প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে শিক্ষা ও সাহিত্যের মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। সাহিত্য মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবে আলোড়ন তোলে; এতে কোনো বিষয় জোর করে গ্রহণ করাতে হয় না। অন্যদিকে শিক্ষা বাস্তব জীবনের প্রয়োজন থেকে গড়ে ওঠে। এই পোস্টে সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] জানার কথা জানা হয়ে গেলে আর জানতে ইচ্ছে করে না- তা জেনে মনে আনন্দও জন্মে না। সূর্য পূর্বাকাশে ওঠে- এই তথ্য আমাদের মন টানে না। কিন্তু সূর্যোদয়ে যে সৌন্দর্য ও দেখার আনন্দ তা সৃষ্টিকাল থেকে আজও বিদ্যমান। এই সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতি পাঠক হৃদয়ে জাগিয়ে তোলাই সাহিত্যের কাজ। পাঠ ও অনুধাবনের মাধ্যমে রসিক পাঠকের হৃদয়ে তা সঞ্চারিত হয়। রস গ্রহণে অসমর্থ লোকই সাহিত্যের সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতির পরিবর্তে আত্মষিত ও সন্তুষ্টি খোঁজে। সাহিত্যে নির্মিত সৌন্দর্য-অনুভূতি যদি লোকহিত সাধন করে, তাতে সাহিত্যের কুললক্ষণ নষ্ট হয় না। শুধু লোকহিত ও সন্তুষ্টির প্রচেষ্টা সাহিত্যকে কুলত্যাগী করে, সাহিত্যিক শিক্ষকে রূপান্তরিত হন। ক. ‘রামায়ণ’ কে রচনা করেছেন? খ. ‘অতি সস্তা খেলনা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। গ. ‘সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত’ হওয়ার বিষয়টি উপরের অনুচ্ছেদে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, বুঝিয়ে দাও। ঘ. ‘শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে ভিন্নধর্মী’- বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে কতখানি প্রতিফলিত হয়েছে বলে তুমি মনে করো?– উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। |
উত্তরঃ
ক. ‘রামায়ণ’ বাল্মীকি রচনা করেছেন।
খ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে ‘অতি সস্তা খেলনা’ বলতে সেই ধরনের সাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে, যা খুব সহজেই শুধু পাঠকের মন ভোলায়।
লেখকের মতে, সাহিত্যের আসল কাজ হলো মানুষকে গভীর আনন্দ দেওয়া, কেবল মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্য যদি শুধু মনোরঞ্জনের জন্য লেখা হয়, তবে তাতে আর কোনো উচ্চ ভাবনা বা আদর্শ থাকে না। তখন সেই সাহিত্য একেবারে সস্তা খেলনার মতো হয়ে যায়। তাই প্রকৃত ও দায়িত্বশীল সাহিত্যিকদের কাছ থেকে লেখক এমন সস্তা ধরনের লেখা আশা করেন না।
গ. উপরের অনুচ্ছেদে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বলা সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত হওয়ার কথাই ফুটে উঠেছে।
এই প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, খেলাধুলার মতো সাহিত্যেরও আসল উদ্দেশ্য শুধু আনন্দ দেওয়া। সাহিত্যে লেখকের মনের স্বাভাবিক ও স্বাধীন প্রকাশ থাকবে। কিন্তু সাহিত্য যখন উপদেশ বা তত্ত্ব শেখানোর জন্য লেখা হয়, বা মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য সাজানো হয়, তখন সাহিত্য তার প্রকৃত পথ থেকে সরে যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শুধু তথ্য মানুষের মনে টানে না। যেমন সূর্য পূর্বদিকে ওঠে, এটি সাধারণ জ্ঞান। কিন্তু সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য আমাদের আনন্দ দেয়। সেই সৌন্দর্যের আনন্দই সাহিত্যের কাজ। সাহিত্য যদি আনন্দ দিতে গিয়ে মানুষের উপকার করে, তাতে ক্ষতি নেই। কিন্তু শুধু মানুষের মন ভোলানো বা উপকার করার উদ্দেশ্যে সাহিত্য লেখা হলে সাহিত্য তার স্বভাব হারায়। তাই অনুচ্ছেদে সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত হওয়ার বিষয়টি ঠিকভাবেই প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. উপরের অনুচ্ছেদে শিক্ষা ও সাহিত্যের পার্থক্য পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, তাই ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বলা শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্ন। এই কথা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্যের কাজ মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলা; সেখানে কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয় না। কিন্তু শিক্ষা এমন বিষয়, যা মানুষ অনেক সময় অনিচ্ছা থাকলেও মুখস্থ করে নিতে বাধ্য হয়। শিক্ষায় আনন্দের চেয়ে প্রয়োজন ও বাস্তবতা বেশি গুরুত্ব পায়। সাহিত্যে থাকে অনুভূতি, রস ও মনের স্বাভাবিক প্রকাশ। এ থেকেই বোঝা যায় শিক্ষা ও সাহিত্য এক নয়, তাদের উদ্দেশ্যও আলাদা।
উদ্দীপকের অংশেও এই পার্থক্য ধরা পড়ে। সেখানে বলা হয়েছে, সাধারণ জ্ঞান একবার জানা হয়ে গেলে তা আর আনন্দ দেয় না বা নতুন করে জানার আগ্রহ জাগায় না। কিন্তু সাহিত্য যুগের পর যুগ মানুষের মনে সৌন্দর্য ও আনন্দ জাগিয়ে রাখে।
শিক্ষা মানুষকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করে। সাহিত্য মানুষের মনকে বিস্তৃত করে এবং নির্মল আনন্দ দেয়। শুধুমাত্র উপকার বা পাঠককে খুশি করার জন্য সাহিত্য রচনা করলে সাহিত্য তার আসল মর্যাদা হারায় এবং সাহিত্যিক শিক্ষক হয়ে ওঠেন। তাই সব দিক বিচার করলে বলা যায়, শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্ন। এই সত্যটি অনুচ্ছেদে যথার্থভাবেই প্রকাশ পেয়েছে।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] মানুষের একটি চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে নিজের অনুভতি ও উপলব্ধি অন্যের কাছে প্রকাশ করা। জয়নুল আবেদীনের মতো ছবি এঁকে কিংবা রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা, গান লিখে নিজ হৃদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা সে অন্য মনে ছড়িয়ে দিতে চায়। এভাবে সে জগতের সকল মানুষের সল্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। চায় লক্ষ যদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে। এ কাজ তখনই সফল হয়, যখন রঙে, ঢঙে. আকারে-প্রকারে, ভাষায়-সুরে, ছন্দে, ইলিংতে নিখুঁত রূপ বা অনুভতি অন্য মনে প্রতিফলিত ও সঞ্চারিত করা যায়। এ কাজ যে পারে, পিঞ্জরাজ্যের সেই রাজা। ধর্মের জাতপাত, বর্ণভেদ সেখানে একাকার। ক. রোধ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম লেখো। খ. ‘মানুষের দেহমনের সকল কিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ’- কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের কোন বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়? আলোচনা করো। ঘ. উপরের অনুচ্ছেদের লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা বাক্যাংশ অবলম্বনে সাহিত্য খেলা প্রবন্ধ বর্ণিত ‘বিশ্বমানবের সকো সম্বন্ধ পাতানোরই নামান্তর’- প্রসঙ্গে তোমার মতামত উপস্থাপন করো। |
উত্তরঃ
ক. রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম হলো ‘নরকের দুয়ার’।
খ. মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা-তা উদ্দেশ্যহীন বা নিষ্কাম কর্ম।
প্রাবন্ধিকের মতে, মানুষ যখন খেলা করে তখন সে শুধু আনন্দ পাওয়ার জন্যই খেলে, অন্য কিছু চায় না। এই আনন্দই তার একমাত্র উদ্দেশ্য। খেলার পেছনে কোনো লোভ, স্বার্থ বা খারাপ চিন্তা কাজ করে না। মানুষ শুধু সেই মুহূর্তের সুখের জন্য খেলে। তাই প্রাবন্ধিক খেলাকে নিঃস্বার্থ ও শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে মনে করেছেন।
গ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে যেমন বলা হয়েছে, শিল্প ও সাহিত্যের জগতে সবার অধিকার সমান। ঠিক তেমনি উপরের অনুচ্ছেদেও সেই একই কথা বোঝানো হয়েছে।
প্রাবন্ধিক বলেছেন, খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ ও শূদ্রের কোনো পার্থক্য থাকে না। সেখানে রাখাল, দরিদ্র, ধনী সবাই একসাথে খেলতে পারে। খেলার জগতে ঢুকতে পারলেই মানুষ বড়দের সাথেও সমান হয়ে যায়। অর্থাৎ, এখানে কোনো জাতভেদ বা ছোট-বড় নেই।
অনুচ্ছেদেও বলা হয়েছে, শিল্পী ও কবিরা তাঁদের ছবি, কবিতা ও গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন। তারা রং, ভাষা, ছন্দ ও সুর দিয়ে নিজের অনুভূতি অন্যের মনে পৌঁছে দেন। যে শিল্পী মানুষের মনে এই অনুভূতি জাগাতে পারেন, শিল্পের জগতে তিনিই বড় বা শ্রেষ্ঠ। সেখানে ধর্ম, জাত বা বর্ণের কোনো মূল্য থাকে না শুধু শিল্পের শক্তিই আসল। তাই বলা যায়, প্রবন্ধে যেমন ব্রাহ্মণ-শূদ্রের সমান অধিকার দেখানো হয়েছে, অনুচ্ছেদেও তেমনি শিল্পের জগতে সব ভেদাভেদ মুছে গিয়ে সবাই এক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. সাহিত্যের মাধ্যমে লেখকের পাঠক হৃদয়ে স্থান পাওয়ার প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রসঙ্গটি যথার্থ।
‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, কবি বা লেখকেরা চান তাঁদের লেখা মানুষ পড়ুক, ভালোবাসুক এবং বাহবা দিক। কারণ তারা শুধু নিজের জন্য লেখেন না, সমাজের মানুষের জন্যও লেখেন। লেখার মাধ্যমে তারা মানুষের মন, চিন্তা ও অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চান। তাই পাঠকের প্রশংসা পেলে তারা আনন্দ পান।
উদ্দীপকেও একই কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিল্পী, কবি বা গীতিকাররা ছবি, গান বা কবিতার মাধ্যমে নিজের মনের ভাব মানুষের মনে পৌঁছে দিতে চান। তারা চান তাঁদের সৃষ্টির মাধ্যমে বহু মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে। অর্থাৎ, শিল্পের কাজই হলো মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক তৈরি করা।
দুই জায়গাতেই দেখা যায় সাহিত্য বা শিল্প শুধু নিজের আনন্দের জন্য নয়, মানুষের হৃদয় ছোঁয়ার জন্য। কবি-লেখকরা তাঁদের সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে চান। তাই বলা যায়, সাহিত্যের মাধ্যমে লেখকের পাঠক হৃদয়ে স্থান পাওয়ার আশা। তাই এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সঠিক ও যথার্থ।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [এস.এস.সি সকল বোর্ড ২০১২] অঞ্চল মাঠে একদল শিশ আপন মনে খেলায় ব্যস্ত। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পাড়ার সকলের বেলুমামা। তিনি শিশুদের ডেকে বললেন, ‘তোমরা এমন দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে হাত-পা ভাঙবে, ব্যথা পাবে। তার চেয়ে এসো সবাই বসে পড়ালেখা করি- জান বাড়বে, বিদ্যাবন্দ্বি বাড়বে।’ একটি শিশু বলল, ‘মজাটা কমবে।’ সাথে সাথে সব শিশরা হেসে উঠল। একে একে সবাই ছটে পালাল খেলার মাঠে- মনের আনন্দে শুরু করল খেলা। ক. এ পৃথিবীতে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই কোথায়? খ. ‘যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকের বেলুমামা ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? কেন? ঘ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং উদ্দীপকের শিশুদের খেলার উদ্দেশ্য অভিন্ন।”- এ বিষয়ে যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। লোক যদি সাহিত্য হইতে শিক্ষা পাইতে চেষ্টা করে তবে পাইতেও পারে, কিন্তু সাহিত্য লোককে শিক্ষা দিবার জন্য কোনো চিন্তাই কৃষানের ভাষায় লেখা বা তাহাতে দুঃখী-কাঙালের ঘরকন্নার কথা বর্ণিত। তাহাতে বড়ো বড়ো রাজা, বড়ো বড়ো রাক্ষস, বড়ো বড়ো বীর করে না। কোনো দেশেই সাহিতা ইস্কুল-মাস্টারির ভার লয় নাই। রামায়ণ মহাভারত দেশের লোকে পড়ে তাহার কারণ এ নয় যে, তাহা এবং বড়ো বড়ো লেজের কথাই আছে। আগাগোড়া সময়ই অসাধারণ। সাধারণ লোক আপনার গরজে এই সাহিত্যকে পড়িতে শিখিয়াছে। ক. ‘যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ’ রচয়িতা কে? খ. ‘মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ।’- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের ভাবগত মিল কতখানি? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য প্রস্ফুটিত হয়েছে।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। আসিফ ও নয়ন দুই ভাই। লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে আসিফ আনন্দ পায় সাহিত্য পড়ে আর নয়ন আনন্দ পায় ক্রিকেট গেলে। উপন্যাস আসিফের খুব পছন্দ। সে মনে করে, উপন্যাস পড়ার মতো আনন্দ আর কিছুতেই পাওয়া যায় না। তাছাড়া মানুষের মন যে কত বিচিত্র হতে পারে তা উপন্যাস না পড়লে সে বুঝতে পারত না। অন্যদিকে, নয়নের প্রবল আগ্রহ ক্রিকেট খেলার প্রতি। সে ক্রিকেট খেলে যে আনন্দ পায় তা আর কোথাও পায় না। খেলার ফলে তার মন ও শরীর প্রফুল্ল থাকে। ক. লেখকেরা দশের কাছে কীসের প্রত্যাশা রাখেন? খ. ‘খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কাম কর্ম ।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বক্তব্যের কোনো সাদৃশ্য আছে কি? আলোচনা করো। ঘ . ‘উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের আগ্রহের বিষয় ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক।’- ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সাহিত্যিক। তিনি তাঁর মনের আনন্দের প্রকাশ ঘটান সাহিত্যে। কোনো মানুষের দকে তাকিয়ে নয়, তার চারপাশে যেসব মানুষকে তিনি দেখেন- তাদেরকেই ভিত্তি করে দাঁড় করান এক একটি বিখ্যাত চরিত্র। হিমু, মসির আলি তাঁর অসম্ভব পাঠকনন্দিত চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। মনের আনন্দে তিনি এসব চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। পাঠকের কাছেও তাঁর রিত্রগুলো ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ক. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে উল্লিখিত বিখ্যাত ভাস্করের নাম কী? খ . কাব্যরস নামক অমৃতে আমাদের অরুচি জন্মেছে কেন? গ . উদ্দীপকের হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য রচনার সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সাযুজ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. ‘মনের আনন্দে সাহিত্য সৃষ্টি করেন বলেই হুমায়ূন আহমেদ পাঠকনন্দিত হতে পেরেছিলেন।’- ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটির সত্যতা যাচাই করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। বন্ধুর পরামর্শে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গল্পগুচ্ছ’-এর কয়েকটি গল্প পড়েই বিরক্ত হয়ে গেল সুমন। তার ধারণা, এসব হরহামেশা ঘটে যাওয়া কাহিনি পড়ে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। তার চেয়ে বরং সাধারণ জ্ঞানের বই পড়লে অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায়। তার বোধে এটুকু ধরা পড়ে না যে, সাহিত্য মানুষকে সরাসরি তথ্য জানানোর জন্য রচিত হয় না। সাহিত্য অনুভূতির জগতে সাড়া ফেলে সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। আর তখনই সে হয়ে উঠে সুশিক্ষিত। ক. শাস্ত্রমতে কাব্যরস কেমন? খ. ‘কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত’- কেন? গ. উদ্দীপকের সুমনের মানসিকতার সাথে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের অসংগতিপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে শিক্ষা ও সাহিত্যের কীরূপ সম্পর্ক প্রতীয়মান হয়েছে? বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। কাজল একজন নবীন ঔপন্যাসিক। পাঠকের মনোরঞ্জন করার মতো ক্ষমতা তার মধ্যে রয়েছে। সস্তা প্রেমের তরল কাহিনি তার উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য ৷ তাছাড়া তার উপন্যাসে সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সুরও পাওয়া যায়। একশ্রেণির তরুণ পাঠক তার উপন্যাসের খুব ভক্ত। ক. ‘কলারাজ্য’ অর্থ কী? খ. ‘রামঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের স্বরূপ তুলে ধরো। ঘ. “উদ্দীপকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাব ফুটে ওঠেনি।” মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো। |
নিচে সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ
আরও পড়ুনঃ বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির