উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধে নজরুল বলেন, সমাজে জাতপাত, ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। ‘ভদ্রসম্প্রদায়’ নামক উচ্চবর্গ তথাকথিত ‘ছোটোলোক’ বা নিম্নবর্গের মানুষদের ঘৃণা, উপেক্ষা ও অবহেলা করে। লেখক এই বৈষম্যকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। ‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায়ের মানুষদের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ, সরল ও উদার। তারা নিজেদের শক্তিকে চেনে না শুধু উচ্চবর্গের অত্যাচারে। দীর্ঘদিনের ঘৃণা-উপেক্ষায় নিম্নবর্ণের মানুষ নিজেকে ছোট মনে করতে শেখে, তারা ভুলে যায় তারাও মানুষ, তাদেরও সমান অধিকার আছে।
Table of Contents
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] ‘তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি, তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি; তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান, তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!’ ক. ব্যক্তির সমষ্টিকে এক কথায় কী বলা যায়? খ. আমাদের দেশে জনশক্তি গঠন হতে পারছে না কেন? গ. উদ্দীপকের ‘মজুর, মুটে ও কুলি’ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন’ প্রবন্ধের কাদের সমার্থক? ব্যাখ্যা কর। ঘ. “উদ্দীপকের মূলভাব ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের খন্ডাংশ মাত্র- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর। |
উত্তরঃ
ক. ব্যক্তির সমষ্টিকে এক কথায় জাতি বলা যায়।
খ. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, আমাদের দেশে অনেক মানুষ এখনো অবহেলিত। সমাজের যেসব মানুষকে ছোটলোক, পতিত বা চন্ডাল বলা হয়, তারাই আসলে দেশের বড় শক্তি। দেশের মোট জনশক্তির মধ্যে দশ ভাগের আটভাগই এই শ্রেণির মানুষ। কিন্তু আমরা শুধু বাকি দুই ভাগ মানুষকে কাজে লাগিয়ে উন্নতি করতে চাই, যা সম্ভব নয়। তাই দেশের উন্নতির জন্য এদের সম্মান দিতে হবে এবং তাদের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। লেখক মনে করেন, এই দশ আনা শক্তিকে কাজে না লাগালে দেশ কখনোই বিশ্বসভায় সম্মান পাবে না।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখ করা ‘মজুর, মুটে ও কুলি’ আসলে সেইসব শ্রমজীবী মানুষ, যাদের কাজের মাধ্যমে সমাজ চলে। কাজী নজরুল ইসলামের উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধে এদের ‘ছোটলোক’ নামে ডাকা হলেও, লেখক তাঁদের দেশের আসল শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন। সমাজে এদের অবহেলা করা হলেও দেশের অধিকাংশ কাজ এদের হাতেই সম্পন্ন হয়। এদের ছাড়া দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। কবিতায় কবি এই পরিশ্রমী মানুষদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। নজরুল বলেন, দেশের ‘দশ আনা’ শক্তি এই সাধারণ মানুষের মধ্যে লুকিয়ে আছে। কিন্তু আমরা সেই শক্তিকে অবহেলা করছি, তাই দেশের উন্নয়ন থমকে আছে। শ্রমজীবী মানুষদের সম্মান ও সুযোগ না দিলে গণতন্ত্রও গড়ে উঠবে না। তাই কবিতার মজুর-কুলিরাই প্রবন্ধের উপেক্ষিত শক্তির সমার্থক।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব সত্যিই উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের একটি অংশমাত্র। সমাজের নিচু শ্রেণির যেসব মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করে, তারাই আসলে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের আসল শক্তি। অথচ তাদের ‘ছোটলোক’ বলে অবজ্ঞা করা হয়। সমাজের তথাকথিত ভদ্র শ্রেণি তাদের দয়াভিক্ষা দিলেও কখনো সম্মান দেয় না। নজরুল তাঁর প্রবন্ধে এই মানুষদের গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের মোট শক্তির দশ আনা এদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। কিন্তু তাদের অবহেলা করায় দেশ এগোতে পারছে না। উদ্দীপকের কবিতায় শুধু এই নিচু শ্রেণির অবদান এবং তাদের সম্মান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রবন্ধে শুধু এই কথাই নয়, আরও গভীর চিন্তা আছে। সেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণভেদ ভুলে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান আছে। প্রাবন্ধিক চান, এই শ্রমজীবী মানুষগুলোকে ভাইয়ের মতো কাছে টেনে নিতে। তাঁর মতে, সমাজের এই শক্তিকে জাগাতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে। উদ্দীপকে যদিও এই ভাব প্রকাশ পেয়েছে, তবে তা পুরো প্রবন্ধের একটি দিক মাত্র।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা] মদিনাকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পরিখা খননের কাজ চলছে। মহানবি (স.) এগিয়ে গেলেন। তিনি তাঁর মাথায় ঝুড়ি তুলে দিতে বললেন। সাহাবিগণ ঘোর আপত্তি তুললেন। কিন্তু নবিজি তাদের আপত্তিকে আমল দিলেন না। তিনি বলে দিলেন, তিনি অন্য সবার মতো মানুষ। সবাই পরিশ্রম করবেন আর তিনি বসে থাকবেন- সেটা অশোভন। ক. ব্যক্তির সমষ্টিকে এক কথায় কী বলা হয়? খ. “তাহার আত্মা তোমার আত্মার মতোই ভাম্বর, আর একই মহা-আত্মার অংশ।” এখানে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. নবিজির আচরণে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন’ প্রবন্ধের যে দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো। ঘ. “নবিজির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আত্মস্থ করতে পারলেই লেখকের বাঞ্ছিত সমাজব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব।”- বিশ্লেষণ করো। |
উত্তরঃ
ক. ব্যক্তির সমষ্টিকে এক কথায় ‘জাতি’ বলা হয়।
খ. “তাহার আত্মা তোমার আত্মার মতোই ভাস্বর, আর একই মহা-আত্মার অংশ।”—এ কথার মাধ্যমে লেখক সমাজের তথাকথিত ছোটোলোকদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন এবং তাদের আত্মার মহত্ত্ব প্রকাশ করেছেন।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম সাম্য ও মানবতার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে মানুষে মানুষে ছোটো-বড়ো, ধনী-গরিবের কোনো ভেদাভেদ নেই। সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে থাকা মানুষের শক্তিকে জাগিয়ে তোলার কথা তিনি বলেছেন। লেখকের মতে, এই উপেক্ষিত মানুষদের মধ্যেও অসীম শক্তি রয়েছে। তাদের আত্মাও অন্য সবার আত্মার মতোই উজ্জ্বল এবং একই মহান স্রষ্টার অংশ। তাই তাদের ছোটো করে দেখা বা অবহেলা করা উচিত নয়। তাদের সম্মান ও অধিকার দিতে হবে এবং সমাজের কাজে তাদের শক্তিকে ব্যবহার করতে হবে।
গ. নবিজির আচরণের মধ্যে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে প্রকাশিত সাম্যের ভাবটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
উদ্দীপকে মহানবি (স.)-এর কাজের মধ্যেও এই সাম্যের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্য মানুষের মতো তিনিও একজন মানুষ এবং সবাই একই স্রষ্টার সৃষ্টি। তাই সাহাবিদের বাধা ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে পরিখা খননের কাজে অংশ নেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে তিনি সাম্যের সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর এই আচরণ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের সাম্যবাদী চিন্তার সঙ্গে মিলে যায়।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখক একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কথা বলেছেন। তিনি সব মানুষের ঐক্য ও মিলিত শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সমাজের ধনী ও ক্ষমতাবান মানুষেরা অনেক সময় গরিব ও দুর্বল মানুষকে অবহেলা করে। ফলে সমাজের একটি বড় অংশের শক্তি ও যোগ্যতা কাজে লাগানো যায় না। এতে দেশের উন্নতিও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই লেখক সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্দীপকের নবিজির আচরণেও একই সাম্যের শিক্ষা পাওয়া যায়। এ কারণেই বলা যায়, তাঁর আচরণে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. নবিজি ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তাঁর। তাই বলা যায়, “নবিজির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আত্মস্থ করতে পারলেই লেখকের বাঞ্ছিত সমাজব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব”— মন্তব্যটি যথার্থ।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখক ‘মহাসত্য’ ও ‘ন্যায়’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মিলিত চেষ্টা ছাড়া এই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের অবহেলিত মানুষদের সম্মান করতে হবে এবং তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।
উদ্দীপকে নবিজির কাজের মধ্যে সাম্যের সমাজ গড়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। তিনি সব মানুষের মর্যাদাকে সমান মনে করতেন। নবিজি ও সাহাবিদের আচরণে এই সাম্যের ভাব প্রকাশ পেয়েছে। তিনি সাহাবিদের সঙ্গে নিজেও কাজে অংশ নিয়েছেন। এতে ধনী-গরিব, ছোট-বড় ও আমির-ফকিরের মধ্যে যে ভেদাভেদ থাকে, তা দূর করার শিক্ষা পাওয়া যায়। তাঁর কাছে সম্মানের দিক থেকে সব মানুষই সমান। নবিজির এই সাম্যের নীতি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের সাম্যের ভাবের সঙ্গে মিলে যায়।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখক দেশের উন্নতির জন্য সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অল্প কয়েকজন মানুষ মিলে একটি দেশ বা জাতির পূর্ণ উন্নতি করতে পারে না। তাই অবহেলিত ও পিছিয়ে থাকা মানুষদের জাগিয়ে তুলে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে হবে। সমাজের সব ধরনের বৈষম্য দূর করে সবাইকে দেশের কাজে যুক্ত করার কথাই লেখক বলেছেন।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [বগুড়া জিলা স্কুল] আরাম সুখের, মানুষ হইয়া নিতে মানুষের সেবা ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কেবা। ভৃত্য চড়িল উটের পৃষ্ঠে উমর ধরিল রশি মানুষে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধরায় নামিল শশী। মানুষেরে তুমি বলেছ বন্ধু, বলিয়াছ ভাই, তাই তোমারে এমন চোখের পানিতে স্মরি গো সর্বদাই। ক. ‘দুর্দিনের যাত্রী’ কোন ধরনের গ্রন্থ? খ, ‘বোধন-বাঁশিতে সুর দেওয়া’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন’ প্রবন্ধের ফুটে ওঠা দিকটি আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন’ প্রবন্ধের মূলভাবকে কতটুকু ধারণ করে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো। |
উত্তরঃ
ক. ‘দুর্দিনের যাত্রী’ একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
খ. ‘বোধন-বাঁশিতে সুর দেওয়া’ বলতে লেখক ঘুমিয়ে থাকা ও অসচেতন মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার কথা বুঝিয়েছেন।
বোধন-বাঁশি হলো মানুষের ঘুম ভাঙানোর প্রতীক। এর মাধ্যমে লেখক মানুষকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চান, মানুষ নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হোক এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসুক। কারণ সমাজে মানুষে মানুষে নানা ধরনের ভেদাভেদ রয়েছে। শ্রেণিভেদ ও বৈষম্যের কারণে সমাজ ও দেশ পিছিয়ে পড়ছে। দেশের বড় একটি অংশের মানুষকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। ফলে তাদের শক্তি ও যোগ্যতা অপ্রকাশিতই থেকে যাচ্ছে। তারা নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারছে না। লেখক তাই ‘বোধন-বাঁশিতে সুর’ দিয়ে সেই ঘুমন্ত ও অবহেলিত মানুষদের জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা সৃষ্টি করে দেশের কাজে যুক্ত করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের যে দিকটি সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে, তা হলো সাম্যের ভাব।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন, সমাজের আভিজাত্য নিয়ে গর্ব করা কিছু মানুষ সাধারণ ও দরিদ্র মানুষকে ‘ছোটোলোক’ বলে মনে করে। তারা তাদের দুর্বল ও হতাশ বলে দূরে সরিয়ে রাখে। কিন্তু এই সাধারণ মানুষের ভেতরে যে শক্তি ও যোগ্যতা আছে, তা তারা বুঝতে চায় না। এই শক্তিকে চিনতে হলে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সমতার মনোভাব থাকা দরকার।
উদ্দীপকে সব মানুষের সমান অধিকার ও পারস্পরিক ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষই সমান। কে ধনী আর কে গরিব, কে রাজা আর কে সাধারণ মানুষ এসব বিষয় এখানে বড় নয়। মানুষের পরিচয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সৃষ্টিকর্তার কাছে রাজা-প্রজা সবাই সমান। উদ্দীপকের এই ভাব ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের সাম্যের চিন্তার সঙ্গে মিলে যায়। লেখক মনে করেন, উঁচু শ্রেণির মানুষের ভুল ধারণা দূর করে এবং অবহেলিত মানুষের শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারলেই সমাজের উন্নতি সম্ভব। দেশের অগ্রগতির জন্য এই উপেক্ষিত মানুষের শক্তিকে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি।
ঘ. প্রবন্ধের সব বিষয় উদ্দীপকে না থাকায় বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের মূলভাবের একটি অংশ মাত্র তুলে ধরেছে।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখক সমাজে মানবিকতা ও সাম্যের অভাবের কথা বলেছেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকার কারণে একজন অন্যজনকে ঠিকভাবে সম্মান করতে পারে না। সমাজে যে বৈষম্য ও বিভেদ দেখা যায়, তার বড় কারণ হলো মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের অভাব।
উদ্দীপকে সাম্যের সুন্দর একটি ছবি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মনিব তার ভৃত্যকে উটের পিঠে বসিয়ে নিজে উটের রশি ধরে হাঁটছে। এতে ধনী ও গরিবের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ দেখা যায় না। বরং মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান ও ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে সমাজের অবহেলিত দশ আনা শক্তিকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর মতো মানবতাবাদী মানুষের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে এ বিষয়ে কোনো কথা নেই। অবহেলিত মানুষদের ছোট করে না দেখে তাদের শক্তিকে কাজে লাগানোর যে আহ্বান লেখক জানিয়েছেন, সেটিও উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। প্রবন্ধে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে তথাকথিত ‘ছোটোলোক’দের জাগিয়ে তুলে দেশের উন্নতি করার কথাও বলা হয়েছে। উদ্দীপকে এসব বিষয়ের কোনো ইঙ্গিত নেই। সেখানে শুধু সাম্যের একটি দৃষ্টান্ত এবং ইসলামের সাম্যের শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। তাই সব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের মূলভাবকে সম্পূর্ণভাবে নয়, আংশিকভাবে ধারণ করেছে।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। এক গ্রামের জমিদার অত্যন্ত অহংকারী। তিনি গ্রামের নিম্নবর্ণের মানুষদের সঙ্গে কোনো আচরণ করতেন না। তাঁর বাড়িতে একটি বড় পুকুর ছিল, কিন্তু নিচু জাতের মানুষ সেখানে জল আনতে পারত না। একদিন এক নিম্নবর্ণের কিশোরী পুকুরের ধারে দাঁড়িয়ে জল চাইলে জমিদারের স্ত্রী তাকে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন। কিন্তু গ্রামের এক শিক্ষিত যুবক এসে ওই মেয়েটির পাত্রে নিজ হাতে জল ভরে দেন এবং জমিদারকে বলেন, ‘আমরা সবাই মানুষ, আমাদের কারও ওপর কারও শ্রেষ্ঠত্ব নেই।’ ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখক কোন সম্প্রদায়কে ‘ছোটোলোক’ বলেছেন? খ. ‘এই হতভাগাদিগকে- আমাদের এই সত্যিকার মানুষদিগকে আমরা এই রকম অবহেলা করিয়া চলিয়াছি বলিয়াই আজ আমাদের এত অধঃপতন।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের যুবকের আচরণ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন দিকটির প্রতিফলন? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘উদ্দীপকের যুবকটি যদি লেখকের বাঞ্ছিত ভূমিকা পালন করত, তবে গ্রামের বৈষম্য দূর হতে পারত।’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। সানজিদা একটি এনজিওতে কর্মরত। তিনি গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজ করেন। তিনি তাদের সঙ্গে মিশে যান, তাদের বাড়িতে যান, তাদের কষ্টের কথা শোনেন। তিনি কখনও নিজেকে তাদের চেয়ে বড় মনে করেন না। তাঁর এই আচরণে গ্রামের মানুষ খুব অনুপ্রাণিত হয় এবং তারা নিজেদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়। একজন বৃদ্ধা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এতটা মিশে কেউ আগে কখনও কাজ করেনি।’ ক. ‘চণ্ডাল’ শব্দটি দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন? খ. ‘একদিনে সেই কাজ সম্পন্ন হইবে।’- লেখক কোন প্রসঙ্গে একথা বলেছেন? গ. উদ্দীপকের সানজিদার কর্মপদ্ধতি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন দিকটির অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘সানজিদার মতো মানুষই পারে উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে।’- বিশ্লেষণ কর। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। এক রাজা তাঁর রাজ্যের সব প্রজাকে সমান চোখে দেখতেন। তিনি কোনো ভেদাভেদ করতেন না। একদিন তাঁর মন্ত্রী তাকে বলেন, ‘মহারাজ, আপনি নিচু জাতের লোকদের সঙ্গে মিশছেন, এটা আপনার মর্যাদার জন্য ভালো নয়।’ রাজা উত্তর দেন, ‘আমার মর্যাদা আমার প্রজাদের ভালোবাসায়, আর তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।’ তিনি নিজে নিম্নবর্ণের এক কৃষকের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে খাবার খান এবং তার সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। ক. ‘ছোটোলোক’-দের অন্তরকে লেখক কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন? খ. ‘তোমরা ভদ্রসম্প্রদায়, মানি, দেশের দুর্দশা জাতির দুর্গতি বুঝো, লোককে বুঝাইতে পারো এবং ঐ দুর্ভাগ্যের কথা কহিয়া কাঁদাইতে পার, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে নামিয়া কার্য করিবার শক্তি তোমাদের আছে কি?’- এই উক্তির মাধ্যমে লেখক কী বলতে চেয়েছেন? গ. উদ্দীপকের রাজার আচরণ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন শিক্ষার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘রাজার এই আচরণই লেখকের বাঞ্ছিত সমাজব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।’- মন্তব্যটি বিচার কর। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অত্যন্ত মানবিক। তিনি তাঁর স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রীকে সমান ভালোবাসেন। একটি নিম্নবর্ণের মেয়ে উচ্চবর্ণের ছাত্রদের দ্বারা অপমানিত হলে তিনি সবাইকে ডেকে বলেন, ‘আমাদের স্কুলে সবাই সমান। জন্মগতভাবে কেউ ছোট বা বড় নয়। বড়ত্ব দেখাতে হয় কাজের মাধ্যমে।’ তিনি ওই মেয়েটিকে উৎসাহিত করেন এবং সবাইকে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে বলেন। ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত? খ. ‘ইহাদিগকে মানুষ বলিয়া ভাই বলিয়া কোল দিবার তোমার উদারতা থাকে, তাহাদিগের শক্তির উন্মেষ করিতে পারো, তাহা হইলে দেখিবে তুমি শত বৎসর ধরিয়া প্রাণপণে চেষ্টা সত্ত্বেও যে-কাজ করিতে পারিতেছ না, একদিনে সেই কাজ সম্পন্ন হইবে।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষিকার মনোভাব ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন দিকটির ইঙ্গিত বহন করে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘প্রধান শিক্ষিকার মতো উদার মনোভাব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৈরি করতে পারলে বৈষম্য দূর করা সম্ভব।’- বিশ্লেষণ কর। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। মহাত্মা গান্ধী একবার একটি দরিদ্র গ্রামে গেলে গ্রামবাসীরা তাঁর পায়ে পড়ে। তিনি তাদের জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে একজন। তোমরা আমাকে ভয় পেয়ো না, তোমরা আমার ভাই-বোন।’ তিনি গ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের বাড়িতে থাকেন এবং তাদের সঙ্গে খাবার খান। এই ঘটনা গ্রামবাসীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসাহের সৃষ্টি করে এবং তারা নিজেদের শক্তিতে বিশ্বাস করতে শুরু করে। ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে মহাত্মা গান্ধীর উল্লেখ কেন? খ. ‘ঐ তথাকথিত ‘ছোটোলোক’-এর অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর আচরণ ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন বার্তাকে স্পষ্ট করে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘গান্ধীজির মতো করে যদি প্রতিটি নেতা উপেক্ষিতদের কাছে যান, তবে লেখকের স্বপ্নের সমাজ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। |
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ
Related Posts
- বাংলা ভাষা সংকট ও সম্ভাবনা মূলভাব, প্রশ্ন উত্তর ও বহুনির্বাচনি – ৯ম শ্রেণির বাংলা
- কপোতাক্ষ নদ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর
- বই পড়া প্রবন্ধের মূলভাব – ৯ম ও ১০ম শ্রেণির বাংলা
- প্রবাস বন্ধু গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর
- নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস ২০২৪ PDF সহ