রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে সমাজে নারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পরিবার ও সমাজে নারীকে দুর্বল ও নির্ভরশীল করে রাখার ফলে তারা নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সচেতন হতে পারে না। এই পোস্টে অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর – একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা লিখে দিলাম।
Table of Contents
অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] রেণু ও রাজু একই পিতা-মাতার সন্তান। কিন্তু তাদের পিতা-মাতা রাজুকে রেণু অপেক্ষা বেশি আদর-যত্ন করে। দুই ভাইবোন খেতে বসলে বড়ো ভাগটা রাজু পায়। রাজু কোনো অপরাধ করলে তাদের পিতা-মাতা বেটা ছেলে বলে আমলে নেয় না। রাজুর জন্য গৃহশিক্ষক থাকলেও রেণুর জন্য তা রাখা হয়নি। রেণু যতই বয়ঃপ্রাপ্ত হচ্ছে পিতা-মাতা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য ততই ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। এতে রেণু আপত্তি করলে তার মা বলেন, মেয়েদের এত লেখাপড়া শিখে কাজ নেই, বরং ঘর-দোর সাজানো গোছানো, সুয়েটার বুনন এবং রান্না করাটা শিখে নিলে তা কাজে আসবে। ক. ‘শমস-উল-ওলামা’ অর্থ কী? খ. ‘স্বামীর’ স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দটি প্রচলিত হওয়ার যৌক্তিকতা বর্ণনা করো। গ. অনুচ্ছেদে রেণুর পরিবারে নারীর যে অবস্থাটি ফুটে উঠেছে তা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ . ‘অনুচ্ছেদে রেণুর মায়ের মনোভাব সমকালীন প্রতিক্রিয়াশীল সমাজের মনোভাবেরই সমান্তরাল।’- মন্তব্যটি ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো। |
উত্তরঃ
ক. ‘শমস-উল-ওলামা’ অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য।
খ. ‘স্বামী’ শব্দের বদলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দ চালু হলে নারীরা নিজেদের দাসী ভাববে না, বরং স্বামীর সমান অংশীদার বলে মনে করবে। এতে তারা মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের মর্যাদা ও গুরুত্ব বুঝতে পারবে।
যেমন শরীরের সব অঙ্গ একসাথে কাজ করলে মানুষ সুস্থ থাকে, তেমনি সমাজে নারী ও পুরুষ একে অপরের সমান। পুরুষ যদি নিজেকে নারীর প্রভু মনে করে, তাহলে সমাজের উন্নতি থেমে যায়। তাই ‘স্বামী’ বা ‘প্রভু’ না বলে ‘অর্ধাঙ্গ’ বলা উচিত। এতে নারী নিজেকে পুরুষের সহচর ও সমান বলে ভাবতে পারবে।
গ. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে পরিবারে মেয়েদের অবহেলিত হওয়ার বাস্তবানুগ চিত্র এঁকেছেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবারের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া দেখিয়েছেন নারীরা সমাজে কতটা বঞ্চনার শিকার। পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষরা সব সুযোগ-সুবিধা পায়, আর নারীর মৌলিক চাহিদা অনেক সময় পূরণ হয় না। নারীকে স্নেহ-ভালোবাসা, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তাদের জীবনের প্রধান গতি হলো বিয়ে।
উদ্দীপকে রেণু ও রাজু একই বাবা-মায়ের সন্তান হলেও মেয়ে রেণু সব জায়গায় বঞ্চিত হয়। পড়াশোনা থেকে শুরু করে স্নেহ-ভালোবাসা সবই কম পাওয়া যায় তার। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বাবা-মা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তারা মনে করেন, মেয়েদের এত পড়াশোনা করার দরকার নেই; তাদের গৃহস্থালির কাজ শেখা উচিত। ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধেও একইভাবে দেখানো হয়েছে যে, সমাজে নারীর অবস্থান পুরুষের তুলনায় অনেক কম। পুরুষরা পার্থিব ও অপার্থিব সব সুযোগ পায়, আর নারীরা তা পায় না।
ঘ. উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে আমাদের সমাজে নারীর প্রতি অবহেলার চিত্র প্রকাশিত হয়েছে যা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেখিয়েছেন আমাদের সমাজে নারীরা কতটা বঞ্চনার শিকার। পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা তাদের অধিকার আদায় করতে পারে না। পরিবারের লোকরাও নারীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করে। এমনকি পরিবারের একজন নারীও অন্য নারীর অধিকার বিষয়ে সচেতন হয় না।
উদ্দীপকে একটি পরিবারের গল্পে রেণু-রাজু ভাইবোনের প্রতি বাবা-মায়ের আচরণ দেখানো হয়েছে। ভাইবোন হলেও মা রাজুকে রেণুর চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। খাবার এবং যত্নেও রাজুকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ছেলে কোনো ভুল করলে তার কোনো শাস্তি হয় না। রাজুর জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হলেও রেণুর জন্য রাখা হয়নি। রেণুর মায়ের মনোভাব প্রকাশ পায় যখন তিনি রেণুকে অপরিণত বয়সে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হন। তিনিও সাধারণের মতো মনে করেন মেয়েদের বেশি পড়াশোনা শেখার দরকার নেই; বরং ঘর ও গৃহস্থালির কাজ শিখলেই মেয়েদের ভবিষ্যতে উপকার হবে।
উদীপকের রেণুর মায়ের মনোভাবের মাধ্যমে পরিবারের নারীর প্রতি অবহেলা দেখানো হয়েছে, যা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের নারীদের বঞ্চনার চিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] শিশির এক মসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। বালিকা বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার খুব শখ থাকলেও সে পারিবারিক শাসন ডিঙিয়ে স্কুলে যেতে পারেনি। মায়ের কাছে সে আরবি বর্ণমালা শিখেছে। এরপর কায়দা শিখে যখনই আমপারা শিখতে শুরু করে তখনই তার বিয়ের প্রস্তাব আসে। তার পিতা-মাতা কালবিলম্ব না করে মেয়ের বিয়ে দেন। ভাগ্যগুণে শিশির ভালো স্বামী পেয়ে যায়। সে স্বামীর সংসারে থেকে নিজের প্রচেষ্টা ও স্বামীর উৎসাহে বিদ্যা অর্জন করে। তাতে সে সমাজে নারীর হীন অবস্থা বুঝতে পারে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সে নারীশিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে তার এলাকার নারীদের শিক্ষিত করে তোলে। ক. ‘অবরোধ প্রথা’ কী? খ. ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে লেখক কোন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাংশটি ব্যবহার করেছেন। বর্ণনা করো। গ. উদ্দীপকে শিশিরের পিতৃ-পরিবারে ব্যস্ত নারীর প্রতি মনোভাব ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. শিশিরের কাজের মধ্যে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের ইচ্ছের কি কোনো প্রতিফলন ঘটেছে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। |
উত্তরঃ
ক. অবরোধ প্রথা হলো অন্তঃপুরে লোকচক্ষুর আড়ালে মেয়েদের আটক রাখার নিয়ম।
খ. সমাজে নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের পার্থক্য নির্দেশ করতেই ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে’।
আমাদের সমাজে পুরুষ ও নারীকে সমানভাবে দেখা হয় না। তাই তাদের জীবনযাপনেও পার্থক্য দেখা যায়। ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতায় নববিবাহিত বর ও কনের সংলাপের মাধ্যমে এই পার্থক্য প্রকাশ পায়। কবিতায় দেখা যায়, কন্যাকে এমন শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে সে স্বামীর ছায়ার মতোই সহচরী হতে পারে।
গ. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে নারীর প্রতি সমাজের যে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন উদ্দীপকের শিশিরের পিতৃতান্ত্রিক পরিবারেও সেই মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে দেখা যায়, সমাজ ও পরিবার নারীর প্রতি অবহেলা করে। এর ফলে কন্যা সন্তান পুরোপুরি বিকশিত হয়ে উঠতে পারে না। প্রবন্ধে বিশেষভাবে নারীর শিক্ষার সমস্যা উঠে এসেছে। সমাজে নারীদের খুব কম শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয় এবং অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।
উদীপকের শিশির মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও স্কুলে যেতে পারেননি। মায়ের কাছ থেকে অল্প বয়সে আরবি শেখার সময় বিয়ে দেওয়া হয়। ফলে শিশির তার পূর্ণ অধিকার নিয়ে বড় হতে পারেনি। তার মানসিক বিকাশও অবরুদ্ধ হয়েছে। ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধেও নারীর সমাজ-বাস্তবতার এই দিকগুলো আলোচিত হয়েছে। প্রাবন্ধিক দেখিয়েছেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ মনে করে মেয়েদের শিক্ষার খুব প্রয়োজন নেই। শুধু প্রাথমিক শিক্ষা, রাঁধা-বোনা শেখা যথেষ্ট। তাই শিশিরের পরিবারের পরিস্থিতি প্রবন্ধে বর্ণিত সমাজের সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত শিশিরের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত নারীদের বঞ্চনার কথা বলেছেন এবং এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নারীদের করণীয়ও নির্দেশ করেছেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা নিজের অধিকার আদায় করতে পারে না। এমনকি পরিবারের একজন নারীও অন্য নারীর অধিকার আদায়ে সচেতন থাকে না। তাই নারীদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
উদীপকের শিশির একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তার স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি, কারণ পরিবার রক্ষণশীল ও পিতৃতান্ত্রিক ছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়ার আগে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। ভাগ্যক্রমে সে ভালো স্বামী পায়, যার উৎসাহে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। পরে সে পশ্চাৎপদ সমাজের নারীদের শিক্ষিত করতে নারীশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে।
রোকেয়ার ইচ্ছার দিকটি শিশিরের মধ্যে প্রকাশ পায়। স্বামীর সহায়তায় সে শিক্ষা অর্জন করে এবং অন্য নারীদের শিক্ষিত করার চেষ্টা করে। শিশিরের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রাবন্ধিক রোকেয়ার ইচ্ছে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই উদ্দীপকের শিশির ও ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের ইচ্ছার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [এস.এস.সি. সকল বোর্ড-২০১০] শেক্সপিয়রের বিস্ময়কর প্রতিভাধর বোনের নাম ডুডিথ। মা-বাবার উৎসাহে শেক্সপিয়র গ্রামের স্কুলে পড়েছিলেন। অনেক মহৎ সাহিত্য যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণের প্রাথমিক পাঠ শিখেছিলেন। বাল্যকালে দুরন্ত শেক্সপিয়র খরগোশ, হরিণ শিকার করতেন। জীবনের এসব অভিজ্ঞতা তাঁরে পরবর্তী জীবনে সাফল্য এনে দেয়। ডুডিথ ভাইয়ের মতোই সাহসী, কল্পনাপ্রবণ এবং বিশ্বজয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু মেয়ে বলে মা তাঁকে স্কুলে পাঠালেন না। লুকিয়ে ভাইয়ের বই পড়তে দেখলে মা বকা দিয়ে রান্না করতে পাঠিয়ে দিতেন। কৈশোরের পূর্বেই তাঁর বাগদান হয়ে গেল। ক. ‘অবলা জাতি’ অর্থ কী খ. ‘অবরোধ প্রথা’ বলতে কী বোঝো? গ. ডুডিথের মায়ের মানসিকতাকে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের ‘মানসিক দাসত্বের’ সঙ্গে কীভাবে তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “ডুডিথের প্রতিভা বিকাশের অন্তরায়সমূহ ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে।”- তোমার মতামত দাও। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। রহিম ভালোবেসে বিয়ে করেছে মনিকাকে। কিন্তু রহিম মনিকাকে কোনো রকম স্বাধীনতা দিতে নারাজ। রহিম তার স্বামিত্বের এলো আনা মনিকার উপর চাপিয়ে দিতে চায়। স্ত্রীকে সে ঘরের বাইরে বের করতে চায় না। তাই মনিকার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সে চাকরি রতে পারে না। পাঁচ বছর যাবৎ সে রান্নাবান্না ঘরকন্না নিয়েই জীবন অতিবাহিত করছে। আজ সে পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে বুঝতে শিখেছে-বৈনটাকে শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সে তার স্বামীর কাছে চাকরি করার কথা বলে। সে স্বামীকে বোঝায় তরুলতা যেমন বৃষ্টির হোয্য প্রার্থী, মেঘও সেইরূপ তরুর সাহায্য চায়। তবেই না সংসারের যথার্থ সুখ। ক. এফএ বর্তমানে কোন শ্রেণি? খ . ‘মাতৃ-হৃদয়ে পক্ষপাতিতা নাই।’- উক্তিটি বুঝিয়ে দাও। গ. মনিকার জীবনচিত্রের সাথে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের সাদৃশ্য দেখাও। ঘ. ‘তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্যপ্রার্থী, মেঘও সেইরূপ তরুর সাহায্য চায়।’- কথাটি ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। হাসনা গরিবের মেয়ে। তার বাবা অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করে সংসার চালায়। হাসনা স্কুলে যায়। পড়াশোনার প্রতি তার প্রচন্ড আগ্রহ। কিন্তু তার বাবা তাকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে। পড়ার খরচ জোগানের মতো আর্থিক সচ্ছলতা হাসনার বাবার নেই। তবু হাসনা হতাশ হয় না। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, যেকোনো মূল্যেই সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। তাকে বড়ো হতে হবে। বাবার দারিদ্রদ্র্য সে দূর করবে। ক. ‘স্বামী’র স্থলে কোন শব্দ প্রচলিত হবে? খ. ‘শমস-উল-ওলামা’ বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. হাসনা চরিত্রে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? আলোচনা করো। ঘ . ‘যেকোনো মূল্যেই সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে।’- উক্তিটির মধ্যে হাসনার যে দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছে, ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। করিমের বান্ধবী মালতী। তারা একসঙ্গে বিএ শ্রেণিতে পড়ে। একদিন কথা প্রসঙ্গে তারা নারী-পুরুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক শুরু করে। করিম পুরুষ তাই নারীর বিপক্ষে মতবাদ পোষণ করে বলে, সর্বক্ষেত্রে নারীকে এতটা স্বাধীনতা দেওয়া এবং রাষ্ট্রয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো উচিত নয়। কিন্তু মালতী করিমের কথার বিরোধিতা করে বলে, নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনে সমাজের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। কেননা মানুষের যদি শুধু ডান হাত থাকে বাম হাত না থাকে, তাহলে যেমন মানুষটির পক্ষে উন্নয়নমূলক কাজে ভালোভাবে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়, তেমনই নারীকে বাদ দিয়ে সমাজ ও সংসারে উন্নয়ন আসতে পারে না।’ ক. সীতার স্বামীর নাম কী? খ. পুরুষরা নারীর প্রতি উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করে না কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের মালতীর প্রদত্ত মন্তব্যটি নারীদের সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার শিক্ষা দেয়।’- প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যয়ন করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মালতীর মন্তব্যটি ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। কন্যাকে পুত্রের মতোই শিক্ষা দেওয়া যে আমাদের ধর্মের আদেশ, তাহা মনেও করিতে পারি না। আমাদের কন্যা-জায়া-জননীদের শুধু অবরোধের অন্ধকারে রাখিয়াই ক্ষান্ত হই নাই, অশিক্ষার গভীরতর কূপে ফেলিয়া হতভাগিনীদের চিরবন্দিনী করিয়া রাখিয়াছি। আমাদের শত শত বর্ষের এই অত্যাচারে ইহাদের দেহ-মন এমনই পঙ্গু হইয়া গিয়াছে যে, ছাড়িয়া দিলে ইহারাই সর্বপ্রথম বাহিরে আসিতে আপতি করিবে। ইহাদের কীসের দুঃখ, কীসের যে অভাব, তাহা চিন্তা করিবার শক্তি পর্যন্ত ইহাদের উঠিয়া গিয়াছে। ক. কলম্বস কোন দেশের নাবিক? খ. ‘প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নাই।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। গ. ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের সঙ্গে উদ্দীপকের বক্তব্য কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. ‘নারীশিক্ষার উন্নতিকল্পে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আবশ্যক।’- উদ্দীপক ও ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। এ দেশের অবহেলিত নারীসমাজ,শিক্ষার সুফল থেকে বঞ্চিত। তাই তারা নানা নির্যাতনের, যেমন- যৌতুক প্রথা, অধিক সন্তানের জন্মদান, ধর্মীয় কুসংস্কার ও গ্রামীণ বিচার-আচারের শিকার হয়। শিক্ষাই তাদের অবস্থার উন্নতি সাধন করতে পারে। শিক্ষিত নারী বৃদ্ধি, সংস্কৃতির চর্চাসহ স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জনের পথ বেছে নিতে পারে। বস্তুত নারী বৃহত্তর সমাজের অর্ধেক অংশ। ক. ‘বোধোদয়’ কে রচনা করেন? খ . নারীর ‘মানসিক দাসত্ব’ বলতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কী বুঝিয়েছেন? গ . উদ্দীপকে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবৃন্ধের কোন দিকটি উঠে এসেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত নারীর সামাজিক অবস্থা ও ‘অর্থাণী’ প্রবেনন্ধ বণিত নারীর সামাজিক অবস্থার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো। |
নিচে অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ
আরও পড়ুনঃ বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির