যৌবনের গান সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (পিডিএফ সহ)

কাজী নজরুল ইসলামের ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে যৌবনের অদম্য শক্তি ও প্রাণবন্ত রূপের প্রশংসা করা হয়েছে। নজরুলের মতে, যৌবন মানুষের জীবনে গতি, কর্মস্পৃহা ও আশার সঞ্চার করে। এই পোস্টে যৌবনের গান সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।

যৌবনের গান সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
অবসরপ্রাপ্ত ফারুক সাহেবের কাঁচাপাকা চুল, মুখে বয়সের ছাপ। দেখলে মনে হয় তার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। কিন্তু রাস্তার দুই ধারে গাছ লাগানো, রাস্তার গর্ত ভরাট করা প্রভৃতি জনকল্যাণমূলক কাজে নিরবচ্ছিন্ন পরামর্শ প্রদানে তার কোনো ক্লান্তি নেই। এছাড়া পাড়ার ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাল্যবিবাহ রোধ, স্কুলগামী মেয়েদের স্কুলে পাঠানো, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পাঠানো- এ সমস্ত মানবিক কাজে তিনি সহযোগিতা করে থাকেন। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

ক. গানের পাখিকে তাড়া করে কে?

খ. ‘আমি আজ তাঁহাদেরই দলে, যাহারা কর্মী নন- ধ্যানী, এখানে ‘ধ্যানী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে এবং কেন?

গ. উদ্দীপকে ফারুক সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “বার্ধক্যকে সমসময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না”- উক্তিটি উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের প্রসঙ্গে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধ অনুসরণে আলোচনা কর।

উত্তরঃ

ক. গানের পাখিকে তাড়া করে বায়স-ফিঙে।

খ. উদ্ধৃত অংশে ‘ধ্যানী’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন ব্যক্তিদের, যারা প্রকাশ্যে না এসে নীরবে অবস্থান করেও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কাজে দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেন।

একটি তরুণদের সমাবেশে বক্তা যৌবনের শক্তির প্রশংসা করে বলেন, এই শক্তি কখনোই সীমিত গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়; বরং এটি সকলের কল্যাণে নিবেদিত থাকে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রকৃত তরুণেরা কেবল উচ্চবাচ্য করে না, তারা নীরবে থেকে পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক কাজ সম্পাদন করে। তাদের এই শান্ত ও গভীর সাধনাকে ধ্যানের সাথে তুলনা করা যায়। এই কারণেই প্রাবন্ধিক নিজেকে এমন নীরব সাধকদের একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা কর্মীর চেয়ে ধ্যানী রূপেই অধিক পরিচিত।

গ. উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপের প্রতিফলন ঘটেছে।

সমাজের কল্যাণে তরুণদের যে সেবামূলক ভূমিকা, প্রাবন্ধিক সেটিকেই যৌবনের মাতৃরূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। মা যেমন নিজের সন্তানের সব ধরনের বিপদ ও অমঙ্গল থেকে তাকে রক্ষা করে, তেমনি প্রকৃত যৌবনও মানবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকে। মাতৃস্নেহের মতোই ভালোবাসা ও মমতা নিয়ে যৌবন দুর্বল, দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং তাদের সহায়তা করে।

উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের কর্মকাণ্ডেও এই মানবকল্যাণমুখী তরুণসুলভ বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ফারুক সাহেব যৌবনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছেন। মানবিক মূল্যবোধ থেকে তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করেন এবং মেয়েদের শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠাতে উৎসাহ দেন। এভাবে তিনি অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই চরিত্রের মধ্য দিয়ে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপের ধারণা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে তিনি কখনো ক্লান্ত হন না। ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধেও এই ধরনের মানসিকতাকেই প্রকৃত ও আদর্শ তারুণ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ঘ. ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের চেতনানযায়ী অফুরন্ত প্রাণশক্তি উদ্দীপকের বয়স্ক ফারুক সাহেবের মাঝে লক্ষ করা যায়।

‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম অদম্য ও অপ্রতিরোধ্য যৌবনের গুণগান করেছেন। তাঁর মতে, যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল, কর্মমুখী ও আশাবাদে পূর্ণ করে তোলে। নজরুলের দৃষ্টিতে যৌবন কেবল বয়সের সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়। কোনো ব্যক্তি ষাট বছরের বেশি বয়সী হলেও যদি তার মনে উদ্যম, শক্তি ও কর্মস্পৃহা থাকে, তবে তাকে প্রকৃত অর্থে যুবক বলা যায়। আবার বয়সে তরুণ হলেও যদি তার মধ্যে উৎসাহ ও কর্মচাঞ্চল্য না থাকে, তবে সে প্রকৃতপক্ষে বার্ধক্যেরই প্রতিচ্ছবি। তাই মানুষের জীবনীশক্তি ও কাজের প্রতি আগ্রহের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় সে যুবক নাকি বৃদ্ধ।

উদ্দীপকের ফারুক সাহেব বয়সে বয়স্ক হলেও মন ও কাজে তিনি সম্পূর্ণভাবে তরুণসুলভ। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের জনহিতকর কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানো, রাস্তার গর্ত ভরাট করা ইত্যাদি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে তিনি নিরলসভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন, যেখানে তার কোনো ক্লান্তি দেখা যায় না।

উদ্দীপকের ফারুক সাহেব সমাজ উন্নয়নের কাজে সবসময় সক্রিয় থাকেন এবং তরুণ প্রজন্মকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব প্রদান করেন। তাঁর এই অবিরাম মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বার্ধক্য যেন তাঁকে স্পর্শ করতেই পারে না।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
যুবকেরা পাগল, বারুদের মতো সহজেই তাদের মনে প্রতিবাদী চেতনার সৃষ্টি হয়। কারাগারে ফাঁসিতে কিছুতেই তাদের দর্পিত প্রাণ কাবু হয় না। এদের স্থিরতা, বীরত্ব, গাম্ভীর্য, ধর্মভয়, বিনয় জ্ঞান বলতে কিছু নেই। ওরা সত্যিই পাগল, বাষ্পীয় ইঞ্জিনে আবদ্ধ শক্তি বলা যায়।

ক. ‘বনের পাখির মতো গান করা স্বভাব’- কার?

খ. কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কেন?

গ. অনুচ্ছেদে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত যুবকের কোন রূপটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “অনুচ্ছেদে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে আংশিক বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে”- মন্তব্যটির যৌক্তিক মূল্যায়ন কর।

উত্তরঃ

ক. বনের পাখির মতো গান করা কবির স্বভাব।

খ. কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে আগ্রহী হয়েছেন, কারণ তারা ধর্ম, দেশ, জাতি কিংবা সময়ের সীমার বাইরে গিয়ে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখে।

তারা পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে একটি উন্নত ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনের জন্য কুসংস্কার, অন্যায় এবং সব ধরনের জড়তা দূর করে। দেশকে একটি নতুন ও সুন্দর রূপ দিতে তরুণরা প্রয়োজনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হয় না। তারা সমাজের অন্ধকার দূর করে আলো ছড়িয়ে দেয় বলেই কবি তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং নিজেও সেই তরুণদের দলে অন্তর্ভুক্ত হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

গ. উদ্দীপকের যৌবনের অপ্রতিরোধ্য রূপটি ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে ফুটে উঠেছে।

‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে তারুণ্যের অদম্য, অপ্রতিরোধ্য ও দুর্বার রূপ অত্যন্ত জীবন্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রাবন্ধিকের মতে, প্রকৃত তরুণ সেই ব্যক্তি, যে শক্তিতে পরিপূর্ণ, যার গতি ঝড়ের মতো তীব্র এবং যার তেজ সূর্যের আলোর মতো দীপ্তিমান। তাদের মধ্যে থাকে অফুরন্ত আশা, ক্লান্তিহীন উৎসাহ, উদার হৃদয়, সীমাহীন প্রাণশক্তি ও অবিচল সাধনা। এমনকি মৃত্যুভয়কেও যারা জয় করতে পারে, তারাই সত্যিকারের তরুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তরুণদের ভেতরে সবসময়ই এক অদম্য শক্তি ও অপ্রতিরোধ্য মানসিকতা কাজ করে।

উদ্দীপকেও তরুণদের এই দমে না-থাকা, সাহসী ও উদ্দাম স্বভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তারা ফাঁসির দড়ি দেখেও ভীত হয় না; বরং তাদের চলার গতি কোনো বাধাই থামাতে পারে না। তাদের মধ্যে স্থিরতা, অতিরিক্ত ভদ্রতা, ভয় বা সংকোচের কোনো স্থান নেই। সব বাধাকে অগ্রাহ্য করে তারা উন্মত্তের মতো, উদ্দাম শক্তিতে, ইঞ্জিনের ভিতরে জমে থাকা প্রবল শক্তির মতো অবিরাম ছুটে চলে। প্রবন্ধে তরুণদের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, উদ্দীপকের তরুণদের মধ্যেও সেই একই গুণাবলি বিদ্যমান। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত অদম্য ও উদ্দীপনাময় তারুণ্যেরই প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

ঘ. ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে লেখক যৌবনের দুর্বার রূপ ছাড়াও মাতৃময়ী রূপের কথা বলেছেন, যা উদ্দীপকে সম্পূর্ণরূপে ফুটে ওঠেনি।

‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে তারুণ্যের স্বভাব, বৈচিত্র্যময় রূপ এবং তরুণদের করণীয় সম্পর্কে গভীর আলোচনা করা হয়েছে। এখানে যৌবনের দুটি ভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। একটি উদ্দাম রূপ এবং অন্যটি মাতৃরূপ। উদ্দাম যৌবন বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজের সব বাধা ও পুরোনো জটিলতা ভেঙে নতুন সমাজ গঠনের পথ তৈরি করে। অন্যদিকে, মাতৃরূপ যৌবন মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে দুর্বল, অসহায় ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবামূলক ভূমিকা পালন করে।

উদ্দীপকের তরুণেরা অত্যন্ত দুরন্ত, উচ্ছ্বসিত ও উদ্যমী। তারা প্রাণশক্তির জোরে সব ধরনের ভয়কে অতিক্রম করে চলে। মৃত্যুভয় তাদেরকে স্পর্শ করতে পারে না; ফাঁসি বা কারাবাসও তাদের অগ্রযাত্রা থামাতে সক্ষম হয় না। বাষ্পীয় ইঞ্জিনের প্রবল শক্তির মতো তারা পুরোনো সবকিছু ভেঙে নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য অগ্রসর হয়।

এই দুর্বার তারুণ্যের রূপ ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধেও বিদ্যমান, যেমন কালাপাহাড়ের তলোয়ারের শক্তি, কামাল, করিম, মুসোলিনি ও লেনিনের বিপ্লবী চেতনার মধ্যে তা প্রতিফলিত হয়েছে। তারা নতুন সমাজ ও নতুন ভাবনা নির্মাণের আকাঙ্ক্ষায় উন্মত্ত থাকে। তবে প্রবন্ধে মাতৃরূপের যৌবনের কথাও রয়েছে, যেখানে তরুণেরা দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করে। কিন্তু উদ্দীপকে এই মাতৃরূপের দিকটি অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের কেবল আংশিক ভাবই প্রতিফলিত হয়েছে।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [পাবনা ক্যাডেট কলেজ]
জগতে নিজকে জানার সাধনাই বড়ো সাধনা। আত্মজ্ঞানে বলীয়ান হলে মানুষ বুঝতে পারে- মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা। সত্যের সাধনা, সুন্দরের সাধনা, অসীমের সাধনা, অনন্তের সাধনা মানুষের জীবনে শ্রী ফুটিয়ে তোলে। নিজ আত্মাকে চিনলে মানুষের বাঁধন ছিঁড়ে যায়। আত্মশক্তি দৃঢ় হয়। আত্মমুক্তির পথ মসৃণ হয়। জীবন থেকে বার্ধক্য বিদায় নেয়। মনুষ্যত্বের মহৎ আহ্বানে সাড়া দিয়ে সে এগিয়ে যায় শতাব্দীর চিরঞ্জীবতার পথে। তখন সে চিরশিশু, চিরকিশোর, চিরযুবক, চিরসাধক অভিধায় নিজেকে অভিহিত করতে পারে।

ক. গানের পাখিকে কে তাড়া করে?

খ. ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের আলোকে বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্য কী কী?

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের ভাবগত সম্পর্ক স্থাপন করো।

ঘ. উদ্দীপক এবং ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো- “আত্মবোধের বোধোদয় ঘটলেই যৌবনের পরিসীমা নির্ণয় সম্ভব।”
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [সিলেট ক্যাডেট কলেজ]
সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামান সাহেবের বয়স এখন ষাটের ঊর্ধ্বে। তিনি প্রতিনিয়ত সমাজের কল্যাণমুখী কাজে ব্যস্ত থাকেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, অসহায়ের পক্ষে কথা বলেন। তিনি কখনো নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন না। সমাজের সবাই তাঁকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করে। অপরদিকে ওই স্কুলেরই বর্তমান শিক্ষক লিমন সাহেবের বয়স মাত্র ত্রিশ বছর। তিনি সর্বদা অর্থের পিছনে ছোটেন। ক্লাসের বাইরে তিনি ছাত্রদের কাছে নোট বিক্রি করেন এবং প্রাইভেট পড়ান। ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ বিবেচনা করেন না। নিজের স্বার্থের জন্য তিনি সর্বদাই ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাই সমাজের মানুষের কোনো কাজেই তিনি আসেন না।

ক. ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে কাকে আলোর দেবতা বলা হয়েছে?

খ. “ইহাই হোক তরুণের সাধনা।”- এই সাধনার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের লিমন সাহেবের সাথে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের কোন চেতনার সাদৃশ্যতা খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের যৌবন ও বার্ধক্যের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [রংপুর ক্যাডেট কলেজ]
শিল্পপতি সাজেদুল করিম শুধু বিত্তশালী নন, একজন সমাজ সংস্কারকও বটে। সমাজ তথা জাতির কল্যাণে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। কথা নয়, কাজ- এই তাঁর মূলনীতি। কাজ করতেন দরিদ্র, নিপীড়িত আর অনাথদের জন্য। অসহায় মানুষের। মুখের হাসি তাঁর খুব ভালো লাগে। মানুষকে শোনাতেন অভয়ের বাণী। সবসময় তরুণদের এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা দিতেন।

ক. ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের প্রথম প্রবন্ধ কোনটি?

খ. লেখক নিজেকে বনের পাখির সাথে তুলনা করেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের মূলকথা কি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তুমি মনে করো? সপক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা]
নিলয় শারীরিকভাবে অতটা শক্তিশালী না হলেও অটুট মনোবলের অধিকারী। কেবল মনের-জোরেই সে সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় সবার আগে। তার জমজ ভাই নিবিড় শারীরিকভাবে যেমন মানসিকভাবে তেমন শক্তিমত্তার অধিকারী নয়। যুবক বয়সেও যেকোনো অন্যায়-অসংগতি দেখলে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সে পিছিয়ে পড়ে।

ক. সেন বংশের শেষ রাজা কে ছিলেন?’

খ. “দুঃখের তিমির-কুন্তলা নিশীথিনীর সেই তো লীলাভূমি।”-কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত নিলয় চরিত্রটি ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের কোন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? আলোচনা করো।

ঘ. “বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না”- ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের এ উক্তির আলোকে উদ্দীপকের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা]
‘ক’ দিন আগে ধানমন্ডি লেকের পাশ দিয়ে সকাল সাতটার দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ সম্মিলিত কণ্ঠে হাসির আওয়াজে তাকিয়ে দেখি দশ-বারো জন প্রৌঢ় শরীরচর্চা করছেন এবং হাসছেন; আরেকটু ভালো করে দেখার জন্য এগিয়ে যেতেই চোখে পড়লো ‘শতায়ু অঙ্গন’ লেখা একটা সাইনবোর্ড। কোনো এক আত্মীয়ের কাছে শুনেছিলাম এর কথা, আজ দেখলাম। যেখানে যাওয়ার কথা সেখানে যাওয়ার খুব একটা তাড়া ছিল না তাই কৌতূহল নিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম একদিকে এই প্রৌঢ়ের দল শরীরচর্চা করছেন অন্যদিকে আরেকটি দল সম্ভবত শরীরচর্চা শেষ করে চা পান করছেন এবং পথশিশুদের পড়াচ্ছেন। পথশিশুদের ব্যাগ, বই-খাতা আর টিফিন বাক্সও যে এরাই দিয়েছেন তা বুঝতে অসুবিধা হলো না। একরাশ ভালোলাগা নিয়ে ফুটপাথে উঠে আসতেই শুনি দুই যুবক প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বলছে, “এই বুড়োগুলো এই বয়সে ধর্ম-কর্ম বাদ দিয়ে হাসাহাসি করে পরকাল নষ্ট করছে।” তাদের কথা শুনে চিন্তায় পড়ে গেলাম- বুড়ো আসলে কারা।

ক. নজরুল ইসলাম তরুণদের সাথে মিলে কীভাবে বিকশিত হতে চান?

খ. নজরুল ইসলাম নিজেকে ধ্যানী বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের কোন বিষয়টি উঠে এসেছে তা বর্ণনা করো।

ঘ. ‘বুড়ো আসলে কারা’- উদ্দীপকের এই বক্তব্যের আলোকে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের মূলভাব লেখো।

নিচে যৌবনের গান সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

যৌবনের গান সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ

Related Posts

Leave a Comment