“সুচেতনা” কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ (১৯৪২) কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক কবিতা। সুচেতনা এখানে শুধু একটি নাম নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক চেতনা, যা মানবজাতির আলোকময় ভবিষ্যতের প্রতীক। এই পোস্টে সুচেতনা কবিতার মূলভাব, ব্যাখ্যা ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
সুচেতনা কবিতার মূলভাব
“সুচেতনা” কবিতায় জীবনানন্দ দাশ মানুষের মনের ভেতরের এক পবিত্র ও নির্মল ভাবনার কথা বলেছেন, যাকে তিনি দূরের একটি দ্বীপের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কবি বলেন, এই পৃথিবীতে যুদ্ধ, রক্তপাত ও নানা দুঃখ থাকলেও এগুলোই জীবনের শেষ কথা নয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, মানুষকে ভালোবাসতে গিয়েও অনেক সময় তাঁর হাত দিয়েই প্রিয়জনরা কষ্ট পেয়েছে। পৃথিবী আজ অসুস্থ ও দুঃখে ভরা, তবুও মানুষ এই পৃথিবীকে ভালোবাসে এবং তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকে। কবির বিশ্বাস, মানুষের শুভবুদ্ধি বা সুচেতনার আলো জ্বালিয়েই একদিন পৃথিবীকে মুক্তির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, যদিও তা খুব সহজ কাজ নয় এবং বহু মহান মানুষের দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টা দরকার। তিনি বলেন, আমরা ক্লান্ত হলেও হাল ছাড়ব না; অদম্য নাবিকের মতো একদিন সুন্দর মানবসমাজ গড়ে তুলব, তবে তা আজ নয়, অনেক দূর ভবিষ্যতে। কখনো মনে হয় এই দুঃখের পৃথিবীতে জন্ম না নিলেই ভালো হতো, কিন্তু আবার শিশিরভেজা উজ্জ্বল সকালে মনে হয়। জন্ম নিয়ে আমরা অনেক সুন্দর জিনিস পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত কবির গভীর আশা প্রকাশ পায় এই কথায় যে, গভীর অন্ধকার রাতের মাঝেও এক অনন্ত সূর্যোদয় লুকিয়ে আছে। অর্থাৎ সব সংকটের মধ্যেও মানুষের মুক্তি ও আলোর পথ কখনো শেষ হয় না।
সুচেতনা কবিতার ব্যাখ্যা লাইন বাই লাইন
“সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;”
এখানে কবি ‘সুচেতনা’-কে একটি দূরের দ্বীপের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেমন বিকেলের আকাশে নক্ষত্র দেখা যায় না, তেমনি এই সুচেতনাও খুব সহজে চোখে পড়ে না। এটি মানুষের ভেতরে থাকা এক গভীর, সূক্ষ্ম ও পবিত্র মানবিক চেতনা, যা সবার মধ্যে জাগ্রত থাকে না। তাই কবি একে দূরতর দ্বীপ বলেছেন।
“সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।”
এই সুচেতনার জগৎ খুব শান্ত ও নির্জন। ‘দারুচিনি-বনানী’ বলতে সবুজ, সুন্দর ও মধুর প্রকৃতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সুচেতনা এমন এক জায়গা, যেখানে হিংসা, যুদ্ধ বা কোলাহল নেই আছে প্রশান্তি ও একাকিত্ব। কবি বোঝাতে চেয়েছেন, এই শুভ চেতনা পৃথিবীর ভিড় ও অশান্তির মধ্যে খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যায়, কিন্তু যেখানে আছে, সেখানে গভীর শান্তি বিরাজ করে।
“এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।”
এই লাইনে কবি বলছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধ, রক্তপাত, ক্ষমতার লড়াই ও বাহ্যিক সাফল্য সবই বাস্তব সত্য। মানুষ যুদ্ধ করে, অন্যকে হারিয়ে জয় লাভ করে, ক্ষমতা অর্জন করে এগুলো অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু কবির মতে, এগুলোই মানুষের জীবনের চূড়ান্ত বা শেষ সত্য নয়। যুদ্ধ বা রক্তপাতের মধ্যেই মানবজীবনের আসল অর্থ শেষ হয়ে যায় না। এর চেয়েও বড় সত্য আছে। মানবতা, ভালোবাসা, শুভ চেতনা ও শান্তির আকাঙ্ক্ষা। কবি বিশ্বাস করেন, এই মানবিক মূল্যবোধই একদিন পৃথিবীর প্রকৃত সত্য হয়ে উঠবে।
আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ”
এখানে ‘রূঢ় রৌদ্র’ বলতে জীবনের কঠিন বাস্তবতা, কষ্ট ও সংগ্রামের কথা বোঝানো হয়েছে। কবি বলতে চান জীবনের পথে চলতে গিয়ে তিনি বহু দুঃখ, যন্ত্রণা ও তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন।
“পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু,”
কবি মানুষের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি মানুষকে শুধু মানুষ হিসেবেই সম্মান করতে চেয়েছেন, কোনো ভেদাভেদ না করে।
“দেখেছি আমারি হাতে হয়ত নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন প’ড়ে আছে;”
এখানে কবি গভীর বেদনার কথা বলেছেন। ভালোবাসা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও মানুষ মানুষকে আঘাত করে, হত্যা করে। অনেক সময় অজান্তেই নিজের কাজের ফলেই প্রিয় মানুষদের ক্ষতি হয়। কবি এই বাস্তবতাকে খুব কষ্টের সঙ্গে উপলব্ধি করেছেন।
“পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;”
পৃথিবী শুধু ওপর থেকে নয়, ভেতর থেকেও অসুস্থ। হিংসা, লোভ, স্বার্থপরতা ও যুদ্ধ মানুষের মনকে বিষাক্ত করে তুলেছে। এটাই পৃথিবীর গভীর রোগ।
“মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।”
সব কষ্ট ও অশুভতার পরেও মানুষ এই পৃথিবীর কাছেই ঋণী। কারণ এই পৃথিবীতেই মানুষ জন্ম নেয়, জীবন শেখে, ভালো-মন্দ বোঝে এবং মানবিক চেতনার মূল্য উপলব্ধি করে।
“সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে—এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;”
এখানে কবি সুচেতনাকে আহ্বান করে বলছেন—এই অন্ধকার, সংকটপূর্ণ পৃথিবীতে শুভ চেতনার আলো জ্বালাতে হবে। হিংসা, যুদ্ধ, লোভ ও অমানবিকতার অন্ধকার থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার একমাত্র পথ হলো মানবিকতা, ভালোবাসা ও নৈতিক চেতনার জাগরণ। এই পথ ধরেই ধীরে ধীরে (ক্রমে) পৃথিবী মুক্তির দিকে এগোবে।
“সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;”
কবি বোঝাতে চান, পৃথিবীর এই মুক্তি একদিনে বা অল্প সময়ে সম্ভব নয়। বহু শতাব্দী ধরে জ্ঞানী, চিন্তাশীল ও মানবদরদি মানুষদের সাধনা, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই এই আলোকিত পৃথিবী গড়ে উঠবে। অর্থাৎ সুচেতনার পথ দীর্ঘ, কিন্তু সেটিই সঠিক পথ।
“এ-বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;”
এই লাইনে কবি আশার ইঙ্গিত দিয়েছেন। চারপাশে অন্ধকার ও হতাশা থাকলেও কবি অনুভব করেন—বাতাসে যেন সূর্যের আলো মিশে আছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে পৃথিবী আলোকিত হবে, মানবিকতার জয় হবে। এই আশাবাদ কবির মনে জেগে উঠেছে।
“প্রায় ততদূর ভালো মানব-সমাজ”
কবি কল্পনা করেন এমন এক সুন্দর মানবসমাজের, যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে, হিংসা বা অন্যায় থাকবে না। এই সমাজ এখনো অনেক দূরে, কিন্তু একেবারে অসম্ভব নয়।
“আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
গ’ড়ে দেবো,”
এখানে মানুষকে ‘নাবিক’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। জীবনের ঝড়ঝঞ্ঝায় মানুষ ক্লান্ত হলেও হাল ছাড়ে না। এই সংগ্রামী, পরিশ্রমী মানুষদের হাতেই একদিন সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে।
“আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।”
এই মানবিক সমাজ আজই তৈরি হবে না। অনেক সময়, ত্যাগ ও সংগ্রামের পর একদিন ভোরের মতো নতুন আলোর আগমন ঘটবে। তখনই সেই কাঙ্ক্ষিত সুন্দর মানবসমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।
“মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,”
এখানে কবি বলছেন, প্রকৃতি ও পৃথিবীর আকর্ষণেই মানুষ হিসেবে তাঁর জন্ম হয়েছে। মানুষের জন্ম কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়ম ও টানের ফল।
“না এলেই ভালো হতো অনুভব ক’রে;”
পৃথিবীর দুঃখ, যুদ্ধ, হিংসা ও কষ্ট দেখে কবির অনেক সময় মনে হয়েছে এই পৃথিবীতে মানুষ হয়ে জন্ম না নিলেই ভালো হতো। এটি কবির হতাশা ও বেদনার প্রকাশ।
“এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে-সব বুঝেছি”
কিন্তু পরে কবি উপলব্ধি করেন, এই জন্ম শুধু কষ্টের নয়। এর মধ্যে গভীর মূল্য ও লাভ আছে। মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে তিনি জীবনের সত্য, মানবিকতা ও চেতনাকে বুঝতে পেরেছেন।
“শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;”
শিশিরভেজা ভোর নতুন দিনের প্রতীক। এই মুহূর্তে কবি জীবনের সৌন্দর্য ও আশার আলো অনুভব করেন। অর্থাৎ দুঃখের মধ্যেও জীবনের সুন্দর দিক আছে।
“দেখেছি যা হ’লো হবে মানুষের যা হবার নয়—”
কবি কষ্টের সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন, মানুষ অনেক সময় মানুষ হওয়ার কথা ভুলে গিয়ে অমানবিক হয়ে ওঠে। যা হওয়ার কথা ছিল না, তাই অনেক সময় ঘটে।
“শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।”
এই লাইনে কবির চূড়ান্ত আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে। যত গভীর অন্ধকারই থাকুক, তার মধ্যেই অসীম সূর্যোদয়ের সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ অশুভের মাঝেও শুভ, অন্ধকারের মাঝেও আলো একদিন অবশ্যই জেগে উঠবে। এই বিশ্বাসই কবির মূল কথা।
সুচেতনা কবিতার বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)
১। জীবনানন্দ দাশের জন্ম সাল কত?
ক) ১৯০১
খ) ১৮৯৯
গ) ১৯০৩
ঘ) ১৯১১
উত্তর: খ) ১৮৯৯
২। জীবনানন্দ দাশ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
ক) কলকাতা
খ) বরিশাল
গ) ঢাকা
ঘ) চট্টগ্রাম
উত্তর: খ) বরিশাল
৩। জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দ দাশ কী ছিলেন?
ক) কবি
খ) ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক
গ) প্রধান শিক্ষক
ঘ) চিকিৎসক
উত্তর: গ) প্রধান শিক্ষক
৪। জীবনানন্দ দাশের মা কুসুমকুমারী দাশ কীসের জন্য বিখ্যাত?
ক) শিক্ষকতা
খ) কবিতা রচনা
গ) সমাজসেবা
ঘ) সংগীত
উত্তর: খ) কবিতা রচনা
৫। কোন কবি জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
গ) বুদ্ধদেব বসু
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: গ) বুদ্ধদেব বসু
৬। ‘চিত্ররূপময়’ বলে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে কে আখ্যায়িত করেছেন?
ক) বুদ্ধদেব বসু
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৭। জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ক) সঞ্চয়িতা
খ) বনলতা সেন
গ) ভানুসিংহ ঠাকুর
ঘ) নকশি কাঁথার মাঠ
উত্তর: খ) বনলতা সেন
৮। ‘মাল্যবান’ ও ‘সুতীর্থ’ কী ধরনের রচনা?
ক) কাব্যগ্রন্থ
খ) উপন্যাস
গ) নাটক
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর: খ) উপন্যাস
৯। ‘কবিতার কথা’ কোন ধরনের রচনা?
ক) উপন্যাস
খ) প্রবন্ধগ্রন্থ
গ) নাটক
ঘ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর: খ) প্রবন্ধগ্রন্থ
১০। জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থ বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
ক) রূপসী বাংলা
খ) ঝরা পালক
গ) মহাপৃথিবী
ঘ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
উত্তর: ক) রূপসী বাংলা
১১। কোন দুর্ঘটনায় জীবনানন্দ দাশ মৃত্যুবরণ করেন?
ক) গাড়ি দুর্ঘটনা
খ) ট্রাম দুর্ঘটনা
গ) নৌ দুর্ঘটনা
ঘ) বিমান দুর্ঘটনা
উত্তর: খ) ট্রাম দুর্ঘটনা
১২। জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু সাল কত?
ক) ১৯৫২
খ) ১৯৫৪
গ) ১৯৫৬
ঘ) ১৯৬০
উত্তর: খ) ১৯৫৪
১৩। কোন কাব্যগ্রন্থে “সুচেতনা” কবিতাটি সংকলিত?
ক) ধূসর পাণ্ডুলিপি
খ) বনলতা সেন
গ) ঝরা পালক
ঘ) মহাপৃথিবী
উত্তর: খ) বনলতা সেন
১৪। জীবনানন্দ দাশ কবিতায় কোন বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে?
ক) যুদ্ধ ও সংগ্রাম
খ) গ্রামবাংলার নিসর্গ
গ) বৈজ্ঞানিক উন্নতি
ঘ) ঐতিহাসিক উপাখ্যান
উত্তর: খ) গ্রামবাংলার নিসর্গ
১৫। জীবনানন্দ দাশ মূলত কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
ক) সাংবাদিকতা
খ) ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক
গ) আইনজীবী
ঘ) চিত্রশিল্পী
উত্তর: খ) ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক
১৬। “সুচেতনা” শব্দটি কী বোঝায়?
ক) দূরবর্তী দ্বীপ
খ) শুভ চেতনা
গ) যুদ্ধ ও রক্তপাত
ঘ) মানবজন্ম
উত্তর: খ) শুভ চেতনা
১৭। কবিতায় সুচেতনাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
ক) দারুচিনি গাছ
খ) নির্জন বন
গ) দূরতর দ্বীপ
ঘ) সূর্যের আলো
উত্তর: গ) দূরতর দ্বীপ
১৮। “দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে নির্জনতা আছে”—এটি কী বোঝায়?
ক) প্রকৃতির শোভা
খ) শান্তি ও নির্জনতা
গ) একাকিত্ব
ঘ) অন্ধকার
উত্তর: খ) শান্তি ও নির্জনতা
১৯। পৃথিবীর গভীর অসুখ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) মানব সমাজের অগ্রগতি
খ) যুদ্ধ, রক্তপাত ও বিভেদ
গ) পৃথিবীর সৌন্দর্য
ঘ) মানুষের ভালোবাসা
উত্তর: খ) যুদ্ধ, রক্তপাত ও বিভেদ
২০। “এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা”—এটি কী নির্দেশ করে?
ক) মানব জীবনের সৌন্দর্য
খ) পৃথিবীর অশান্তি
গ) সাফল্য ও অর্জন
ঘ) প্রকৃতির সৌন্দর্য
উত্তর: খ) পৃথিবীর অশান্তি
২১। সুচেতনাকে কীভাবে প্রজ্বলিত করা যায়?
ক) যুদ্ধের মাধ্যমে
খ) ইতিবাচক চেতনার আলো জ্বালিয়ে
গ) ধ্বংসের মাধ্যমে
ঘ) প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে
উত্তর: খ) ইতিবাচক চেতনার আলো জ্বালিয়ে
২২। পৃথিবী কার কাছে ঋণী?
ক) প্রকৃতি
খ) সূর্য
গ) মানুষের শুভ চেতনার কাছে
ঘ) মাটি
উত্তর: গ) মানুষের শুভ চেতনার কাছে
২৩। “আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে”—এটি কী বোঝায়?
ক) ভবিষ্যৎ মুক্তি
খ) অতীত স্মৃতি
গ) বর্তমান সংকট
ঘ) মানবতার অবক্ষয়
উত্তর: ক) ভবিষ্যৎ মুক্তি
২৪। “মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে”—এই বাক্যটি কী বোঝায়?
ক) মানুষ পৃথিবীর উপকার করেছে
খ) পৃথিবী মানুষের প্রতি উদার
গ) পৃথিবী মানুষের জীবন দিয়েছে
ঘ) মানুষ প্রকৃতির শত্রু
উত্তর: গ) পৃথিবী মানুষের জীবন দিয়েছে
২৫। কবির মতে শুভ চেতনার বিকাশ কীসের প্রতীক?
ক) অন্ধকার
খ) যুদ্ধ
গ) মুক্তি ও আলোর
ঘ) হতাশা
উত্তর: গ) মুক্তি ও আলোর
২৬। “পৃথিবী গভীর অসুখে ভুগছে”—এটি কী বোঝায়?
ক) মানুষের রোগ
খ) প্রকৃতির সৌন্দর্য
গ) সমাজের অবক্ষয়
ঘ) বৈজ্ঞানিক উন্নতি
উত্তর: গ) সমাজের অবক্ষয়
২৭। সুচেতনা কীসের বিপরীতে অবস্থান করে?
ক) শান্তির বিপরীতে
খ) যুদ্ধ ও রক্তপাতের বিপরীতে
গ) ভালোবাসার বিপরীতে
ঘ) প্রকৃতির বিপরীতে
উত্তর: খ) যুদ্ধ ও রক্তপাতের বিপরীতে
২৮। কবিতায় “শাশ্বত রাত্রির বুকে”—এটি কী নির্দেশ করে?
ক) অন্ধকার রাত
খ) ধ্বংসের রাত্রি
গ) নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষা
ঘ) শুভ চেতনার প্রকাশ
উত্তর: গ) নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষা
২৯। কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
ক) সুরঞ্জনা
খ) বনলতা সেন
গ) মহাপৃথিবী
ঘ) ধূসর পান্ডুলিপি
উত্তর: খ) বনলতা সেন
৩০। কবিতায় আলো জ্বালানোর প্রতীক কী বোঝায়?
ক) শান্তি প্রতিষ্ঠা
খ) শুভ চেতনার বিকাশ
গ) যুদ্ধের অবসান
ঘ) প্রকৃতির সৌন্দর্য
উত্তর: খ) শুভ চেতনার বিকাশ
৩১। কবিতায় কবি পৃথিবীকে কীভাবে দেখেছেন?
ক) এক অসুখী গ্রহ
খ) শান্তিময় গ্রহ
গ) মানবতাহীন গ্রহ
ঘ) উন্নতির পথে এগিয়ে চলা গ্রহ
উত্তর: ক) এক অসুখী গ্রহ
৩২। “প্রায় ততদূর ভালো মানব-সমাজ”—এটি কী নির্দেশ করে?
ক) সমাজের সম্পূর্ণ পরিবর্তন
খ) শুভ চেতনার দ্বারা পরিচালিত সমাজ
গ) ধ্বংসের পথে সমাজ
ঘ) শিল্পকলায় পূর্ণ সমাজ
উত্তর: খ) শুভ চেতনার দ্বারা পরিচালিত সমাজ
৩৩। কবিতার শেষ অংশে কবি কী সম্পর্কে কথা বলেছেন?
ক) যুদ্ধ
খ) মানবতার ভবিষ্যৎ
গ) প্রকৃতির সৌন্দর্য
ঘ) ইতিহাস
উত্তর: খ) মানবতার ভবিষ্যৎ
৩৪। “মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে”—এটি কী নির্দেশ করে?
ক) মানুষের পৃথিবীতে আসার আকাঙ্ক্ষা
খ) মানুষের পৃথিবীতে আসার দায়
গ) পৃথিবীর প্রতি মানুষের প্রেম
ঘ) পৃথিবীর প্রতি মানুষের ঋণ
উত্তর: ঘ) পৃথিবীর প্রতি মানুষের ঋণ
৩৫। “সমুজ্জ্বল ভোরে” কী বোঝায়?
ক) শুভ সূচনা
খ) নতুন দিন
গ) প্রকৃতির পরিবর্তন
ঘ) নতুন সমাজ
উত্তর: ক) শুভ সূচনা
৩৬। কবির মতে যুদ্ধ ও রক্তপাতের শেষ পরিণাম কী?
ক) শান্তি
খ) ধ্বংস
গ) ভালোবাসার সফলতা
ঘ) মানুষের মৃত্যু
উত্তর: গ) ভালোবাসার সফলতা
৩৭। “সুচেতনা” কবিতার লেখক কে?
ক) জীবনানন্দ দাশ
খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) নজরুল ইসলাম
উত্তর: ক) জীবনানন্দ দাশ
৩৮। “অন্তিম প্রভাতে” কী বোঝায়?
ক) ধ্বংসের সময়
খ) শুভ চেতনার বিকাশের সময়
গ) যুদ্ধের শেষ
ঘ) প্রকৃতির পূর্ণতা
উত্তর: খ) শুভ চেতনার বিকাশের সময়
৩৯। “শিশির শরীর ছুঁয়ে” কী বোঝায়?
ক) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
খ) নতুন দিনের শুরু
গ) গভীর উপলব্ধি
ঘ) জীবনের শেষ
উত্তর: খ) নতুন দিনের শুরু
৪০। কবির মতে পৃথিবীর চূড়ান্ত সত্য কী?
ক) রণ ও রক্ত
খ) শুভ চেতনার জয়
গ) প্রকৃতির ধ্বংস
ঘ) মানুষের ক্লান্তি
উত্তর: খ) শুভ চেতনার জয়
৪১। কবিতায় কবি কী নিয়ে হতাশ হয়েছেন?
ক) ভালোবাসার অভাব
খ) পৃথিবীর অবক্ষয়
গ) মানুষের ভবিষ্যৎ
ঘ) শুভ চেতনার অনুপস্থিতি
উত্তর: ঘ) শুভ চেতনার অনুপস্থিতি
৪২। “এ-বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল”—এটি কী নির্দেশ করে?
ক) প্রকৃতির সজীবতা
খ) শুভ চেতনার আলো
গ) দিনের উজ্জ্বলতা
ঘ) মানবতার ধ্বংস
উত্তর: খ) শুভ চেতনার আলো
৪৩। “শুভ চেতনার বিকাশ” কীসের প্রতীক?
ক) অন্ধকারের অবসান
খ) মানবতার ধ্বংস
গ) যুদ্ধের সমাপ্তি
ঘ) প্রকৃতির সৌন্দর্য
উত্তর: ক) অন্ধকারের অবসান
৪৪। কবিতায় কীসের মাধ্যমে পৃথিবীর মুক্তি হবে?
ক) যুদ্ধ
খ) শুভ চেতনার আলো
গ) প্রকৃতির শক্তি
ঘ) মানুষের মৃত্যু
উত্তর: খ) শুভ চেতনার আলো
৪৫। “মানবজন্ম” কবির কাছে কীসের প্রতীক?
ক) ধ্বংস
খ) সৃষ্টির সম্ভাবনা
গ) যুদ্ধ
ঘ) প্রকৃতির উন্নতি
উত্তর: খ) সৃষ্টির সম্ভাবনা
আরও পড়ুনঃ প্রতিদান কবিতার মূলভাব, ব্যাখ্যা ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর
Related Posts
- সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের মূলভাব ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন উত্তর
- যৌবনের গান প্রবন্ধের মূলভাব ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন উত্তর
- প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার মূলভাব, ব্যাখ্যা ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন উত্তর
- ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর -একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা
- কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী ব্যাখ্যা – একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা