রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে সমাজে নারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পরিবার ও সমাজে নারীকে দুর্বল ও নির্ভরশীল করে রাখার ফলে তারা নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সচেতন হতে পারে না। এই পোস্টে অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর – একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা লিখে দিলাম।
Table of Contents
অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] রেণু ও রাজু একই পিতা-মাতার সন্তান। কিন্তু তাদের পিতা-মাতা রাজুকে রেণু অপেক্ষা বেশি আদর-যত্ন করে। দুই ভাইবোন খেতে বসলে বড়ো ভাগটা রাজু পায়। রাজু কোনো অপরাধ করলে তাদের পিতা-মাতা বেটা ছেলে বলে আমলে নেয় না। রাজুর জন্য গৃহশিক্ষক থাকলেও রেণুর জন্য তা রাখা হয়নি। রেণু যতই বয়ঃপ্রাপ্ত হচ্ছে পিতা-মাতা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য ততই ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। এতে রেণু আপত্তি করলে তার মা বলেন, মেয়েদের এত লেখাপড়া শিখে কাজ নেই, বরং ঘর-দোর সাজানো গোছানো, সুয়েটার বুনন এবং রান্না করাটা শিখে নিলে তা কাজে আসবে। ক. ‘শমস-উল-ওলামা’ অর্থ কী? খ. ‘স্বামীর’ স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দটি প্রচলিত হওয়ার যৌক্তিকতা বর্ণনা করো। গ. অনুচ্ছেদে রেণুর পরিবারে নারীর যে অবস্থাটি ফুটে উঠেছে তা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ . ‘অনুচ্ছেদে রেণুর মায়ের মনোভাব সমকালীন প্রতিক্রিয়াশীল সমাজের মনোভাবেরই সমান্তরাল।’- মন্তব্যটি ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো। |
উত্তরঃ
ক. ‘শমস-উল-ওলামা’ অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য।
খ. ‘স্বামী’ শব্দের পরিবর্তে যদি ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তবে নারীরা নিজেদের আর দাসী হিসেবে ভাববে না, বরং স্বামীর সমান অংশীদার হিসেবে উপলব্ধি করবে। এর ফলে তারা মানসিক দাসত্বের ধারণা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের মর্যাদা, অধিকার ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।
যেমন মানবদেহের সব অঙ্গ একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করলে শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে, তেমনি সমাজে নারী ও পুরুষ উভয়ই একে অপরের পরিপূরক ও সমান অংশীদার। পুরুষ যদি নিজেকে নারীর প্রভু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, তাহলে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং উন্নতির পথ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ‘স্বামী’ বা ‘প্রভু’ শব্দের পরিবর্তে ‘অর্ধাঙ্গ’ শব্দ ব্যবহার করা উচিত। এতে নারী নিজেকে পুরুষের সহযাত্রী ও সমান মর্যাদার অধিকারী হিসেবে ভাবতে সক্ষম হবে।
গ. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে পরিবার ও সমাজে নারীদের অবহেলা ও বঞ্চনার বাস্তবচিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবারের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া দেখিয়েছেন যে, নারীরা সমাজে নানাভাবে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়। পুরুষশাসিত ব্যবস্থায় পুরুষরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেলেও নারীর মৌলিক অধিকার ও চাহিদা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থাকে। নারীকে প্রায়শই শিক্ষা, স্নেহ-ভালোবাসা ও স্বাধীন বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিয়েকেই নির্ধারণ করা হয়।
উদ্দীপকে রেণু ও রাজু একই বাবা-মায়ের সন্তান হলেও রেণু মেয়ে হওয়ার কারণে সব ক্ষেত্রেই অবহেলার শিকার হয়। তার পড়াশোনা ও মানসিক বিকাশে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না; বরং স্নেহ-ভালোবাসার ক্ষেত্রেও বৈষম্য দেখা যায়। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বাবা-মা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়ার প্রয়োজন নেই, তাদের মূল কাজ হলো গৃহস্থালির দায়িত্ব পালন করা। ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধেও একই চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে নারীর অবস্থান পুরুষের তুলনায় অনেক নিচে দেখানো হয়েছে। পুরুষরা সব ধরনের সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগ করলেও নারীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে।
ঘ. উদ্দীপকে রেণুর মায়ের আচরণ ও মনোভাবের মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজে নারীর প্রতি বিদ্যমান অবহেলার বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া দেখিয়েছেন যে, আমাদের সমাজে নারীরা নানা ধরনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়। পুরুষশাসিত সামাজিক কাঠামোতে নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা অনেক ক্ষেত্রেই অর্জন করতে পারে না। এমনকি পরিবারেও নারীদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত হয় না, ফলে অনেক সময় পরিবারেরই একজন নারী অন্য নারীর অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন না থেকে বৈষম্যমূলক আচরণকে সমর্থন করে।
উদ্দীপকে একটি পরিবারের প্রেক্ষাপটে রেণু ও রাজু ভাইবোন হলেও তাদের প্রতি মা ভিন্ন ধরনের আচরণ করেন। ছেলে রাজুকে মায়ের পক্ষ থেকে বেশি আদর, যত্ন ও সুবিধা দেওয়া হয়; খাবার ও পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রেণুর জন্য গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা করা হয় না এবং তার প্রতি তুলনামূলকভাবে অবহেলা প্রদর্শিত হয়। এছাড়া, ছেলে কোনো ভুল করলে তার তেমন শাস্তি না হলেও মেয়ের ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব দেখা যায়। রেণুর বিয়ে নিয়ে মায়ের তাড়াহুড়ো এবং কম বয়সে তাকে বিয়ে দেওয়ার আগ্রহও একই বৈষম্যমূলক মানসিকতার প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, মেয়েদের জন্য বেশি লেখাপড়ার প্রয়োজন নেই; বরং তাদের গৃহস্থালির কাজ শেখাই যথেষ্ট।
উদ্দীপকে রেণুর মায়ের এই মনোভাবের মাধ্যমে পরিবারে নারীর প্রতি অবহেলা ও বৈষম্যের চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে, যা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বর্ণিত নারীর বঞ্চনার ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] শিশির এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। বালিকা বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার খুব শখ থাকলেও সে পারিবারিক শাসন ডিঙিয়ে স্কুলে যেতে পারেনি। মায়ের কাছে সে আরবি বর্ণমালা শিখেছে। এরপর কায়দা শিখে যখনই আমপারা শিখতে শুরু করে তখনই তার বিয়ের প্রস্তাব আসে। তার পিতা-মাতা কালবিলম্ব না করে মেয়ের বিয়ে দেন। ভাগ্যগুণে শিশির ভালো স্বামী পেয়ে যায়। সে স্বামীর সংসারে থেকে নিজের প্রচেষ্টা ও স্বামীর উৎসাহে বিদ্যা অর্জন করে। তাতে সে সমাজে নারীর হীন অবস্থা বুঝতে পারে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সে নারীশিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে তার এলাকার নারীদের শিক্ষিত করে তোলে। ক. ‘অবরোধ প্রথা’ কী? খ. ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে লেখক কোন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাংশটি ব্যবহার করেছেন। বর্ণনা করো। গ. উদ্দীপকে শিশিরের পিতৃ-পরিবারে ব্যস্ত নারীর প্রতি মনোভাব ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. শিশিরের কাজের মধ্যে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের ইচ্ছের কি কোনো প্রতিফলন ঘটেছে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। |
উত্তরঃ
ক. অবরোধ প্রথা হলো অন্তঃপুরে লোকচক্ষুর আড়ালে মেয়েদের আটক রাখার নিয়ম।
খ. সমাজে নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝানোর উদ্দেশ্যেই ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে।
আমাদের সমাজে পুরুষ ও নারীকে সমান মর্যাদায় দেখা হয় না, ফলে তাদের জীবনযাপনের ধরনেও সুস্পষ্ট ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। ‘নবদম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতায় নববিবাহিত বর ও কনের পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে এই সামাজিক পার্থক্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কবিতায় দেখা যায়, কন্যাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যাতে সে স্বামীর পাশে ছায়ার মতো সহচরী হিসেবে থাকতে পারে।
গ. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে নারীর প্রতি সমাজের যে সংকীর্ণ ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, উদ্দীপকের শিশিরের পিতৃতান্ত্রিক পরিবারেও সেই একই মনোভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে দেখা যায়, সমাজ ও পরিবারে নারীদের প্রতি অবহেলা ও বৈষম্য বিদ্যমান। এর ফলে কন্যা সন্তান পূর্ণভাবে বিকশিত হয়ে ওঠার সুযোগ পায় না। প্রবন্ধে বিশেষভাবে নারীর শিক্ষার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। সমাজে নারীদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ অনেক কম থাকে এবং অল্প বয়সেই তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের শিশির একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। শিক্ষাগ্রহণের প্রতি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সে স্কুলে যেতে পারেনি। মায়ের কাছ থেকে অল্প বয়সে আরবি শেখার সময়ই তার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে শিশির তার স্বাভাবিক বিকাশ ও পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং তার মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধেও নারীর সামাজিক বাস্তবতার এই দিকগুলোই আলোচিত হয়েছে। প্রাবন্ধিক দেখিয়েছেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মনে করা হয় মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষা প্রয়োজনীয় নয়; বরং প্রাথমিক শিক্ষা, রান্না ও গৃহস্থালির কাজ শেখাই যথেষ্ট। তাই শিশিরের পারিবারিক বাস্তবতা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বর্ণিত সমাজচিত্রের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত শিশিরের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের আদর্শ ও ভাবনারই প্রতিফলন ঘটেছে।
‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রোকেয়া নারীদের বঞ্চনা ও বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথও নির্দেশ করেছেন। তাঁর মতে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা সহজে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের মধ্যেও একজন নারী অন্য নারীর অধিকার ও শিক্ষার বিষয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করে না। তাই নারীদেরই নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
উদ্দীপকের শিশির একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও রক্ষণশীল ও পিতৃতান্ত্রিক পরিবেশের কারণে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। অল্প বয়সেই তাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে সে একজন সহানুভূতিশীল স্বামী পায়, যার অনুপ্রেরণায় তার শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে শিশির পশ্চাৎপদ সমাজের নারীদের শিক্ষিত করার লক্ষ্যে নারীশিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে।
শিশিরের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রোকেয়ার প্রত্যাশিত আদর্শই বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি যেমন নারীদের শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতে চেয়েছিলেন, শিশিরও তেমনি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করেছে। স্বামীর সহযোগিতায় শিক্ষা অর্জনের পর অন্য নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার প্রচেষ্টা শিশিরকে প্রাবন্ধিকের আদর্শের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিশির ও ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের ইচ্ছা ও আদর্শের মধ্যে সরাসরি ও গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [এস.এস.সি. সকল বোর্ড-২০১০] শেক্সপিয়রের বিস্ময়কর প্রতিভাধর বোনের নাম ডুডিথ। মা-বাবার উৎসাহে শেক্সপিয়র গ্রামের স্কুলে পড়েছিলেন। অনেক মহৎ সাহিত্য যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণের প্রাথমিক পাঠ শিখেছিলেন। বাল্যকালে দুরন্ত শেক্সপিয়র খরগোশ, হরিণ শিকার করতেন। জীবনের এসব অভিজ্ঞতা তাঁরে পরবর্তী জীবনে সাফল্য এনে দেয়। ডুডিথ ভাইয়ের মতোই সাহসী, কল্পনাপ্রবণ এবং বিশ্বজয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু মেয়ে বলে মা তাঁকে স্কুলে পাঠালেন না। লুকিয়ে ভাইয়ের বই পড়তে দেখলে মা বকা দিয়ে রান্না করতে পাঠিয়ে দিতেন। কৈশোরের পূর্বেই তাঁর বাগদান হয়ে গেল। ক. ‘অবলা জাতি’ অর্থ কী খ. ‘অবরোধ প্রথা’ বলতে কী বোঝো? গ. ডুডিথের মায়ের মানসিকতাকে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের ‘মানসিক দাসত্বের’ সঙ্গে কীভাবে তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “ডুডিথের প্রতিভা বিকাশের অন্তরায়সমূহ ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে।”- তোমার মতামত দাও। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ] জনাব মাহবুব আলী একটি স্বনামধন্য কলেজের শিক্ষক। রসায়নশাস্ত্র পড়ানোর ফাঁকে জীবনের রসায়ন নিয়েও কথা বলেন। তিনি মনে করেন; “মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে কোনো কাজের কাজ কিছুই হবে না। তারা বরং রান্নাঘরেই বেশি শোভমান।” শুধু কি মাহবুব স্যার এমনটা ভাবেন? সমাজের অজস্র পুরুষের ধারণা মাহবুব স্যারের মতনই। নারীকে রান্নাঘরে বন্দি রাখার বক্তব্য যুগে যুগে এসেছে। ব্যক্তি ও সময় বদলেছে কিন্তু চেতনা সমান রয়ে গেছে। ক. “বর। কেন সখি কোণে কাঁদিছ বসিয়া।” ‘নব দম্পতির প্রেমালাপ’ কবিতায় বরের এ প্রশ্নের উত্তরে কনে কী বলেছিল? খ. সীতা ও রামের মধ্যে সম্পর্ককে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকের ‘অজস্র পুরুষের ধারণা মাহবুব স্যারের মতনই’ কথাটি ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের মূল চেতনাকে প্রমাণ করে।”-মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [সিলেট ক্যাডেট কলেজ] ডাঃ রেবেকা বেগম একটি নারী সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত। চাকরি, সংসার ও সংগঠন নিয়েই রেবেকার ছোটাছুটি। কিন্তু তাঁর এ ছোটাছুটি তাঁর শ্বশুরবাড়ির মানুষজন বাড়াবাড়ি হিসেবে গণ্য করেন। স্বামী ডাঃ সরফরাজ খান তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘বাড়ির মানুষজনের কথায় তুমি কিছু মনে করো না।’ স্বামীর কথায় রেবেকা সাহসী হয়ে ওঠেন। তিনি ছুটে চলেন- দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি এসিড নিক্ষেপ, বাল্যবিয়ে ও যৌতুকসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ক. ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে ‘অবলা জাতি’ কথাটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? খ. “অবলার হাতেও সমাজের জীবন-মরণের কাঠি আছে।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। গ. “রেবেকা ‘অর্ধাঙ্গী’ রচনার লেখকের প্রতিনিধিত্ব করছেন।”-উক্তিটি আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘অর্ধাঙ্গী’ রচনায় নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনা করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [নটর ডেম কলেজ, ঢাকা] নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকার হে বিধাতা নত করি মাথা পথপ্রান্তে কেন রব জাগি দৈবাগত দিনে? শুধু শূন্যে চেয়ে রব? কেন নিজে নাহি লব চিনে সার্থকের পথ? ক. ‘বোধোদয়’ গ্রন্থটির লেখক কে? খ. “প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নাই।”- ব্যাখ্যা করো। গ. ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের সঙ্গে উদ্দীপকের বক্তব্য কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো। ঘ. “নারীশিক্ষার উন্নতিকল্পে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আবশ্যক।”- উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা] আফজাল সাহেব ক্লাসে তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রায়ই একটা কথা বলেন, “বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের বাদ দিয়ে উন্নতির কথা চিন্তা করাই যায় না। আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ হবে একে অপরের সহযোগী, সহকর্মী।” বস্তুত, নারী ও পুরুষের পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার যৌক্তিক ক্ষেত্রে মেনে নেওয়ার প্রবণতা থেকে আত্মসম্মানবোধ নিয়ে নারীদের বেরিয়ে আসা উচিত। ক. ‘নজম্-উল-ওলামা’ অর্থ কী? খ. “তাঁহারা সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলাইতে চাহেন।”- উক্তিটির তাৎপর্য কী? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত “যৌক্তিক ক্ষেত্রে মেনে নেওয়ার প্রবণতা থেকে আত্মসম্মানবোধ নিয়ে নারীদের বেরিয়ে আসা উচিত? মন্তব্যটি ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উদ্দীপকে উল্লিখিত আফজাল সাহেবের মানসিকতা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানসিকতারই বাস্তব প্রতিফলন।”-বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ] এ সংসারে এসেছিলাম ন’বছরের মেয়ে তারপর এই দীর্ঘ জীবন বেয়ে রাঁধার পরে খাওয়া আর খাওয়ার পরে বাঁধা “বাইশ বছর পরও এক চাকাতেই বাঁধা। ‘ক. ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতাটি উদ্ধৃত হয়েছে? খ. “অবলার হাতেও সমাজের জীবন-মরণের কাঠি আছে।”-ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে? আলোচনা করো। ঘ. ‘উদ্দীপক ও ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বাঙালি নারীসমাজের পারিবারিক বঞ্চনার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।”- তোমার মতামত দাও। |
নিচে অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।