মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্য দিয়ে যে আচার-আচরণ ও স্বভাব-চরিত্রের প্রকাশ পায় তাকে আখলাক বলে। মানব জীবনের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক সকল দিকই আখলাকের অন্তর্ভুক্ত। এই পোস্টে ৮ম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ৪র্থ অধ্যায় লিখে দিলাম।
৮ম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ৪র্থ অধ্যায়
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] দৃশ্যপট-১: রাহেলা দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন। সন্ধ্যায় পারিশ্রমিক নিয়ে গিয়ে দেখেন যে পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় তাকে। দুইশ টাকা কম দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে প্রতিবাদ করলে মালিক তাকে ভবিষ্যতে ছাটাই করে দেবে বলে হুমকি দেয়। দৃশ্যপট-২: জনাব ‘খ’ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। তিনি সহকর্মীদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করেন। সহকর্মীরা কোনো সমস্যায় পড়লে তিনি তাদের কথা শুনেন এবং তাদের মতামতকে সম্মান দেন। তাদের ফলে জনাব ‘খ’-এর সহকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেন। ক. আখলাকে হামিদাহ কী? খ. ‘দেশপ্রেম মানুষকে দেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে।’ ব্যাখ্যা করো। গ. দৃশ্যপট-১-এর ঘটনাটিতে আখলাকে হামিদাহ’র কোন গুণটির অভাব পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. দৃশ্যপট-২-এর ঘটনাটিতে আখলাকে হামিদাহ’র যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিত করে এর সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করো |
উত্তরঃ
ক. মানবজীবনের উত্তম গুণাবলিকে আখলাকে হামিদাহ বা প্রশংসনীয় চরিত্র বলে।
খ. দেশপ্রেম মানুষের মনে দেশের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি করে, যা তাকে দেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে।
দেশপ্রেমিক মানুষ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে নিজের স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রয়োজনে তারা দেশের জন্য নিজের জীবন ও সম্পদ ত্যাগ করতেও প্রস্তুত থাকে। দেশের মাটি, মানুষ, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে অন্যায়, আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস দেয়। এর ফলে দেশপ্রেম মানুষকে সচেতন, সাহসী ও দায়িত্বশীল করে তোলে এবং দেশ রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করে।
গ. দৃশ্যপট-১ এর ঘটনাটিতে আখলাকে হামিদাহ’র নারীর মর্যাদা গুণটির অভাব পরিলক্ষিত হয়।
ইসলাম নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদা দিয়েছে এবং ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করেছে। কুরআন ও হাদিসে নারীর সম্মান, অধিকার এবং ন্যায্য পাওনা আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য করে না; বরং তাদের শ্রম, অধিকার ও মর্যাদাকে সমানভাবে স্বীকৃতি দেয়। যেমন নারীদের অধিকার সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “আর নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের ওপর পুরুষদের” (সূরা আল-বাকারা আয়াত: ২২৮)।
উদ্দীপকের প্রথম দৃশ্যে দেখা যায়, রাহেলা একই কাজ করার পরও পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় তাকে কম বেতন দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবাদ করলে তাকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটি নারীর মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এটি ইসলামের ন্যায়বিচার ও নারীর সম্মান সংক্রান্ত নির্দেশনার বিপরীত। তাই বলা যায়, দৃশ্যপট-১ এর ঘটনাটিতে আখলাকে হামিদাহ-এর নারীর মর্যাদা গুণটির স্পষ্ট লঙ্ঘন দেখা যায়।
ঘ. দৃশ্যপট-২ এর ঘটনাটিতে আখলাকে হামিদাহ’র পরমুতসহিষ্কৃত বিষয়টি ফুটে উঠেছে; এর সামাজিক প্রভাব অপরিসীম।
অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে তাকে গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোকে পরমতসহিষ্ণুতা বলা হয়। এটি মানবচরিত্রের একটি ভালো গুণ, যা সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিন্ন মত ও আদর্শের প্রতি সম্মান দেখালে সমাজে সংঘাত কমে যায়। পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি, স্কুল-কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভালো সম্পর্ক, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব অনেক বেশি।
দৃশ্যপট-২ এ দেখা যায়, জনাব ‘খ’ তার সহকর্মীদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের প্রতি সম্মান দেখান। এর ফলে সহকর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস, সহযোগিতা ও ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা ভয় বা সংকোচ ছাড়া কাজ করতে পারে এবং কর্মপরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক হয়ে ওঠে। এভাবে পরমতসহিষ্ণু আচরণ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে শৃঙ্খলা, কাজের আগ্রহ ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ায়, যা পুরো সমাজের জন্য উপকারী।
সবশেষে বলা যায়, আখলাকে হামিদাহ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো পরমতসহিষ্ণুতা, যা একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] দৃশ্যপট-১: ‘ক’ একটি বড়ো পুকুর লিজ নিয়ে সেখানে রুই ও কাতল মাছের পোনা ছাড়ে। অজ্ঞাত রোগের কারণে পুকুরের সব মাছ মরে যায়। হতাশ না হয়ে ‘ক’ সরকারি মৎস কর্মকর্তার দ্বারস্থ। মৎস কর্মকর্তার পরামর্শে ‘ক’ আবার পুকুরে মাছ ছাড়ে। ছয়মাস পরই ‘ক’ এই পুকুর থেকে দুই লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করে। দৃশ্যপট-২ : জনাব ‘ক’ হজ করতে মক্কা শরিফে যান। তাঁর সাথে জার্মানির ‘খ’ এবং কানাডার ‘গ’-এর সাথে পরিচয় হয় এবং অল্পসময়েই তাঁদের মাঝে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। জনাব ‘ক’ দেশে ফিরেও তাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং সমসাময়িক ইসলামি বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। ক. আখলাকে যামিমাহ কী? খ. ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামি কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. দৃশ্যপট-১-এ ‘ক’-এর কাজে আখলাকে হামিদাহ’র কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. দৃশ্যপট-২-এর ঘটনাটিতে আখলাকে হামিদাহ’র যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিত করে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো |
উত্তরঃ
ক. যে খারাপ কাজ বা আচরণ মানুষকে হীন ও নিন্দনীয় করে তোলে তাকে আখলাকে যামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্র বলে।
খ. ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। তাই হাদিসে ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কে জাহান্নামি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘুষ একটি খুবই খারাপ সামাজিক অপরাধ। ঘুষ দেওয়ার মাধ্যমে অন্যের অধিকার নষ্ট হয় এবং সমাজে দুর্নীতি ও অন্যায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘুষ দাতা অবৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করে এবং ঘুষ গ্রহণকারী তার দায়িত্ব ও আমানতের খেয়ানত করে। এতে দুজনই আল্লাহর বিধান অমান্য করে। তাই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামে যাবে” (তাবারানি)।
গ. দৃশ্যপট-১ এ ‘ক’-এর কাজে আখলাকে হামিদাহ’র ধৈর্য গুণটি ফুটে উঠেছে।
ধৈর্য মানবজীবনের একটি খুবই ভালো গুণ এবং এটি সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।
ইসলামি শরিয়তের মতে, জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে শান্তভাবে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সব দায়িত্ব পালন করাকে ধৈর্য বলা হয়। কুরআন ও হাদিসে ধৈর্যশীলদের জন্য অনেক বড় পুরস্কারের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “অবশ্যই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে” (সূরা আয-যুমার, আয়াত: ১০)।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, ‘ক’-এর পুকুরের সব মাছ মারা যাওয়ার পরও তিনি হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে থাকেন। তিনি সরকারি মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নেন এবং আবার নতুন করে কাজ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হন, যা ধৈর্যের বাস্তব উদাহরণ। তাই বলা যায়, ‘ক’-এর কাজে আখলাকে হামিদাহ-এর অন্যতম গুণ ধৈর্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. দৃশ্যপট-২ এর ঘটনাটিতে আখলাকে হামিদাহ’র ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বিষয়টি ফুটে উঠেছে; কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর তাৎপর্য অপরিসীম।
ইসলামের মতে সব মুমিন একই বিশ্বাসের বন্ধনে যুক্ত। জাতি, ভাষা, রং ও দেশের পার্থক্য থাকলেও তারা একে অপরের ভাইয়ের মতো। এই সম্পর্ককে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বলা হয়। কুরআন ও হাদিসে এই ভ্রাতৃত্বকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মুসলমানদের মধ্যে সাহায্য, সহানুভূতি ও ঐক্য বজায় থাকে এবং মুসলিম উম্মাহ এক দেহের মতো শক্তিশালী হয়। এ বিষয়ে প্রিয় নবি (স.) বলেছেন, “মুমিনরা পরস্পর মিলেমিশে একটি ইমারতের মতো, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্ত করে ধরে রাখে” (বুখারি ও মুসলিম)।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ দেখা যায়, জনাব ‘ক’ হজের সময় ভিন্ন দেশের মুসলমান জনাব ‘খ’ ও জনাব ‘গ’-এর সাথে পরিচিত হয়ে খুব দ্রুত ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দেশে ফিরে এসে তিনি তাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং ইসলামি বিষয়ে আলোচনা করেন। এতে বোঝা যায়, জাতি ও দেশের সীমা ছাড়িয়ে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বাস্তবভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই ভ্রাতৃত্ব মুসলমানদের মধ্যে ভালোবাসা, সহযোগিতা ও ঐক্য বৃদ্ধি করে এবং বিশ্ব মুসলিম সমাজকে শক্তিশালী করে।
সবশেষে বলা যায়, ইসলামি ভ্রাতৃত্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সম্প্রীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [ঢাকা বোর্ড ২০১৯] লিপি আর হ্যাপি দুই বোন। ঈদের পোশাক কিনতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। লিপির পছন্দ লেহেঙ্গা। সে চায় হ্যাপি লেহেঙ্গা কিনুক। অথচ হ্যাপির পছন্দ থ্রি-পিচ। হ্যাপিও কিছুতেই লিপির লেহেঙ্গা পছন্দ করাটা মেনে নিতে পারছে না। অপরদিকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির ও মনির একজন আহত পথচারীকে মাটিতে পড়ে কাতরাতে দেখে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ক. হযরত ইবরাহিম (আ.) কেন অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন? খ. “উত্তম চরিত্রের পূর্ণতাদানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।” ব্যাখ্যা করো। গ. কোন গুণের অভাবে লিপি ও হ্যাপির মধ্যে ঝগড়া হয়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. সাব্বির ও মনিরের ভূমিকায় যে গুণটি ফুটে উঠেছে, তা চিহ্নিতপূবর্ক বিষয়টির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [রাজশাহী বোর্ড ২০১৯] আরিফ প্রতিদিন বাসে চড়ে কলেজে যাতায়াত করে। মাঝে মাঝে বাসে যাত্রী বেশি হলে অনেক মহিলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে। দেখা যায়। আরিফ তখন নিজের আসনটিতে মহিলা যাত্রীকে বসতে দেয়। অপরদিকে জনাব ফরহাদ পরিবার নিয়ে সিলেট বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার দুই সন্তান ও স্ত্রী মারা যায়। এতে তিনি শোকাহত হলেও মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন। তার এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইমাম সাহেব মক্তব্য করেন- “এরূপ লোকদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে।” ক. ‘আখলাক’ কী? খ. “উত্তম চরিত্রই হলো সকল নেক কাজের মূলকথা।” ব্যাখ্যা করো। গ. আরিফের আচরণে আখলাকে হামিদা কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. ফরহাদ সাহেবের মাঝে আখলাকে হামিদা যে গুণটি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [রাজশাহী বোর্ড ২০১৯] জনাব শরিফ গত দশ বছর যাবৎ বিদেশে অবস্থান করলেও দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রথা, রীতিনীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির প্রতি তার রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। অপরদিকে জনাব রকিব একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তি। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতকেই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় রাখেন। ক. ‘পরশ্রীকাতরতা’ কী? খ. ফিতনা (রিশৃঙ্খলা) হত্যা অপেক্ষা গুরুতর কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. শরিফ সাহেবের মনোভাবে আখলাকে হামিদার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. জনাব রকিবের আচরণটি চিহ্নিত করে এর সুফল নির্ণয় করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [সিলেট বোর্ড ২০১৯] মানুষ মানুষের জন্য- কথাটি মুখরোচক হলেও বিশ্বনবির আদর্শ, নীতি-নৈতিকতার দিকে তাকালে কথাটির সত্যতা মেলে.।.। নিয়াজ সাহেব আল কুরআনে সূরা আল আহযাব-এর ২১নং আয়াত উল্লেখ করে বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর রাসুলের জীবনে রয়েছে। তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। নীতি-নৈতিকতার শ্রেষ্ঠতম হলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)।” বাসির সাহেব বলেন, “আল কুরআনই রাসুলের চরিত্র।” ক. জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল উৎস কী? খ. বিদায় হজের ভাষণের দুটি বক্তব্য লেখো। গ. নিয়াজ সাহেবের উদ্ধৃত আয়াতটি তোমার জীবনে চরিত্র গঠনে কী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তুমি মনে কর তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো। ঘ. বাসির সাহেবের কথাটি কোন বিষয়ের ইঙ্গিত বহন করে? বিষয়টি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮] জাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ট্রেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের। যাবার পথে স্টেশন থেকে একজন ভদ্র মহিলা উঠলেন। তিনি বসার আসন পাচ্ছিলেন না। জাহিদ নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে মহিলাকে। বললেন, আপনি আমার আসনে বসতে পারেন। জাহিদ স্টেশনে পৌছার পর ট্রেন থেকে নেমে দেখেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একটি। জনসভা চলছে। সেখানে জাহিদের বন্ধু ফাহিম বলল, এ ধরনের জনসভা আমার একদমই পছন্দ নয়। সাদিক তাকে বলল, অন্যের। মতামতের প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো উচিত। ক. আনসারদের সম্পত্তিতে মুহাজিরদের উত্তরাধিকারের বিধানটি কোন সময় পর্যন্ত বলবৎ ছিল? খ. “নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।”- ব্যাখ্যা করো। গ. জাহিদের আচরণের মাধ্যমে তুমি কী শিক্ষা পেতে পার? বুঝিয়ে দাও। ঘ. ফাহিমের মনোভাব চিহ্নিতপূর্বক সাদিকের উক্তির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [ঢাকা বোর্ড ২০১৯] মহানবি (স.) এক ব্যক্তিকে যাকাত উত্তোলনের জন্য নিয়োগ করেন। তিনি সরকারি যাকাত ছাড়াও কিছু উট নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এগুলো আমাকে ব্যক্তিগতভাবে। উপহার দেওয়া হয়েছে। মহানবি (স.) বললেন, সে (সরকারি চাকরি ছেড়ে) নিজ বাড়িতে গিয়ে বসে থাকুক। তারপর দেখ, কে তাকে উপহার দেয়? অপরদিকে রমিজ উদ্দীন সাহেব মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। স্থির হওয়ার পরে তার থেকে। জানা গেল, হজের সফরে তার সাথে মেহবুব হাসান নামে মালয়েশিয়ার একজন হাজির সাথে ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয়েছিল। একটু আগে মেসেজে রমিজ জানলেন, সেই মেহবুব আর বেঁচে নেই। ক. নারীদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারীর নাম কী? খ. “তোমরা প্রত্যেকেই আদম হতে সৃষ্ট।”- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে ‘ব্যক্তিগত উপহার’ আসলে কী ছিল? ব্যাখ্যা করো। ঘ. রমিজ, উদ্দীনের ‘কান্নায়’ যে ধরনের ভ্রাতৃত্ব ফুটে উঠেছে, তা চিহ্নিতপূর্বক এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯। [কুমিল্লা ও বরিশাল বোর্ড ২০১৯] দেলোয়ার হোসেনের বাবা গত ১লা জানুয়ারি ওয়ারিশ হিসেবে ১ পুত্র, ৩ কন্যা ও ১ স্ত্রী রেখে ইন্তেকাল করেন। বাবার দাফনের পর অসিয়ত পূরণ ও ঋণসমূহ পরিশোধের পরে দেলোয়ার হোসেন তার বাবার পরিত্যক্ত সম্পত্তি মা ও বোনদের মাঝে সঠিক নিয়মে বণ্টন করে দেন। তার বন্ধু মহসিন বিএ (অনার্স) পড়ুয়া ছাত্র। সে অসৎ চরিত্রের ছেলেদের সাথে মিশে এলাকার বাজার থেকে লোকদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে বেড়ায়। এতে তার বাবা খলিল সাহেব অসন্তুষ্ট হয়ে বলেন, “তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হতে পারবে না।” ক. ঘৃণা কী? খ. “মুস্লমান মুসলমানের ভাই।”- হাদিসখানা ব্যাখ্যা করো। গ. দেলোয়ার হোসেনের আচরণে আখলাকে হামিদাহ্র কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. মহসিনের কর্মকান্ড চিহ্নিতপূর্বক জনাব খলিলের মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১০। [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯] সামিয়া ও কণিকা এবার দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা শিক্ষকদের খুবই প্রিয়। কণিকা প্রথম স্থান অধিকার করায় সামিয়া প্রকাশ্যে কোনো কিছু না বললেও কণিকাকে সহ্য করতে পারে না। মনে মনে তার ক্ষতি কামনা করে। বিষয়টি জানতে পেরে শ্রেণিশিক্ষক কণিকাকে বললেন, তুমি সহিষ্ণু হও, আত্মত্মনিয়ন্ত্রণ করো। কেননা অধৈর্য মানুষকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়। ক. নারীর মর্যাদা কী? খ. “জাতির নেতা তিনিই যিনি তাদের সেবক।”- ব্যাখ্যা করো। গ. সামিয়ার আচরণে যা প্রকাশ পেয়েছে, তা পরিহারের উপায়গুলো আলোচনা করো। ঘ. শ্রেণিশিক্ষক কণিকাকে যে উপদেশ দিয়েছেন তার গুরুত্ব তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। |
নিচে ৮ম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ৪র্থ অধ্যায় পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
৮ম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ৪র্থ অধ্যায় পিডিএফ
Related Posts
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম দশম শ্রেণি ৩য় অধ্যায় MCQ
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম দশম শ্রেণি ১১ অধ্যায় MCQ (বহুনির্বাচনি)
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি ৯ম অধ্যায় MCQ (বহুনির্বাচনি)
- ৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৪র্থ অধ্যায় বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি ৭ম অধ্যায় MCQ (বহুনির্বাচনি)