৯ম ও ১০ম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ৪র্থ অধ্যায়

কৃষিজ উৎপাদন বলতে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, ঔষধি গাছপালা, মাছ চাষ এবং গৃহপালিত পশুপাখি পালনের মাধ্যমে প্রাপ্ত সকল উৎপাদনকে বোঝানো হয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারা সচল রাখতে কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পোস্টে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ৪র্থ অধ্যায় লিখে দিলাম।

কৃষি শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ৪র্থ অধ্যায়

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
আয়েশা বেগম বিল অঞ্চলে উঁচুভিটে বাড়িতে বসবাস করেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়ির আঙিনায় ০৫ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করে সফলতা লাভ করলেন। এ সফলতার পর তিনি বিলে অবস্থিত তার জমিগুলোর উঁচু আইলেও পালংশাক চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন।

ক. পালংশাকের একটি জাতের নাম লেখো।

খ. পালংশাক চাষে ‘ইউরিয়া সার’ উপরি প্রয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করো।

গ. আয়েশা বেগম জমিতে কী পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করেছিলেন নির্ণয় করো।

ঘ. আয়েশা বেগমের পরিকল্পনা তাঁর কৃষি কার্যক্রমকে কীভাবে প্রভাবিত করবে বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

ক. পালংশাকের একটি জাতের নাম হলো সবুজ বাংলা।

খ. ইউরিয়া নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সার যা পালংশাক চাষে ব্যবহৃত হয়।

ইউরিয়া সার গাছকে শক্তিশালী, সতেজ ও গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করতে সহায়তা করে। এটি সালোকসংশ্লেষণের হার বৃদ্ধি করে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চারা গজানোর ৮–১০ দিন পর থেকে শুরু করে ১০–১২ দিন অন্তর ২–৩ কিস্তিতে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করলে গাছ রসালো হয় এবং দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পায়। তাই পালংশাক চাষে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

গ. আয়শা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাড়ির আঙিনায় পালংশাক চাষ করেন।

জৈব সারকে সাধারণভাবে মাটির প্রাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পচা গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোস্ট, কচুরিপানা, খড়কুটা ও বিভিন্ন জৈব বর্জ্য পচিয়ে তৈরি পদার্থই মূলত জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইউরিয়া ব্যতীত অন্যান্য সার সাধারণত জমি প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়, তবে জৈব সার জমি তৈরির শুরুতেই প্রয়োগ করা উত্তম। আয়শা বেগম ০৫ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করেন। নিয়ম অনুযায়ী পালংশাকে প্রতি শতকে ৪০ কেজি জৈব সার প্রয়োজন। সে হিসেবে তার ০৫ শতক জমির জন্য মোট জৈব সারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০০ কেজি।

তাই বলা যায়, আয়শা বেগম তার জমিতে ২০০ কেজি জৈব সার ব্যবহার করেছিলেন।

ঘ. আয়শা বেগম তার রিলে অবস্থিত জমিগুলোর উঁচু আইলে পালংশাক চাষের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, যা তার কৃষি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ফসলি জমির পরিমাণ ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি জমি খণ্ডিত হওয়ায় সেখানে আইল সৃষ্টি হচ্ছে, যা অনেক সময় অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকে এবং কৃষিজমির একটি অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়।

আয়শা বেগমের বাড়ি বিল অঞ্চলে হওয়ায় সেখানে শাকসবজি চাষের জন্য উঁচু জমির অভাব রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জমির উঁচু আইল শাকসবজি চাষের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এসব আইলে আগাম পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করা সম্ভব। এতে তার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি দেশের শাকসবজির চাহিদা মেটাতে অবদান রাখা যায় এবং তিনি আর্থিকভাবেও লাভবান হন।

পরিশেষে বলা যায়, আয়শা বেগমের এই পরিকল্পনা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]

উদ্দীপক বোর্ড বইয়ে দেখ।

ক. সমন্বিত চাষ কাকে বলে?

খ. সমন্বিত চাষে ভূমির ব্যবহার দ্বিগুণ হয় কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।

গ. চিত্র ক ও খ-এ উল্লিখিত পদ্ধতির মধ্যে কোনটির উৎপাদন খরচ কম- কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ. পরিবারের আয় ও পুষ্টি বৃদ্ধিতে চিত্রে উল্লিখিত কোন পদ্ধতিটি উত্তম- যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ

ক. একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে।

খ. সমন্বিত চাষে একই ভূমিতে একই সাথে অনেকগুলো ফসল একত্রে পরিকল্পনামাফিক চাষ করা হয়।

অর্থাৎ সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে প্রতিটি ফসলের জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। যেমন একই পুকুরে মাছ ও হাঁস একসাথে পালন করা যায়। এতে জমির কোনো অংশ অব্যবহৃত বা ফাঁকা না থাকায় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ফলে জমির অপচয় কমে এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এভাবে একই জমি থেকে একাধিক উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হওয়ায় ভূমির কার্যকর ব্যবহার বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

গ. চিত্র ক ও খ-এর মধ্যে চিত্র-খ তে দেখানো সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয়, যেখানে চিত্র-ক তে শুধুমাত্র মাছ চাষ করা হয়েছে। সমন্বিত চাষে মাছ ও হাঁস একসাথে পালন করায় একই ব্যবস্থাপনায় একাধিক উৎপাদন পাওয়া যায়, ফলে খরচ হ্রাস পায়।

সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে খরচ কম হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো—
i. অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হয় না, তাই জমি ক্রয় বা ব্যবহারের খরচ কমে যায়।
ii. সার ব্যবহারের প্রয়োজন কমে, কারণ হাঁসের বিষ্ঠা জৈব সার হিসেবে কাজ করে এবং প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে।
iii. আলাদা শ্রমিকের প্রয়োজন কম হওয়ায় শ্রম ব্যয় হ্রাস পায়।
iv. খাদ্য খরচ কমে, কারণ হাঁসের কিছু খাদ্য পানিতে পড়ে মাছের খাদ্যে পরিণত হয় এবং কিছু মাছ সরাসরি হাঁসের বিষ্ঠা গ্রহণ করে।
v. হাঁসের চলাচলের কারণে পানির গুণগত মান উন্নত হয়, তলদেশের বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে যায় এবং পরিবেশ ভালো থাকে।
vi. হাঁস পোকামাকড় ও ব্যাঙাচি খেয়ে পুকুরের ভারসাম্য রক্ষা করে।
vii. হাঁসের সাঁতার কাটার ফলে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি কম হয়, ফলে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজন পড়ে না।
viii. একই স্থান থেকে মাছ, ডিম ও মাংস পাওয়া যায়, ফলে বিনিয়োগের তুলনায় উৎপাদন বেশি হয় এবং খরচ কমে যায়।

অন্যদিকে চিত্র-ক তে শুধু মাছ চাষ হওয়ায় এসব সুবিধা পাওয়া যায় না, ফলে সব ধরনের খরচ তুলনামূলক বেশি হয় এবং শুধু মাছ উৎপাদন পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ঘ. উদ্দীপকের চিত্র-ক তে মাছ চাষ এবং চিত্র-খ তে সমন্বিত পদ্ধতিতে হাঁস ও মাছ চাষ দেখানো হয়েছে।

চিত্র-ক তে কেবলমাত্র মাছ চাষের পদ্ধতি দেখানো হয়েছে, যেখানে মাছ ছাড়া অন্য কোনো উৎপাদন যেমন মাংস বা ডিম পাওয়া যায় না। ফলে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি মাংস ও ডিম না পাওয়ার কারণে পরিবারের প্রোটিন ও স্নেহজাতীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণও সম্ভব হয় না। তাই একক মাছ চাষ পূর্ণাঙ্গ পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়।

অপরদিকে, চিত্র-খ তে মাছ ও হাঁসের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি দেখানো হয়েছে। এতে একই জমি ও একই সময়ে একাধিক উৎপাদন পাওয়া যায়, ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এক ফসল অন্য ফসলের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। এই ব্যবস্থায় মাছ আমিষের চাহিদা পূরণ করে, আর হাঁস থেকে মাংস ও ডিম পাওয়া যায়, যা পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত মাছ, মাংস ও ডিম বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হয়।

পরিশেষে বলা যায়, পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে সমন্বিত হাঁস ও মাছ চাষ পদ্ধতিটি অধিক কার্যকর ও উত্তম।

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
মেঘনার তীরের বাসিন্দা কৃষক তোরাব তার দুই একর জমিতে পাট চাষ করলেন। কিছুদিন পর তার পাটের জমিতে শুঁয়োযুক্ত এক ধরনের পোকার ব্যাপক আক্রমণ হলো। তোরাব বিচলিত না হয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোকা দমন করলেন। ফলে তার জমিতে পাটের আশাতীত উৎপাদন হওয়ায় পরবর্তী বছর এলাকার অন্যান্য কৃষকরা তাদের জমিতেও পাট চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন।

ক. পাটের জাত উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কী?

খ. স্বাভাবিক মাত্রার চেয়েও পাটের বীজ বেশি বোনার কারণ ব্যাখ্যা করো।

গ. কৃষক তোরাব আলীর জমিতে পোকা দমন পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. কৃষকদের সিদ্ধান্ত ঐ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কতটুকু সুফল বয়ে আনবে তা মূল্যায়ন করো।

উত্তরঃ

ক. পাটের জাত উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI)।

খ. ফসল উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক পরিমাণে বীজ বপন করা। পাটের বীজ আকারে ছোট হওয়ায় মই দেওয়ার সময় কিছু বীজ অতিরিক্ত গভীরে চলে যায়, ফলে সেগুলো অঙ্কুরিত হতে পারে না। আবার কখনও উড়চুলা পোকার আক্রমণে চারার গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সুস্থ পাট গাছ বজায় রাখার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি বীজ বপন করা হয়। পরে আগাছা পরিষ্কারের সময় অতিরিক্ত চারা তুলে পাতলা করে দেওয়া হয়, যাতে ভালো মানের গাছ ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

গ. মেঘনার তীরের বাসিন্দা তোরাব আলী তার দুই একর জমিতে পাট চাষ করেন। তার জমিতে শুঁয়োযুক্ত বিছা পোকা আক্রমণ করে।

তিনি পাট গাছের যেসব পাতায় বিছা পোকার ডিমের গুচ্ছ দেখতে পান, সেগুলো ডিমসহ সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলেন। আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে কীড়াগুলো যখন পাতায় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে, তখন তিনি আক্রান্ত পাতা কীড়াসহ তুলে পায়ে পিষে বা মাটির গর্তে চাপা দিয়ে দমন করেন। পোকা যাতে এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে ছড়িয়ে না পড়তে পারে, সেজন্য তিনি ক্ষেতের চারপাশে প্রতিবন্ধক নালা তৈরি করে তাতে কেরোসিন মিশ্রিত পানি রাখেন। আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করেন।

অর্থাৎ, তোরাব আলী যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাট ক্ষেত থেকে বিছা পোকা সফলভাবে দমন করেছিলেন।

ঘ. মেঘনার তীরের বাসিন্দা তোরাব আলীর জমিতে পাটের আশাতীত উৎপাদন হওয়ায় পরবর্তী বছর এলাকার অন্যান্য কৃষকেরাও পাট চাষের সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশে উৎপাদিত অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে পাটের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের আঁশের চাহিদার বড় একটি অংশ পাট থেকেই পূরণ হয়। অতীতে এদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৮৪% আসত পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে। পাটের ব্যবহারিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় একে “সোনালি আঁশ” বলা হয়।

পাট ফসলটি খরা ও জলাবদ্ধতা উভয় পরিস্থিতি সহ্য করতে সক্ষম হওয়ায় এটি তুলনামূলক সহনশীল ফসল। ফলে যেসব এলাকায় সেচের অভাব রয়েছে অথবা পানি জমে থাকে, সেখানে সহজেই পাট চাষ করা যায়। এছাড়া দেশের কিছু জমি রয়েছে যেখানে পাট ছাড়া অন্য কোনো ফসল ভালোভাবে চাষ করা সম্ভব নয়। খরা, বন্যা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও পাট অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষকেরা পাটশাক ও পাট বিক্রি করে আয় করতে পারে এবং পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। শুধু আঁশ ফসল হিসেবেই নয়, পাটের ব্যবহার কৃষিজ শিল্প, ঔষধ শিল্প, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবজি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং বলা যায়, তোরাব আলীর এলাকার কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পাট চাষ অত্যন্ত সুফল বয়ে আনতে সক্ষম।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [ঢা. বো. ২০২৫]
রহমত আলী একজন সচেতন কৃষক। তিনি ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। তিনি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসম্মত দমন ব্যবস্থা যেমন- গভীরভাবে জমি চাষ, রোগিং, আলোর ফাঁদের ব্যবহার, সঠিক সময়ে আগাছা সরিয়ে ফেলা ইত্যাদি কাজগুলো করে থাকেন। যেখানে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার নেই। এতে তিনি আশে-পাশে সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন।

ক. BRRI-এর পূর্ণ অর্থ কী?

খ. ফসল চাষে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার কমানো উচিত কেন?

গ. উদ্দীপকের আলোকে রহমত আলীর পোকা দমন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “রহমত আলীর কাজটি সময়ের দাবি”- বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [ম. বো. ২০২৫]
কনক তার একটি নিচু প্রকৃতির ধানের ৫০ শতাংশ জমির আইল উঁচু করে ধানের সাথে মাছের সমন্বিত চাষের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী ধানের চারা রোপণের ১০ দিন পরে ঐ জমিতে কনক কার্প জাতীয় পোনার পাশাপাশি চিংড়ির পোনা মজুদ করে। দু’দিন পরে সে ১৫০টি ১৫ সে.মি. আকারের গ্রাসকার্প পোনা ঐ জমিতে ছাড়ে।

ক. বন্যাকবলিত এলাকায় কোন ধরনের বীজতলা তৈরি করা হয়?

খ. ধানের বীজতলায় চারা উত্তোলনের পূর্বে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নেয়া হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. কনকের সমন্বিত চাষ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ কত পরিমাণ চিংড়ি পোনা ছাড়তে পারে- তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. কনকের জমিতে ধান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [দি. বো. ২০২৫]
আবেদ আলি তার ৫ শতক জমিতে ধানের চারা উৎপাদনের পরিকল্পনা করেন। তিনি ধানের চারা উৎপাদনে বীজতলা তৈরির জন্য সার প্রয়োগ পদ্ধতি ও মাত্রা সম্পর্কে জানার জন্য কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন। কৃষি কর্মকর্তা রাসায়নিক সারের মাত্রা ও প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে আবেদ আলিকে বুঝিয়ে দিলেন। তিনি রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার প্রয়োগ করার পরামর্শও দিলেন। তিনি আরো বললেন, “জৈব সার জমির প্রাণ”।

ক. প্লাংকটন কী?

খ. পাট জাগ দেওয়ার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

গ. আবেদ আলির ধানের বীজতলা তৈরির পদ্ধতি বর্ণনা করো।

ঘ. কৃষি কর্মকর্তার শেষের উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [কু. বো. ২০২৫]
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মিয়া তার দুই বিঘা জমিতে দেশি পাট চাষ করলেন। সঠিক সময়ে জমি তৈরি, পরিচর্যা, পাট কেটে আঁটি বেঁধে জাগ দিয়ে আঁশ শুকিয়ে সংরক্ষণ করায় তার আঁশের মান ভালো হলো। তিনি কাঙ্ক্ষিত ফলনও পেলেন।

ক. ক্যাটফিশ কী?

খ. বপনের আগে বীজ শোধন করে নিতে হয় কেন?

গ. হোসেন মিয়ার পাট জাগ দেওয়ার কার্যক্রমটি বর্ণনা করো।

ঘ. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [কু. বো. ২০২৫]
দীপেন বড়ুয়া ভেষজ উদ্ভিদের মাধ্যমে তার নিজের গ্রাম ও আশে-পাশের গ্রামের জনগণের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এজন্য তিনি তার বাগানে থানকুনি, তুলসি, বাসক, ত্রিফলাসহ আরও অনেক ঔষধি গাছ লাগান। এসব উদ্ভিদের মাধ্যমে চিকিৎসা যেমন সহজলভ্য, সস্তা তেমনই কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

ক. ঔষধি উদ্ভিদ কাকে বলে?

খ. আমাদের দেশের ঔষধি উদ্ভিদ দিন দিন হ্রাস পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদগুলোর কোন কোন অংশ কোন রোগের উপশমে ব্যবহৃত হয় তার একটি তালিকা তৈরি করো।

ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯। [চ. বো. ২০২৫]
অনিমেষ বাবু একজন ভেষজ চিকিৎসক। তাঁর বাড়িতে তিনি কয়েকশ প্রজাতির ভেষজ উদ্ভিদ উৎপাদন করেন। নিজের উৎপাদিত ভেষজ উদ্ভিদ দ্বারা গ্রামের মানুষকে সফলভাবে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

ক. বেত কী জাতীয় উদ্ভিদ?

খ. দিন দিন ভেষজ উদ্ভিদের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

গ. অনিমেষ বাবুর বাড়িতে কী কী ঔষধি উদ্ভিদ থাকতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি করো।

ঘ. আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের চিকিৎসকের কার্যক্রমটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১০। [সি. বো. ২০২৫]
নাহিদা স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বাড়ির পাশে ১০ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করে সফলতা অর্জন করেন। ঐ জমির উঁচু আইলে শিমসহ অন্যান্য সবজি চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

ক. সমন্বিত চাষ কী?

খ. ধান ক্ষেতে মাছ ও গলদা চিংড়ি চাষে কীটনাশক ব্যবহারের দরকার হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. নাহিদা তার জমিতে কী পরিমাণ ইউরিয়া সার ব্যবহার করেছিলেন? উক্ত সারের প্রয়োগ-পদ্ধতি বর্ণনা করো।

ঘ. নাহিদার গৃহীত পদক্ষেপ “ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহারে অনুকরণীয়”-যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১১। [য. বো. ২০২৫]
রাহেলা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে শাক-সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়ির পাশে ১২০ বর্গমিটার জমিতে পুঁইশাক চাষ করে লাভবান হলো। এই সফলতায় তিনি উৎসাহিত হয়ে -জমির পাশের কিছু উঁচু আলে বেগুন চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ক. কলার চারাকে কী বলে?

খ. শিং মাছ প্রতিকূল পরিবেশে বাঁচতে পারে কেন? ব্যাখ্যা করে।

গ. রাহেলা বেগমের জমিতে কত কেজি গোবর সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন- তা নির্ণয় করো।

ঘ. “সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণে রাহেলা বেগমের গৃহীত পদক্ষেপটি অনুকরণীয়”- বক্তব্যটির সমর্থনে তোমার মতামত দাও।

নিচে ৯ম-১০ম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা ৪র্থ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

কৃষি শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ৪র্থ অধ্যায় পিডিএফ

Related Posts

Leave a Comment