বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম দশম শ্রেণি ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

পৃথিবীর চারদিকে অসীম মহাকাশ বিস্তৃত। মহাকাশে রয়েছে নক্ষত্র, ছায়াপথ, নীহারিকা, ধূমকেতু, গ্রহ, উপগ্রহ, উল্কা ও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক। মহাকাশের এই অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজগৎ। এই পোস্টে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম দশম শ্রেণি ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর লিখে দিলাম।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম দশম শ্রেণি ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]

উদ্দীপক পাঠ্য বইয়ে দেখঃ

ক. মেরুরেখা কাকে বলে?

খ. সৌরকলঙ্ক কী? ব্যাখ্যা কর।

গ. ছকের এ চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা হলে চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় কত হবে?

ঘ. উক্ত তারিখে দুটি স্থানে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য। কি একইরূপ হবে?তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

উত্তরঃ

ক. পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ বা মেরুরেখা বলে।

খ. সূর্যের উপরের অংশে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক বলা হয়। সূর্যের অন্য জায়গার তুলনায় এসব দাগের জায়গার তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে। সূর্যের ভেতরে সবসময় হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরি হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তি তৈরির সময়ই এর একটি অংশ হিসেবে এসব কালো দাগ বা সৌরকলঙ্ক দেখা যায়।

গ. উত্তর পিডিএফ ফাইলে দেখ।

ঘ. উত্তর পিডিএফ ফাইলে দেখ।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
মাইশা সুইডেনে (৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা ও ১৫° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা) বসবাস করে। ২৫শে সেপ্টেম্বর তারিখে তিনি সুইডেনের স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ক্যানবেরায় (৩৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা ও ১৫০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা) বসবাসরত ছোট বোন মালিহাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায়। মালিহা কথা প্রসঙ্গে তাকে জানায়, আগামী ২৮পে ডিসেম্বর তারিখে সে সুইডেনে বেড়াতে যাবে।

ক. সৌরদিন কাকে বলে?

খ. অধিবর্ষ কী? ব্যাখ্যা কর।

গ. ক্যানবেরার স্থানীয় সময় কতটায় মাইশা টেলিফোন করেছিল।

 ঘ. মালিহার বেড়াতে যাওয়ার তারিখে দুটি স্থানে কি একই ধরনের ঋতু বিরাজ করবে? উদ্দীপকের আলোকে যুক্তি দাও।

উত্তরঃ

ক. পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনের সময়কে সৌরদিন বলে।

খ. ট্রপোপস স্তরে বায়ু বেশ স্থির থাকে এবং এখানে ঝড়-বৃষ্টি হয় না, তাই এই স্তরে বিমান চলাচল করা হয়। ট্রপোমণ্ডলের উপরের সীমাকে ট্রপোপস বলা হয়। এই স্তরে বাতাসের গতি খুব কম এবং আবহাওয়া শান্ত থাকে। এজন্য বিমান চালানোর সময় কোনো ঝড় বা প্রাকৃতিক বাধার ভয় থাকে না, তাই এটি বিমান চলাচলের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্তর হিসেবে ধরা হয়।

গ. উত্তর পিডিএফ ফাইলে দেখ।

ঘ. উত্তর পিডিএফ ফাইলে দেখ।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
সিনথিয়া বাবা-মায়ের সাথে কক্সবাজার বেড়াতে যায়। সন্ধ্যাবেলা পূর্ণিমার আলোয় সমুদ্রের শান্ত রূপ দেখে তারা মুগ্ধ হয়। কিছুক্ষণ পরে তারা লক্ষ করে, সমুদ্রের পানি ফুলে উঠছে এবং তীরে প্রচন্ড বেগে আছড়ে পড়ছে। বাবা তাকে ভীত হতে নিষেধ করেন এবং বলেন যে, সমুদ্রে এরূপ অবস্থা নিয়মিত ঘটে।

ক. জোয়ার-ভাটা কয়টি?

খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তি কী? ব্যাখ্যা কর।

গ. সমুদ্রের পানিতে উক্ত সময়ে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর সিনথিয়ার দেখা ঘটনাটির প্রভাব আছে কি? বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ

ক. জোয়ার-ভাটা প্রধানত দুই প্রকার: মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ার।

খ. পৃথিবী সূর্যকে একবার ঘুরতে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড সময় নেয়। কিন্তু আমরা সাধারণভাবে ৩৬৫ দিনকে এক বছর ধরি। এতে প্রতি বছর কিছু সময় বাড়তি থেকে যায়। এই বাড়তি সময় মিলিয়ে প্রতি চার বছরে একদিন যোগ করা হয় এবং তখন বছর হয় ৩৬৬ দিন, একে অধিবর্ষ বা লিপইয়ার বলা হয়। এই অতিরিক্ত দিনটি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যোগ করা হয়, তাই সে বছর ফেব্রুয়ারি ২৯ দিনে হয়। সময়ের হিসাব ঠিক রাখার জন্যই এই অধিবর্ষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

গ. সিনথিয়ার দেখা সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠার মূল কারণ হলো চাঁদ। ও সূর্যের মহাকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি।

উদ্দীপকে সিনথিয়া পূর্ণিমা রাতে সমুদ্রের পানি ফুলে উঠতে দেখেছে, যা ‘ভরা কটাল’ বা ‘তেজ কটাল’-এর উদাহরণ। পূর্ণিমার সময় চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর দুই পাশে সরলরেখায় থাকে। তখন চাঁদ ও সূর্যের একসাথে শক্তিশালী আকর্ষণের কারণে সমুদ্রের পানি বেশি ফুলে ওঠে এবং উপকূলে আছড়ে পড়ে। এছাড়া পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরার ফলে যে কেন্দ্রাতিগ শক্তি তৈরি হয়, সেটিও পানিকে বাইরে ঠেলে দেয়, ফলে জোয়ার আরও বেশি হয়।

সহজভাবে বলা যায়, পূর্ণিমার সময় চাঁদ ও সূর্যের বিশেষ অবস্থানের কারণেই সিনথিয়া সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক ফুলে ওঠা বা জোয়ার দেখেছে।

ঘ. মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর সিনথিয়ার দেখা জোয়ার-ভাটার প্রত্যক্ষ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।

জোয়ার-ভাটার কারণে নদীর ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায় এবং মোহনায় পলি জমতে পারে না, ফলে নদীপথ সহজে চলাচলের উপযোগী থাকে। জোয়ারের সময় বড় জাহাজ সহজে নদী বা বন্দরে ঢুকতে পারে এবং ভাটার সময় আবার সমুদ্রে ফিরে যেতে পারে।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দর-এ পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ এই জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে। এছাড়া জোয়ারের পানি ব্যবহার করে অনেক দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় এবং লবণাক্ত পানি থেকে লবণ তৈরি করা হয়।

সবশেষে বলা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জোয়ার-ভাটা খুবই দরকারি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]

উদ্দীপক পাঠ্য বইয়ে দেখঃ

ক. প্রতিপাদ স্থান কাকে বলে?

খ . দিন-তারিখ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার ভূমিকা বর্ণনা কর।

গ. ছকে উল্লিখিত উইলিং দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় সময়ের সাথে মেক্সিকোর স্থানীয় সময়ের পার্থক্য কত হবে তা নির্ণয় কর। 

ঘ. উক্ত তারিখে স্থান দুটির দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তরঃ

ক. ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত বিন্দুকে সেই বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে।

খ. সূর্যকে পরিক্রমণকালে যখন পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম অরস্থানে থাকে, তাকে পৃথিবীর অনুসূর বলে। প্রতি বছর জানুয়ারির ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে পৃথিবী এই অবস্থানে অবস্থান করে। অনুসুর অবস্থানে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব বছরের অন্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে কম হয়।

গ. উত্তর পিডিএফ ফাইলে দেখ।

ঘ. উত্তর পিডিএফ ফাইলে দেখ।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪]
ঘটনা-১: শিলু বড় হয়ে জানতে পারে যে, যে সৌরজগতের একটি গ্রহে বসবাস করে। সৌরজগতের এ গ্রহটি ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাসের উপযোগী নয়।

ঘটনা-২: শিখা তার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ক্লাসে জানতে পারে, বছরের এমন দুটো দিন আছে যেদিন রাত ও দিনের দৈর্ঘ্য একই হয়।

কি. আহ্নিক গতি কাকে বলে?

খ. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

গ. ঘটনা-১-এর উল্লিখিত গ্রহটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ঘটনা-২-এ উল্লিখিত বিষয়াটির কারণ বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪]
নাজু তার পরিবার নিয়ে গত জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণে যান। যাওয়ার সময় তারা হালকা পোশাক পরিধান করে বিখানে আরোহণ করেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা উলের মোটা কাপড় পরিধান করতে বাধ্য হয়েছিল। তারা ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ভ্রমণে যায়। সেখানে সমুদ্র ফুলে উপকূলে আছড়ে পড়ছিল, যা দেখে নাজুর মেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে নাজুকে সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠার কারণ জিজ্ঞেস করে। নাজু বলে এটা সমুদ্রের একটি অবস্থা, যা প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর দেখা যায়।

ক. গ্রহ কাকে বলে?

খ. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার প্রয়োজন হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। 

 গ. উদ্দীপকে নাজুর পরিবারকে কী কারণে মোটা কাপড় পরিধান করতে হয়েছিল? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে সংঘটিত সমুদ্রের অবস্থা পৃথিবীর উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।” বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [সিলেট বোর্ড ২০২০]
রাতুল ২৫° উত্তর অক্ষাংশের একটি দেশে বাস করে। ডিদেখবোয় ২০ তারিখ ২০° দক্ষিণ অক্ষাংশের একটি দেশে যাওয়ার জন্য। বিমানে ওঠে। কিছু সময় পর একটি নির্দিস্ট দ্রাঘিমায় কর্তৃপক্ষের। ঘোষণা অনুযায়ী যাত্রীরা সময় পরিবর্তন করে নেয়। দেশটিতে পৌছে সে লক্ষ করল সেখানে শীতের কাপড়ের কোনো প্রয়োজন নেই। 

ক. গ্রহ কাকে বলে?

খ. ওজোন স্তরের তাপমাত্রা অধিক হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপতে নির্দিষ্ট দ্রাঘিমা দ্বারা কোন বিষয়টিকে ইঞিাত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত স্থান দুটিতে ঋতুগত ভিন্নতা বিদ্যমান”-বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [ঢাকা বোর্ড ২০১৯]
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে মাহি লক্ষ করল, সকাল বেলায় সমুদ্রের পানি ফুলে উঠেছে এবং পানির ঢেউ এসে ভীষণভাবে তীরে আছড়ে পড়ছে। আবার বিকাল বেলায় পানি তীর থেকে অনেক দূরে। সরে গেল। সে অবাক হয়ে ঘটনাটি বাবাকে বললে বাবা বললেন। যে, এটা সমুদ্রের স্বাভাবিক ঘটনা। পৃথিবীর নিজস্ব গতির কারণে এরূপ ঘটনা ঘটছে। আবার মাহির বন্ধু তিয়াস নভোথিয়েটারে গিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখে জানতে পারল যে, গৌরজগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সকল গ্রহ ও উপগ্রহকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র হলো উপ্ত নক্ষত্রটি। নক্ষত্রটি খেতে আলো ও তাপ দ্বারা একটি মাত্র গ্রহে জীবজন্তু ও উদ্ভিদের উদ্ভব ঘটেছে। এ আলো ও তাপ কাজে লাগিয়ে গ্রহটি দিন দিন উন্নতি লাভ করছে।

ক, বার্ষিক গতি কাকে বলে?

খ. দুই দেশের স্থানীয় সময়ের মধ্যে পার্থক্য কেন হয়?

গ. তিয়াস সৌরজগতের যে গ্রহ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে সে গ্রহটির বায়ুমন্ডলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর মাহির দেখা প্রক্রিয়াটির প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

নিচে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম দশম শ্রেণি ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম দশম শ্রেণি ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন পিডিএফ

Related Posts

Leave a Comment