শামসুর রাহমানের ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত। এই কবিতায় দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামের চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই পোস্টে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] আহা ডিসেম্বর। একটা তর্কাতীত মাস! মুক্তিযুদ্ধের কবিতা লিখতে হবে কেননা ডিসেম্বর একটা অর্থপূর্ণ মাস। কেননা এই মাসে ধু-ধু আকাশের নিচে বধ্যভূমিগুলো চিৎকার করতে থাকে মানুষ ও শিয়ালের সম্মিলিত কণ্ঠে- কান্নার রোল পড়ে যায় ধরণিতে। ক. শহরের পথে কোন ফুল ফুটেছে? খ. কবি ‘ঘাতকের আস্তানা’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার মূলভাবের সাদৃশ্য কীসে ব্যাখ্যা করো। ঘ. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার সাথে উদ্দীপকের কবিতাংশের ভাবগত ঐক্য থাকলেও রাজনৈতিক পটভূমি ভিন্ন।’- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো। |
উত্তরঃ
ক. শহরের পথে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটেছে।
খ. ‘ঘাতকের আস্তানা’ বলতে স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পরাধীন বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে।
এখানে ঘাতক বলতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে, আর তাদের আস্তানা বলা হয়েছে পরাধীন বাংলাদেশকে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই বাঙালিরা নানা ধরনের শাসন ও শোষণের শিকার হয়। পাকিস্তানি শাসকেরা এ দেশের মানুষের উপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে নির্যাতন চালাতে থাকে। এই নিষ্ঠুর ও ঘাতকের মতো আচরণের কারণেই কবি পরাধীন বাংলাদেশকে ঘাতকের আস্তানা বলেছেন।
গ. উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বাঙালির ন্যায্য দাবির বিপরীতে ডিসেম্বর মাসে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা করার এবং নির্দিষ্ট মাসকে কেন্দ্র করে কবিতা লিখতে চাওয়ার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
’ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, ১৯৫২ সালের রক্তঝরা ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়। এই কবিতায় ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ এবং ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘটিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিগত নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গ্রাম, হাটবাজার, কলকারখানা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানুষ ঢাকার রাজপথে নেমে আসে।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পরাজয় নিশ্চিত জেনে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যার কথা বলা হয়েছে, যা ঘটেছিল ডিসেম্বর মাসে। এই মাসটি বাঙালির কাছে গভীর অর্থবহ। তাই উদ্দীপকের কবি ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কবিতা লিখতে চান। কারণ, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করলে বধ্যভূমিগুলো যেন কেঁদে ওঠে, আর সেই শোক মানুষ ও শিয়ালের আর্তনাদে প্রকাশ পায়। এই দিক থেকে উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার মূলভাবের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের পেক্ষাপটে আর উদ্দীপকের কবিতাংশটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত হওয়ায় উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে কবিতার ভাবগত ঐক্য থাকলেও রাজনৈতিক পটভূমি ভিন্ন।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে লেখা। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এ দেশের তরুণরা রক্ত দিয়েছে। এরপর ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকদের জাতিগত শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গ্রাম, হাটবাজার, কলকারখানা থেকে মানুষ ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেয়।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ডিসেম্বর মাসের কথা বলা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পরাজয় বুঝে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। তাই উদ্দীপকের কবি এই মাসকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের কবিতা লিখতে চান। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করলে বধ্যভূমি যেন কেঁদে ওঠে, মানুষ ও শিয়ালের কান্না এক হয়ে যায়।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি মূলত পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়, শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালির বিদ্রোহী চেতনার দলিল। অন্যদিকে উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনা। তাই বলা যায়, ভাবের দিক থেকে মিল থাকলেও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতা ও উদ্দীপকের রাজনৈতিক পটভূমি এক নয়।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [কু. বো. ২০২৪] শাবাশ বাংলাদেশ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় জ্বলে পুড়ে মরে ছাড়খার তবু মাথা নোয়াবার নয়। ক. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে? খ. ‘চতুর্দিকে মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ’- রাক্যটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘ফেব্রুয়ারির ১৯৬৯’ কবিতার মূল বক্তব্যের সাদৃশ্য তুলে ধরো। ঘ. “উদ্দীপকটি ‘ফেব্রায়ারি ১৯৬৯’ কবিতার মর্মার্থ আংশিক ধারণ করেছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [চ. বো. ২০২৪] ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলার অস্ত্র বৃষ্টি ঝরে, বৃষ্টি কোথায় বরকতেরই রক্ত। ক. শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে? খ. ‘সালামের মুখ আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকটিতে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার কোন প্রসঙ্গটি প্রকাশ পেয়েছে? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকটি ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র।”- উক্তিটির পক্ষে তোমার যুক্তি দাও। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [য. বো. ২০২৪] লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছিল অনেক নারী-পুরুষ। দেশমাতৃকার জন্য যাঁরা অকাতরে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকেরই রয়েছে এক একটি বিজয়গাথা। দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিজয়গাথার চেতনায়-ই যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের বিজয়কেতন অনন্ত অক্ষয় রাখবে। ক. কার চোখে আলোচিত ঢাকা? খ. ‘সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ।’- কীভাবে? গ. উদ্দীপকের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কাদের তুলনা করা হয়েছে? বিশ্লেষণ করো। ঘ. “উদ্দীপক ও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি একই চেতনায় সমুজ্জ্বল।”- আলোচনা করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [ম. বো. ২০২৩] শহিদের পুণ্য রক্তে সাত কোটি বাঙালির প্রাণের আবেগ আজ পুষ্পিত সৌরভ। বাংলার নগর, বন্দর গঞ্জ, বাষট্টি হাজার গ্রাম ধ্বংসস্তূপ থেকে সাত কোটি ফুল হয়ে ফোটে। প্রাণময় মহৎ কবিতা আর কোথাও দেখি না এর চেয়ে। ক. ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে কে? খ. ‘নক্ষত্রের মতো ঝরে অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা’- বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. উদ্দীপকটির সঙ্গে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার কোন চেতনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকের ভাবনা ও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার কবির চেতনা একসূত্রে গাঁথা”। মন্তব্যটি যাচাই করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [রা. বো. ২০২৩] প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথেই রুমার নজর পড়ে আমগাছটির দিকে। ওদিকে তাকাতেই তার মনে পড়ে তার প্রতিবাদী বুবুর কথা। কেননা ওই গাছটিতেই বুবু রীণার গলায় দড়ি দেওয়া লাশ পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকটা বখাটে যুবক তাকে প্রায়ই বিরক্ত করত। তাই একদিন সে প্রতিবাদ করেছিল এবং জুতা দেখিয়েছিল। সেই কারণে পরের দিনই তার প্রতিবাদী বুবু রীণার লাশ ওই গাছটাতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ক. শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে? খ. ‘সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ,’- বুঝিয়ে দাও। গ. উদ্দীপকের চেতনা ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার কোন বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের রীণা আর ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার শহিদেরা একই প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীক।”- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [দি. বো. ২০২৩] সুন্দর সকাল। কূজনে মুখরিত চারপাশ। আকাশটা যেন আজ ধূপছায়া শাড়িতে নিজেকে জড়িয়েছে। এমনি মনোরম নৈসর্গিক। নান্দনিকতা ভেদ করে চিৎকার করে উঠল ভিনদেশি যন্ত্রদানব। ফুটল গুলি। ঝরল রক্ত! বিনিময়ে বায়ান্নতে আমরা পেলাম কথা বলবার অধিকার। চুয়ান্ন, ছেষট্টি, উনসত্তর পেরিয়ে একাত্তরে আমরা পেলাম লাল-সবুজের পতাকা, পবিত্র মানচিত্র আর প্রিয় স্বদেশ। ক. শহরের পথে কী ফুটেছে? খ. ‘অবিনাশী বর্ণমালা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকটি ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার সঙ্গে কোন কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? তুলে ধরো। ঘ. “উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার পূর্ণ অনুরণন ঘটেনি।”- মন্তব্যটি যথাযথ কি না নির্ণয় করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [কু. বো. ২০২২] “কপালে কব্জিতে লাল সালু বেঁধে এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক, লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলা কৃষক হাতের মুঠোয় মৃত্যু চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, করুণ কেরানি, নারী, বৃদ্ধ, ভরঘুরে আর তোমাদের মতো শিশু পাতা কুড়ানির দল বেঁধে।” ক. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা? খ. ‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গ. উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার বক্তব্যের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার খন্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে।”-মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো। |
নিচে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ
আরও পড়ুনঃ আঠারো বছর বয়স কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর