মোতাহের হোসেন চৌধুরী তাঁর ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে বলেছেন, জীবন তখনই সত্যিকার অর্থে সার্থক হয়, যখন মানুষ নিজের স্বার্থ ভুলে অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে। তিনি গাছের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন গাছ মাটি থেকে খাদ্য নেয় ঠিকই, কিন্তু সেই খাদ্য শুধু নিজের জন্য জমিয়ে রাখে না; বরং ফুল, ফল, ছায়া দিয়ে মানুষের উপকার করে। এই পোস্টে জীবন ও বৃক্ষ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
জীবন ও বৃক্ষ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] এই যে বিটপি শ্রেণি হেরি সারি সারি- কী আশ্চর্য শোভাময় যাই বলিহারি। কেহবা সরল সাধু হৃদয় যেমন, ফলভারে নত কেহ গুণীর মতন। এদের স্বভাব ভালো মানবের চেয়ে, ইচ্ছা যার দেখ দেখ জ্ঞানচক্ষে চেয়ে। যখন মানবকুল ধনবান হয়, তখন তাদের শির সমুন্নত রয়। কিন্তু ফলশালী হলে এই তরুগণ, অহংকারে উচ্চ শির না করে কখন। ফলশূন্য হলে সদা থাকে সমুন্নত, নীচ প্রায় কার ঠাঁই নহে অবনত। ক. মোতাহের হোসের চৌধুরী কোন আন্দোলনের কাণ্ডারি ছিলেন? খ. কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকেই মনুষ্যত্বের প্রতীক বিবেচনা করতে চেয়েছেন কেন? গ. ‘বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়’ প্রবন্ধের এ উক্তিটি উদ্দীপকে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘উদ্দীপকের ‘বৃক্ষ’ ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘বৃক্ষের’ আংশিক পরিচিতি প্রদান করে।” উক্তিটি মূল্যায়ন কর। |
উত্তরঃ
ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরী ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’-এর অন্যতম কান্ডারি ছিলেন।
খ. নদীর গতিতে মনুষ্যত্বের দুঃখ-বেদনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকেই মনুষ্যত্বের প্রতীক করতে চেয়েছেন।
নদীর চলার পথ মোটেও সহজ নয়। পথে চলতে গিয়ে তাকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয় এবং অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুল ফোটার সঙ্গে নদীর চলার গতির তুলনা করেছেন। এই তুলনার মাধ্যমে তিনি নদীর গতির ভেতর মানুষের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন। মানুষের জীবন যেমন নানা দুঃখ-কষ্ট ও বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায়, নদীর গতিও তেমনই। তাই কবি মনে করেছেন, মানুষের জীবন ও মনুষ্যত্ব বোঝাতে নদীই সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতীক।
গ. প্রবন্ধের প্রশ্নোক্ত উক্তিটি পরার্থপরতার দিক দিয়ে উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী তাঁর ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে বলেছেন, অন্যের উপকারে নিজেকে উৎসর্গ করলেই জীবনের আসল সার্থকতা পাওয়া যায়। একটি গাছ শুধু মাটি থেকে খাদ্য নিয়ে নিজে বড় হয় না, সে মানুষের জন্য ফুল ও ফল দেয়। তাই মানুষেরও উচিত গাছের মতো ধৈর্য ও সাধনার মাধ্যমে নিজেকে পরোপকারী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
উদ্দীপকের কবিতাংশে গাছের সাধনা, ত্যাগ, সেবা ও বিনয়ের দিকটি সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গাছ নিজের সবকিছু অন্যের জন্য বিলিয়ে দিয়েই পূর্ণতা লাভ করে। সে ফুল, ফল ও ছায়া দিয়ে মানুষ ও প্রাণীদের উপকার করে। তবুও ফল ধরলে গাছ আরও নুয়ে পড়ে, ঠিক গুণী মানুষের মতো নম্র থাকে। এই বিষয়টি মানুষের জীবনের আসল লক্ষ্যকে বোঝায়। ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধেও মোতাহের হোসেন চৌধুরী একই কথা বলেছেন। গাছ আমাদের শেখায়, অন্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করাতেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। এই কারণেই উদ্দীপকে উক্ত বক্তব্যটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের বৃক্ষ ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের মানবজীবনের পরার্থপরতার দিকটি তুলে ধরলেও বৃক্ষের বাকি দিক তুলে না ধরায় ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে বর্ণিত বৃক্ষের আংশিক পরিচিতি প্রদান করে।
‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, গাছের দিকে তাকালেই জীবনের আসল অর্থ সহজে বোঝা যায়। প্রাবন্ধিকের মতে, গাছ যেমন ধীরে ধীরে, শান্তভাবে নিজের সাধনা চালিয়ে যায়, মানুষের জীবনচর্চাও তেমনই হওয়া উচিত। গাছ সব সময় নত, শান্ত ও সেবামুখী থাকে। সে কোনো শব্দ না করেও নীরবে জীবনের সার্থকতার কথা বলে যায়। খুব শান্ত ও সহনশীলভাবে গাছ জীবনের সব বোঝা বহন করে চলে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে গাছের সাধনা, ত্যাগ, সেবা ও বিনয়ের দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করতে খুবই প্রয়োজনীয়। গাছ নানা উপায়ে মানুষ ও প্রাণীদের উপকার করে, কিন্তু এসব নিয়ে তার কোনো অহংকার নেই। বরং গাছে যখন ফল ধরে, তখন সে গুণী মানুষের মতোই আরও নুয়ে পড়ে, নিজের বিনয় প্রকাশ করে। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের ভাবনার সঙ্গে মিল রয়েছে।
‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক গাছের সম্পূর্ণ জীবনধারা ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, উদ্দীপকের কবিতাংশে গাছের পরার্থে আত্মনিবেদনের দিকটি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, যা আমাদের জীবনকে মহান করে তুলতে পারে। অর্থাৎ উদ্দীপকে মানুষের জীবনে গাছের সামগ্রিক ভূমিকা নয়, শুধু পরোপকারের দিকটিই প্রকাশ করা হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ উদ্দীপকের গাছ ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে বর্ণিত গাছের সব দিক নয়, কেবল পরার্থপরতার দিকটি তুলে ধরে এবং প্রবন্ধের ভাবনার আংশিক পরিচয়ই দেয়।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [রা. বো. ২০১৮: কু. বো. ২০১৮; চ. বো. ২০১৮; ব. বো. ২০১৮] নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল। গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান, কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান। স্বর্ণ করে নিজরূপে অপরে শোভিত, বংশী করে নিজস্বরে অপরে মোহিত। ক. ‘তপোবন’ প্রেমিক কে? খ. বৃক্ষ কীভাবে নীরব ভাষায় আমাদের সার্থকতার গান শোনায়? গ. উদ্দীপকের মূলভাব কোন বিচারে ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের মূলভাবকে ধারণ করে, তোমার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করো। ঘ. “উদ্দীপকের চেতনা ও ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের চেতনা সামগ্রিক দৃষ্টিতে এক নয়”- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [ঢা. বো. ২০১৮; দি. বো. ২০১৮; সি. বো. ২০১৮; য. বো. ২০১৮] নদী কড় পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল। গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান, কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান। স্বর্ণ করে নিজরূপে অপরে শোভিত, বংশী করে নিজ স্বরে অপরে মোহিত। ক. নদীকে মনুষ্যত্বের প্রতীক বলেছেন কে? খ. ‘যা তার প্রাপ্তি তাই তার দান।’- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের মর্মার্থ ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের বক্তব্যের সাথে কতটা সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো। ঘ. “উদ্দীপকের বক্তব্য ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাবের সংক্ষিপ্ত সার।”- এ মন্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [য. বো. ২০১৭] ধন-রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই, সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই। ‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি, পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি। নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা, তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি। ক. ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে ‘তপোবনপ্রেমিক’ কাকে বলা হয়েছে? খ. ‘সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড়ো জিনিস’- বর্ণনা করো। গ. উদ্দীপক এবং ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য বর্ণনা করো। ঘ. “পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি’- এ উক্তিতে ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।”- উক্তিটি মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [ঢা. বো. ২০১৭] কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে। পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ। কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক… দাঁত ভালো থাকে। কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কাটে না কিন্তু যত্নও করে না। হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো। মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলে শুধু। ক. বৃক্ষের গান শুনতে হবে কীভাবে? খ. ‘মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিক’- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের নিমগাছটি ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের ক্ষেত্রে কতটা প্রাসঙ্গিক? আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকের মূলবক্তব্য ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [সি. বো, য. বো. ২০১৬] “তরুতলে বসে পান্থ শ্রান্তি করে দূর ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর। বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙে লয়, তবু তবু অকাতর, কিছু নাহি কয়। দুর্লভ মানব জন্ম পেয়েছ যখন তরুর আদর্শ কর জীবনে গ্রহণ পরার্থে আপন সুখ দিয়া বিসর্জন তুমিও হওগো ধন্য- তরুর মতন।” ক. সাধনার ব্যাপারে বড়ো জিনিস কী? খ. ‘অনবরত ধেয়ে চলা মানুষের সাধনা হওয়া উচিত নয়’- বুঝিয়ে দাও। গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ? আলোচনা করো। ঘ. “জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে বিকাশ ও দানের কথা বর্ণিত হলেও উদ্দীপকে শুধুই ত্যাগের মহিমা কীর্তন করা হয়েছে।”- বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। আপনাকে বিলাইয়া দীন দুঃখীদের মাঝে, বিদূরিলে পথ দুঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে। তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি, যা রোপিবে-তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি। ক. নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের কী শোনায়? খ. ‘মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।’- ব্যাখ্যা করো। গ. ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের কোন দিকটি বিশেষভাবে উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে? আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকটি ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাবকে ধারণ করে কি? বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। “পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও। তার মতো সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও।” ক. গোপন ও নীরব সাধনা কোথায় অভিব্যক্ত? খ. ‘অনুভূতির চক্ষু’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের যে সাদৃশ্য রয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকটি ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের খন্ডাংশের রূপায়ণ মাত্র।”- উক্তিটি মূল্যায়ন করো। |
নিচে জীবন ও বৃক্ষ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
জীবন ও বৃক্ষ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ
আরও পড়ুনঃ যৌবনের গান সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (পিডিএফ সহ)