পদ্মা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর – একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

ফররুখ আহমদের ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মা নদীকে দুই রূপে তুলে ধরা হয়েছে। একদিকে পদ্মা তার প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের মাধ্যমে মানুষের জীবনে গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য এনে দেয়। ক্লান্ত ও স্থবির জীবনে সে নতুন উদ্দীপনা জাগায়। এই পোস্টে পদ্মা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।

পদ্মা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
প্রমত্তা পদ্মার সর্বগ্রাসী রূপ নিয়ে বিখ্যাত শিল্পী আবদুল আলীমের ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’ নামে বহুল প্রচলিত একটি গান রয়েছে। নদী-তীরবর্তী মানুষের হাহাকার ভরা দীর্ঘশ্বাস গানটিতে ফুটে উঠেছে। গানের একটি অংশে বলা হয়েছে-
“পদ্মারে তোর তুফান দেইখা
পরান কাঁপে ডরে
ফেইলা আমায় মারিস না তোর
সর্বনাশা ঝড়ে।”

ক. জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয় কারা?

খ. ‘মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকটির সাথে ‘পদ্মা’ কবিতার কোন দিকটির সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র।”- উক্তিটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

উত্তরঃ

ক. জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয় নির্ভীক জওয়ান।

খ. ‘মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার’ বলতে পদ্মা নদীর প্রাণশক্তি ও গতিময়তার কথা বোঝানো হয়েছে।

নদীর প্রবল স্রোত মানুষের স্থবির ও নিস্তেজ জীবনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। পদ্মার উর্বর পলিমাটি মানুষের জীবিকা ও ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে মানুষ নতুনভাবে বাঁচার আশা পায়। নদী ধ্বংস ডেকে আনলেও আবার সেই নদীই মানুষের জীবনে কর্মচাঞ্চল্য ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনে। তাই পদ্মার প্রবাহকে কবি মুক্তি ও জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন।

গ. উদ্দীপকটির সঙ্গে ফররুখ আহমদ-এর ‘পদ্মা’ কবিতার পদ্মা নদীর ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক রূপের সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকের গানে পদ্মার তুফান দেখে মানুষের ভীত ও আতঙ্কিত অবস্থার কথা বলা হয়েছে। নদীর ভয়াল রূপ মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করেছে এবং তাদের জীবনে দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। একইভাবে ‘পদ্মা’ কবিতাতেও পদ্মার প্রমত্ত ও ভয়ংকর রূপ ফুটে উঠেছে। কবি বলেছেন, পদ্মার উত্তাল তরঙ্গ দেখে দুর্ধর্ষ জলদস্যুরাও ভয় পেত। আবার বর্ষাকালে পদ্মার প্রবল স্রোত মানুষের সাজানো বাগান, ঘরবাড়ি ও জীবন ভাসিয়ে নেয়। ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবনে নেমে আসে দুঃখ ও বিপর্যয়।

উভয় ক্ষেত্রেই পদ্মার ভয়াল শক্তি ও মানুষের অসহায় অবস্থার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটির সঙ্গে ‘পদ্মা’ কবিতার ধ্বংসাত্মক দিকটির সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।

ঘ. উক্তিটি যথার্থ। কারণ উদ্দীপকটিতে ফররুখ আহমদ-এর ‘পদ্মা’ কবিতার শুধু পদ্মা নদীর ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক রূপটি তুলে ধরা হয়েছে।

গানে পদ্মার তুফান ও সর্বনাশা ঝড়ের কারণে মানুষের ভয়, আতঙ্ক ও অসহায়তার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের দুঃখ ও হাহাকার সেখানে প্রধান হয়ে উঠেছে। এই দিকটি ‘পদ্মা’ কবিতার বর্ষাকালের ভয়াল রূপের সঙ্গে মিল রয়েছে। কবিতাতেও পদ্মার স্রোতে মানুষের সাজানো বাগান, ঘরবাড়ি ও জীবন ভেসে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু ‘পদ্মা’ কবিতায় শুধু ধ্বংসের কথা বলা হয়নি। কবি পদ্মার কল্যাণময় ও জীবনদায়ী রূপও তুলে ধরেছেন। পদ্মার উর্বর পলিমাটিতে মানুষ প্রচুর ফসল ফলায় এবং জীবিকার সম্বল পায়। নদীর দুই তীরে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয় এবং মানুষের জীবনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

কবি পদ্মাকে একই সঙ্গে ভয়ংকর ও কল্যাণময় শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকে নদীর ইতিবাচক বা জীবনদায়ী দিকের কোনো উল্লেখ নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২।
বাংলার নদী শুধু জলধারা নয়, সে প্রাণের স্পন্দন, সংগ্রামের সাক্ষী। বর্ষায় যখন সে উন্মত্ত হয়ে ওঠে, গ্রাম-গঞ্জ ভাসিয়ে নেয়, তখন তাকে অভিশাপ দেয় মানুষ। আবার শুকনো মৌসুমে তার পলি জমি করে উর্বর, শস্যে ভরে ওঠে দুই তীর। এই নদীই যেন বাঙালির জীবনবোধের প্রতীক।

ক. ‘পদ্মা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

খ. ‘জলদস্যু-দুরন্ত হার্মাদ’ কেঁপেছে কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের ‘নদীর দ্বৈত রূপ’ ‘পদ্মা’ কবিতার কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের বাঙালির জীবনবোধ ও ‘পদ্মা’ কবিতার নদীর চরিত্র অভিন্ন সত্যে উপনীত”—বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩।
প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ যতই আঘাত হোক না কেন, মানুষ থেমে থাকে না। ঘর ভাঙে, বান ডাকে, ফসল নষ্ট হয়। তবু মানুষ আবার ঘর বাঁধে, জমি চাষ করে। এই অদম্য বেঁচে থাকার শক্তি যেন পায় বাংলার মাটি ও নদী থেকেই।

ক. ‘পদ্মা’ কবিতায় ‘জওয়ান’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

খ. ‘মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার’—ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা ‘জিইয়ে থাকার শক্তি’ ‘পদ্মা’ কবিতার কোন চরণে প্রতিফলিত? আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের মানুষ ও ‘পদ্মা’ কবিতার কৃষক-সংগ্রামী একই সত্তার ধারক”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪।
বাংলাদেশের নদীগুলো কেবল অর্থনীতি নয়, বরং সাহিত্য-সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনারও অবিচ্ছেদ্য অংশ। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এসব নদী বাঙালির দুঃখ-সুখ, বর্তমান-ভবিষ্যৎ সবকিছুর সঙ্গী। কবি ফররুখ আহমদ পদ্মাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছেন এক জীবনবাদী দর্শন।

ক. ফররুখ আহমদের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

খ. ‘অসংখ্য জীবন, আর জীবনের অজস্র সম্ভার’—কাদের বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের ‘জীবনবাদী দর্শন’ ‘পদ্মা’ কবিতার কোন চরণে সবচেয়ে স্পষ্ট? আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের বাঙালির সাহিত্য-চেতনা ও ‘পদ্মা’ কবিতার নদীর প্রতীকায়ন পরস্পর সম্পূরক”—বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫।
প্রকৃতির একই উপাদান কখনো ধ্বংস ডেকে আনে, কখনো সৃষ্টি। পাহাড়ি ঝড় যেমন গাছ ভাঙে, আবার সেই বৃষ্টি ফসলের জন্য অমৃত। এই দ্বান্দ্বিকতায় ভরা বাংলার নদীগুলো। পদ্মা তার ধ্বংসের মধ্যেও বয়ে আনে উর্বরতার বাণী।

ক. ‘পদ্মা’ কবিতাটি কত মাত্রার ছন্দে রচিত?

খ. ‘বর্ষায় তোমার স্রোতে গেছে ভেসে সাজানো বাগান’—ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের ‘প্রকৃতির দ্বান্দ্বিকতা’ ‘পদ্মা’ কবিতার কোন অংশে চিত্রিত হয়েছে? আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের ধ্বংস ও সৃষ্টির দ্বান্দ্বিকতা ‘পদ্মা’ কবিতার মূল সুরেরই পুনর্ব্যাখ্যা”—বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬।
সংগ্রাম করে বাঁচতে শেখে মানুষ। বাংলার কৃষক জানে, বর্ষার প্লাবন যেমন ফসল নষ্ট করে, তেমনি সেই জলের উপরই নির্ভর করে তার ক্ষেতের ফলন। তাই সে ভয় পায় না, থেমে যায় না বরং বারবার চষে যায় তার জমি। এই চিরযুদ্ধই বাঙালির পরিচয়।

ক. ‘কাফেলা’ কাব্যগ্রন্থে কয়টি সনেট আছে?

খ. ‘নিঃসংশয়, নির্ভীক জওয়ান’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের ‘সংগ্রামী বাঙালির চরিত্র’ ‘পদ্মা’ কবিতায় কীভাবে চিত্রিত হয়েছে? আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের বাঙালির জিইয়ে থাকার কাব্য ও ‘পদ্মা’ কবিতার জীবনমুখী চেতনা অভিন্ন”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭।
নদীকে দেখে কবি শেখেন জীবন-মৃত্যুর খেলা। একদিকে নদী ভাঙে, অন্যদিকে গড়ে। এই ভাঙা-গড়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। কবি ফররুখ আহমদ পদ্মার এই চিরপ্রবাহিত স্রোতের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন মুক্তির দর্শন।

ক. ফররুখ আহমদ কোন পুরস্কার লাভ করেছেন?

খ. ‘তোমার প্রদীপ্ত স্রোতধারা’— বলতে পদ্মার কোন রূপ বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের ‘ভাঙা-গড়ার দর্শন’ ‘পদ্মা’ কবিতার কোন চরণে ধরা পড়েছে? আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের প্রকৃতির নিয়ম ও ‘পদ্মা’ কবিতার চিরপ্রবাহিত স্রোত একই সত্যের প্রতীক”—বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮।
কোনো কোনো কবি প্রকৃতির ধ্বংসাত্মক রূপকেও দেখেছেন সৃষ্টির অনুষঙ্গ হিসেবে। যেমন জলপ্রলয়ের পরেই জেগে ওঠে নতুন দ্বীপ, তেমনি ব্যক্তিজীবনের ব্যর্থতার পরেই আসে সাফল্য। ফররুখ আহমদের কবিতায় পদ্মা যেন সেই চিরন্তন আশার বার্তাবাহক।

ক. ফররুখ আহমদ কোথায় ‘স্টাফ রাইটার’ ছিলেন?

খ. ‘জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয়’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের ‘আশার বার্তা’ ‘পদ্মা’ কবিতার কোন চরণে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল? আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের ধ্বংসের মাঝে সৃষ্টির প্রত্যাশা ও ‘পদ্মা’ কবিতার শেষ পঙ্ক্তির ভাব সম্পূর্ণ মিলে যায়”—বিশ্লেষণ করো।

নিচে পদ্মা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

পদ্মা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ

Related Posts

Leave a Comment