিসেবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে কাদের চিহ্নিত করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “নিয়তি ও বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে ট্র্যাজেডির মূল।”- উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫]
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে স্বামী-স্ত্রী হয়েও ইব্রাহিম কার্দি ও জোহরা যথাক্রমে মারাঠা ও মুসলিম বাহিনীর পক্ষে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। স্ত্রী জোহরা ছদ্মবেশে মারাঠা শিবিরে প্রবেশ করে ইব্রাহিম কার্দিকে মুসলিম শিবিরে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ইব্রাহিম কার্দি স্পষ্ট জানিয়ে দেন- “যে ফিরে যাবে সে আমি হব না। সে হবে বিশ্বাসঘাতক। সে হবে ইব্রাহিম কার্দির লাশ। আমার সংকটের দিনে যারা আমাকে আশ্রয় দিয়েছে, কর্মে নিযুক্ত করেছে, ঐশ্বর্য দান করেছে সেই মারাঠাদের বিপদের দিনে আমি চুপ করে বসে থাকব? পদত্যাগ করব? সে হয় না, জোহরা।”

ক. পলাশির যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

খ. “ওই একটি পথেই আবার আমরা উভয়ে উভয়ের কাছাকাছি আসতে পারি।”- প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বর্ণনা কর।

ঘ. “সেনাপতি ও অমাত্যরা উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির মতো বিশ্বস্ততা ও নৈতিকতার পরিচয় দিলে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজের পরিণতি অন্যরকম হতে পারত।” মন্তব্যটি বিচার কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫]
বাংলাদেশে একসময় ইংরেজরা চাষিদের দিয়ে জোর করে নীলচাষ করাত। নীলচাষে বাধ্য হওয়ার ফলে চাষিরা তাদের প্রয়োজনীয় ফসল ফলাতে পারত না। অত্যাচারী ইংরেজদের জোর করে নীলচাষ করানোর বিরুদ্ধে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কৃষকরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ধীরে ধীরে বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে নীল বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

ক. সিরাজউদ্দৌলার নানার নাম কী?

খ. ষড়যন্ত্রকারীরা শওকতজঙ্গকে নবাব হিসেবে চেয়েছিল কেন?

গ. উদ্দীপকের ইংরেজদের আচরণ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন বিশেষ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কেবল খণ্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯। [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫]
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দীন আহমদ তার দোকানে ভাইয়ের ছেলে পরীফুলকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন। শরীফুল প্রথম দিকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করলেও ধীরে ধীরে চাচার সর্বনাশের ভূযন্ত্রে লিপ্ত হয়। দোকানের অন্য কর্মচারীদের সাথে হাত মিলিয়ে বিক্রির টাকা এদিক-সেদিক করতে থাকে। দোকানে প্রচুর বেচা-কেনা হলেও মাস শেষে লোকসান আসে। মহিউদ্দীন আহমদ বিচক্ষণতার সাথে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শরীফুলের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শরীফুলসহ অন্য কর্মচারীদের বিদায় করে দিয়ে দোকানের পূর্বের অবস্থান ফিরিয়ে আনেন।

ক. মানিকচাঁদ কত টাকা খেসারত দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল?

খ. “লোকবল বাড়ুক আর না বাড়ুক আমাদের অংশীদার বাড়ল তা অবশ্য ঠিক।”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের শরীফুলের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রগুলো বর্ণনা কর।

ঘ. “মহিউদ্দীন আহমদ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি এক হয়নি।”- এর কারণ বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১০। [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫]
কেরামত আলী টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। অধিক মুনাফার আশায় জীবনের জমানো সমস্ত টাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জমা রাখে। সেখান থেকে প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা পায়। একসময় এই টাকাই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে যায়। প্রতারিত হয়ে টাকার শোকে কেরামত আলী পাগল হয়ে পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে অকালে মৃত্যুবরণ করে।

ক. ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ধনকুবের কে?

খ. “সে নবাবি পেলে প্রকারান্তরে আপনারাইতো দেশের মালিক হয়ে বসবেন।”- উক্তিটি বুঝিয়ে দাও।

গ. উদ্দীপকের কেরামত আলীর সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করেনি।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ

📄PDF
📖 পড়ুন

Related Posts

Leave a Comment