সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘বহিপীর’ নাটকটি বাঙালি মুসলমান সমাজে প্রচলিত পীরপ্রথা ও কুসংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি মানবিক জাগরণ, নারীর স্বাধীনতা এবং পুরোনো সমাজব্যবস্থা থেকে নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলে। তাহেরা ও হাশেমের নতুন পথের যাত্রা তাই শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তন নয়; এটি একটি নতুন জীবনের স্বপ্নকে তুলে ধরে। এই পোস্টে বহিপীর নাটকের মূলভাব ও বর্ণনামূলক প্রশ্ন উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
বহিপীর নাটকের মূলভাব
‘বহিপীর’ নাটকের গল্প শুরু হয় ডেমরার ঘাটে জমিদার হাতেম আলির বজরায়, যেখানে গত রাতের ঝড়ে বহিপীর ও তার খাদেম হকিকুল্লাহ প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নেন। বজরার ভেতরে আছেন জমিদারপত্নী খোদেজা বেগম, তাঁর ছেলে হাশেম আলি ও তাহেরা নামের এক তরুণী, যাকে খোদেজা বেগম গতকাল ঘাটে এক ক্ষুধার্ত ছেলেকে নিয়ে বিপদে পড়তে দেখে বজরায় ডেকে এনেছিলেন। তাহেরা জানান, তার বাবা ও সৎমা তাকে এক বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেই অন্যায় বিয়ে মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। অন্যদিকে বহিপীর জমিদারকে জানান যে তিনি বইয়ের ভাষায় কথা বলেন বলেই তাঁর নাম ‘বহিপীর’, আর জমিদার হাতেম আলি চিকিৎসার অজুহাতে শহরে গেলেও আসলে তাঁর জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠতে চলেছে এবং তিনি টাকা সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন। তাহেরা হাশেমের কাছ থেকে জানতে পারে যে এই বৃদ্ধ লোকটিই সুনামগঞ্জের বহিপীর, যার সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তখন সে নদীতে ঝাঁপ দিতে চায় কিন্তু হাশেম তাকে বাধা দিয়ে আশ্বস্ত করে। বহিপীর জমিদারকে তার সফরের আসল কারণ জানান এবং বলেন যে তাহেরা তাঁর বিয়ে করা বিবি, কিন্তু খোদেজা বেগম অনেক বুঝিয়েও তাহেরাকে বিয়ে মানাতে পারেন না, আর হাশেম মানবিক কারণে তাহেরার পক্ষ নিয়ে দাঁড়ান। বহিপীর প্রথমে ধর্মীয় যুক্তি দেন, পরে মানবিকতার বাহানা করেন, সব ব্যর্থ হলে তিনি জমিদারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অর্থ দিয়ে জমিদারি রক্ষার প্রস্তাব দেন এবং শর্ত হিসেবে তাহেরাকে ফিরে পেতে চান। খোদেজা বেগম এই প্রস্তাব আল্লাহর রহমত মনে করে রাজি হন এবং তাহেরাকে ফিরে যেতে বলেন, তাহেরাও ভাবে যে তার আত্মসমর্পণে পুরো জমিদার পরিবার বাঁচবে, তাই রাজি হয়ে যায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জমিদার হাতেম আলি নিজেকে স্বার্থপর মনে করে পীরের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন, আর তাহেরা ও হাশেম একসঙ্গে পালিয়ে যান। বহিপীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন যে তারা নতুন জীবনের পথে চলে গেছে, আর খোদেজা বেগমের ভবিষ্যৎ চিন্তার জবাবে তিনি বলেন আমরা তো আছি, পুরোনো পৃথিবীতেই সুখে বাকি দিন কাটাবো, আর এভাবেই নাটকটি শেষ পর্যন্ত মানবিক জাগরণের বার্তা দিয়ে পুরোনো কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জয়ের গল্প বলে।
বহিপীর নাটকের বিষয়বস্তু
ডেমরার ঘাটে ভোরের আলো ফুটেছে। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে রেশমপুরের জমিদার হাতেম আলির বজরা। গত রাতে প্রবল ঝড়ে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেই নৌকা থেকে বহিপীর ও তার খাদেম হকিকুল্লাহ প্রাণ বাঁচাতে জমিদারের বজরায় আশ্রয় নেন। বজরার ভেতরের কামরায় রয়েছেন জমিদারপত্নী খোদেজা বেগম, তাঁর ছেলে হাশেম আলি এবং তাহেরা নামের এক তরুণী।
গতকাল ঘাটে তাহেরা একটি ছোট ছেলেকে নিয়ে খুব বিপদে পড়েছিল। ছেলেটি ক্ষুধায় কাঁদছিল, আর কিছু দুর্বৃত্ত তাহেরাকে নিয়ে ঠাট্টা করছিল। খোদেজা বেগম তখন তাঁকে বজরায় ডেকে আনেন। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন, তাহেরার বাবা ও সৎমা তাকে এক বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই অন্যায় বিয়ে মেনে না নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়েছেন।
অন্যদিকে, বহিপীর জমিদারকে জানান, তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় মুরিদ তৈরি করেন। প্রত্যেক স্থানের ভাষা আলাদা, তাই তিনি বইয়ের ভাষায় কথা বলেন, তাই তাঁর নাম ‘বহিপীর’। জমিদার হাতেম আলি বলেন, তিনি শহরে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু আসলে তিনি গোপন করেছেন যে তাঁর জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠতে চলেছে, আর তিনি বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই কথোপকথন শুনে তাহেরার সন্দেহ হয়। হাশেমের কাছ থেকে জানতে পারে, এই বৃদ্ধ লোকটিই সুনামগঞ্জের বহিপীর, যাকে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাহেরা তখন বজরার জানালা দিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিতে চায়। হাশেম তাকে থামায় এবং আশ্বস্ত করে যে তার অমতে তাকে পীরের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
এরপর বহিপীর জমিদারকে তার সফরের আসল কারণ খুলে বলেন এবং জানান, তাঁর বিয়ে করা বিবি (তাহেরা) এই বজরাতেই আছে। জমিদারপত্নী বহু চেষ্টা করেও তাহেরাকে পীরের বিয়ে মানাতে পারেন না। হাশেম মানবিক কারণে তাহেরার পক্ষ নিয়ে দাঁড়ায়। তিনি তাহেরাকে বাঁচাতে চান, এমনকি বিয়ে করে হলেও।
বহিপীর প্রথমে ধর্মীয় বিয়ের দোহাই দেন, তাহেরা যুক্তি দিয়ে তা খারিজ করে দিলে তিনি মানবিকতার বাহানা করেন। সব কাজ না হওয়ায় তিনি জমিদারের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন। তিনি প্রস্তাব দেন, তিনি জমিদারির সব টাকা দেবেন, বিনিময়ে তাহেরাকে ফিরে পেতে চান। খোদেজা বেগম একে আল্লাহর রহমত মনে করে রাজি হন এবং তাহেরাকে ফিরে যেতে বলেন।
তখন তাহেরা ভাবে, তাঁর আত্মসমর্পণে পুরো জমিদার পরিবার রক্ষা পাচ্ছে। তিনি রাজি হয়ে যান। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে জমিদার হাতেম আলি বেঁকে বসেন। তিনি নিজেকে খুব ছোট ও স্বার্থপর মনে করেন। তাঁর মানবিক বোধ জেগে ওঠে, তিনি পীরের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
এক পর্যায়ে তাহেরা ও হাশেম পালিয়ে যান। বহিপীর তাঁদের থামাতে চাইলে জমিদার বাধা দেন। শেষে বহিপীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, তারা নতুন জীবনের পথে চলে গেছে, আমরা তাদের কী করে আটকাব? খোদেজা বেগম ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করলে বহিপীর বলেন, আমরা তো আছি, আমাদের পুরোনো পৃথিবী আছে, বাকি দিন সুখে কাটাবো, চিন্তার কী আছে?
এই নাটকটি পীরপ্রথার সমালোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত মানবিক জাগরণের বার্তা দেয়। এটি আমাদের শেখায়, পুরোনো কুসংস্কার ও স্বার্থের জায়গায় শেষ পর্যন্ত সত্য আর মানবতা জয়ী হয়।
বহিপীর নাটকের বর্ণনামূলক প্রশ্ন
| প্রশ্ন ১। | ৩ |
| খ. | ৭ |
ক) উত্তরঃ
খ) উত্তরঃ
| প্রশ্ন ২। ক. | ৩ |
| খ. | ৭ |
ক) উত্তরঃ
খ) উত্তরঃ
| প্রশ্ন ৩। ক. | ৩ |
| খ. | ৭ |
ক) উত্তরঃ
খ) উত্তরঃ
| প্রশ্ন ৪। ক. | ৩ |
| খ. | ৭ |
ক) উত্তরঃ
খ) উত্তরঃ
| প্রশ্ন ৫। ক. | ৩ |
| খ. | ৭ |
ক) উত্তরঃ
খ) উত্তরঃ
বহিপীর নাটকের বর্ণনামূলক প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ
নিচের পিডিএফ ফাইলে বহিপীর নাটকের বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর আরও বেশি দেওয়া আছে।