‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবি বাঙালির দীর্ঘদিনের পরাধীনতা ও সেই শৃঙ্খল ভাঙার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। নানা প্রতীক ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে তিনি শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এই পোস্টে আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি মোরা নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি মোরা নতুন একটি গানের জন্য যুদ্ধ করি মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি মোরা সারা বিশ্বের শান্তি বাঁচাতে আজকে লড়ি ক. প্রবহমান নদী কাকে ভাসিয়ে রাখে? খ. ‘ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. ‘উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথা’ সাথে উদ্দীপকের চেতনার ঐক্য নির্দেশ করো। ঘ. উক্ত ঐক্যের প্রেক্ষাপট ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কতটুকু সার্থক ব্যাখ্যা করো। |
উত্তরঃ
ক. যে সাঁতার জানে না প্রবহমান নদী তাকে ভাসিয়ে রাখে।
খ. দেশমাতৃকার প্রতি কবির ভালোবাসার দিকটি কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
যখন একজন মানুষ দেশাত্মবোধে গভীরভাবে উজ্জীবিত হয়, তখন তার চেতনায় দেশ কেবল ভৌগোলিক সীমানা হিসেবে থাকে না; দেশ তখন মাতৃরূপে আবির্ভূত হয়। সেই দেশমাতা হয়ে ওঠে সর্বোচ্চ আবেগ ও কর্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু। দেশপ্রেম এমন এক ত্যাগময় চেতনা, যেখানে ব্যক্তি নিজের সুখ, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত আবেগকে পেছনে ফেলে দেশের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা কবি এ কথাটিই বোঝাতে চেয়েছেন।
গ. উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার সাথে উদ্দীপকের শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীন মুক্তির চেতনা ঐক্য রয়েছে।
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবি মানুষের শিকড়, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার কথা বলেছেন। এখানে মুক্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষা খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ‘উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালা’ কথাটির মাধ্যমে মুক্ত, আলোকিত জীবনের স্বপ্ন প্রকাশ পেয়েছে। মানুষ সব সময় পরাধীনতার কষ্ট ভুলে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। এই চিরন্তন চাওয়াটাই কবিতায় ধরা পড়েছে।
উদ্দীপকের চরণগুলোতেও মুক্তির আশায় সংগ্রামের ডাক রয়েছে। বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে কবি তাঁর এই প্রত্যাশাকে আরও শক্তিশালী করেছেন। শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, যা কবির গভীর ব্যাকুলতার প্রকাশ। ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতাতেও কবি আগুনের মাধ্যমে সব গ্লানি দূর করে নতুন, মুক্ত জীবন গড়তে চান। তাই উদ্দীপক ও কবিতার চরণ দুটিতেই মুক্ত জীবনের প্রত্যাশা একইভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. উক্ত ঐক্যের অর্থাৎ মুক্তি কামনার প্রেক্ষাপট ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় সম্পূর্ণভাবে সার্থক হয়ে উঠেছে।
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবি বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। নানা ইঙ্গিত ও উদাহরণের মাধ্যমে তিনি শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। কবিতায় যুদ্ধের ডাক থাকলেও মূল কথা হলো সব চাওয়ার শেষে কবির একটাই আকাঙ্ক্ষা, তা হলো মুক্তি। ভাবের ধারা, প্রতীকী ভাষা ও সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে কবি তাঁর এই চাওয়াকে শিল্পরূপ দিয়েছেন।
উদ্দীপকে নানা দিক বিবেচনায় কবি যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে কবির সকল চাওয়ার সমন্বয়ে মুক্তি কামনার দিকটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এখানে কবি ভাবের বিস্তার, অনুষজোর ব্যবহার এবং ধারাবাহিক নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে কবিতাংশটুকুতে তাঁর চাওয়াকে শিল্পরূপ দিয়েছেন।
এই কবিতায় মুক্ত জীবনের স্বপ্ন দেখাতে কবি বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা এনেছেন। জাতির সংগ্রাম, বিজয় আর মানবিক চেতনা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পূর্বপুরুষের ইতিহাসের সঙ্গে নিজের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা মিলিয়ে কবি কবিতাটিকে আবেগপূর্ণ করে তুলেছেন। তাই উদ্দীপকে কবিতাংশের প্রেক্ষাপট উপস্থাপনায় প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [দি. বো. ২০২৪] মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি মোরা নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি মোরা নতুন একটি গানের জন্য যুদ্ধ করি। মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি মোরা সারা বিশ্বের শান্তি বাঁচাতে আজকে লড়ি। ক. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় ‘কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা’ কী? খ. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষ সম্পর্কে কী বলেছেন? গ. উদ্দীপকে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো। ঘ. ‘একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি।’- উত্ত চরণ ও উদ্দীপক একটি বিশেষ চেতনাকে নির্দেশ করে- বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [চ. বো. ২০২৪] কে আসে সলো দেখ দেখ চেয়ে আল; কারখানার রাজা, লাঙলের নাবিক, উত্তাল ঢেউয়ের শাসক উদ্যত বৈঠাহাতে মাল্লাদল, এবং কামার কুমোর তাঁতি। এরাতো সবাই সেই মেহনতের প্রভু, আনুগত্যে শানিত রক্তে ঢল হয়ে যায় বয়ে, তোমার শিরাময় সারা পথে পথে। ক. করতলে কী ছিল? খ. কবি প্রবহমান নদীর কথা বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের মানুষ আর ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার মূলবক্তব্যেরই ধারক।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [সি. বো. ২০২৩] সুখ-সমৃদ্ধিতে ঐশ্বর্যময় এবং প্রাণৈশ্বর্যে ভরপুর এই সুন্দর দেশটি বর্গীর আক্রমণ থেকে শুরু করে বারবার শত্রুর লোলুপ দৃষ্টিতে পড়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে এ দেশের সহজসরল মানুষের জনজীবন, অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। কিন্তু কোনো শত্রুর কাছে পরাভব মানেনি এ দেশের গণমানুষ। তাই তো যুগে যুগে আমরা দেখি নুরলদীন-তিতুমীর-হাজী শরিয়তউল্লাহ-সূর্যসেন-প্রীতিলতা-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিস্ময়কর শক্তি-সাহস এবং শৌর্যবীর্য। হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষের রয়েছে রক্তে রঞ্জিত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ক. জননীর আশীর্বাদ কাকে ধন্য করবে? খ. ‘তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।’- বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. উদ্দীপকের ব্যক্তিদেরকে কীভাবে কাঙ্ক্ষিত মানবমুক্তির দূত বলা যায়? ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্য। দেখাও। ঘ. “উদ্দীপকের এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার চৈতন্যগত দিকের সঙ্গে অভিন্ন।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [সি. বো. ২০২২] আসিতেছে শুভ দিন দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ। হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়, পাহাড় কাটা সে পথের দুপাশে পড়িয়া যাদের হাড়, তারাই মানুষ তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান, তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান। ক. প্রবহমান নদী কাকে ভাসিয়ে রাখে? খ. ‘ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়’- বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? গ. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষদের কোন বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকের বক্তব্য ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার মৌলসত্য।”-বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [য. বো. ২০২২] ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে জাতির জনক বজাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেন বাঙালি জাতিকে মুক্তির কবিতা শোনালেন। বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শোষণ বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।’ তিনি একপর্যায়ে বাঙালি জাতিকে প্রতিবাদী আর সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা-আল্লাহ।’ প্রধানত, বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা। ক. ভালোবাসা দিলে কে মরে যায়? খ. ‘তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? গ. উদ্দীপকে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ঘ. ‘বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা।’- মন্তব্যটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [ব. বো. ২০২২] বিভিন্ন মুখের কোটি অশ্বারোহী এসে খুরে খুরে ক্ষতময় করে গেছে সহনীয়া মাটি, লালসার লালামাখা ক্রোধে বন্দুক কামান কত অসুর গর্জনে চিরেছে আকাশ পরিপাটি, বিদীর্ণ বুকনীল বর্ণ হয়ে গেছ তুমি, বাংলাভূমি। ক. উনোনের আগুনে আলোকিত কীসের কথা বলা হয়েছে? খ. ‘বিচলিত স্নেহ’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। গ . উদ্দীপকে ‘বাংলাভূমি’-এর সঙ্গে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা করো। ঘ. ‘লালসার লালা মাখা ক্রোধে’ কীভাবে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়? উদ্দীপক ও ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার প্রেক্ষাপটে আলোচনা করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। পরাক্রমশালী মোগলরা ভারতবর্ষের অধিকাংশ অঞ্চল অনায়াসে দখল করতে পারলেও বাংলায় এসে তারা চরম প্রতিরোধের মুখে পতিত হয়। বাংলার বারোভূঁইয়ারা ঈশা খাঁর নেতৃত্বে মোগলদের আগ্রাসন থেকে বাংলাকে রক্ষা করে। ঈশা খাঁ ছিলেন সংগ্রামী ও অদম্য দেশপ্রেমীর মূর্ত প্রতীক। ক. ‘বিচলিত স্নেহ’ অর্থ কী? খ. ‘ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়’- বুঝিয়ে লেখো। গ. উদ্দীপকটিতে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আংশিক ভাবকে ধারণ করেছে।” মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো। |
নিচে আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ
আরও পড়ুনঃ প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
Related Posts
- সুচেতনা কবিতার মূলভাব, ব্যাখ্যা ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর
- সাম্যবাদী কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর (বহুনির্বাচনি)
- ঐকতান কবিতার মূলভাব সহজ ভাষায়- একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা
- কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর
- কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী ব্যাখ্যা – একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা