সংস্কৃতি বলতে আমরা সাধারণত সমাজের মানুষের জীবনযাপনের ধারাকে বুঝে থাকি। অর্থাৎ সংস্কৃতি হলো আমাদের জীবনপ্রণালি। মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণের লক্ষ্যে যা কিছু সৃষ্টি করে তাই হলো তার সংস্কৃতি। এই পোস্টে ৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] আজমল সাহেব ০৫ বছর পর কাতার থেকে দেশে ফিরে তার ছেলেমেয়েদের পরিবর্তন দেখে বিস্মিত হলেন। তার মেয়ে ইন্টারনেট থেকে ঘরে বসেই নতুন নতুন তথ্য ও দেশ-বিদেশের খবর জানছে। ছেলে ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করছে। তার ছোটো ভাই বিদেশ থেকে অনলাইনে টাকা পাঠাচ্ছে। বাড়ির অন্য সদস্যাদের জীবনযাপনেও পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। ক. সামাজিক উন্নয়ন কী? খ. অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো। গ. আজমল সাহেবের পরিবারে কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের পরিবর্তনগুলো সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে- এর পক্ষে তোমার যুক্তি দাও। |
উত্তরঃ
ক. সামাজিক উন্নয়ন হলো এক ধরনের সামাজিক পরিবর্তন।
খ. অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলে।
সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্য কোনো সংস্কৃতি শিখে নেয় এবং তার সাথে মানিয়ে নেয়। যখন মানুষ কোনো নতুন জায়গায় আসে বা নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়, তখন সে সেই জায়গার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-চেতনা ও মূল্যবোধ শিখে নিজের জীবনের অংশ করে। এইভাবেই ধীরে ধীরে নতুন সংস্কৃতিটি তার জীবনে আত্তীকৃত হয়ে যায়।
গ. আজমল সাহেবের পরিবারে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। সময়, পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কৃতি বদলাতে থাকে। একটি প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সংস্কৃতি চলে আসে, এই প্রক্রিয়ায় সংস্কৃতিতে পরিবর্তন ঘটে। এছাড়া অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতি বদলায়। প্রযুক্তির উন্নয়ন এই পরিবর্তনকে দ্রুত করে।
উদ্দীপকে আজমল সাহেব পাঁচ বছর পর দেশে ফিরে দেখেছেন, তার মেয়ে ঘরে বসে ইন্টারনেট থেকে নতুন তথ্য ও খবর নিচ্ছে, ছেলে ফেসবুকে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, আর ছোট ভাই বিদেশ থেকে অনলাইনে টাকা পাঠাচ্ছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন আজমল সাহেবের পরিবারের সংস্কৃতিতে পরিবর্তনকে দেখায়।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিবর্তনগুলো সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করি।
প্রযুক্তির উন্নতি আমাদের সমাজের রূপ পরিবর্তনকে দ্রুত করেছে। তথ্য প্রযুক্তির কারণে পুরো বিশ্ব এখন একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেছে। ফলে যোগাযোগ অনেক সহজ এবং দ্রুত হয়েছে। ইন্টারনেটের সাহায্যে আমরা দেশের মধ্যে বা দেশের বাইরে যেকোনো মানুষের সঙ্গে সহজে কথা বলতে পারি, খোঁজখবর নিতে পারি, টাকা পাঠাতে পারি, এবং বিভিন্ন তথ্য খুব দ্রুত সংগ্রহ করতে পারি। ফেসবুকের মাধ্যমে দেশে বা বিদেশে যেকোনো মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা, মতামত বিনিময় করা সহজ হয়ে গেছে। এভাবে তথ্য প্রযুক্তি সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উদ্দীপকের আজমল সাহেবের পরিবারে তথ্য প্রযুক্তির উল্লিখিত দিকগুলোর ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তথ্য প্রযুক্তির এরূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার তার পরিবারের সদস্যদের কাজকে সহজ করেছে। এভাবে তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে দেখানো তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] শিল্প উপাদান ক. পোড়ামাটির শিল্প, তালপাতার শিল্প, নকশিকাঁথা, কষ্টিপাথর খ. চর্যাগীতি, কীর্তনগান, মঙ্গলকাব্য, পুঁথিসাহিত্য, গদ্যসাহিত্য ক. চর্যাপদের কাল নির্ণয় করেন কে? খ. সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ কেন ঘটে? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ক’ শিল্পটির ধরন ব্যাখ্যা করো। ঘ. “বাঙালির সংস্কৃতির বিকাশে ‘খ’ শিল্পটির গুরুত্ব অপরিসীম”-বিশ্লেষণ করো। |
উত্তরঃ
ক. চর্যাপদের কাল নির্ণয় করেন বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
খ. অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করার জন্য সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ ঘটে।
যখন মানুষ কোনো নতুন সংস্কৃতি বা পরিবেশে চলে যায়, তখন সে সেখানে থাকা মানুষের ভাব-ভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা ও মূল্যবোধসহ পুরো জীবনধারার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে চায়। এ কারণেই নতুন পরিবেশের সংস্কৃতিকে সে নিজের মধ্যে গ্রহণ করে, অর্থাৎ সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ ঘটে।
গ. ধরন অনুযায়ী উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ক’ শিল্পটি হচ্ছে দৃশ্যশিল্প।
প্রাচীনকালে বাংলা এলাকায় ছাঁচ ব্যবহার করে মাটির ইট দিয়ে মন্দির বানানো হতো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হলো মাটির পাত বা ফলক তৈরি করা, তাতে ছবি খোদাই করা এবং পুড়িয়ে স্থায়ী করা। এ ধরনের শিল্পকে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির শিল্প বলা হয়। এছাড়া কালো কষ্টিপাথর ও নানা রঙের মাটি দিয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীর মূর্তি বানানোর প্রথাও খুব পুরনো।
পাল যুগে তালপাতায় দেশীয় রঙ দিয়ে আঁকা ছবিও আজকের শিল্পরসিকদের কাছেও প্রশংসিত। বাংলার নকশিকাঁথার ঐতিহ্যও বহু পুরনো। গ্রামীণ নারীরা ঘরে ঘরে কাঁথা সেলাই করে তাতে গল্প ও ছবি খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলতেন। এখনো দরিদ্র নারীরা এই শিল্পকর্মটি টিকিয়ে রেখেছেন। উদ্দীপকে ‘ক’ শিল্পের উপাদান হিসেবে পোড়ামাটির শিল্প, তালপাতার শিল্প, নকশিকাঁথা ও কষ্টিপাথরের নাম এসেছে; যা বোর্ড বই অনুযায়ী দৃশ্যশিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
ঘ. বাঙালির সংস্কৃতির বিকাশে ‘খ’ শিল্পের অর্থাৎ সাহিত্য শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে ‘খ’ শিল্পের উপাদান হিসেবে চর্যাগীতি, কীর্তন গান, মঙ্গলকাব্য, পুঁথিসাহিত্য ও গদ্যসাহিত্যের কথা বলা হয়েছে। এগুলো সাহিত্য শিল্পের মধ্যে পড়ে।
মানুষ কেমন জীবন যাপন করে, কী কী ব্যবহার করে, কী আচার-অনুষ্ঠান পালন করে, কী সৃষ্টি করে, সবই তার সংস্কৃতির অংশ। সাহিত্যও সংস্কৃতির একটি অংশ। বাঙালির প্রথম সাহিত্য হলো চর্যাপদ, যা প্রায় বারোশো বছর আগে বৌদ্ধ সাধকরা লিখেছেন। সুলতানি আমলে শ্রীচৈতন্যের বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবে কীর্তন গান রচনা শুরু হয়, যা বৈষ্ণব পদাবলী নামে পরিচিত। এক সময় বাংলায় দেশীয় দেবদেবীর কাহিনি নিয়েও নানা কাব্য রচিত হয়, যাকে মঙ্গলকাব্য বলা হয়। মুসলিম সমাজেও এক সময় পুঁথি সাহিত্যের চাহিদা ছিল। উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের সূচনা হয়, যেটির ভিত রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। পরবর্তী সময়ে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সাহিত্যিকের লেখার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও বিকশিত হয়।
সব মিলিয়ে, সাহিত্য শিল্প বাঙালি সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ এবং এটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] চিত্র: বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলার নিদর্শন ক. টেরাকোটা কী? খ . পাল যুগে তালপাতায় আঁকা ছবিগুলো এখনও ঝকঝকে রয়েছে কেন? গ. উদ্দীপকে বাংলার কোন শিল্পের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? বর্ণনা করো। ঘ. উদ্দীপকের শিল্পকর্ম এখনও টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বাংলার নারীদের অবদান মূল্যায়ন করো। |
উত্তরঃ
ক. মাটির ফলক বা পাত তৈরি করে তাতে ছবি অঙ্কন করে পুড়িয়ে স্থায়ী রূপ দেওয়া হলে সেটিকে টেরাকোটা বলা হয়।
খ. আঁকার ক্ষেত্রে দেশীয় উপাদান ব্যবহার এবং যথাযথ সংরক্ষণের কারণে পাল যুগে তালপাতায় আঁকা ছবিগুলো এখনও ঝকঝকে রয়েছে।
পাল যুগে তালপাতায় আঁকা ছবিগুলো দেশীয় রঙে তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো আবিষ্কৃত হওয়ার পর প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়। তাই পাল যুগে আঁকা এই তালপাতার ছবি এখনও উজ্জ্বল ও ঝকঝকে রয়েছে।
গ. উদ্দীপকে বাংলার দৃশ্যশিল্প তথা বস্তুগত শিল্পের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
বাংলার দৃশ্যশিল্পের মধ্যে নকশিকাঁথা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের নারীরা ঘরে ঘরে কাঁথা সেলাই করে তাতে খুব নিপুণভাবে গল্প ও ছবি ফুটিয়ে তুলেন। এছাড়া কাঠের কাজ বা কারুশিল্প, শঙ্খের কাজ, বাঁশ-বেত ও শোলার কাজেও বাংলার মানুষ দক্ষতা দেখিয়েছে এবং তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। এ সবই দৃশ্যশিল্পের অংশ।
উদ্দীপকেও নকশিকাঁথা, বেতের চেয়ার ও শীতল পাটি, বাঁশের ঝুড়ি ও কুলারের ছবি রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাংলার দৃশ্যশিল্পের বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের শিল্পকর্মগুলো এখনও টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বাংলার নারীদের অবদান অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকে বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং নকশিকাঁথা দেখা যাচ্ছে। এই সব শিল্প মূলত নারীদের হাতে তৈরি হয় এবং এগুলো টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বাংলার নারীদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাচীনকাল থেকে বাংলার গ্রামীণ নারীরা তাদের অবসর সময়ে কাঁথা সেলাই করে তাতে অনবদ্য শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন। এ ধরনের কাঁথাকে নকশিকাঁথা বলা হয়। এখনো সমাজের দরিদ্র নারীরা এই শিল্পকর্মটি টিকিয়ে রেখেছেন। এছাড়া তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিসপত্র বানিয়ে তাদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রকাশ করছেন। এই কাজগুলোই এসব শিল্পকর্ম টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, উদ্দীপকের শিল্পকর্মগুলো টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বাংলার নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। [রাজশাহী বোর্ড ২০১৯] মামুন উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য কানাডা যায়। সেখানে সে কানাডার মানুষের জীবনধারা ও আচার-আচরণ শিখে ও সেগুলো চর্চা করতে চেষ্টা করে। সেখানে দশ বছর অবস্থান করে সে বাংলাদেশে ফিরে এদেশের সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করে। এখন মানুষ মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করে। এখন একজনকে বাজারে গিয়ে পোশাক কিনতে হয় না বরং অনলাইনেই কেনাকাটা করতে পারে। ক. চর্যাপদ কী? খ. আমরা আমাদের সংস্কৃতি সম্বন্ধে সচেতন হব কেন? গ. কানাডায় মামুনের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির পরিবর্তনের কোন উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কি মনে কর তোমার পাঠ্যবইয়ের যে ধারণাটি বাংলাদেশে মামুনের পর্যবেক্ষণে প্রতিফলিত হয়েছে তা সংস্কৃতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। [ঢাকা বোর্ড ২০১৮] দৃশ্যকল্প-১: লিলির মা-চাচিরা শাড়ি পরলেও সে বিয়ের পর শাড়ি না পরে সালোয়ার-কামিজ পরছে। এতে সে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। চাচাতো ভাইবোনদের সাথে সে একত্রে বড় হলেও লিলি তার স্বামী-সন্তান নিয়ে এককভাবে থাকছে। দৃশ্যকল্প- ২: ইচলাদি গ্রামের মানুষ এখন মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের সকল সংবাদ দ্রুত সংগ্রহ করে। এর ফলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হয়েছে। ক. সংস্কৃতি কাকে বলে? খ. বাংলাকে সংগীতের দেশ বলা হয় কেন? গ. দৃশ্যকল্প-১ এ সংস্কৃতির যে বিষয়টির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো। ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ সংস্কৃতির পরিবর্তনের যে কারণটি নির্দেশ করছে সেটিই কি একমাত্র কারণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। [দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭] দৃশ্যপট-১ : মল্লিকা সোনামসজিদ বেড়াতে গিয়ে মসজিদের দেয়ালে অনেক পোড়ামাটি ও পাথরের কাজ দেখল। সেখান থেকে ফেরার পথে বারোঘরিয়া নামক স্থান থেকে কারুকাজ করা মাটির থালাবাসন ও ফুলদানী কিনল। দৃশ্যপট-২: বস্ত্রমেলায় সোফিয়া দেখল একটি দোকানে সিল্ক ও জামদানি শাড়ি, নকশি কাঁথা বিক্রি হচ্ছে। সেখানে বেশকিছু বিদেশিকে ঐ পণ্যগুলো কিনতে দেখল। ক. আদিম সমাজ কেমন ছিল? খ. সংস্কৃতায়ন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১ এ দৃশ্যশিল্পের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. বাঙালির সংস্কৃতি বিকাশে দৃশ্যপট-২-এর শিল্পকর্মের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। [বরিশাল বোর্ড ২০১৮] আসিফ ও যোশেফ দুই বন্ধু। তারা দীর্ঘদিন বিদেশে পড়াশুনা শেষে দেশে ফিরেছে। আসিফ দেশে ফিরে তার পছন্দের খাবার ভাত-মাছ ও সবজি খেতে চাইল। অপরদিকে যোশেফ বিদেশি খাবারে অভ্যস্ত হয়ে জুস ও বার্গার খেতে চাইল। পোশাকের ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে একই ধরনের পার্থক্য দেখা গেল। ক. সংস্কৃতি কী? খ. নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সামাজিকীকরণে কোনটির প্রভাব বেশি? ব্যাখ্যা করো। গ. দুই বন্ধুর সংস্কৃতির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো। ঘ. যোশেফ দেশীয় সমাজের সাথে নিজেকে কেন খাপ খাইয়ে চলতে পারছে না? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। [যশোর বোর্ড ২০১৯] ইরা’ তার বাবার সাথে জাতীয় জাদুঘরে বেড়াতে গিয়ে মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখল। রাজা-রানিদের ব্যবহার্য বিভিন্ন তৈজসপত্র ও কাঠের কাজ করা কারুশিল্প দেখল। তার বাবা তাকে বলল, এগুলো হলো আমাদের অতীত ঐতিহ্য। এমনকি ক্ষেত-খামারে কাজ করার সময় চাষিরা জারি-সারি গান। গাইত, জেলেরা গাইত ভাটিয়ালি গান। ক. সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি কী? খ. প্রযুক্তি কীভাবে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে? গ. ইরার দেখা শিল্পকর্মগুলো কোন ধরনের শিল্পের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো। ঘ. ইরার বাবার কথায় আমাদের সংস্কৃতির মননশীলতার পরিচয় বহন করে- মূল্যায়ন করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯। [সিলেট বোর্ড ২০১৯] রূপা দীর্ঘদিন মা-বাবার সাথে বিদেশে ছিল। সম্প্রতি সে দেশে বেড়াতে এসেছে। রূপা ও তার চাচাতো বোনেরা একত্রে নিজ বাসা খুলনা থেকে কুয়াকাটায় সূর্যাস্ত দেখতে যায়। সেখানে বাঁশের তৈরি কিছু সুন্দর সুন্দর কটেজ দেখে সে বিস্মিত হয়। নৌপথে ফিরে আসার সময় মাঝিদের কণ্ঠে ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম না’- গানটি শুনতে পায়। ক. সংস্কৃতি কী? খ. সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার একটা কারণ ব্যাখ্যা করো। গ. রূপার দেখা কটেজটি কোন শিল্পের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের শেষ অংশে যে শিল্পের ইঙ্গিত রয়েছে তা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে- বিশ্লেষণ করো। |
নিচে ৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।
৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন পিডিএফ
আরও পড়ুনঃ ৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর