সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে প্রবেশ করা সময়টির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। এই বয়সে তরুণদের মনে থাকে প্রবল সাহস, উদ্দীপনা ও নতুন কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এই পোস্টে আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] রুবেল ও রাসেল সহপাঠী এবং লেখাপড়ায় বেশ ভালো ছিল। কিন্তু স্কুল জীবন পার হতে না হতেই রুবেল মিশে যায় দুষ্টু প্রকৃতির কিছু ছেলের সাথে। লেখাপড়ার পাঠ তার ঢুকে যায় ওখানেই। তার নাম শুনলে এখন মানুষ আঁতকে উঠে। অপর দিকে রাসেল বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। হাত্রদের যেকোনো ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে; সহপাঠীদের সংগঠিত করে। মিছিলে। নেতৃত্ব দেয়। রাসেল প্রতিজ্ঞা করে জীবন দিয়ে হলেও এ দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আমৃত্যু লড়াই করে যাবে। ক. কোন বয়সে দুঃসাহসেরা উকি দেয়? খ. ‘বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে’- এ কথা দিয়ে সুকান্ত ভট্টাচার্য কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. উদ্দীপকের রুবেলের মাঝে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ঘ. উক্ত দিকটি কি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূলভাব? উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো। |
উত্তরঃ
ক. আঠারো বছর বয়সে দুঃসাহসেরা উঁকি দেয়।
খ. ‘বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে’- এ কথা দিয়ে সুকান্ত ভট্টাচার্য আঠারো বছর বয়সি তরুণদের চলার গতি নির্দেশ করেছেন।
দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণের জন্য তরুণরা সব সময় সাহস নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। তারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বড় বড় বিপদের মুখে দাঁড়ায়। যেমন স্টিমার বাষ্পের শক্তিতে দ্রুত সামনে ছুটে গিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছায়, তেমনি আঠারো বছর বয়সের তরুণরাও তারুণ্যের শক্তি নিয়ে অজানাকে জানার চেষ্টা করে। দেশ ও মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য তারা নির্ভয়ে সংগ্রামে নামে। তাদের এই অগ্রযাত্রা কোনো অপশক্তিই থামিয়ে দিতে পারে না।
গ. উদ্দীপকের রুবেলের মধ্যে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার নেতিবাচক দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
আঠারো বছর বয়সে মানুষের অনুভূতি খুব তীব্র হয় এবং মনও খুব সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এ বয়সে মানুষ ভালো-মন্দ, ঠিক-ভুল, ইতিবাচক ও নেতিবাচক নানা মত ও চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে। তাই এ সময়ের প্রভাব মানুষের মনে গভীরভাবে পড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্কুলজীবন শেষ হওয়ার আগেই রুবেল কিছু খারাপ বন্ধুর সঙ্গে মিশে পড়ে। এর ফলে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং তার ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যও এই বয়সের ভালো ও মন্দ দুই দিকই তুলে ধরেছেন। এই বয়সে তরুণরা নানা চিন্তা, মতবাদ ও পথের মুখোমুখি হয়। তাই কবি এ বয়সকে ভয়ংকর বলেছেন। কারণ এই সময় জীবনে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা জটিলতা আসে। এ সময়ে ভুল পথে গেলে জীবনে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। উদ্দীপকের রুবেলের জীবনে আমরা এই নেতিবাচক প্রভাবটাই স্পষ্টভাবে দেখতে পাই।
ঘ. উক্ত দিকটি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় উল্লিখিত তরুণদের নানা বৈশিষ্ট্যের কেবল একটি রূপ প্রকাশ করায় তা কবিতার মূলভাব নয়।
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি কৈশোর থেকে যৌবনে পা রাখা বয়সটির নানা দিক তুলে ধরেছেন। এই বয়সে তরুণদের মধ্যে যেমন থাকে সাহস, উদ্দীপনা ও নতুন জীবন গড়ার শক্তি, তেমনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
উদ্দীপকের রুবেল শুরুতে পড়াশোনায় ভালো ছিল। পরে সে খারাপ বন্ধুদের সঙ্গে মিশে পড়ে। এর ফলে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং সে মানুষের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে ওঠে। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি এই বয়সে বিপথে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছেন। সচেতন না হলে এ সময়ে পদস্খলন হতে পারে। এই সতর্কবার্তাই কবিতায় আছে। অন্যদিকে সাধনের চরিত্রে এই বয়সের ভালো দিকটি দেখা যায়। সে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়।
এই কবিতায় তারুণ্যের অনেক ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই বয়সে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নানা জটিলতাও থাকে। রুবেলের চরিত্রে শুধু তরুণ বয়সের নেতিবাচক দিকটিই ফুটে উঠেছে। কবিতায় যে ইতিবাচক তারুণ্যের ছবি আঁকা হয়েছে, তা তার মধ্যে দেখা যায় না। তাই বলা যায়, রুবেলের এই দিকটি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূলভাব নয়।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [ঢা. বো. ২০২৪] ‘তরুণ নামের জয়-মুকুট শুধু তাহারই যাহার শক্তি অপরিমেয়, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাফের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে।’ ক. ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত? খ. ‘তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকের ভাবার্থের সাথে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার সাদৃশ্য নির্ণয় করো। ঘ. ‘তারুণ্যই সমাজ বিনির্মাণের চালিকাশক্তি।’- উদ্দীপক এবং ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [ম. বো. ২০২৪] মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম মোরা ঝরনার মতো চঞ্চল মোরা বিধাতার মতো নির্ভয় মোরা প্রকৃতির মতো সচ্ছল মোরা আকাশের মতো বাঁধাহীন মোরা মরু সখ্যার বেদুইন। ক. আঠারো বছর বয়স থরোথরো কাঁপে কীসে? খ. ‘এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।’- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার যে সাদৃশ্য তা ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকটিতে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার আতঙ্ক ও আশঙ্কার কথা ব্যক্ত হয়নি।”- মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [রা. বো. ২০২৪] আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রক্তশপথ নিয়ে এগিয়ে চলাই তারুণ্যের ধর্ম। এ বয়সের ধর্মই হলো মাথা নত না করার শপথে উদ্দীপ্ত হওয়া। জড়তা তাদেরকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। অফুরান প্রাণচঞ্চলতা ও দুঃসাহসিকতা তরুণদের পথচলার শক্তি জোগায়। ক. সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মারা যান? খ. ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার বিষয়বস্তুগত সাদৃশ্য আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় বর্ণিত যৌবনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [কু. বো. ২০২৪] জীবন-আবেগে রুধিতে না পারি যারা উদ্ধত শির লঙ্ঘিতে গেল হিমালয়, গেল শুষিতে সিন্ধু-নীর। নবীন জগৎ সন্ধানে যারা ছুটে মেরু অভিযানে, তবুও থামে না যৌবন বেগ, জীবনের উল্লাসে চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। ক. ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত? খ. ‘দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার’- পঙক্তিটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন? গ. উদ্দীপকে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপক ও ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন কিন্তু মূলভাব অভিন্ন।” মন্তব্যটির তাৎপর্য তুলে ধরো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [চ. বো. ২০২৪] জীবনের আতিশয্যে যাহারা দারুণ উগ্র সুখে সাধ করে নিল গরল-পিয়ালা, বর্শা হানিল বুকে। আষাঢ়ের গিরি-নিঃস্রাব-সম কোনো বাধা মানিল না, বর্বর বলি যাহাদের গালি পাড়িল ক্ষুদ্রমনা, কূপমণ্ডুক ‘অসংযমী’র আখ্যা দিয়াছে যারে, তারি তরে ভাই গান রচে যাই, বন্দনা করি তারে।’ ক. বিরাট দুঃসাহসেরা কখন উকি দেয়? খ.. ‘সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।’- এখানে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপক ও ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার সাদৃশ্যগত দিক আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।”- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [য. বো. ২০২৪] হরিপুর বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে তিনজন সন্ত্রাসী আক্রমণ করে জসিম মাস্টারকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোটরসাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা পালাচ্ছিল। এমন সময় ঘটনাস্থলে এসে পড়ে সাহসী তরুণ সোহরাব। সে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে এবং একজনকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয়। ফিরে এসে দেখে মাস্টার মশায় তখনো মাটিতে লুটিয়ে। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছে না পুলিশি ঝামেলার ভয়ে। সোহরাব কোনোকিছু না ভেবেই মাস্টার মশায়কে নিয়ে যায় মেডিক্যালে। ক. কোন বয়স দুঃসহ? খ. ‘এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে’- এ অংশে কবি কোন দিকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন? গ . উদ্দীপকের সোহরাবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার তারুণ্যের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের তুলনা করো। ঘ. সমাজের দুরবস্থা লাঘবে উদ্দীপকের সোহরাব কতটুকু সহায়ক বলে তুমি মনে করো? ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার আলোকে মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [ব. বো. ২০২৪] আমরা নূতন যৌবনের দূত আমরা চঞ্চল আমরা অদ্ভুত। আমরা বেড়া ভাঙি। আমরা অশোক বনের রাঙা নেশায় রাঙি। ঝঞ্ঝার বন্ধন ছিন্ন করে দেই-আমরা বিদ্যুৎ। আমরা করি ভুল’ অগাধ জলে ঝাঁপ দিয়ে যুঝিয়ে পাই কূল। ক. আঠারো বছর বয়সে কী উঁকি দেয়? খ. ‘এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়’- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের প্রথম তিনটি পত্তি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার সাথে কতটা সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকের ‘আমরা বিদ্যুৎ’ এবং ‘আঠারো বছর বয়স’ এ ‘পথে-প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান’ একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ। আলোচনা করো। |
নিচে আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ
আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর