বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি ২য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের জন্য বাঙালিরা অনেক দুঃখকষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছে। এই পোস্টে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি ২য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর লিখে দিলাম।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি ২য় অধ্যায় সৃজনশীল

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
আরিফার বাবা স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী ছিলেন। তাঁর গান শুনে সাধারণ মানুষ অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়। অন্যদিকে, তার মা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ করতেন। মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করতেন।

ক. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কী নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে?

খ. বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুজিবনগর সরকার কেন গঠন করা হয়েছিল?

গ. আরিফার বাবা যে মাধ্যমে কাজ করতেন, মুক্তিযুদ্ধে উক্ত মাধ্যমের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আরিফার মায়ের মতো অনেক নারীর ভূমিকাই ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে যুক্তি উপস্থাপন কর।

উত্তরঃ

ক. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ‘গণযুদ্ধ’ বা ‘জনযুদ্ধ’ নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

খ. মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং বিশ্বজনমত গঠন করার উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল। এই সরকার ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় এবং ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক ভিত্তি স্থাপন করে। মূলত সুসংগঠিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করে বিজয় নিশ্চিত করাই এই সরকারের প্রধান কাজ ছিল।

গ. আরিফার বাবা কাজ করতেন গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে, যা মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বগাথা ও দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে যুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল।

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে এটি যাত্রা শুরু করে এবং পরে মুজিবনগর সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়। এই বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সংবাদ ও দেশাত্মবোধক গান সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে অংশ নিতে খুব বেশি অনুপ্রাণিত করত। বিশেষ করে ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’-এর মতো অনুষ্ঠানগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে যুদ্ধের নানা খবর দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরা হতো।

উদ্দীপকের আরিফার বাবার মতো শিল্পীরা তাদের কণ্ঠের মাধ্যমে জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে সাহসী করে তুলেছিলেন। এটি বিশ্বজনমত গঠন এবং শরণার্থীদের সাহস জোগাতেও সাহায্য করেছে। এই বেতারের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেম সৃষ্টি হয়েছিল।
সবশেষে বলা যায়, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল মুক্তিযুদ্ধের একটি শক্তিশালী মানসিক যুদ্ধের মাধ্যম।

ঘ. বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আরিফার মায়ের মতো এদেশের অগণিত সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছে।

সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং শত্রুর অবস্থান সম্পর্কে আগাম তথ্য দিয়েছে।

আরিফার মা যেমন খাবার সরবরাহ করেছেন, তেমনি হাজার হাজার নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা ও শুশ্রূষা করেছেন এবং তথ্য আদান-প্রদান করেছেন। অনেক নারী শিবিরে অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ছাত্র, কৃষক ও শ্রমিকরা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মোকাবিলা করে পাকিস্তানি বাহিনীকে ব্যস্ত রেখেছিল। এই যুদ্ধে সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতার কারণে মাত্র ৯ মাসে একটি শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে। দেশের ভেতরে জনগণের এই ঐক্য ও ত্যাগ পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল দুর্বল করে দিয়েছিল। তাদের এই অবদান ছাড়া বিজয় অর্জন প্রায় অসম্ভব ছিল। ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে নির্যাতিত মা-বোনদের সরকার ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধি দিয়েছে।

তাই বলা যায়, আরিফার মায়ের মতো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তি ছিল।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [সিলেট বোর্ড ২০২৪]
মুক্তিযোদ্ধা কবির সাহেবের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে তার ভাই তাহের কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, “আমার কলেজ পড়ুয়া বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে। দেশে ফিরে আসেন। তিনি কুমিল্লার বি-পাড়ার একটি স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন।

ক . বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি কারা?

খ. মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙলিদের অবদান উল্লেখ কর।

গ. মুক্তিযুদ্ধে জনাব কবির কোন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন? ব্যাখ্যা কর। 

ঘ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দৃশ্যকল্পে উল্লিখিত দেশটির অবদান বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [বরিশাল বোর্ড ২০২৪]
রিফাতের বাবা ‘P’ দেশের নাগরিক। ‘P’ দেশের যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি আমেরিকায় বসবাস করতেন। নিজ দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে তারা। কয়েকজন বন্ধু মিলে ওই দেশে বসবাসরত অন্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নিজ দেশকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তাদের পাঠানো এ অর্থ দিয়ে দেশের তৎকালীন সরকার যুদ্ধ পরিচালনার কাজে ব্যয় করেন।

ক. ‘অপারেশন সার্চলাইট’ কাকে বলে?

খ . মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

গ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপকের প্রথমাংশে উল্লিখিত শ্রেণির ব্যাখ্যা কর। 

ঘ. মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪]
১ম অংশ: লুনা তার মায়ের সাথে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যায়। সেই বাসার দেয়ালে একটি ছবি লাগানো ছিল। ছবিতে একজন লোক কিছু বলছেন এবং তার সামনে অসংখ্য লোক বসে আছে। লুনা তার মায়ের কাছে ছবিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ছবির ঘটনার সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জড়িত।”

২য় অংশ: দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নিলে জেনারেল ডি গ্যালে লন্ডনে ফ্রান্সের একটি প্রবাসী সরকার গঠন করেছিলেন। সেই সরকারের দৃঢ় পরিচালনার মাধ্যমে জার্মানিদের পরাজিত করে ফ্রান্স নিজেদের সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছিল।

ক. রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম কী?

খ. জাতি কেন মুক্তিযোদ্ধাদের সূর্যসন্তান মনে করে?

গ. উদ্দীপকের ১ম অংশে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে কোন ঐতিহাসিক চিত্র ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর। 

ঘ. ‘দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত বিষয়টির মতো একটি বিষয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল।”- বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [যশোর বোর্ড ২০২৩]
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ১৫ দিন পরে একটি সরকার গঠন করা হয়। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। ঐ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।”

ক. মুজিবনগর সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

খ. মুত্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে যে সরকারের কথা বলা হয়েছে তার গঠন কাঠমো ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত সরকারের কার্যক্রম বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [ঢাকা বোর্ড ২০১৯]
রফিক তার বাবার সাথে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখতে পেল যে, একটি সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এবং তাদের কার্যক্রমের বর্ণনা শুনে তার ইতিহাস জানার কৌতুহল বেড়ে গেল। সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানতে পারল, এ সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম হয়। অন্য আরেকদিন তারামন বিবির স্মরণসভায় গিয়ে সে জানতে পারল যে, তার মতো। আরও অনেক সাহসী মা-বোনের ত্যাগের মাধ্যমে দেশমাতৃকার যুদ্ধে সফলতা অর্জিত হয়েছে।

ক. পেশাজীবী কারা?

খ. নারীর ক্ষমতায়ন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে যে সরকারের কথা বলা হয়েছে তার গঠন কাঠামো ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে স্মরণসভায় তারামন বিবি যে শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন, স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯]
বাবা মেয়ে টিভির সামনে বসে একটি গান শুনছিলেন। তাদের দু’জনের কথোপকম্বন হলো-
মেয়ে: বাবা, লোকটি তো বিদেশি তাহলে উনি ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ বলে গাইছেন কেন?
বাবা: সে অনেক কথা, উনি একজন বিখ্যাত গায়ক। তিনি ১৯৭১ সালে কনসার্টে গান গেয়ে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিলেন।
মেয়ে: তিনি কি বাংলাদেশে এসেছিলেন?
বাবা: না, তিনি যেই দেশের নাগরিক সে দেশের মতো বিশ্বের অনেক। দেশ বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে বিভিজ্ঞভাবে সাহায্য করেছিল।

ক. গণযুদ্ধ কাকে বলে?

খ. ২৫ মার্চের রাতকে ‘কালরাত্রি’ বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে যে গায়কের কথা বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. বাবার শেষোক্ত উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [সিলেট বোর্ড ২০১৯]
একটি রাষ্ট্রের ‘ক’ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ‘খ’ এলাকাকে বিভিন্ন অজুহাতে নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্ছিত করে আসছে। এতে ‘খ’ এলাকার একজন উল্লেখযোগ্য নেতা তাঁর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সফলতাকে কাজে লাগান এবং এনাকার জনগণকে একত্রিত করে বঞ্চনার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার প্রেরণা হিসেবে একটি ভাষণ প্রদান করেন। তাঁর প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে ‘ক’ এলাকার শাসক তাঁকে আটক করে। পরবর্তীতে তাঁর কিছু বিজ্ঞ সহকর্মী তাঁকে প্রধান রেখেই নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর ভাষণকে বাস্তবে রূপ দেন।

ক. যৌথ কমান্ড কী?

খ. মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয় কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘খ’ এলাকার উল্লেখযোগ্য নেতার ভাষণটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দিকটি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকে বর্ণিত কার্যক্রম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করে? মতামত দাও।

নিচে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি ২য় অধ্যায় সৃজনশীল পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি ২য় অধ্যায় সৃজনশীল পিডিএফ

Related Posts

Leave a Comment