গন্তব্য কাবুল সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর – একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় সৈয়দ মুজতবা আলী হাওড়া স্টেশন থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেছেন। এই পোস্টে গন্তব্য কাবুল সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর – একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা লিখে দিলাম।

গন্তব্য কাবুল সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
‘মানুষ যে কেবল নিজেকেই জানিতে চায় তাহাই নহে, বাহিরের জগতের আহ্বান প্রতিনিয়তই তাহাকে টানিতেছে। এই আহ্বানে প্রলুব্ধ হইয়া অনেক লোক দেশভ্রমণে বহির্গত হয়। নানা দেশ, নানা জাতি, তাহাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিভিন্ন জনের নিকট বিভিন্ন রূপে ধরা দেয়। বাহিরের এই বস্তুসত্তাকে লেখক মানসরসে প্রত্যক্ষ করিয়া তথ্যসংবলিত গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এই জাতীয় গ্রন্থে বস্তুসত্তার প্রাধান্য থাকিলেও উহার মধ্যে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থাকিতে পারে।’

ক. ফিরিঙ্গি কী?

খ. সর্দারজিকে লেখকের ভালো লাগার কারণ কী?

গ. ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় উদ্দীপকের কোন সত্তাটি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উপর্যুক্ত সত্তাটি ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার শেষ কথা নয়। বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ

ক. ফিরিঙ্গি ফার্সি থেকে আগত একটি শব্দ। এর অর্থ হলো ফরাসি বা ইউরোপিয়ান।

খ. স্পষ্টভাষী এবং সতর্কতামূলক উপদেশ দেওয়ার কারণেই সর্দারজিকে লেখকের ভালো লাগে।

লেখকের চোখে সর্দারজি একজন খুব সহজ ও সরল মানুষ হলেও তিনি যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ। কর্মজীবনে তিনি নানা জায়গায় কাজ করে অনেক রকম অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার কিছু কথা তিনি লেখককে শুনিয়েছেন। লেখক তাঁর কাছে একেবারেই অপরিচিত হলেও সর্দারজি খুব স্বাভাবিক ও সহজভাবে কথা বলেন। এই কারণেই লেখকের কাছে সর্দারজিকে ভালো লেগে যায়।

গ. গন্তব্য কাবুল’ রচনায় উদ্দীপকে বর্ণিত লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি বা ব্যক্তিসত্তার দিকটি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।

‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার মাধ্যমে সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠকদের সামনে এক অনন্য ভ্রমণসাহিত্য তুলে ধরেছেন। এই লেখায় তাঁর নিজের জীবনভাবনা, সাহিত্যবোধ ও লেখার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ভ্রমণকাহিনিতে দেখা যায়, আফগানিস্তানে যাওয়ার পথে লেখকের নানা জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি কাবুলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবারদাবার ও মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে পারেন।

উদ্দীপকে মানুষের ভ্রমণের ইচ্ছা ও জানার আগ্রহের কথা বলা হয়েছে। এখানে দেশ ও জাতির বৈচিত্র্য তুলে ধরার পাশাপাশি লেখকের নিজের অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষ স্বভাবতই অজানাকে জানতে চায় এবং নতুন জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী। তবে উদ্দীপকে শুধু বাইরের বিষয়বস্তুর বর্ণনাই নয়, লেখকের মনের ভাব ও ব্যক্তিগত উপলব্ধিকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করার দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে। উদ্দীপক অনুযায়ী, ভ্রমণকাহিনিতে বিষয়বস্তুর পাশাপাশি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ থাকা জরুরি। তাই বলা যায়, ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় উদ্দীপকে উল্লেখিত এই লেখকসত্তার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ঘ. “উপযুক্ত সত্তাটি ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার শেষ কথা নয়।”- কেননা, এটি ছাড়াও ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় আরও বহুমুখী ভাবের সংমিশ্রণ রয়েছে।

‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী হাওড়া স্টেশন থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল পর্যন্ত নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা খুব প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেছেন। এই লেখায় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতিই নয়, সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি, ভূগোল, ইতিহাস, সংস্কৃতি, নানা জাতির মানুষ ও তাদের জীবনধারার কথাও সুন্দরভাবে এসেছে।

উদ্দীপকে বাইরের জগৎ সম্পর্কে মানুষের প্রবল কৌতূহলের কথা বলা হয়েছে। এই কৌতূহল থেকেই মানুষ দেশ-বিদেশে ভ্রমণে যায়। ভ্রমণের মাধ্যমে তারা নানা দেশ, জাতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে। উদ্দীপকে আরও বলা হয়েছে, ভ্রমণকাহিনিতে বাইরের বিষয়বস্তুর গুরুত্ব থাকলেও লেখকের নিজের ভাবনা ও ব্যক্তিত্বও সেখানে প্রকাশ পায়।

তবে উদ্দীপকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার ধারাবাহিক ভ্রমণকাহিনি নেই। সেখানে কিছু দেশ ও জাতির সংস্কৃতির কথা বলা হলেও তাদের ভূগোল, ইতিহাস, মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সাম্যের দিকটি স্পষ্ট হয়নি। অন্যদিকে, ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি কাবুলের মানুষের জীবনযাপন, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবিক চেতনা গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে যে বস্তুসত্তার কথা বলা হয়েছে, ‘গন্তব্য কাবুল’ তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত, গভীর, বহুমাত্রিক ও অর্থবহ একটি রচনা।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২।
নিনাদ রাজশাহী বাসস্ট্যান্ড থেকে বেনাপোল যাওয়ার উদ্দেশে বেনাপোলগামী দূরপাল্লার বাসে চড়ে যাত্রা আরম্ভ করল। বাসের দ্রুতগতির সাথে সমানতালে যেন মে মাসের প্রখর রৌদ্র পাল্লা দিচ্ছিল। বাস ও রৌদ্রের ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলার পাল্লায় নিনাদসহ অন্য যাত্রীর প্রাণ প্রায় যায় যায়।

ক. সৈয়দ মুজতবা আলী কত খ্রিষ্টাব্দে মারা যান?

খ. ‘আমার চোখ দুটো সঙ্গে সঙ্গে জমে যেতে লাগল।’- লেখক কেন এ কথা-বলেছেন?

গ. উদ্দীপক ও ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার মধ্যে সাদৃশ্য দেখাও।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার সমগ্রভাব ফুটে ওঠেনি।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩।
মিতু বিদেশে গিয়ে পরিচিত হয় একজন আফ্রিকান মহিলার সঙ্গে। মহিলা অত্যন্ত ভালো ও আন্তরিক। পরিচয় থেকে আলাপ। অতঃপর খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায় উভয়েই। একদিন দুপুরে খাওয়ার সময় হলে আফ্রিকান মহিলা তার ব্যাগ খুলে কিছু খাবার বের করেন। মায়ের হাতের রান্না করা বলে মিতুকে খেতে বলায় মিতু তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সানন্দে আফ্রিকান মহিলার খাবার গ্রহণ করে।

ক. বুড়ো বয়সেও মাঝে মাঝে বায়োস্কোপে যায় কে?

খ. কোন বিষয়ে লেখকের ঈষৎ উদ্বেগ রয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।

গ. উদ্দীপকের আফ্রিকান মহিলার সাথে ‘গন্তব্য কাবুল’-এর কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে?

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার খণ্ডাংশ মাত্র।” ৩ উদ্দীপক ও ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার আলোকে তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪।
প্রতিদিন সকালবেলা নাহিদের ঘুম ভাঙে মায়ের কোরআন তেলাওয়াত শুনে। মিষ্টিমধুর সুরে মায়ের মুখে আরবি উচ্চারণ নাহিদকে বিস্মিত করে তোলে। কোনো মানুষ কীভাবে এত স্নিগ্ধ তেলাওয়াত করতে পারে!

ক. ইরাকে বিনা পর্দায় ছাগল চরায় কারা?

খ. লেখক তিন গজ পিছিয়ে গেলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার সাযুজ্যপূর্ণ দিকটি বর্ণনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার সম্পূর্ণ ভাব ফুটে ওঠেনি।”- মন্তব্যটি বিচার করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫।
জীবনে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে বেড়াতে এলেন মেরাজ আলী। প্রথমে তিনি স্থানীয় কোনো হোটেলে উঠতে চাইলেও পরে তার এক বন্ধুর দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায় ওঠার সিদ্ধান্ত নেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি কিছুটা সংকোচ বোধ করলেও তার বন্ধুর দূরসম্পর্কের মামা আমজাদ আলীর উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথ্যে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান।

ক. লেখকের বন্ধুর বন্ধুর নাম কী?

খ. ‘এর কতটা আন্তরিক, আর কতটা লৌকিকতা?’- কেন বলা হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের আমজাদ আলী ও ‘গন্তব্য কাবুল’-এর শেখ আহমদ আলীর চারিত্রিক সাদৃশ্য চিহ্নিত করো।

ঘ. ‘পাঠানের অভ্যর্থনা নির্জলা আন্তরিক।’- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬।
রামগড়ের পর ১০/১২ মাইল পথ অত্যন্ত বিপদসংকুল। রাস্তা হেয়ার-পিনের মতো এঁকেবেঁকে উপরের দিকে উঠেছে। রাস্তার মুখেই একটি সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘রাস্তা বড় বিপদসংকুল’। ভ্রমণের আনন্দের চেয়ে প্রাণের ভয়ই তখন আমাদের সামনে বড়ো হয়ে দাঁড়াল। অবিরাম হর্ন বাজাতে বাজাতে এঁকেবেঁকে আমরা সেই পার্বত্য পথে আরোহণ করতে লাগলাম।

ক. লান্ডিকোটাল থেকে দক্কা কত মাইল?

খ. ‘এখন আর রাস্তা বলে কোনো বালাই নেই’- কেন বলা হয়েছে?

গ. উদ্দীপকে ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার কোন বিষয়টি উঠে এসেছে? আলোচনা করো।

ঘ. “বিঘ্নসংকুল রাস্তা ভ্রমণকে ভীতিকর ও প্রাণহীন করে তুলতে পারে।” মন্তব্যটির’ পক্ষে ‘গন্তব্য কাবুল’ ও উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭।
বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি
দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী
মানুষের কত কীর্তি কত নদী
গিরি সিন্ধু মরু কত-না অজানা জীব,
কত-না অপরিচিত তরু রয়ে গেল অগোচরে।

ক. জালালাবাদ থেকে কাবুলের দূরত্ব কত মাইল?

খ. ‘ইয়োম উস সফর, নিম্ফ উস্ সফ্র’-ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপক ও ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার বিষয়গত সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য চিহ্নিত করো।

ঘ. “উদ্দীপকে যে ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে তা ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার লেখকের দর্শনকে প্রতিফলিত করে।”- এ বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮।
তমিজউদ্দিন ব্যাপারী বয়সে প্রবীণ কিন্তু মনের দিক থেকে তিনি এখনো তরুণ। তিনি বাচ্চাদের খুব ভালোবাসেন। নিজের নাতি-নাতনিসহ পাড়ার অন্য যুবক-যুবতিদের নিয়ে মাঝে মাঝে সিনেমা দেখেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও যান। খেলাধুলা করেন। তার উদ্দেশ্য বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা। এসবের মধ্য দিয়ে তিনি ভালো থাকতে ও আনন্দে বাঁচতে চেষ্টা করেন।

ক. সর্দারজির বয়স কত?

খ. দক্কাদুর্গের সামনে এসে লেখকের চোখ জুড়িয়ে গেল কেন?

গ. উদ্দীপকের তমিজউদ্দিন ব্যাপারীর কর্মকান্ডের সাথে ‘গন্তব্য কাবুল’ ভ্রমণকাহিনির ফুটে ওঠা দিকটির সাদৃশ্য দেখাও।

ঘ. ‘আনন্দে বাঁচার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়।’- উদ্দীপক ও ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার প্রেক্ষাপটে তার যথার্থতা নিরূপণ করো।

নিচে গন্তব্য কাবুল সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

গন্তব্য কাবুল সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ

আরও পড়ুনঃ মাসি পিসি গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

Related Posts

Leave a Comment