মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগপূর্ণ সময় তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন রক্ত-মাংসে গড়া একজন মানুষ, আমাদের মতোই তাঁর জীবন ছিল। মানুষের মতোই তাঁর জীবনে সুখ-দুঃখ, কষ্ট ও বেদনা ছিল। কিন্তু তিনি ছিলেন সত্যের প্রচারক এবং মানবতার পথপ্রদর্শক। শত্রুরা তাঁর ওপর অনেক নির্যাতন করেছে, এমনকি তাঁকে পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছে। এত কষ্ট পাওয়ার পরও তিনি শত্রুদের অভিশাপ দেননি। বরং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সঠিক পথের দোয়া করেছেন। মক্কা বিজয়ের পরও তিনি শত্রুদের প্রতিশোধ নেওয়ার বদলে সবাইকে ক্ষমা করে দেন। বিজয়ের পর তিনি নিজের বড়ত্ব প্রকাশ না করে বলেন যে, তিনি কোনো রাজা বা সম্রাট নন; তিনি একজন সাধারণ নারীর সন্তান। তাঁর এই বিনয়, ক্ষমা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাঁর মহত্ত্বকে আরও বেশি প্রকাশ করেছে।
Table of Contents
মানুষ মুহম্মদ স সৃজনশীল প্রশ্ন
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] হজরত নূহ (আ) ধর্ম ও ন্যায়ের পথে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এতে মাত্র চল্লিশ জন মানুষ সাড়া দেন। বাকিরা সবাই তাঁর বিরোধিতা শুরু করে নানা অত্যাচারে তাঁকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এ অত্যাচারের মাত্রা সহনাতীত হলে তিনি একপর্যায়ে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান। আল্লাহর হুকুমে তখন এমন বন্যা হয় যে, ঐ চল্লিশ জন বাদে সকল অত্যাচারী ধ্বংস হয়ে যায়। ক. হজরত মুহম্মদ (স.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন? খ. সুমহান প্রতিশোধ বলতে কী বোঝায়? গ. হজরত নূহ (আ) যেদিক দিয়ে হজরত মুহম্মদ (স.) থেকে ভিন্ন তা ব্যাখ্যা কর। ঘ. হজরত নূহ (আ)-এর চরিত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনলে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর একটি বিশেষ গুণ তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। |
উত্তরঃ
ক. হজরত মুহম্মদ (স.) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
খ. ‘সুমহান প্রতিশোধ’ বলতে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমার মাধ্যমে মানুষের প্রতি প্রেমপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন করাকে বোঝানো হয়েছে। হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বোঝা যায় তাঁর কাজ, চিন্তা, ধৈর্য আর সততা থেকে। যখন মানুষ অজ্ঞানতার অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলেছিল, ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝত না, তখনই হজরত মুহম্মদ (স.) এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যের পথ দেখানো এক আলোকিত মানুষ। তিনি খুব দৃঢ় মানসিকতার ছিলেন, কোনও লোভ তাঁর মনে ছিল না। তিনি ছিলেন ত্যাগী, ধৈর্যশীল, সবার প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি রাখা মানুষ। তাঁর ছিল অসাধারণ বিচারবুদ্ধি। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতেন। তিনি খুব উদার ছিলেন, এমনকি যাঁরা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল, তাঁদেরও ক্ষমা করে দিতেন। এই রকম ভালোবাসা দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়াকেই বলা হয় সুমহান প্রতিশোধ।
গ. হজরত নূহ (আ) ও হজরত মুহম্মদ (স.) – উভয়েই মহান নবী ছিলেন এবং মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন। তবে তাঁদের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য ছিল ধৈর্যের পরিমাণ ও প্রতিক্রিয়ার ভঙ্গিতে। হজরত নূহ (আ) দীর্ঘ সময় মানুষকে সত্য পথে ডেকেছেন, কিন্তু তারা তাঁর কথা শোনেনি। একপর্যায়ে তিনি অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর কাছে অত্যাচারীদের ধ্বংস কামনা করেন। এর ফলে আল্লাহ এক ভয়াবহ বন্যা দিয়ে সব অবিশ্বাসীকে ধ্বংস করেন।
অন্যদিকে, হজরত মুহম্মদ (স.) বহু কষ্ট সহ্য করেও তাঁর শত্রুদের জন্য বদদোয়া করেননি। তিনি মক্কার কাফেরদের অত্যাচার সহ্য করে বলেছেন, “হে আল্লাহ! আমার জাতিকে ক্ষমা করো, তারা জানে না।” তিনি দয়া ও ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, হজরত নূহ (আ) যেখানে প্রতিশোধ চেয়েছেন, হজরত মুহম্মদ (স.) সেখানে ক্ষমা ও সহনশীলতার পথে থেকেছেন। এই দিক দিয়েই তাঁদের মধ্যে পার্থক্য।
ঘ. হজরত নূহ (আ)-এর চরিত্রে যদি ক্ষমাশীলতা ও সহনশীলতা আরও বেশি থাকত, তাহলে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ‘ক্ষমা করার গুণ’ তাঁর মধ্যেও প্রকাশ পেত। তিনি অত্যাচারীদের জন্য বদদোয়া না করে তাদের হেদায়াতের জন্য দোয়া করতে পারতেন। যেমন, হজরত মুহম্মদ (স.) তায়েফে প্রচণ্ড অপমানিত হওয়ার পরও দোয়া করেছিলেন—”হে আল্লাহ! তাদের সঠিক পথ দেখাও।”
হজরত নূহ (আ) যদি এমন সহনশীল হতেন, তাহলে তাঁর চরিত্রে আরও বেশি দয়া ও করুণা প্রকাশ পেত। তিনি আল্লাহর কাছে দুঃখ প্রকাশ করতেন, কিন্তু ধ্বংসের বদলে জাতির জন্য পথনির্দেশ চেতনা কামনা করতেন। এতে তাঁর অন্তরে মহানুভবতার পরিচয় পাওয়া যেত।
হজরত মুহম্মদ (স.) দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে কখনো প্রতিশোধ চাননি বরং মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন। হজরত নূহ (আ)-এর চরিত্রে এমন পরিবর্তন আনলে তিনিও ক্ষমার গৌরবময় নজির স্থাপন করতে পারতেন। তাই বলা যায়, ক্ষমাশীলতা ছিল এমন একটি গুণ, যা তাঁর মধ্যে থাকলে তিনি আরও মহান উদাহরণ হয়ে উঠতেন।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [কুমিল্লা বোর্ড ২০২৬] স্তবক-১: “কখনো কখনো কালো আঁধার নেমে আসে জীবন পথে, তবুও এগিয়ে যেতেই হবে স্বপ্ন বিনির্মাণে।” স্তবক-২: “মরুর বুকে ফুটিয়ে দিলে মানবতার ফুল, ক্ষমার বাণী শুনিয়ে দিলে ভেঙে অন্ধকারের কুল।” ক. হজরত মুহম্মদ (স.) কী দ্বারা মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন? খ. “বড়ো সুন্দর, বড়ো মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী। “- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। গ. স্তবক-১-এ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “স্তবক-২-এর মূলভাব ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের খন্ডাংশ মাত্র।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
উত্তরঃ
ক. হজরত মুহম্মদ (স.) মানবীয় গুণাবলি দ্বারা মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন।
খ. “বড় সুন্দর, বড় মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী”— এই কথার মাধ্যমে মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সুন্দর ও আকর্ষণীয় চেহারার কথা বোঝানো হয়েছে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণের পাশাপাশি তাঁর সুন্দর চেহারা ও শারীরিক গঠনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর সুন্দর দেহ ও সুন্দর চরিত্রের কারণে তিনি সবার ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় একজন মানুষ। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় তিনি আবু মা’বদের বাড়িতে কিছু সময়ের জন্য আশ্রয় নেন। সেখানে আবু মা’বদের স্ত্রী মহানবি (স.)-কে দেখে তাঁর বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মহানবি (স.)-এর চুল ছিল লম্বা ও কিছুটা কোঁকড়ানো, চোখ ছিল বড় ও কালো, ভ্রু ছিল সুন্দর ও ঘন। তাঁর গলা ছিল উঁচু এবং স্বভাব ছিল শান্ত ও নম্র। তাঁর চোখেমুখে সবসময় এক ধরনের সুন্দর ও আনন্দময় আলো দেখা যেত। এসব সুন্দর শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণীয় রূপের কথাই প্রকাশ করতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি বলা হয়েছে।
গ. স্তবক-১-এ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবি (স.)-এর কঠিন নির্যাতনের মাঝেও ধৈর্য না হারিয়ে সত্য প্রচারের পথে এগিয়ে চলার দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর নানা মানবিক গুণের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সত্য প্রচারের কাজে তাঁর চেষ্টা, ত্যাগ ও মানুষের কল্যাণের চিন্তা সবার জন্য অনুসরণীয়। সত্যের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গিয়ে তাঁকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। নানা অপমান ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি কখনো নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।
স্তবক-১-এ বলা হয়েছে, জীবনে অনেক সময় দুঃখ ও অন্ধকার নেমে এলেও নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কঠিন অবস্থার মধ্যেও ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এই শিক্ষা ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের মহানবি (স.)-এর জীবনের সঙ্গেও মিলে যায়। মহানবি (স.) মক্কার পথে বিভিন্নভাবে বাধা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পৌত্তলিকরা তাঁকে পাথর ছুড়ে আহত করেছে এবং নানা কথা বলে অপমান করেছে। তায়েফে সত্যের বাণী প্রচার করতে গিয়েও তিনি পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। এত কষ্টের পরও তিনি ধৈর্য হারাননি এবং সত্য প্রচারের কাজ চালিয়ে গেছেন। মক্কার অত্যাচার অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। পরে তিনি বিজয়ীর বেশে মক্কায় ফিরে আসেন। এভাবে স্তবক-১-এ মহানবি (স.)-এর অটুট ধৈর্য ও সত্য প্রচারের পথে অবিচল থাকার দিকটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. মহানবি (স.)-এর মানবীয় গুণের সব দিক স্তবক-২-এ প্রকাশ পায়নি বলে “স্তবক-২-এর মূলভাব ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র”— মন্তব্যটি যথার্থ।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণের পাশাপাশি তাঁর শারীরিক সৌন্দর্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মানুষের জন্য একজন আদর্শ মানুষ ছিলেন। একজন মানুষ হিসেবে মানুষের জীবনে যা করা উচিত, তিনি নিজের জীবন দিয়ে তার উদাহরণ রেখে গেছেন। তাঁর ধৈর্য, ত্যাগ, ক্ষমা, সাধনা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও কল্যাণের চিন্তাসহ নানা মহৎ গুণ এই প্রবন্ধে সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
স্তবক-২-এ বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মরুভূমির আরব সমাজে মানবতার আলো জ্বালিয়েছিলেন। তিনি ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে সেই সমাজের অন্ধকার দূর করেছিলেন। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধেও মহানবি (স.)-এর ক্ষমার মহত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মহান আদর্শের কথাও সেখানে রয়েছে। কিন্তু স্তবক-২-এ শুধু তাঁর মানবতা ও ক্ষমাশীলতার একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে। তাই এটি পুরো প্রবন্ধের ভাব নয়, বরং প্রবন্ধের একটি অংশমাত্র।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মৃত্যুর পর তাঁর সাহাবিদের মধ্যে গভীর শোক ও হতাশা দেখা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। হজরত আবুবকর (রা.) মহানবি (স.)-এর জীবন ও গুণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁদের সেই শোক কমানোর চেষ্টা করেন। প্রবন্ধে তাঁর ত্যাগ, ভালোবাসা, পবিত্রতা, ভদ্রতা, ক্ষমা, ধৈর্য, সাহস, বীরত্ব, দয়া, আত্মবিশ্বাস ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসহ নানা গুণের কথা এসেছে। তাঁর শারীরিক সৌন্দর্যের কথাও এখানে বলা হয়েছে। সত্য প্রচারের সময় মক্কার লোকেরা তাঁকে পাথর মেরেছে, অপমান করেছে ও নানা কষ্ট দিয়েছে। তায়েফেও তিনি পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। এত নির্যাতনের পরও তিনি তাদের ঘৃণা করেননি বা অভিশাপ দেননি। পরে মদিনায় গিয়ে তিনি বিজয়ী হয়ে মক্কায় ফিরে আসেন এবং মক্কাবাসীকে ক্ষমা করে দেন। প্রবন্ধের এসব বিষয় স্তবক-২-এ নেই। সেখানে শুধু মহানবি (স.)-এর মানবতা ও ক্ষমার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, স্তবক-২-এর মূলভাব ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট] বিপত্নীক খালেদ সাহেব সিলেট শহরের মিরাবাজারে তাঁর বিশাল। বাড়িতে একাকী জীবন কাটান। দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে তাঁর সেবাযত্নে নিয়োজিত ছিলেন বিশ্বস্ত ভৃত্য ফজলু মিয়া। ছেলেমেয়েরা সবাই প্রবাসে থাকায় ফজলুই ছিলেন তাঁর একমাত্র ভরসা। কিন্তু একদিন সেই বিশ্বস্ত ভৃত্য প্রভুর সমস্ত সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে মালপত্রসহ গ্রেপ্তার করে আনে। তবুও খালেদ সাহেব তাঁর প্রতি রাগ পোষণ না করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে ফজলুকে ক্ষমা করে দেন। ক. কোন ক্লাসের ছাত্র থাকাকালীন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন? খ. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত তায়েফে মহানবি (স.) ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন কেন? গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? নির্ণয় করো। ঘ. “মহানবি (স.) এবং খালেদ সাহেব উভয়েই ক্ষমার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”- বিশ্লেষণ করো। |
উত্তরঃ
ক. বি.এ. ক্লাসের ছাত্র থাকাকালীন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।
খ. তায়েফের মানুষদের অবিশ্বাস, ঠাট্টা-বিদ্রূপ এবং নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে মহানবি (স.) সেখানে সত্যের বাণী প্রচার করতে গিয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল। মানুষকে সত্য ও ইসলামের পথে আহ্বান করাই ছিল তাঁর প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু তায়েফের লোকেরা তাঁর কথা বিশ্বাস করেনি। তারা তাঁকে নানা কথা বলে অপমান ও উপহাস করেছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর ওপর পাথর ছুড়ে শারীরিকভাবে আহত করেছিল। পাথরের আঘাতে মহানবি (স.)-এর শরীর রক্তাক্ত হয়ে গেলেও তিনি ধৈর্য হারাননি এবং সত্যের পথ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমা করার মহৎ গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণ ও সুন্দর চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অন্যতম বড় গুণ ছিল ক্ষমাশীলতা। মক্কাবাসীরা তাঁর নবিত্ব লাভের পর তাঁর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করেছে এবং তাঁকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু তিনি তাদের প্রতি কোনো প্রতিশোধ নেননি। বরং সবাইকে ক্ষমা করে আপন ভাইয়ের মতো ভালোবাসা দিয়েছেন। উদ্দীপকের খালেদ সাহেবের আচরণেও মহানবির এই ক্ষমাশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। বিপত্নীক খালেদ সাহেবের চাকর ফজলু মিয়া তাঁর সব সম্পদ চুরি করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে চুরি করা মালসহ ধরে খালেদ সাহেবের কাছে নিয়ে আসে। কিন্তু তিনি তাকে কোনো শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা করে দেন। তাঁর এই উদারতা ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবির তায়েফ ও মক্কাবাসীকে ক্ষমা করার ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়।
তায়েফে ইসলাম ও সত্যের কথা বলতে গিয়ে মহানবি (স.) শত্রুদের হাতে পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন। তারপরও তিনি তাদের প্রতি ঘৃণা বা রাগ দেখাননি। বরং তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। আবার মক্কাবাসীরা তাঁর ওপর অনেক নির্যাতন করলেও তিনি তাদের প্রতিও প্রতিশোধের মনোভাব দেখাননি। তিনি তাদের ক্ষমা করে ভালোবাসার সঙ্গে আপন করে নিয়েছিলেন।
ঘ. উদ্দীপকের খালেদ সাহেব এবং ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রে ক্ষমার গুণ প্রকাশ পেয়েছে। তাই “মহানবি (স.) এবং খালেদ সাহেব উভয়েই ক্ষমার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন”— মন্তব্যটি যথার্থ।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে লেখক মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মহানুভবতা ও ক্ষমাশীলতার পরিচয় তুলে ধরেছেন। মক্কাবাসীরা তাঁর ওপর অনেক অত্যাচার করেছিল। তায়েফবাসীরাও তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল। কিন্তু সুযোগ পেয়েও মহানবি (স.) তাদের ওপর প্রতিশোধ নেননি। বরং সব অপরাধ ক্ষমা করে তাদের আপন করে নিয়েছেন।
উদ্দীপকের খালেদ সাহেবের কাজেও একই ধরনের ক্ষমার পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর বহু বছরের পুরোনো চাকর ফজলু মিয়া তাঁর সব সম্পদ চুরি করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে চুরি করা মালসহ ধরে খালেদ সাহেবের কাছে নিয়ে আসে। এমন অপরাধের পরও খালেদ সাহেব তাকে কোনো শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা করে দেন। তাঁর এই আচরণ তাঁর বড় মনের পরিচয় দেয়।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবির ক্ষমাশীলতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মক্কাবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করেছে এবং তাঁকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। তায়েফবাসীরাও তাঁকে পাথর মেরে আহত করেছিল। কিন্তু মহানবি (স.) তাদের প্রতি কোনো প্রতিহিংসা দেখাননি। বরং ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাদের প্রতি মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। উদ্দীপকের খালেদ সাহেবও অপরাধী ফজলু মিয়াকে ক্ষমা করে মহানবির এই গুণেরই পরিচয় দিয়েছেন। তাই বলা যায়, উভয়েই ক্ষমাশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬] অংশ-১: মৃত্যুপথযাত্রী ইমাম হাসান তাঁর বিষদাতার পরিচয় জানতে পেরেও প্রতিশোধ নেননি, বরং তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “তোমাকে বড়ই ভালোবাসিতাম, বড়ই স্নেহ করিতাম, তাহার উপযুক্ত কার্যই তুমি করিয়াছ। তোমার চক্ষু হইতে হাসান বিদায় হইতেছে। সুখে থাকো, তোমাকে আমি ক্ষমা করিলাম।” অংশ-২: সম্রাট আওরঙ্গজেব নিজ জীবনে বিলাসিতা পরিহার করে চলতেন। রাজকোষ থেকে অর্থ না নিয়ে নিজ হাতে কুরআন শরিফের প্রতিলিপি তৈরি করতেন এবং তার বিক্রয়ালব্ধ অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ক. মক্কা বিজয়ের পর হজরত মুহম্মদ (স.) কোথায় বসে মানুষকে দীক্ষা দান করতেন? খ. “তাহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কোন মহৎগুণ প্রকাশ পেয়েছে? ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বর্ণনা দাও। ঘ. উদ্দীপকের অংশ-২ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে কি? উত্তরের পক্ষে তোমার মতামত দাও। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬] (i) আপনাকে বড়ো বলে বড়ো সেই নয় লোকে যারে বড়ো বলে বড়ো সে-ই হয়। (ii) এক রাতে হাজি মুহম্মদ মহসীনের ঘরে চোর প্রবেশ করে। চোরকে তিনি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। চোর সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে কাঁপছিল আর কাঁদছিল। কিন্তু হাজি মুহম্মদ মহসীন তাকে কোনো শাস্তি তো দিলেনই না, উল্টো তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় দিলেন ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে কে শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন? খ. মানুষের একজন হয়েও হজরত মুহম্মদ (স.) দুর্লভ কেন? গ. উদ্দীপকের অংশ (i) ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কোন গুণটির দিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকের অংশ-(ii) ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স:)-এর সমগ্র চরিত্রকে ধারণ করে না”-মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। এক গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব অত্যন্ত সদালাপী ও ক্ষমাশীল। তাঁর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁকে অপদস্থ করার চেষ্টা করে। পরে সত্য প্রকাশ পেলে সেই ব্যক্তি ইমাম সাহেবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ইমাম সাহেব তাকে স্নেহভরে বলেন, ‘তুমি আমার ভাই, আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম। তুমি যা করেছ, তা আমি ভুলে গেছি।’ ক. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? খ. ‘আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই।’- হজরত (স.) কেন একথা বলেছিলেন? গ. উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের আচরণ ‘মানুষ মুহম্মদ (স)’ প্রবন্ধের কোন দিকটির অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘শুধু ক্ষমাই নয়, হজরতের (স.) চরিত্রের আরও অনেক দিক ছিল যা উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের মধ্যে অনুপস্থিত।’- বিশ্লেষণ কর। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। রহিম সাহেব একজন বড় ব্যবসায়ী। তাঁর অফিসের এক কর্মচারী আর্থিক দুর্নীতি করে ফেলে। বিষয়টি জানাজানি হলে সবাই ওই কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবি করে। কিন্তু রহিম সাহেব বলেন, ‘সে মানুষের ভুল করেছে, তাকে আরও একটি সুযোগ দেওয়া উচিত।’ তিনি কর্মচারীকে শাস্তি না দিয়ে বরং তাকে সতর্ক করে দেন এবং আবার কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেন। ক. হজরত মুহম্মদ (স.)-এর পীড়ার খবর শুনে কে উলঙ্গ তরবারি হাতে লাফিয়ে উঠেছিলেন? খ. ‘এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।’- হজরত (স.) কেন এই প্রার্থনা করেছিলেন? গ. উদ্দীপকের রহিম সাহেবের আচরণ ‘মানুষ মুহম্মদ (স)’ প্রবন্ধের কোন শিক্ষার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘রহিম সাহেবের ক্ষমা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি হজরতের (স.) ক্ষমা ছিল আরও গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।’- মন্তব্যটি বিচার কর। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। সাবরিনা নামের এক নারী প্রতিবেশীদের মধ্যে অত্যন্ত সৎ ও বিশ্বস্ত বলে পরিচিত। তিনি কখনও মিথ্যা বলেন না, কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন না। তাঁর বন্ধুরা বলে, ‘তোমার কাছে যে আসে, সে তোমার আপনজন হয়ে যায়।’ একদিন তাঁর এক শত্রু তাকে অপবাদ দেয়, কিন্তু সাবরিনা তা সহ্য করে এবং শত্রুকেও ভালোবাসার চেষ্টা করে। ক. হজরত (স.)-কে মক্কার লোকেরা কী নামে ডাকত? খ. ‘আপনি আপনার তুচ্ছতাবোধ আপনার ক্ষুদ্রতার অনুভূতি তাঁহার মহিমা-গৌরবকে মুহূর্তের জন্য ছাপাইয়া উঠিতে পারে নাই।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাবরিনার চরিত্রের কোন দিকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স)’ প্রবন্ধের হজরতের (স.) গুণের স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘সাবরিনা একজন সাধারণ নারী হয়েও হজরতের (স.) মতো গুণ দেখিয়েছেন, কিন্তু হজরতের (স.) চরিত্রের পূর্ণতা তো তিনি ধারণ করতে পারেননি।’- বিশ্লেষণ কর। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯। একটি সম্মেলনে বক্তা বলেন, ‘আমরা সবাই মানুষ, আমাদের কারও ওপর কারও শ্রেষ্ঠত্ব নেই। বড় হওয়া মানে অন্যকে ছোট করা নয়, বড় হওয়া মানে সবার সঙ্গে সমান ব্যবহার করা। আর বড়ত্ব দেখাতে হয় ক্ষমা ও সহানুভূতির মধ্য দিয়ে, কঠোরতা দিয়ে নয়।’ ক. হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কোন গুণ বিবি খাদিজাকে (রা.) আকর্ষণ করেছিল? খ. ‘তিনি মানুষ, আমাদেরই মতো দুঃখ-বেদনা, জীবন-মৃত্যুর অধীন রক্ত-মাংসে গঠিত মানুষ।’- আবুবকর (রা.) কেন এই কথা বলেছিলেন? গ. উদ্দীপকের বক্তার বক্তব্য ‘মানুষ মুহম্মদ (স)’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘বক্তার বক্তব্য হজরতের (স.) জীবনাদর্শের একটি অংশ মাত্র, কিন্তু হজরতের (স.) জীবন ছিল তার চেয়ে অনেক ব্যাপক ও গভীর।’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। |
মানুষ মুহম্মদ (স) সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ
Related Posts
- স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো কবিতার মূলভাব, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও বহুনির্বাচনি
- গোলাম মোস্তফার পল্লী মা কবিতার প্রশ্ন উত্তর – ৯ম শ্রেণির বাংলা
- প্রবাস বন্ধু গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর
- Class 9-10 book 2025 PDF – ৯ম-১০ম শ্রেণির বই ২০২৫
- প্রত্যুপকার গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর
উমর ফারুক কবিতা