সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সোনার তরী কবিতায় দেখা যায়, একা এক কৃষক নদীর ধারে নিজের ছোট্ট খেতে দাঁড়িয়ে সোনালি ধান কাটছে। চারদিকে নিস্তব্ধতা আর অনিশ্চয়তা। এই পোস্টে সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
মাদার তেরেসা অকৃত্রিম মাতৃস্নেহের আধার ছিলেন। আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত এ নারী তাঁর কাজের জন্য সারা পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৯৫০ সালে তিনি কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটি নামে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এই চ্যারিটি হোম সমগ্র পৃথিবীর দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জন্য আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। এই কাজের জন্য ১৯৭৯ সালে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেই পুরস্কারের সমস্ত অর্থ তিনি সেবার কাজে ব্যয় করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু পৃথিবীর মানুষ আজও তাঁর নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

ক. বাংলা কত তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন?

খ. ‘বাঁকা জল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন বিষয়টি মাদার তেরেসার জীবনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “মাদার তেরেসার জীবন পরিণতিই ‘সোনার তরী’ কবিতার মূল উপজীব্য।”- মন্তব্যটি সঠিক কিনা বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ

ক. ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন।

খ. ‘বাঁকা জল’ বলতে ভরা বর্ষায় নদীর জলের ভয়ংকর রূপ ধারণের বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।

কবিতায় দেখা যায়, একা এক কৃষক নদীর ধারে নিজের খেতে সোনালি ধান কাটছে। চারদিকে আকাশে কালো মেঘ জমে উঠেছে এবং গর্জন শোনা যাচ্ছে। বর্ষার পানিতে ভরা নদীর স্রোত খুব ভয়ংকরভাবে বয়ে চলেছে। সেই নদীর বাঁকা জল ধীরে ধীরে ছোট্ট খেতটাকে গ্রাস করে নিচ্ছে। এভাবে কবিতায় ‘বাঁকা জল’ শব্দের মাধ্যমে প্রকৃতির রুক্ষ ও ভয়াল রূপ বোঝানো হয়েছে। আবার ‘বাঁকা জল’ এখানে অনন্ত সময়ের প্রবাহের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।

গ. ‘সোনার তরী’ কবিতায় উল্লিখিত ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুর বিপরীতে কর্মের অমরতার প্রসঙ্গটি উদ্দীপকের মাদার তেরেসার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি জীবনের একটি গভীর সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, সময় বা মহাকাল মানুষের শরীরকে ধরে রাখে না, কিন্তু মানুষের ভালো ও মহৎ কাজকে মনে রাখে। মানুষ একদিন মারা যায়, কিন্তু তার সৃষ্টিশীল ও কল্যাণকর কাজ বেঁচে থাকে। কবিতায় কৃষক চরিত্রের মাধ্যমে কবি এই সত্যটাই বোঝাতে চেয়েছেন। ব্যক্তিমানুষ নশ্বর হলেও তার কর্ম অমর।

উদ্দীপকে মাদার তেরেসা ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ মানবসেবী। ১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’ নামে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি পরে সারা বিশ্বের দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবায় কাজ করে খ্যাতি অর্জন করে। এই মহৎ কাজের জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। তবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার ছিল মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আজও মানুষ তাঁকে স্মরণ করে। ‘সোনার তরী’ কবিতাতেও বলা হয়েছে, মানুষ মারা গেলেও তার ভালো কাজ কখনো মরে না। এই দিক থেকে মাদার তেরেসার জীবন ও কর্ম কবিতার ভাবের সঙ্গে পুরোপুরি মিল আছে।

ঘ. মাদার তেরেসার জীবন পরিণতি তথা মৃত্যু এবং তাঁর সুকৃতিময় কর্মের টিকে থাকার দিকটি ‘সোনার তরী’ কবিতার ভাবসত্যকেই প্রমাণ করে।

‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি মানুষের জীবনের শেষ পরিণতির কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের জীবনে ভালো কাজের গুরুত্ব কত বড়। কবির মতে, মানুষ শুধু বয়স দিয়ে বাঁচে না, বাঁচে তার ভালো ও বিশেষ কাজের মাধ্যমে।

উদ্দীপকের মাদার তেরেসা আজও বেঁচে আছেন তাঁর কাজের জন্য। তিনি সারা জীবন মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’ নামে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, তা গরিব, অনাথ, অসুস্থ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবায় অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে।

‘সোনার তরী’ একটি রূপক কবিতা। এখানে ধান কেটে অপেক্ষা করা এক কৃষকের বাস্তব জীবনের ঘটনার ভেতর দিয়ে কবি গভীর ভাব প্রকাশ করেছেন। মানুষ মারা গেলেও তার ভালো কাজ কখনো মরে না। মানুষের কাজই তাকে স্মরণীয় করে তোলে। মাদার তেরেসার জীবন তার বড় উদাহরণ। তাঁর শরীর নেই, কিন্তু তাঁর কাজ আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। তাই বলা যায়, মৃত্যু ও কর্মের অমরতা সম্পর্কে যে কথা ‘সোনার তরী’ কবিতায় বলা হয়েছে, মাদার তেরেসার জীবন তার সঙ্গে পুরোপুরি মিলেছে। এই কারণে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [দি. বো. ২০২৪]
এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনই ঠিক রবে,
সুন্দর এ পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে।
তোমার টাকা কড়ি সুন্দর বাড়ি সবই পড়ে রবে,
তোমার কর্মসাধন সৃজন পূজন তোমায় স্মরণ নেবে
তুমি আর থাকবে না এই জনাকীর্ণ ভবে।

ক. ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

খ. ‘চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা’- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন ভাবের প্রকাশ ঘটেছে? আলোচনা করো।

ঘ. “ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই- ছোটো সে তরী”- “”সোনার তরী’ কবিতার উক্ত চরণ ও উদ্দীপকের ভাবসত্য অভিন্ন।”- বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [ঢা. বো. ২০২৩]
নানা: আমার বন্ধু বিদ্যানন্দ এ বিখ্যাত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সমাজের অনেকেই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে তখন ভালো চোখে দেখেননি; সহযোগিতাও করেননি। তবে তিনি দমে যাননি, তিলে তিলে গড়ে তোলেন এ বিদ্যালয়টি। কিন্তু সুনামের সবটুকু সম্মান তাঁর কপালে জুটল না।
নাতি: তিনি কোথায়?
নানা: তিনি নেই। অথচ তাঁর কর্ম পথ পেয়েছে তাঁরই অবর্তমানে আমাদের মাঝে।
নাতি: কী নিষ্ঠুর পৃথিবীর নিয়ম।

ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা?

খ. ‘কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।’ কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?

গ. উদ্দীপকের বিদ্যানন্দ ‘সোনার তরী’ কবিতার কার সঙ্গে, কীভাবে সম্পর্কিত?

ঘ. ‘তাঁর কর্ম পথ পেয়েছে তাঁরই অবর্তমানে আমাদের মাঝে।’- উদ্দীপকের এ উক্তির আলোকে ‘সোনার তরী’ কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [য. বো. ২০২৩]
‘আমায় নহে গো, ভালোবাসো শুধু, ভালোবাসো মোর গান।
বনের পাখিরে কে চিনে রাখে গান হলে অবসান।
চাঁদেরে কে চায়, জোছনা সবাই যাচে
গীত-শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি-মাঝে।’

ক. ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

খ. ‘আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের গান ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকটিতে ‘সোনার তরী’ কবিতার মূলভাব ফুটে উঠেছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [ম. বো. ২০২৩]
মাদার তেরেসা অকৃত্রিম মাতৃস্নেহের আধার ছিলেন। আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত হয়েও তিনি তাঁর কাজের জন্য সারা পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৯৫০ সালে তিনি কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটি হোমে সমগ্র পৃথিবীর দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জন্য কাজ করেন। এই কাজের জন্য ১৯৭৯ সালে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেই পুরস্কারের সমস্ত অর্থ তিনি সেবার কাজে ব্যয় করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মারা যান। কিন্তু পৃথিবীর মানুষ আজও তাঁর নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

ক. ‘সোনার ধান’ কীসের প্রতীক?

খ. ‘সোনার তরী’ কবিতায় কবির যে জীবনদর্শনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা আলোচনা করো।

গ. ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন বিষয়টি মাদার তেরেসার জীবনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “মাদার তেরেসার জীবনের পরিণতিই ‘সোনার তরী’ কবিতার মূল উপজীব্য।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [রা. বো. ২০২৩]
আমায় নহে গো, ভালোবাসো শুধু, ভালোবাসো মোরগান।
বনের পাখিরে কে চিনে রাখে গান হলে অবসান।
চাঁদেরে কে চায়, জোছনা সবাই যাচে গীত-
শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি- মাঝে।

ক. চারি দিকে বাঁকা জল কী করছে?

খ. ‘যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।’- ব্যাখ্যা করো।

গ. ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের সঙ্গে উদ্দীপকের বনের পাখির তুলনামূলক আলোচনা করো।

ঘ. ‘সোনার তরী’ কবিতার মূল বক্তব্য উদ্দীপকের শেষ চরণের মধ্যে নিহিত।”- তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [দি. বো. ২০২৩]
‘আমায় নহে গো,
ভালোবাসো শুধু, ভালোবাসো মোর গান
বনের পাখিরে কে চিনে রাখে
গান হলে অবসান।
…………………………….
চাঁদেরে কে চায়, জোছনা সবাই যাচে
গীত-শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি-মাঝে।
তুমি বুঝিবে না, বুঝিবে না, বুঝিবে না
আলো দিতে কত পোড়ে কত প্রদীপের প্রাণ।
ভালোবাসো মোর গান।’

ক. ‘সোনার তরী’ কবিতায় কোন ঋতুর কথা বলা হয়েছে?

খ. ‘দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।’- চরণটি বুঝিয়ে লেখো।

গ. উদ্দীপকের প্রথমাংশের ভাববস্তু ‘সোনার তরী’ কবিতার সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘সোনার তরী’ কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণ ধারণ করে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [চ. বো. ২০২৩]
মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন বাঙালি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তিত্ব। নিজের ঐকান্তিক চেষ্টায় বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হন। কিন্তু নিজে কৃষ্ণসাধন করে জনহিতকর কাজে লিপ্ত হন। তিনি শিক্ষাবিস্তারের জন্য টোল, পাঠশালা, গ্রন্থাগার, হোস্টেল, নারী শিক্ষার জন্য বিদ্যা নিকেতন, ছাত্রীনিবাস এবং দরিদ্রের জন্য আশ্রম, ধর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আজও সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

ক. ‘সোনার তরী’ কবিতায় কোন মাসের উল্লেখ রয়েছে?

খ. ‘চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।’- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের ব্যক্তিজীবনের মধ্য দিয়ে ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? আলোচনা করো।

ঘ. ‘মানুষ বাঁচে কর্মের মধ্যে।’- উদ্দীপক ও ‘সোনার তরী’ কবিতার আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

নিচে সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ

আরও পড়ুনঃ বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

Related Posts

Leave a Comment