নেকলেস গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর- HSC Neckless Golpo Srijonshil

মাদাম লোইসেল দরিদ্র জীবনযাপন করত, কিন্তু তার ছিল আয়েশি জীবনযাপনের অদম্য আকর্ষণ। এই আকর্ষণ তাকে সবসময় অসুখী রাখত। এই পোস্টে নেকলেস গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।

নেকলেস গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন]
মেধাবী রুবিনার বাবা খুব সামান্য বেতনে চাকরি করেন। তার সহপাঠীরা সকলেই অবস্থাপন্ন পরিবারের। সহপাঠাদের পোশাক, জীবনাচরণের সঙ্গে বুবিনার কিছুতেই খাপ খায় না। তবু তা নিয়ে সে মোটেই হীনম্মন্যতায় ভোগে না। তার ধনী সহপাঠীরাও বুবিনার বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে তার মেধাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। নিজের কঠোর পরিশ্রমে রুবিনা পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করে। আজ তিনি একজন বড়ো কর্মকর্তা।

ক. বন্দুক কিনতে মসিয়ে কত ফ্রাঁ সঞ্চয় করেছিল?

খ. মাদাম লোইসেল আমন্ত্রণপত্র টেবিলের ওপর নিক্ষেপ করেন কেন?

গ. রুবিনার সঙ্গে মাদাম লোইসেলের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বর্ণনা করো।

ঘ. ‘পারস্পরিক সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও পরিণতির দিক থেকে রুবিনা আর মাদাম লোইসেলের জীবন ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত।’-উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

উত্তরঃ

ক. বন্দুক কিনতে মসিয়ে চারশ ফ্রাঁ সঞ্চয় করেছিলেন।

খ. হীনম্মন্যতায় ভুগতে থাকা মাদাম লোইসেল বিরক্ত হয়ে আমন্ত্রণপত্রটি টেবিলে ছুঁড়ে দিয়েছিল।
জনশিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে যে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন হতে যাচ্ছিল, তার নিমন্ত্রণ পেয়েছিল মসিয়ে ও মাদাম লোইসেল। কিন্তু এই নিমন্ত্রণ পেয়ে মাদাম লোইসেল আনন্দিত হতে পারেনি, কারণ এমন বড় অনুষ্ঠানে পরার মতো উপযুক্ত পোশাক তার ছিল না। তাই দুঃখ আর হতাশায় ভরে গিয়ে সে আমন্ত্রণপত্রটি টেবিলের ওপর ফেলে দেয়।

গ. উদ্দীপকের রুবিনা ও ‘নেকলেস’ গল্পের মাদাম লোইসেল দু’জনেরই অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল ছিল, তাই তাদের জীবনযাপনে কোনো সচ্ছলতা ছিল না।
‘নেকলেস’ গল্পে মাদাম লোইসেলের পরিবার ছিল আর্থিকভাবে দুর্বল। এজন্য তার জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য বা বিলাসিতা ছিল না। বিলাসী জীবনের স্বপ্ন দেখলেও দারিদ্র্য ছিল তার নিত্যসঙ্গী। গল্পে লোইসেলের এই কষ্টের দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রুবিনার বাবা অল্প বেতনের চাকরি করেন। তার সহপাঠীরা বেশ সচ্ছল পরিবারের হওয়ায় রুবিনার জীবন তাদের মতো হয় না। ঠিক তেমনই, মাদাম লোইসেলও দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ছিল। তার বাবা ছিলেন কম আয়ের কেরানি, স্বামীও ছিলেন সাধারণ চাকরিজীবী। দারিদ্র্যের কারণে তার বেশিরভাগ ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। অর্থাৎ দারিদ্র্যই উদ্দীপকের রুবিনা ও মাদাম লোইসেলের মধ্যে প্রধান মিল তৈরি করেছে।

ঘ. অর্থনৈতিক দিক থেকে মিল থাকলেও মানসিকতায় ভিন্নতা থাকায় উদ্দীপকের রুবিনা ও গল্পের মাদাম লোইসেলের জীবন ভিন্ন পথে এগিয়েছে।
মাদাম লোইসেল দরিদ্র ছিল, কিন্তু বিলাসী জীবনের প্রতি তার ছিল প্রবল আকর্ষণ। এই আকাঙ্ক্ষাই তাকে সবসময় অসুখী করে রাখত। নিজেকে সুখী দেখানোর জন্য সে অনুষ্ঠানে যেতে রাজকীয় হার ধার নেয়। পরে সেই হার হারিয়ে ফেলে, আর এই ঘটনাই তাকে চরম দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেয়।

উদ্দীপকের রুবিনা দরিদ্র হলেও নিজের অবস্থান নিয়ে লজ্জা পেত না। পরিশ্রম ও মেধার জোরে সে জীবনে সফল হয়। কিন্তু মাদাম লোইসেল সবসময় স্বপ্ন দেখত ধনীদের মতো জীবনযাপনের। অন্যের জৌলুস দেখে নিজের দারিদ্র্য নিয়ে সে হতাশ আর কষ্টে ভুগত।

অর্থনৈতিক মিল থাকলেও মানসিকতার পার্থক্য দুজনের জীবনকে সম্পূর্ণ আলাদা করেছে। রুবিনা বিলাসী জীবনের অভাব নিয়ে মনখারাপ না করে নিজের চেষ্টায় জীবন গড়ে তুলেছে এবং সফল হয়েছে। অন্যদিকে মাদাম লোইসেল উচ্চাভিলাষী চিন্তা আর তুলনার কারণে নিজের জীবনকে আরও কষ্টময় করেছে। হীরের নেকলেস পরার ইচ্ছাই তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয় এবং তাকে আরও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। ইতিবাচক মানসিকতা রুবিনাকে করেছে সফল, আর নেতিবাচক মানসিকতা মাদাম লোইসেলকে করেছে হতাশাগ্রস্ত ও দুর্ভাগা।


সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [ঢাকা বোর্ড ২০১৯]
সালাম ও সালমার সংসারে সচ্ছলতা কিংবা বিলাসিতা না থাকলেও শান্তি এবং ভালোবাসার অভাব ছিল না। কিন্তু লোভে পড়ে বাড়তি পাওনার আশায় দুর্নীতির দায়ে অফিস সহকারীর চাকরিটা হারায় সালাম। তাদের সংসারে বাসা বাঁধে চরম দারিদ্র্য আর হতাশা। অগত্যা সালামের স্ত্রী সালমা অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ নেয়। সকাল-সন্ধ্যা বর্ণনাতীত পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরে সে। সালমার ক্লান্ত ও মলিন চেহারা দেখে সালাম মনে মনে খুব কষ্ট পায়। অথচ মুখ ফুটে সেকথা বলতে পারে না সে। কারণ সে ভালো করেই জানে যে, এই কষ্টের জন্য সে নিজেই দায়ী।

ক. বন্দুক কিনতে মসিয়ে কত ফ্রাঁ সঞ্জয় করেছিল?

খ. “এ রকম জীবন দশ বছর ধরে চলল।” ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সালমার সাথে ‘নেকলেস’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? আলোচনা কর।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্পের বিষয়বস্তু একসূত্রে গাঁথা- মূল্যায়ন কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [যশোর বোর্ড ২০১৯]
পিতার অভাবের সংসারে রেবেকা অতি কষ্টে মানুষ হয়েছে। জীবনে কত ছোটখাটো ইচ্ছাই তাকে নীরবে বিসর্জন দিতে হয়েছে। শিক্ষিত ও সুশ্রী হওয়া সত্ত্বেও বৈবাহিক জীবনে একটা ভালো সংসার জোটেনি। কিন্তু নিজের অবস্থাকে সে ভাগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছে এবং গৃহশিক্ষক স্বামীর সামান্য আয়ে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনা করছে। মেনে নেয়া এই জীবনে তার কোনো বিড়ম্বনা নেই।

ক. ‘নেকলেস’ গল্পের বাংলা অনুবাদক কে?

খ. স্ত্রীর প্রতি লোইসেলের ভালোবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার দুটি দৃষ্টান্ত দাও।

গ. রেবেকার সাথে ‘নেকলেস’ গল্পের মাতিলদার তুলনা কর।

ঘ. “মেনে নেয়া এই জীবনে তার কোনো বিড়ম্বনা নেই’-রেবেকার এই জীবন সত্যই ‘নেকলেস’ গল্পের মূলভাব।”- এই মতের পক্ষে তোমার বক্তব্য উপস্থাপন কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [ঢাকা; যশোর; সিলেট; দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮]
‘বিবর্তন’ সংস্কৃতিকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দুটো উপদেশ দিলেন-
i. উচ্চাভিলাষ ও বিলাসিতার কারণে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো কাজ করো না। তা তোমাদের বিপদে ফেলবে এবং আজীবন তোমাকে অসুখী করবে।
ii. সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে পরিণামে দুঃখ পেতে হয়।

ক. মি. লোইসেল ও তার স্ত্রী ঋণ শোধের জন্য কত বছর কষ্ট করেছিলেন?

খ. লোইসেলের মনে সর্বদা দুঃখের ছায়া থাকে কেন?

গ. উদ্দীপকের প্রথম উপদেশ ‘নেকলেস’ গল্পের কোন দিকের ইঙ্গিত নির্দেশ করে? বিশ্লেষণ কর।

ঘ. “উদ্দীপকের উপদেশ দুটো ‘নেকলেস’ গল্পের জীবনদর্শনকে ধারণ করেছে।”- এ মন্তব্য কতটা যৌক্তিক? মূল্যায়ন কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭]
রফিকের সংসারে সচ্ছলতা না থাকলেও শান্তিতেই ছিল তারা। কিন্তু লোভে পড়ে উপরি পাওনার আশায় কোম্পানির মাল পাচারে সহযোগিতার দায়ে দারোয়ানের চাকরিটা চলে যায় তার। সংসারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য। বাধ্য হয়ে রফিকের স্ত্রী কল্পনাকে পরের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করতে হয়। রাত অবধি হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সে ঘরে ফেরে। তার চেহারায় মলিনতার ছাপ দেখতে পেয়ে কষ্ট পায় রফিক। তবে মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারে না। কারণ সে জানে, তার এ শাস্তি আত্মকৃত। কাউকে সে দোষ দিতে পারে না।

ক. মাদাম লোইসেলের স্বামী কোথায় চাকরি করত?

খ. মাদাম লোইসেলকে দেখলে এখন বয়স্কা বলে মনে হয় কেন?

গ. উদ্দীপকের কল্পনার সাথে ‘নেকলেস’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য আছে? বিশ্লেষণ কর।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্প একই বৃক্ষের দুটি ফল-মূল্যায়ন কর।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, টাঙ্গাইল]
ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দুটি উপদেশ প্রদান করে শিক্ষক বলেন, “প্রথমত, উচ্চাকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়ে এমন কাজ কোরো না, যা তোমাদের বিপদে ফেলতে পারে। দ্বিতীয়ত, সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করতে পারলেই নিজেকে সুখী ভাবা যায়।”

ক. ‘নেকলেস’ গল্পের রচয়িতা কে?

খ. ‘আমারটি ছিল নকল। তার দাম পাঁচশত ফ্রাঁর বেশি হবে না’-ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের প্রথম উপদেশটি ‘নেকলেস’ গল্পে কার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে? বর্ণনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের উপদেশ দুটি ‘নেকলেস’ গল্পের চেতনাকেই ধারণ করে- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ]
মেধাবী বুবিনার বাবা খুব সামান্য বেতনে চাকরি করেন। তার সহপাঠীরা সকলেই অবস্থাপন্ন পরিবারের। সহপাঠীদের পোশাক, জীবনাচরণের সঙ্গে রুবিনার কিছুতেই খাপ খায় না। তবু তা নিয়ে দে মোটেই হীনম্মন্যতায় ভোগে না। তার ধনী সহপাঠীরাও রুবিনার বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে তার মেধাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। নিজের কঠোর পরিশ্রমে রুবিনা পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করে। আজ সে একজন বড়ো কর্মকর্তা।

ক. বন্দুক কিনতে মসিয়ে কত ফ্রাঁ সঞ্চয় করেছিল?

খ. মাদাম লোইসেল আমন্ত্রণপত্র টেবিলের ওপর নিক্ষেপ করেন কেন?

গ. রুবিনার সঙ্গে মাদাম লোইসেলের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বর্ণনা করো।

ঘ. পারস্পরিক সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও জীবন পরিণতিতে দুজনের জীবন ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [বরিশাল ক্যাডেট কলেজ]
সামিহা কলেজ শিক্ষার্থী। তার বাবা একজন কৃষক। তাদের আর্থিক অবস্থা উন্নত নয়। কিন্তু সামিহার বেশকিছু সহপাঠীর আর্থিক অবস্থা অনেক ভালো। তারা সুন্দর পোশাক পরে বাইরে যায়। সামিহা অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে হীনম্মন্যতায় ভোগে এবং পোশাকের জন্য বাড়িতে চাপ প্রয়োগ করে। ফুলে তার পরিবারে অশান্তি যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক. লোইসেল দম্পতি নিমন্ত্রণ পায় কোথায়?

খ. স্ত্রীর প্রতি লোইসেলের ভালোবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার দুটি দৃষ্টান্ত দাও।

গ. উদ্দীপকের সামিহার সঙ্গে ‘নেকলেস’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? চরিত্রদ্বয়ের সাদৃশ্য তুলে ধরো।

ঘ. ‘অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা কখনো মঙ্গলজনক হয় না।’ উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটির সত্যতা বিচার করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯। [বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা]
অনেক ভাই-বোনের পরিবারে দিবা বড়ো হয়েছে। স্কুল-শিক্ষক পিতা অনেক পরিশ্রম করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। দিবা শিক্ষিত ও সুন্দরী হলেও দারিদ্র্যের করণে বৈবাহিক জীবনে একটা সচ্ছল পরিবার পায়নি। সাজানো ঘর, দামি পোশাক, গহনা তার পছন্দ হলেও ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার স্বামী ও স্বামীর সামান্য আয়ের সংসারকে সে ভাগ্য বলে মেনে নিয়েছে। সে হাসিমুখে সংসারধর্ম পালন করছে।

ক. মসিয়ে লোইসেল ও তার স্ত্রী মাতিলদা ঋণ পরিশোধের জন্য কত বছর কষ্ট করেছিলেন?

খ. মাদাম লোইসেলকে দেখলে বয়স্ক বলে মনে হয় কেন?

গ. উদ্দীপকের দিবার সঙ্গে ‘নেকলেস’ গল্পের মাতিলদার তুলনামূলক আলোচনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের দিবার ভাগ্যকে মেনে নেওয়ার জীবনসত্যই ‘নেকলেস’ গল্পের মূলভাব।” মূল্যায়ন করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১০।
মাহমুদা মফস্বল শহরের একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে। কলেজ জীবন থেকেই সে বড় শহরের বিলাসিতা ও উচ্চাভিলাষী জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখত। ভালো চাকরি পাওয়ার আশায় সে তার বাবার প্রদত্ত সমস্ত সঞ্চয় এবং এক বন্ধুর কাছ থেকে গহনা ধার নিয়ে ব্যয়বহুল একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়। কিন্তু কোর্স শেষে সে কোনো ভালো চাকরি পায়নি। এখন সে সেই ঋণ শোধ করতে ও জীবন চালাতে একইসাথে তিনটি ছোটখাটো কাজ করে। তার স্বপ্নগুলো ধুলোয় মিশে গেছে, এবং সে অনুশোচনায় ভুগছে যে তার সাধারণ, শান্তিপূর্ণ জীবনটাকেই সে উপেক্ষা করেছিল।

. মাতিলদার স্বামী ‘বল’ নাচের আমন্ত্রণপত্র পেয়ে কী প্রত্যাশা করেছিল?

খ. “নিজেকে সজ্জিত করার অক্ষমতার জন্য সে সাধারণভাবেই থাকত” – ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের মাহমুদার চরিত্রে ‘নেকলেস’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

. “অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা বোধের অভাব ব্যক্তিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়” – উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১১।
নীলিমা ও রিয়াজ একে অপরকে খুব ভালোবাসে এবং তাদের সামান্য আয়ে সুখে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু নীলিমার স্কুলের এক বান্ধবী যখনই তার বিলাসবহুল জীবন, নতুন গাড়ি ও বিদেশ ভ্রমণের গল্প বলে, তখন নীলিমার নিজের জীবন তুচ্ছ মনে হয়। একবার সে রিয়াজকে তার বান্ধবীর মতো একটি দামি স্মার্টওয়াচ কিনে দিতে জোরাজুরি করে। সেটি কিনতে গিয়ে তাদের জরুরি সঞ্চয় নিঃশেষ হয়ে যায়। পরের মাসেই রিয়াজের বাবা হাসপাতালে ভর্তি হন এবং টাকার অভাবে তাদের বিপদে পড়তে হয়।

. ‘বল’ নাচের পর মাতিলদার গায়ে কী ছিল?

. “তার শ্রেণির অন্যতম হিসেবে সে ছিল অসুখী” – কথাটির মাধ্যমে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

গ. উদ্দীপকের নীলিমার মানসিকতা ‘নেকলেস’ গল্পের কোন দিকটিকে প্রতিনিধিত্ব করে? আলোচনা করো।

. “পরের অধিকারের প্রতি লোভ ব্যক্তিক এবং পারিবারিক জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে।” – উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্পের আলোকে মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১২।
অনন্ত একটি প্রাইভেট ফার্মে সামান্য বেতনে চাকরি করে। তার সহকর্মীরা দামি গাড়ি, ফ্ল্যাট ও আভিজাত্যের জীবনযাপন করে। অনন্তও সেই জীবন চায়। তাই সে ঋণ নিয়ে একটি রিকন্ডিশন গাড়ি কেনে এবং ক্রেডিট কার্ডে অনেক শপিং করে। কিছুদিনের মধ্যেই ঋণের চাপে তার স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকে, কাজে মনোযোগ দিতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি হারায়। এখন সে তার আগের সেই সাধারণ, ঋণমুক্ত জীবনকে খুব মনে করে।

ক. মাতিলদা তার হারানো হার খুঁজে পেতে কতদিন সময় পেয়েছিল?

খ. মাদাম ফরস্টিয়ার মাতিলদার গহনা বাক্স খুলে দেখেনি কেন?

গ. উদ্দীপকের অনন্তের সিদ্ধান্ত ও পরিণতি ‘নেকলেস’ গল্পের কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

. “বস্তুগত সম্পদে নয়, মানসিক শান্তিতেই প্রকৃত সুখ নিহিত” – উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্পের প্রেক্ষিতে উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৩।
রুমা ও তার স্বামী শহরের একটি ছোট ফ্ল্যাটে থাকেন। রুমার বোনের বিয়ে উপলক্ষে তাকে অনেক টাকা খরচ করতে হয় এবং সে তার বোনের মতো সুন্দর করে সাজতে চায়। তাই সে তার মায়ের দেওয়া একমাত্র সোনার চেইনটি বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে অতিরিক্ত সাজসজ্জা করে। বিয়ের পর সেই চেইন ফেরত আনতে না পেরে সে খুব কষ্ট পায়। তার মা জানতে পারলে খুব মনঃকষ্ট পান। রুমা বুঝতে পারে, শুধু অন্যদের দেখানোর জন্য তার এই ঝুঁকি নেওয়া উচিত হয়নি।

. মাতিলদা তার বান্ধবীর কাছ থেকে কী ধার করেছিল?

. “সে ভাবে, অপরূপ পাত্রে পরিবেশিত হবে অপূর্ব খাদ্য” – এই উক্তিটি দ্বারা মাতিলদার কোন মানসিকতাকে প্রকাশ করা হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের রুমার কাজটি ‘নেকলেস’ গল্পের কোন কাজের অনুরূপ? তোমার মতামত দাও।

. “সম্মান ও মর্যাদা বাহ্যিক সাজসজ্জা বা বস্তু দ্বারা নির্ধারিত হয় না।” – উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্পের আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৪।
শফিক একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করে। একবার তার কাছে প্রোমোশনের জন্য দুটি প্রজেক্ট আসে – একটি সহজ ও নিরাপদ, অন্যটি কঠিন কিন্তু সফল হলে প্রচুর বোনাস ও নামযশের সম্ভাবনা আছে। লোভে পড়ে শফিক কঠিন প্রজেক্টটি নেয় এবং তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করতে গিয়ে ভুল করে। প্রজেক্টটি ব্যর্থ হয়, কোম্পানির ক্ষতি হয় এবং শফিককে চাকরি ছাড়তে হয়। এখন সে ভাবে, যদি সে সাধারণ প্রজেক্টটি নিয়ে ধীরস্থিরভাবে কাজ করত, তাহলে আজও তার চাকরি থাকত।

ক. ‘নেকলেস’ গল্পে কোন পত্রিকা থেকে আমন্ত্রণপত্র এসেছিল?

খ. “সে কামনা করে একটি বৈঠকখানা” – মাতিলদার এই কামনা তার কোন স্বপ্নের প্রকাশ করে?

গ. উদ্দীপকের শফিকের সিদ্ধান্তের মধ্যে ‘নেকলেস’ গল্পের কোন চরিত্রের দুর্বলতার ছাপ দেখা যায়? তুলনা করো।

. “অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত ব্যক্তিকে পতনের দিকে ঠেলে দেয়” – উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

নিচে নেকলেস গল্পের সৃজনশীল উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।

নেকলেস গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ

Related Posts

Leave a Comment