বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর ষষ্ঠ সর্গ থেকে নেওয়া। এই কাব্য মোট নয়টি সর্গে রচিত। ষষ্ঠ সর্গে অন্যায় ও কপট যুদ্ধের মাধ্যমে বীর মেঘনাদের মৃত্যু ঘটে লক্ষ্মণের হাতে। এই পোস্টে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
শপথ নিয়েও পলাশির প্রান্তরে প্রধান সেনাপতি মিরজাফর যুদ্ধে অংশ নেননি। রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ যুদ্ধে অসহযোগিতা করেছেন। মোহনলাল ও মিরমর্দান বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।

ক. কাকে রাবণি বলা হয়েছে?

খ. ‘প্রফুল্ল কমলে কীটবাস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার সঙ্গে যে দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র।”- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

উত্তরঃ

ক. মেঘনাদকে রাবণি বলা হয়েছে।

খ. ‘প্রফুল্ল কমলে কীটবাস’ বলতে সুন্দর লঙ্কাপুরীতে শত্রু লক্ষ্মণের অপ্রত্যাশিত প্রবেশ ও অবস্থান বোঝানো হয়েছে।
যুদ্ধ শুরু করার আগে মেঘনাদ যখন নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে যজ্ঞ করতে যাচ্ছিল, তখন লক্ষ্মণ তাকে নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করতে উদ্যোগী হয়। তখন মেঘনাদ বুঝতে পারে যে, তার চাচা বিভীষণই লক্ষ্মণকে যজ্ঞাগারে ঢুকতে সাহায্য করেছেন। এ কারণে সে চাচার দিকে বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, একটি কীটের মতো তুচ্ছ লক্ষ্মণ কীভাবে লঙ্কাপুরীতে ঢুকে পড়ল। তার চোখে লক্ষ্মণের এই অনুপ্রবেশ ঠিক যেমন ফুটন্ত ও সুন্দর কমলবনে কোনো কীট ঢুকে বসবাস করার মতোই অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য।

গ. উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় দেখানো আপনজনের বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনার সঙ্গে মিল আছে।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় স্বজনের বিশ্বাসঘাতকতার একটি বেদনাদায়ক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে মেঘনাদ যজ্ঞ করতে গেলে তার চাচা বিভীষণ শত্রুপক্ষের লক্ষ্মণকে তাকে হত্যা করতে সাহায্য করেন। মেঘনাদের নিরস্ত্র অবস্থার খবর শত্রুরা জানার কথা ছিল না, এটি শুধু আপনজনের পক্ষেই জানা সম্ভব ছিল। বিভীষণের এই বিশ্বাসঘাতকতা শুধু মেঘনাদের মৃত্যুর কারণ হয়নি, বরং লঙ্কার পরাজয়ও দ্রুত ডেকে এনেছে।

উদ্দীপকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। পলাশির যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে নবাবের যুদ্ধ শুরু হলে প্রধান সেনাপতি মিরজাফর দেশ রক্ষার শপথ করেও যুদ্ধে অংশ নেননি। শুধু মিরজাফরই নয়, তার সঙ্গে রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ ও জগৎশেঠও নবাবকে সহায়তা করেননি। আপনজনদের এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে এবং বাংলার স্বাধীনতা হারিয়ে যায়। একইভাবে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায়ও মেঘনাদ আপনজনের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে হঠাৎ আক্রমণের শিকার হয়। এই দিক থেকে উদ্দীপকটি কবিতাটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. স্বজনের বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র তুলে ধরার দিক থেকে উদ্দীপকটিকে আমি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আংশিক রূপ বলে মনে করি।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় বিশ্বাসঘাতক চাচা বিভীষণের উদ্দেশে অসহায় মেঘনাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বিভীষণ ও তার ভাইপো মেঘনাদের মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্বই কবিতাটির মূল বিষয়। তাদের কথাবার্তার মাধ্যমে একদিকে দেশপ্রেমের ভাব প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে ধর্মবোধ ও নৈতিকতার বিষয়ও উঠে এসেছে।

উদ্দীপকে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার নির্ভরযোগ্য সেনাপতি ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এখানে প্রধান সেনাপতি মিরজাফর নবাবের বিরুদ্ধে কাজ করেন। তার বিশ্বাসঘাতকতার ফলেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যায়। কিন্তু ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় শুধু বিশ্বাসঘাতকতার কথাই বলা হয়নি; মেঘনাদের বীরত্ব, সাহস, ব্যক্তিত্ব এবং নিজের জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসাও গুরুত্ব পেয়েছে।

উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতাটির ভাবগত মিল থাকলেও কবিতার বিষয়বস্তু অনেক বিস্তৃত। সেখানে মেঘনাদকে একজন নির্ভীক বীরযোদ্ধা হিসেবে দেখানো হয়েছে। দেশপ্রেম, স্বজাতির প্রতি টান, ধৈর্য ও সংযম তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, বিভীষণকে দেখানো হয়েছে দেশ ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে। তবে কবিতায় বিভীষণের পক্ষ থেকে ধর্ম ও নৈতিকতার যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে, কারণ রাবণের অন্যায়ের কারণেই লঙ্কার যুদ্ধ শুরু হয়। এই ধরনের আদর্শগত দ্বন্দ্ব উদ্দীপকে নেই। পাশাপাশি কবিতায় গুরুজনের প্রতি বিনয় ও সংযমের যে দিকটি আছে, সেটিও উদ্দীপকে অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকে কেবল দেশপ্রেম ও বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা কবিতার কেবল একটি অংশকে প্রকাশ করে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [পাবনা ক্যাডেট কলেজ]
হ্যক্তিগত মননে ষড়যন্ত্রের বীজ নিহিত থাকলে জাতীয় জীবনেও তার। স্থাণ পড়ে। পাপ বেশিদিন গোপন রাখা যায় না। মানুষের ব্যক্তিগত লোভের কারণে কখনো কখনো জাতি বা রাষ্ট্রকে তার খেসারত দিতে হয়। সামাজও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এ ধরনের লোক সভ্যতার জন্য বিপজ্জনক, মানবতার জন্য হুমকি, সংস্কৃতির জন্য ভয়ংকর। এরা নিজ দ্বার্থের জন্য আপনজনকেও খুন করতে পারে। এমনকি ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নিজে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতেও এরা কুণ্ঠাবোধ করে না।

ক. ‘কৃষ্ণকুমারী’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন ধরনের রচনা?

খ. মেঘনাদ যজ্ঞাগারে লক্ষ্মণের প্রবেশের কারণ কখন এবং কীভাবে বুঝতে পারল?

গ. উদ্দীপক এবং ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার তুলনামূলক আলোচনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে বিভীষণ চরিত্রের স্বরূপ বিশ্লেষণ করে এ জাতীয় মানুষের পরিণতি পর্যালোচনা করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ]
১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এদেশের বীর সন্তানেরা। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে তারা অস্ত্র হাতে বীরদর্পে যুদ্ধ করেছে।

ক. ‘ধীমান’ শব্দের অর্থ কী?

খ. “নিজগৃহ পথ, তাত, দেখাও তস্করে/চন্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?” কবিতাংশটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার কোন বিষয়টির সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার একটি বিশেষ ঘটনার বিপরীত চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম]
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থানার কোষারানিগঞ্জ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধ সালাহউদ্দীন। ‘৭১-এ তিনি দিনাজপুরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের একাদশের ছাত্র ছিলেন। ভারতের বিভিন্ন শিবিরে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিদি বীরদর্পে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্দের একপর্যায়ে রাজাকার বাহিনীর একজন তার বাবার মিথ্যা মৃত্যু সংবাদ দিয়ে রণাঙ্কান থেকে বাড়িতে আনে। তারপর সেখান থেকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিন তার কাছ থেকে মুক্তিযোম্বাদের অবস্থান জানতে চায়। শর নির্যাতনের পরও কোনো তথ্য বের করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এ মুক্তিযোদ্ধাকে ক্ষুধার্ত বাঘের খাঁচায় ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়।

ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিস্টাব্দে মারা যান?

খ. ‘লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।’ উক্তিটি কার? এর মাধ্যমে তার কোন মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে? বুঝিয়ে লেখো।

গ. উদ্দীপকের রাজাকার বাহিনীর কর্মের সাথে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার কোন চরিত্রের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা ও স্বাজাত্যবোধ বীরের বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপক ও ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [নটর ডেম কলেজ, ঢাকা]
একসময় ঈশা খাঁর সঙ্গে মানসিংহের যুদ্ধ হয়। রণনিপুণ ঈশা খাঁর তরবারির আঘাতে মানসিংহের তরবারি দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। মানসিংহ অসহায় হয়ে পড়েন। ঈশা খাঁ চাইলে এই অবস্থায় মানসিংহকে হত্যা করতে পারতেন। কিন্তু বীরযোদ্ধা ঈশা খাঁ তা না করে নিজের কোষ থেকে একখানি ভালো তলোয়ার বের করে মানসিংহকে উপহার দিয়ে পুনরায় যুদ্ধে আহহ্বান জানালেন। মানসিংহ ঈশা খাঁর এই মহানুভবতা, ঔদার্য ও বীরধর্মের আদর্শ দেখে মুগ্ধ হলেন এবং যুদ্ধের পরিবর্তে সম্বি স্থাপনে এগিয়ে এলেন।

ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতার নাম কী?

খ. “গতি যার নীচসহ, নীচ সে দুর্মতি।” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের ঈশা খাঁর সাথে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার কোন চরিত্রের আদর্শগত বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপক ও ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার মূলভাব এক নয়।”- মন্তব্যটি সমর্থন করো কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা]
নেপালের রাজতন্ত্রের কথা উঠলে আজও এক ভয়ংকর এবং রহস্যময় ঘটনার কথা সবার মনে পড়ে যায়। ২০০১ সালের ১লা জুন, কাঠমান্ডুর নারায়ণহিতি প্রাসাদ (এখন একটি জাদুঘর) সেদিন সাক্ষী ছিল এক নারকীয় হত্যাকান্ডের। এই হত্যাকান্ডে রাজপরিবারের প্রায় সব সদস্যকেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বলা হয়ে থাকে, এই নারকীয় হত্যাকান্ডের পেছনে ছিলেন তৎকালীন যুবরাজ দীপেন্দ্র বিক্রম শাহ দেব। অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ পর যুবরাজ দীপেন্দ্র হঠাৎ করেই সেখান থেকে চলে যান। ফিরে আসেন সামরিক পোশাকে, হাতে দুটি অ্যাসল্ট রাইফেল। তিনি সরাসরি তাঁর বাবা, রাজা বীরেন্দ্রর দিকে গুলি চালান। যুবরাজ দীপেন্দ্রকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, এটি একটি আত্মহত্যার প্রচেষ্টা ছিল। তিনি কোমায় চলে যান এবং তিন দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তাঁর চাচা, জ্ঞানেন্দ্র। অনেক নেপালি জনগণ আজও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুবরাজ দীপেন্দ্রর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। রাজা বীরেন্দ্রর ভাই জানেন্দ্রর রহস্যময় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ক. অরিন্দম অর্থ কী?

খ. “ক্ষুদ্রমতি নর, শূর লক্ষ্মণ”- কে, কেন বলেছে?

গ: উদ্দীপকে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের কোন কোন চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে? সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য লেখো।

ঘ. “স্বার্থ, ক্ষমতা ও আধিপত্য লাভের জন্য বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে কিন্তু এর ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়নি”- উদ্দীপকের আলোকে মধুসূদন দত্তের বাল্মিকী রামায়ণের নবমূল্যায়ন বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ]
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনী বাংলার নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল এ দেশীয় দোসর, ঘরের শত্রু রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনী। যদিও যুদ্ধের নীতিতে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কাপুরুষোচিত।

ক. সৌমিত্রি কে?

খ. “চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত রাজাকার-আল-বদর বাহিনী এবং কবিতায় বর্ণিত বিভীষণের ভূমিকার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কাপুরুষোচিত’ উদ্দীপক ও ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আলোকে উক্তিটি বিচার করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [ঢাকা কমার্স কলেজ]
জনাব মালেক ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। পাকিস্তানি বাহিনীর কর্মকান্ডে তাঁর পাকিস্তানিদের প্রতি ঘৃণা জন্মে। তিনি দেশকে শত্রুমুক্ত করতে নিজ ছেলে বারেককে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠান। বারেক পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধ করে শহিদ হন।

ক. ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় রামানুজ কে?

খ. “স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে; পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি ধুলায়?”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের বারেকের সাথে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার মেঘনাদের সাদৃশ্যের দিকটি আলোচনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের মালেক এবং ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার বিভীষণ কি একই চেতনার অধিকারী? তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯।
শহীদুল তার পিতার প্রতিষ্ঠিত ছোটো একটি কারখানায় কাজ করে। ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানটি তাদের ক্রয় করার প্রস্তাব দেয়। শহীদুলের বড় ভাই প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে চায়, কারণ তাতে কিছু টাকা হাতে আসবে। কিন্তু শহীদুল বলেন, “এই কারখানা বাবার স্বপ্নের সন্তান। শত্রুর হাতে বিক্রি করা মানে বাবার স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। আমি লড়ব, যদি শেষ পর্যন্ত একাই লড়তে হয়।”

ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত হিন্দু কলেজে কোন শ্রেণিতে ভর্তি হন?

খ. “নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?” – মেঘনাদ কেন এ কথা বলেছে?

গ. উদ্দীপকের শহীদুলের অবস্থান ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার কার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? যুক্তি দাও।

ঘ. “আত্মমর্যাদা ও ঐতিহ্য রক্ষার লড়াই নৈতিকভাবে শক্তির উৎস হয়” – উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১০।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এক গ্রামের বেশিরভাগ যুবক রণাঙ্গনে যুদ্ধ করতে চলে যায়। গ্রামে কেবল বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা রয়ে যায়। একদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গ্রামে প্রবেশ করে। গ্রামের এক ব্যক্তি, যে আগে থেকেই স্থানীয় দালালদের সাথে যোগাযোগ রাখত, সে সেনাবাহিনীকে গ্রামের লুকিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারগুলোর ঠিকানা দেখিয়ে দেয়। এর বিনিময়ে সে নিজের নিরাপত্তা ও পুরস্কারের প্রত্যাশা করে।
ক. ‘বাসববিজয়ী’ নামে কে পরিচিত?

খ. “তবু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরুজন তুমি পিতৃতুল্য” – বলার পরও মেঘনাদের মনোভাব কী ছিল?

গ. উদ্দীপকের দালাল চরিত্রটি কবিতার কোন চরিত্রের প্রতিফলন? তুলনা করো।

ঘ. “যুদ্ধ কিংবা সংকটকালে স্বার্থের জন্য স্বদেশ বা স্বজনের বিপক্ষে যাওয়া চরম নৈতিক পতন” – উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১১।
ক্লাসের মনিটরের নির্বাচনে দুইজন প্রার্থী রনি ও করিম। রনি জনপ্রিয়, কিন্তু এর পেছনে কাজ করে তার বন্ধুদের নিয়ে। করিম একটু নীরব ধরনের। ভোটের আগের রাতে, রনির একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু গোপনে করিমের সকল নির্বাচনী কৌশল ও পরিকল্পনা রনির কাছে ফাঁস করে দেয়। ভোটের দিন রনি সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে করিমকে হারিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রনির সেই বন্ধু সকলের কাছে অপদস্থ হয়।

ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম কী?

খ. “বৃথা এ সাধনা, ধীমান” – বিভীষণ কেন মেঘনাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বললেন?

গ. উদ্দীপকের রনির বন্ধুর কাজের সাথে কবিতার কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “বিশ্বাসঘাতকতা ক্ষণিকের লাভ এনে দিলেও চিরস্থায়ী অসম্মান বয়ে আনে” – উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১২।
একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল – ‘ঐক্য স্পোর্টস’ ও ‘বিজয় স্পোর্টস’। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে ‘ঐক্য স্পোর্টস’-এর ক্যাপ্টেন আহত হয়। তার অনুপস্থিতিতে সহ-ক্যাপ্টেন দায়িত্ব নেয়। কিন্তু সহ-ক্যাপ্টেন গোপনে প্রতিপক্ষ দলের কোচের সাথে দেখা করে তাদের দলের গোপন কৌশল ও ফ্রি-কিকের প্ল্যান বিক্রি করে দেয়। ম্যাচে ‘বিজয় স্পোর্টস’ সহজেই জয়লাভ করে। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে সহ-ক্যাপ্টেন দল ও সমর্থকদের কাছে চিরদিনের জন্য ঘৃণার পাত্র হয়ে যায়।

ক. ‘রক্ষঃশ্রেষ্ঠ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

খ. “রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে আনিলে এ কথা” – মেঘনাদের এ উক্তিতে কী ব্যথা প্রকাশ পেয়েছে?

গ. উদ্দীপকের সহ-ক্যাপ্টেনের বিশ্বাসঘাতকতা ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে বিনিময়ে ব্যক্তিগত লাভ সর্বদা নিন্দনীয়” – উদ্দীপক ও কবিতার প্রেক্ষিতে মন্তব্যটি যাচাই করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৩।
মি. রহমান একজন সফল উদ্যোক্তা। অর্থনৈতিক মন্দার সময় তার কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার পথে। তার ভাই, যে কোম্পানির একজন পরিচালক, গোপনে প্রতিযোগী কোম্পানির সাথে হাত মিলিয়ে ভাইয়ের ব্যবসায়িক গোপন তথ্য সরবরাহ করে। এর বিনিময়ে সে প্রতিযোগী কোম্পানিতে একটি উচ্চপদ ও বড় অঙ্কের টাকার প্রস্তাব পায়। মি. রহমান যখন বিষয়টি জানতে পারেন, তিনি বলেন, “টাকার কাছে সম্পর্কের মর্যাদা বিক্রি করা যায় না।”
ক. ‘সৌমিত্রি’ নামে কে পরিচিত?

খ. “জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি, এ সকলে দিলা জলাঞ্জলি?” – এই প্রশ্নের মাধ্যমে মেঘনাদ কী নির্দেশ করতে চেয়েছে?

গ. উদ্দীপকের মি. রহমানের ভাইয়ের চরিত্রটি কবিতার কোন চরিত্রের প্রতিরূপ? তুলনা করো।

ঘ. “রক্তের সম্পর্কও যখন স্বার্থের কাছে পরাজিত হয়, তখন তা সমাজের জন্য অশনি সংকেত” – উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৪।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের সামনে একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। ১৯৭১ সালে, এক মুক্তিযোদ্ধা তারই সহপাঠী ও আগের বন্ধুর হাতে ধরা পড়েন, যে পাকিস্তানি বাহিনীর দালাল হয়ে গিয়েছিল। বন্ধুটি তাকে বলল, “তুমি যদি আমাদের পক্ষে থাকার ঘোষণা দাও, তাহলে তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। নইলে…” মুক্তিযোদ্ধা জবাব দিলেন, “দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়।”
ক. ‘প্রগলডে’ অর্থ কী?

খ. “পরদোষে কে চাহে মজিতে?” – বিভীষণের এই উক্তির তাৎপর্য কী?

গ. উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধার মনোভাব ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার কার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? যুক্তি দাও।

ঘ. “মূল্যবোধ ও নীতির কাছে জীবন উৎসর্গ করা যায়, কিন্তু নীতির কাছে জীবন বিক্রি করা যায় না” – উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিচার করো।

নিচে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ

Related Posts

1 thought on “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর”

Leave a Comment