“প্রত্যুপকার” গল্পটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত, যা বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় উপাখ্যান। এটি “কৃতজ্ঞতার প্রতিদান” বা “উপকারের বিনিময়”-এর গুরুত্ব তুলে ধরে। এই পোস্টে প্রত্যুপকার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখে দিলাম।
প্রত্যুপকার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। চুরির অভিযোগে কিছুলোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করল। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে আমজাদ জানতে পারলেন, বন্দি ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে গিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ কী? খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন? গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ‘আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়’- বিশ্লেষণ কর। |
উত্তরঃ
ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ উপকারীর উপকার করা।
খ. খলিফা মামুন চুপ করে থেকেছিলেন কারণ তিনি গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির ভালো কাজের কথা বললে, খলিফা বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি ভুল করছেন কিনা। তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছিলেন। বন্দি ব্যক্তি আসলেই দোষী কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। শেষে ন্যায়বিচার করার জন্য তিনি এই চুপ থাকার পরেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সেই অংশের কথা মনে করিয়ে দেয় যেখানে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন যে বন্দী ব্যক্তিই একদিন তার প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। দুটি ঘটনাতেই দেখা যায়, একজন ব্যক্তি অন্যজনের উপকার করেছিল অতীতে। উদ্দীপকে আমজাদের সন্তানকে বাঁচানো ব্যক্তি বন্দি হয়েছে, আর গল্পে আলীকে বাঁচানো ব্যক্তি বন্দি হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই বন্দি ব্যক্তি উপকারের প্রতিদান পায়নি প্রথমে। পার্থক্য হলো গল্পের আলী উপকারীর সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু উদ্দীপকের আমজাদ সাহায্য করতে চাননি। এই ঘটনা গল্পের মূল শিক্ষা – ‘উপকারের প্রতিদান দেওয়া উচিত’ – এই বিষয়টিকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে।
ঘ. আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি ব্যক্তির কাছ থেকে উপকার পেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের আচরণে বড় পার্থক্য দেখা যায়। আলী ইবনে আব্বাস যখন জানতে পারলেন বন্দি ব্যক্তিই তাকে একদিন বাঁচিয়েছিলেন, তখন তিনি তাকে মুক্ত করতে সব চেষ্টা করলেন, এমনকি নিজের বিপদের কথা ভাবলেন না। অন্যদিকে আমজাদ বন্দি ব্যক্তিকে চিনতে পেরেও চুপ থাকলেন, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তা করলেন। আলীর মধ্যে আমরা দেখি সাহস, নৈতিকতা আর কৃতজ্ঞতা, কিন্তু আমজাদের মধ্যে দেখি ভয় আর স্বার্থপরতা। আলী যেমন খলিফার রাগের মুখেও সত্য কথা বললেন, আমজাদ সত্য লুকিয়ে ফেললেন। এই দুটি চরিত্র আমাদের দেখায় যে একই পরিস্থিতিতে মানুষ কত ভিন্নভাবে আচরণ করতে পারে। আলীর মতো হওয়াটাই সঠিক, কারণ উপকারের প্রতিদান দেওয়া মানুষের মহৎ গুণ।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। বশিরদের বাড়ির উঠোনের নিমগাছটি কাটার জন্য লোক নিয়ে আসছে বশিরের বাবা। বশির গাছটি কাটতে মানা করলে বশিরের বাবা বলে গাছটি বিক্রি করে অনেক টাকা পাওয়া যাবে। বশির আক্ষেপের সুরে বলে, “গাছটি যে এত বছর তোমার কত উপকার করেছে সেসব কথা আজ টাকার লোভে ভুলে গেলে বাবা! তোমার মাঝে তো কৃতজ্ঞতার কোনো চিহ্নই দেখি না, বাবা।” ক. খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন কে? খ. ডেমাস্কাসের ওই স্থানটি আলী ইবনে আব্বাসের কাছে এত প্রিয় কেন? গ. উদ্দীপকের বক্তব্য ‘প্রত্যুপকার’ রচনার যে বিশেষ দিকটিকে আলোকপাত করেছে তা ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকটিতে বশিরের বাবার চিন্তাচেতনার সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ রচনার আলী ইবনে আব্বাসের কোনো মিল নেই।”- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর। |
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। একদিন এক চাষি ঈগল পাখিকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করেছিল। ঈগল পাখি সে উপকারের কথা ভোলেনি। কয়েকদিন পর ঈগল পাখি চাষিকে একটি দেয়ালের পাশে বসে থাকতে দেখে। ঈগল বুঝতে পারে দেয়ালটি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা আছে। ঈগল চাযির টুপিটা ছোঁ মেরে নিয়ে যায় এবং চাষি ঈগলের পিছন পিছন দৌড় দেয়। আর তখনই দেয়ালটি ভেঙে পড়ে। ঈগল পাখিটি চাষির উপকার না ভুলে এভাবে উপকারের প্রতিদান দেয়। ক. ‘প্রতীতি’ শব্দের অর্থ কী? খ. আলী ইবনে আব্বাস ওই সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন কেন?- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ঈগল পাখি ‘প্রত্যুপকার’ রচনার কোন চরিত্রের প্রতিচ্ছবি? ব্যাখ্যা কর। ঘ. “উদ্দীপকের ঈগল এবং ‘প্রত্যুপকার’ রচনার আলী ইবনে আব্বাসের কর্মকান্ড যেন এক সুতোয় গাঁথা।”- মন্তব্যটি তুমি সমর্থন কর কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর। |
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। উপকারীর উপকার স্বীকার করাই কৃতজ্ঞতা। ভালো মানুষ উপকারীর উপকারের কথা স্মরণ রাখে। সুযোগ পেলে তার উপকার করার চেষ্টা করে। যা মানব চরিত্রের একটি মহৎ গুণ। কিন্তু উপকারীর উপকারের কথা ভুল গিয়ে যারা অপকার করে তারা কৃতঘ্ন। বর্তমান সমাজে কৃতজ্ঞ ব্যক্তির বড়ই অভাব। পরের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা মানুষের মাঝে খুব কম পরিলক্ষিত হয়। ক. বাগদাদ নগরটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. “আপনি কৃপা করিয়া আমার প্রাণ রক্ষা করুন”- কথাটি আলী ইবনে আব্বাস কেন বলেছিলেন?- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ভাবার্থ ‘প্রত্যুপকার’ রচনার যে বিশেষ দিকটিকে আলোকপাত করেছে তা ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ রচনার মূল বক্তব্য এক ও অভিন্ন-মূল্যায়ন কর। |
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। ঢাকা শহরে এসে রায়হান ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। সে দৌড়ে আশ্রয় নেয় এক ভদ্রলোকের বাসায়। সমস্ত ঘটনা শোনার পর ভদ্রলোক তাকে রাতটা থেকে যেতে বলেন। কয়েক বছর পর রায়হান সেই ভদ্রলোককে হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় পেয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ভদ্রলোক সুস্থ হয়ে রায়হানকে ধন্যবাদ দিয়ে বলে তোমার কারণেই আমি জীবন ফিরে পেয়েছি। ক. বাংলা গদ্যের জনক কাকে বলা হয়? খ. “আমাকে খলিফার কোপে পতিত হইতে হইবে”- আলী ইবনে আব্বাস একথা কেন বলেছেন? ব্যাখ্যা কর। গ. রায়হান ‘প্রত্যুপকার’ রচনার কোন চরিত্রের প্রতিচ্ছবি? ব্যাখ্যা কর। ঘ. “উদ্দীপকের রায়হান এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের মাঝে কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”- মূল্যায়ন কর। |
Related Posts
- নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্ন উত্তর ও MCQ – ৯ম শ্রেণির ডিজিটাল প্রযুক্তি
- জন্মভূমি কবিতার মূলভাব ও প্রশ্ন উত্তর – ৯ম শ্রেণির বাংলা
- নিমগাছ গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন – ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা
- ৯ম শ্রেণির বাংলা ষষ্ঠ অধ্যায় PDF (চূড়ান্ত সিলেবাসের প্রস্তুতি)
- Class 9 English Unseen Model Question 1 – ৯ম শ্রেণির ইংরেজি