বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য মানবতার মঙ্গল সাধন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি। লেখার মাধ্যমে যদি সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা হয়, তবে তা সার্থক হয়। এই পোস্টে বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন সৃজনশীল উত্তর লিখে দিলাম।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, হতাশা ও হাহাকারে উপমহাদেশ ছিল নানা অভিঘাতে বিপর্যস্ত ও রূপান্তরিত। এমনই এক পরিবেশে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) তাঁর ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় বিনির্মাণ করলেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের মহাকাব্যিক এক আশাবাদী জগৎ। তিনি কলম তুলে নিলেন শোষণ-বঞ্চনাহীন, শ্রেণিবৈষম্যহীন, ক্ষুধা-দারিদ্রদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ সৃষ্টি করতে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাম্যের গান গাইলেন। এক সময় তিনি হয়ে উঠলেন ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার আদায়ের কলমসৈনিক। শোষণ, বঞ্চনা ও সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?
খ. অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ- বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনা ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন বৈশিষ্ট্যটির প্রতিফলন ঘটায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বাংলার নতুন লেখকদের প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি? উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে তোমার মতামত দাও।

উত্তরঃ

ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সত্য ও ধর্ম।

খ. আলোচ্য উক্তিতে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, নিজের স্বার্থ রক্ষা করা বা অন্যকে ক্ষতি করার জন্য লেখা খুবই খারাপ কাজ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, সাহিত্য লেখার আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষের উপকার করা বা সৌন্দর্য সৃষ্টি করা। লেখার মাধ্যমে যদি সত্য ও সুন্দরকে প্রাধান্য দেওয়া যায়, তবে সেই লেখা সফল হয়। কিন্তু যে লেখায় শুধু নিজের লাভের কথা ভাবা হয়, যেখানে মিথ্যাকে বাড়িয়ে তোলা হয়, বা যা মানুষের কষ্টের কারণ হয় সেসব লেখা নিন্দার যোগ্য। এ জন্যই লেখক বলেছেন, সৎ উদ্দেশ্য ছাড়া লেখায় হাত দেওয়া বড় পাপের মতো।

গ. উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যচর্চায় মানবকল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করার ভাব স্পষ্ট দেখা যায়, ঠিক যেমনটি আছে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে।
এই রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য সৃষ্টির আসল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, খ্যাতি পাওয়া বা অর্থ রোজগার করা সাহিত্য রচনার লক্ষ্য নয়। মানুষের মঙ্গল করা বা সৌন্দর্য সৃষ্টি করাই লেখকের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। তাই তাঁর আহ্বান, যে লেখায় মানুষের ক্ষতি হয় তা বাদ দিয়ে মানুষের ভালোর জন্য লেখা উচিত।

উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের মহান কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথাই বলা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কঠিন সময়ের পরে তিনি মানবমুক্তির বার্তা নিয়ে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন। শোষণ, দারিদ্র্য, বঞ্চনা এসব কষ্ট তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে উঠে আসে। শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নই তাঁর সাহিত্যকে শক্তি দেয়। মানবসেবামূলক মনোভাব নিয়ে লেখালেখিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান এই প্রবন্ধেও রয়েছে। প্রবন্ধকারের মতে, এটাই সাহিত্য সৃষ্টির প্রকৃত লক্ষ্য, এবং এই বৈশিষ্ট্য কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় স্পষ্ট দেখা যায়।

ঘ. সাহিত্যকে সত্য ও সুন্দর পথে এগিয়ে নেওয়ার দৃষ্টিতে উদ্দীপকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শ যথাযথভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে তিনি সাহিত্য রচনার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাহিত্য লেখার উদ্দেশ্য খ্যাতি বা অর্থ পাওয়া নয়; মানুষের উপকার করাই মূল লক্ষ্য। তাই লেখকদের উচিত লোক খুশি করার চেষ্টা না করে সত্য কথা স্পষ্টভাবে বলা। বাংলা সাহিত্যকে উন্নত ও মানবমুখী করতে বঙ্কিমচন্দ্রের এ কথাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্দীপকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখকের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। শোষণ, দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ এসব সমস্যাকে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর লেখায় এসব অন্ধকার দূর করার আকাঙ্ক্ষা ফুটে ওঠে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন শান্তিপূর্ণ সমাজ তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল। আলোচ্য প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্রও একই মূল ভাবনা তুলে ধরেছেন।

প্রকৃত লেখক সবসময় সত্য ও সৌন্দর্যের অনুসারী। মানুষের মুক্তির গভীর অনুভূতি তাঁর লেখায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। সমাজে অন্যায়-অবিচার দেখে যে চুপ থাকে বা অন্যায়কারীদের খুশি করার জন্য লেখে, সে সত্যিকারের লেখক নয়। প্রকৃত লেখক কখনোই সত্য বলায় পিছিয়ে যান না; তাঁর সত্য কথা মানুষের মুক্তির পথ উন্মুক্ত করে। উদ্দীপকে বর্ণিত নজরুলের লেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ছিল। মানবকল্যাণের চিরন্তন ও সুন্দর বাণীই ছিল তাঁর মূল শক্তি। এই সত্য ও মানবমঙ্গলের আদর্শকেই জীবনের পথচলার সহায় করতে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর রচনায় আহ্বান জানিয়েছেন, যার প্রকাশ উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, টাঙ্গাইল]
সে-ই হতে পারে কবি, যে লিখতে পারে কবিতা, যার ভালোবাসা আছে শব্দের জন্যে। যে শব্দকে ভালোবাসে খুব, শব্দকে আদর করে যে সুখ পায়, সে-ই হতে পারে কবি। কবিরা গোলাপের মতো সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, চাঁদের মতো স্বপ্ন দেখেন। কবিরা শব্দ দিয়ে লেখেন নানান রকমের কবিতা। কখনো তারা খুব হাসির কথা বলেন, কখনো বলেন কান্নার কথা।

ক. সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?

খ. ‘লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে।’ ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সঙ্গে কোন দিক থেকে মিল রয়েছে? বর্ণনা করো।

ঘ. উদ্দীপক এবং ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের মূলভাব ভিন্ন- মন্তব্যটি যাচাই করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ]
সাহিত্য সভ্যতার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ ও জাতি বিশেষ উন্নতি লাভ করে। ফলে যারা সাহিত্যচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তারা সময়ের, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদের ভূমিকাকে অধিক সার্থক ও সমৃদ্ধি আনয়নে সাহিত্যকর্মীদের নানা বিষয়ে সচেতন ও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর প্রধান পরিচয় কী?

খ. “সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য।” কী কারণে? তা ব্যক্ত করো।

গ. উদ্দীপকের বক্তব্য ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের নামে কী সাদৃশ্য বহন করে? তা লেখো।

ঘ. ‘যুগে যুগে সাহিত্য সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে।’- উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে উদ্ধৃতিটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [রংপুর ক্যাডেট কলেজ]
অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। তিনি বিভিন্ন গল্প ও উপন্যাসের মাধ্যমে সমাজের কুসংস্কার ও সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। ফলে তাঁর লেখা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। লেখনীর মধ্য দিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন অপরাজেয়।

ক. ‘বাঙ্গালা’ শব্দটির পরিবর্তন হয়েছে কীভাবে?

খ. ‘বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করিবেন না’- লেখকের এমন মন্তব্যের কারণ কী?

গ. উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের লেখকের মনোভাবের কতটুকু প্রতিফলন দেখি? মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [সিলেট সরকারি কলেজ]
তরুণ লেখক অরণ্য বড়ো বড়ো ও জটিল শব্দ ব্যবহার করে প্রবন্ধ। লিখতে পছন্দ করেন। তিনি মনে করেন, সাধারণ ও সহজ ভাষায় লিখলে পাঠকরা তাকে বড়ো মাপের পণ্ডিত মনে করবে না। এছাড়া তিনি দ্রুত বিখ্যাত হওয়ার নেশায় অন্যের লেখার বিভিন্ন অংশ অনুকরণ করে নিজের নামে চালিয়ে দেন। তার কন্ধু সজল তাকে পরামর্শ দেয় যে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সত্য প্রকাশ এবং মানুষের কল্যাণ সাধন, কেবল ব্যক্তিগত যশ বা খ্যাতি নয়। কিন্তু অরণ্য তার এই পরামর্শে কর্ণপাত করেন না।

ক. বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, কীসের জন্য লিখলে যশও হয় না এবং লেখাও ভালো হয় না?

খ. “বিদ্যার গৌরব না থাকিলে বিদ্যা প্রকাশ করিবেন না”- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

গ. উদ্দীপকের অরণ্যের লেখনশৈলীর সাথে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন উপদেশের বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের অরণ্যের মতো লেখকদের সংশোধন করাই ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধটির মূল লক্ষ্য”- মন্তব্যটি প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [ভোলা সরকারি কলেজ]
মানুষ সহজে বুঝতে পারে এবং বক্তার মনোভাব ঠিকমতো প্রকাশিত হয় এমন শব্দ বা কথা ব্যবহার করা দরকার। শুনতে ভালো নয় অথবা বিদেশি শব্দ বলে কোনো শব্দ বাদ দেওয়া ঠিক নয়। মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য উপযুক্ত শব্দ না পাওয়া গেলে অপেক্ষাকৃত ভালো শব্দটি ব্যবহার করা উচিত।

ক. কোন সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর?

খ. “অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, লোকরঞ্জন প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে।”- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?- ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকে শ্রেষ্ঠ লেখকের বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে।”-‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, নীলফামারী]
সেই হতে পারে কবি, যে লিখতে পারে কবিতা, যার ভালোবাসা আছে শব্দের জন্যে। যে শব্দকে ভালোবাসে খুব, শব্দকে আদর করে যে খুব সুখ পায়, সেই হতে পারে কবি। কবিরা গোলাপের মতো সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, চাঁদের মতো স্বপ্ন দেখেন। কবিরা শব্দ দিয়ে লেখেন নানান রকমের কবিতা। কখনো তারা খুব হাসির কথা বলেন, কখনো বলেন কান্নার কথা।

ক. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?

খ. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র লেখকের আদর্শ সম্পর্কে কী বলেছেন?

গ. উদ্দীপকটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ?

ঘ. “মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব এবং ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের মূলভাব এক নয়।” -মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮।
সুমন একজন তরুণ কবি। তার কবিতায় সমসাময়িক সমাজের বাস্তবতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটে। তার বন্ধুরা তাকে বলে, “তুমি যদি কিছুটা বাণিজ্যিক লেখা লিখতে, যেমন এখন জনপ্রিয় রোমান্টিক বা থ্রিলার উপন্যাস, তাহলে দ্রুত খ্যাতি ও অর্থ দুটোই পেতে।” সুমন জবাবে বলে, “আমি শুধু সত্য ও সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য লিখি। পাঠক যদি আমার লেখায় নিজেকে খুঁজে পায়, তাহলেই আমি সার্থক।”

ক. খুলনার ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র কী করেছিলেন?

খ. “যাঁহারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।” — বক্তব্যটি কেন বলা হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের সুমনের চিন্তাধারা “বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন” প্রবন্ধের কোন মূল নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

. “প্রকৃত সাহিত্য স্রষ্টা কখনও বাণিজ্যিক চাহিদার কাছে নতি স্বীকার করেন না।” — উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯।
নতুন লেখিকা তানজিনা তার প্রথম প্রবন্ধে বিস্তর গবেষণা ও তথ্য উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু লেখাটি এত বেশি বিদেশি শব্দ, জটিল উদ্ধৃতি ও কঠিন ব্যাকরণে পূর্ণ যে সাধারণ পাঠকের পক্ষে তা বোঝা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তার বন্ধু তাকে বলে, “তোমার জ্ঞানের গভীরতা সন্দেহাতীত, কিন্তু তা প্রকাশের ভাষা এত দুর্বোধ্য কেন? সহজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করলে কেমন হয়?” তানজিনা ভাবে, “জ্ঞান দেখাতেই তো এত কষ্ট করে লেখা।”

ক. বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, কে শ্রেষ্ঠ লেখক?

. “বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা পাঠকের অতিশয় বিরক্তিকর” — বঙ্কিমচন্দ্র কেন একথা বলেছেন?

গ. উদ্দীপকের তানজিনার লেখার সমস্যা “বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন” প্রবন্ধের কোন দিকটির সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।

. “জ্ঞান প্রদর্শন সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়, ভাব-প্রকাশই এর মুখ্য বিষয়।” — উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১০।
নবীন ঔপন্যাসিক রিয়াদ তার উপন্যাসে বিখ্যাত একজন বিদেশি লেখকের গল্পের প্লট, চরিত্র ও কথোপকথনের ধরন প্রায় অবিকল নকল করেছেন। তার যুক্তি, “যেহেতু সেই লেখক বিশ্বখ্যাত, তার অনুকরণ করলে আমার লেখাও পাঠকপছন্দ হবে।” কিন্তু সমালোচকরা তার লেখায় মৌলিকতার অভাব ও শৈল্পিক দৈন্য দেখে সমালোচনা করেন।

ক. “অনুকরণ” সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র কী বলেছেন?

. “যে বিষয়ে যাহার অধিকার নাই, সে বিষয়ে তাহার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য” — কথাটির তাৎপর্য কী?

গ. উদ্দীপকে রিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি “বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন” প্রবন্ধের কোন নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক? ব্যাখ্যা করো।

. “অনুকরণ সৃষ্টিশীলতার শত্রু এবং লেখকের স্বকীয়তার অন্তরায়।” — উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১১।
তরুণ সাংবাদিক ফারিহা একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক বিষয়ে তীক্ষ্ণ প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে চাপের মুখে পড়েন। এক প্রভাবশালী মহল তাকে টাকা ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে লেখাটি পরিবর্তন করতে বলে। কিন্তু ফারিহা মনে করেন, সত্য প্রকাশ করা এবং জনগণকে সচেতন করাই তার দায়িত্ব। তিনি প্রলোভন ও হুমকি উভয়ই উপেক্ষা করে তার প্রতিবেদন অপরিবর্তিত প্রকাশ করেন।

. বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, লেখকের মূল লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?

. “লেখনী ধারণ মহাপাপ” — কোন ক্ষেত্রে লেখনী ধারণকে বঙ্কিমচন্দ্র ‘মহাপাপ’ বলেছেন?

গ. উদ্দীপকের ফারিহার সিদ্ধান্ত “বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন” প্রবন্ধের কোন আদর্শিক দিকটির প্রতিফলন? ব্যাখ্যা করো।

. “সততা ও নৈতিক দায়িত্ববোধই একজন লেখকের শ্রেষ্ঠ অলংকার।” — উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যাচাই করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১২।
সাহিত্য-সমালোচক ড. রহিম তার বক্তৃতায় বলেন, “আজকাল অনেক লেখক তাড়াহুড়ো করে লেখা ছাপানোর জন্য অপরিপক্ক ও ভুলে ভরা রচনা প্রকাশ করছেন। তারা ভুলে যান, একটি ভালো লেখা সময়সাপেক্ষ। শেক্সপিয়ার, রবীন্দ্রনাথ বা শরৎচন্দ্রের মতো লেখকরা বারবার সংশোধন করে তাদের রচনাকে কালজয়ী করে গেছেন।”

ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, লেখার উদ্দেশ্য কী?

. “সাময়িক সাহিত্য, লেখকের পক্ষে অবনতিকর” — বঙ্কিমচন্দ্র কেন এই মন্তব্য করেছেন?

গ. উদ্দীপকে ড. রহিমের বক্তব্য “বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন” প্রবন্ধের কোন পরামর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “শিল্পসৃষ্টি ধৈর্যের কাজ, তাড়াহুড়ো এর শত্রু।” — উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে এই উক্তির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

নিচে বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন সৃজনশীল উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ

Related Posts

Leave a Comment