সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের গভীর শোকের প্রতিফলন দেখা যায়। এই বিয়োগের পর কবির জীবন যেমন বিষণ্ণ হয়ে ওঠে, তেমনি তাঁর কবিতাতেও সেই দুঃখ ও একাকিত্বের ছায়া পড়ে। এই পোস্টে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] যারে খুব বেসেছিনু ভালো সে মোরে ছেড়ে চলে গেল যে ছিল মোর জীবন ছায়া রেখে গেছে শুধু মায়া। লাগে না ভালো অপরূপ প্রকৃতি যতই করুক কেউ মিনতি আমি এখন রিক্ত শূন্য মন পড়ে রয়েছে তার জন্য সে দিলো মোরে কেমনে ফাঁকি আমি এখন বড়ো একাকী। ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? খ. ‘উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?’- উক্তিটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সুরকে প্রকাশ করতে পারেনি।”- উক্তিটি কতখানি সঠিক? বিশ্লেষণ করো। |
উত্তরঃ
ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
খ. ‘উপেক্ষায় ঝতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?’- উক্তিটি দ্বারা কবিভক্ত কবির কাছে ঋতুরাজ বসন্তকে উপেক্ষা করে ব্যথা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
প্রকৃতিতে বসন্ত এলে ও, কবিভক্ত লক্ষ্য করেন, তাঁর প্রিয় কবি বসন্তের কাব্য লিখছেন না। এতে কবিভক্ত ব্যথিত ও হতাশ হয়ে কবিকে নানা প্রশ্ন করেন এবং কারণ জানতে চায়। প্রশ্নোল্লিখিত উক্তির মাধ্যমে কবিভক্ত বসন্তকে উপেক্ষা করার কারণ জানতে কৌতূহলী হয়ে কবিকে প্রশ্ন তুলেছেন।
গ. উদ্দীপকে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় উল্লিখিত প্রিয়জন বিচ্ছেদের বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের গভীর দুঃখের প্রভাব দেখা যায়। কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন হঠাৎ মারা যাওয়ায় তাঁর জীবনে নেমে আসে চরম শূন্যতা। এই ঘটনার পর কবির জীবন ও কবিতা দুটোই বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সেই গভীর বেদনা ও একাকিত্বই কবিতার পঙ্ক্তিগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও প্রিয় মানুষ হারানোর কষ্ট ফুটে উঠেছে। কবি যাঁকে খুব ভালোবাসতেন, তিনি চলে যাওয়ায় জীবন তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে। চারপাশের সবকিছুতেই তিনি শূন্যতা অনুভব করেন। একই অনুভূতি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাতেও দেখা যায়। অর্থাৎ প্রিয় মানুষ হারানোর গভীর দুঃখই উদ্দীপকের কবিতাংশ ও আলোচ্য কবিতার মূল অনুভূতি।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সুরকে প্রকাশ করতে পারেনি”- মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
প্রিয় মানুষ যদি হঠাৎ করে মারা যায়, তাহলে জীবনের সব অর্থ যেন হারিয়ে যায়। চারপাশে নেমে আসে গভীর দুঃখ। যেসব জিনিস একসময় আনন্দ দিত, সেগুলোও তখন কষ্টের মনে হয়। প্রিয়জন হারানোর এই গভীর শোকই ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মূল বিষয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবির শোকের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। কবি যাঁকে খুব ভালোবাসতেন, তিনি কবিকে ছেড়ে চলে গেছেন। তাই সুন্দর প্রকৃতিও কবির কাছে আর ভালো লাগে না। সবকিছুই তাঁর কাছে ফাঁকা মনে হয়। কবি নিজেকে খুব একা মনে করেন। একইভাবে, আলোচ্য কবিতাতেও শীতের স্মৃতি মনে পড়ে থাকায় কবি বসন্তকে ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন না।
প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা মানুষের মনে কত গভীর ক্ষত তৈরি করে, তা উদ্দীপক ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় স্পষ্ট। উভয় জায়গাতেই বিচ্ছেদের কষ্ট এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মনের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [ঢা. বো. ২০২৪] ঈশিতা বাংলা বিভাগের উচ্ছল প্রাণবন্ত মেয়ে। আড্ডার আসরকে সে মাতিয়ে রাখে। বাংলা বিভাগ প্রতিবারের মতো এবারও বসন্ত উৎসব পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। ঈশিতা বরাবরই এই ধরনের আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। উৎসবের দিন রূপময় প্রকৃতির নান্দনিকতা ও উৎসব প্রাঙ্গণের বর্ণিল বিন্যাস একাকার হয়ে অভূতপূর্ব আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এই কোলাহলমুখর আনন্দঘন পরিবেশে প্রাণবন্ত ঈশিতা যেন প্রাণহীন, ছন্দহীন, গম্ভীর ও বিষণ্ণ। জানা গেল, তিন বছর আগে হারানো মায়ের স্মৃতিই আজ তার অন্তরকে বেদনাচ্ছন্ন করে রেখেছে। ক. গঠনরীতির দিক থেকে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কোন ধরনের কবিতা? খ. ‘পুষ্পারতি লভেনি কি ঋতুর রাজন?’- কবিতার এই চরণটির অর্থ বুঝিয়ে দাও। গ. উদ্দীপকের ঈশিতা ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবিসত্তার ঐক্য নির্ণয় করো। ঘ. “উদ্দীপক ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় একই জীবন-সত্যের পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়েছে।”- বিচার করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [ম. বো. ২০২৪] পাথরের টুকরোর মতন ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে বছর তিনেক আগে কাক-ডাকা গ্রীযোর দুপুরে। ক. ‘পুষ্পারতি’ কী? খ. কবির উদাসীনতা নিয়ে কবি-ভক্ত প্রশ্ন করেছেন কেন? গ. উদ্দীপকের ঋতুটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার যে ঋতুকে স্মরণ করিয়ে দেয় তা ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপক ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় ব্যস্তিজীবনের ঘটনার ছায়াপাত থাকলেও অনুষঙ্গা আলাদা।”- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [কু. বো. ২০২৪] ভুলিতে পারি না তারে ভোলা যায় না বারে বারে মনে পড়ে কেন জানি না। ভেবে ভেবে ভোর হয়। স্মৃতি শুধু কথা কয় আঁধারেতে বসে থেকে আঁখি জলে ভিজে রয় যত ভাবি ভুলে যাব মন বোঝে না বারে বারে মনে পড়ে কেন জানি না। ক: ‘অলখ’ শব্দের অর্থ কী? খ. ‘কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের মূলবক্তব্যের সাথে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের পর্যালোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার ভাব কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [ব. বো. ২০২৪] ঋতু পরিক্রমায় দেখা যায় নানা বৈচিত্র্য। যা উপভোগের বিষয়। এমন উপভোগ সমানভাবে সবার গ্রহণ করার সৌভাগ্য হয় না। কারণ ব্যক্তিজীবন সবার সবসময় সমান যায় না। কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ- যা একান্তই ক্রিয়াশীল। ক. অর্ঘ্য বিরচন কী? খ. মাঘের সন্ন্যাসী বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সাথে উদ্দীপকের যে সাদৃশ্য পাওয়া যায়, তা বর্ণনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের মূলভাব ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার আংশিক বা খণ্ডাংশ মাত্র।”- বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [ঢা. বো. ২০২৩] পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রস্তাবনা, পরিকল্পনা, প্রযোজনা ও কর্মপন্থা নির্ধারণে পাঁচ মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করে আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করে রেখেছে রতন। বন্ধুদের মিলনমেলা আয়োজন তার জন্য যেমন কষ্টসাধ্য কাজ ছিল, তেমনি এতে স্বপ্ন পূরণের আনন্দও ছিল অফুরান। অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো ভাবনা, উত্তেজনা বা উচ্ছ্বাস নেই আজ তার মনে। কারণ, অনুষ্ঠানের আগেই তার মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। মা যেন দূর আকাশে মুখ রেখে বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক. ‘ফুটেছে কি আমের মুকুল?’- উক্তিটি কার? খ. ‘যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।’- কীভাবে? গ. উদ্দীপকের রতনের সঙ্গে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির মিল কোথায়? যুক্তি দাও। ঘ. ‘প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা আমাদের আনন্দ-আয়োজনের গতি ভিন্ন পথে ধাবিত করতে পারে।’- ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতা উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [কু. বো. ২০২৩] (i) তোমাকে যে ভালোবাসি এ কথা বাতাসেও জেনেছে এই বার্তা মুখে করে প্রভাময়ী আলো নিয়ে যায় আমাদের প্রেমের রূপে নীলবর্ণ আকাশ টাঙায় দিকে দিকে জাগে ভোর, বনভূমে পাখিরা সেজেছে। (ii) তুমি চলে গেছ কত যুগ কত বছর? এই মাত্র সমুখে ছিলে, পাত্রে জল কাঁপছে এখনো যেন কোনো এক স্বপ্নঘেরা বাগানে লুকানো তোমার প্রেমের রূপ, প্রতিশ্রুতি, মিথ্যের শব্দবহর। ক. ‘অর্ঘ্য’ শব্দের অর্থ কী? খ. ‘ডেকেছে কি সে আমারে? শুনি নাই রাখি নি সন্ধান।’- কবির এই উদাসীনতার প্রকৃত কারণ কী? গ. উদ্দীপকের (ii) অংশের সঙ্গে সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সাদৃশ্য বিচার করো। ঘ. “উদ্দীপক দুটি যেন ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মূলকথা।” মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতা অবলম্বনে বিচার। করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [চ. বো. ২০২৩] রত্নার সন্তানটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ‘অটিস্টিক’। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর সে গার্মেন্টস-এ কাজ নেয়। রত্নার মা ছেলের দেখাশোনা করে। হঠাৎ একদিন রত্নার বাকশক্তিহীন ছেলেটি কোথাও চলে যায়। পাগলপ্রায় রত্না সবকিছু ছেড়ে তার হারানো ছেলেকে খুঁজে চলেছে। ক. সুফিয়া কামালের পৈতৃক নিবাস কোথায়? খ. এ বসন্তে কবির পুষ্পসাজ না থাকার কারণ কী? গ. উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতার ভাবগত সাদৃশ্য তুলে ধরো। ঘ. ‘প্রিয়জন হারানোর বেদনা কবিতা এবং উদ্দীপকে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত।’- তোমার মত দাও। |
নিচে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ
আরও পড়ুনঃ পদ্মা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর