‘সুচেতনা’ কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ মানুষের ভেতরে জাগ্রত হওয়া এক গভীর শুভ বিশ্বাসের কথা বলেছেন, যাকে তিনি মন থেকে কামনা করেন। এই চেতনা পৃথিবীর সব অন্যায়, অনিয়ম, যুদ্ধ, মৃত্যু ও ভয়াবহ সংকটকে অতিক্রম করার শক্তি রাখে। এই পোস্টে সুচেতনা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
সুচেতনা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১। [বোর্ড বইয়ের প্রশ্ন] “অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ, যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;. যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই প্রীতি নেই করুণার আলোড়ন নেই পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া। যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।” ক. ‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে? খ. ‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকটিতে ‘সুচেতনা’ কবিতাটির কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. ‘উদ্দীপকটিতে ‘সুচেতনা’ কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।”- উক্তিটির যৌক্তিকতা বিচার করো। |
উত্তরঃ
ক. ‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
খ. পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন’- উক্তিটিতে গভীরতর অসুখ বলতে কবি মানুষের নৈতিক ও মানবিক অবক্ষয়ের কথা বুঝিয়েছেন।
পৃথিবীতে যুদ্ধ, হিংসা, স্বার্থপরতা ও নিষ্ঠুরতা বেড়ে গেছে। মানুষ মানুষকে ভালোবাসার বদলে ক্ষতি করছে এবং মানবতা হারিয়ে ফেলছে। ফলে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নষ্ট হচ্ছে। কবি মনে করেন, এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অসুখ। এই অমানবিক অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য মানুষের মধ্যে শুভ চেতনা ও মানবিকতা জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন।
গ. উদ্দীপকটিতে জীবনানন্দ দাশ-এর ‘সুচেতনা’ কবিতার মানবসভ্যতার সংকট ও মানবিক অবক্ষয়ের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে কবি দেখিয়েছেন, পৃথিবীতে এমন এক অন্ধকার সময় এসেছে যেখানে অমানবিক ও নিষ্ঠুর মানুষেরাই সমাজে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। যাদের হৃদয়ে প্রেম, মায়া ও করুণা নেই, তাদের পরামর্শেই পৃথিবী চলছে। অন্যদিকে যারা সত্য, ন্যায়, শিল্প ও মানবতার ওপর বিশ্বাস রাখে, তারা অবহেলিত ও নির্যাতিত হচ্ছে।
‘সুচেতনা’ কবিতাতেও কবি পৃথিবীর গভীর অসুখের কথা বলেছেন। সেখানে যুদ্ধ, রক্তপাত ও মানুষের নিষ্ঠুর আচরণের চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও ধ্বংস ও হতাশার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং পৃথিবীর অশুভ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে ‘সুচেতনা’ কবিতার সমাজসংকট ও মানবতার বিপর্যয়ের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উক্তিটি যথার্থ। কারণ উদ্দীপকটিতে জীবনানন্দ দাশ-এর ‘সুচেতনা’ কবিতার শুধু অন্ধকার ও মানবিক অবক্ষয়ের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি।
উদ্দীপকে মানুষের নিষ্ঠুরতা, প্রেমহীনতা ও নৈতিক পতনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সত্য ও মানবতার প্রতি বিশ্বাসী মানুষেরা অবহেলিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। এই দিকটি ‘সুচেতনা’ কবিতার “পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন” ভাবের সঙ্গে মিল রয়েছে।
কিন্তু ‘সুচেতনা’ কবিতায় শুধু হতাশা বা অন্ধকারের কথা বলা হয়নি। কবি মানুষের মুক্তি, শুভ চেতনা ও ভবিষ্যতের আশার কথাও বলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন পৃথিবী এই অশুভ অবস্থা থেকে মুক্ত হবে। “এই পথে আলো জ্বেলে- এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে” এই পঙ্ক্তিতে কবির আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া কবি শাশ্বত অন্ধকারের মাঝেও অনন্ত সূর্যোদয়ের স্বপ্ন দেখেছেন।
অর্থাৎ কবিতাটির মূল বক্তব্য হলো মানবতার জাগরণ ও মুক্তির আশা। কিন্তু উদ্দীপকে সেই আশাবাদী ও মুক্তির দিকটি অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে ‘সুচেতনা’ কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২। আধুনিক সভ্যতার কলরব, যান্ত্রিকতা আর প্রতিযোগিতায় মানুষ যেন নিজের অস্তিত্ব ভুলে বসেছে। সে ধন, মান, খ্যাতির পেছনে ছুটে চললেও অন্তরে শুধু শূন্যতা জমে। এই শূন্যতা পূরণ করতে পারে শুধু শুদ্ধ চেতনা। যা মানুষকে আবার মানুষ করে তোলে, সভ্যতাকে দেয় নতুন দিশা। ক. ‘সুচেতনা’ কবিতায় ‘শিশির শরীর’ কোন ইঙ্গিত বহন করে? খ. ‘এ-বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল’—ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের মূল প্রতিপাদ্য ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন স্তবকের ভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো। ঘ. ‘উদ্দীপকের আধুনিক মানুষের শূন্যতা আর ‘সুচেতনা’ কবিতার গভীর অসুখ একই সূত্রে গাঁথা’—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৩। ইতিহাস সাক্ষী প্রেম, ন্যায় আর মানবতার নামে যুদ্ধ হয়েছে, রক্তপাত হয়েছে। তবুও মানুষের মনে আশার প্রদীপ নিভে যায়নি। প্রতিটি অন্ধকার রাতের পরেই সূর্য ওঠে, প্রতিটি বিপর্যয়ের পরেই জেগে ওঠে নতুন সকাল। এই চিরন্তন সত্য মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ক. ‘মাটি-পৃথিবীর টানে’ কবি কোথায় এসেছেন? খ. ‘মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে’—উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিরন্তন সত্য ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন চরণদ্বয়ে প্রতিফলিত? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের ইতিহাসবোধ ও ‘সুচেতনা’ কবিতার দর্শন অভিন্ন সত্যে উপনীত হয়েছে”—বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৪। অনেক সংগ্রামের পরও মানুষ আজও অশান্ত, আজও অস্থির। সভ্যতার অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে বেড়েছে হিংসা, বৈষম্য, অন্যায়। এ যেন এক গভীর শারীরিক ব্যাধি। এই ব্যাধি থেকে মুক্তির পথ কী? কবি মনে করেন, সুচেতনার আলোতেই লুকিয়ে আছে সেই মুক্তির দিশা। ক. ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা? খ. কীভাবে পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ‘গভীর ব্যাধি’ ‘সুচেতনা’ কবিতায় কী রূপে প্রকাশ পেয়েছে? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের মুক্তির পথ ও ‘সুচেতনা’ কবিতার ক্রমমুক্তির ধারা একই সূত্রে আবদ্ধ”—মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৫। ‘আমরা কি পারবো একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে?’ এই প্রশ্ন হয়তো প্রতিটি সংবেদনশীল মানুষের মনের গহীনে খোঁচা দেয়। সেই পৃথিবীতে থাকবে না বর্ণবিদ্বেষ, ধর্মের নামে বিভেদ, অর্থের দম্ভ। সেখানে মানুষ হবে সহজ, উদার, কল্যাণময়। ক. ‘সুচেতনা’ কবিতায় ‘ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিক’ কারা? খ. ‘অনন্ত সূর্যোদয়’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? গ. উদ্দীপকের সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন অংশের ভাবকে স্পষ্ট করে? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের মানবিক সমাজকাঠামো ‘সুচেতনা’ কবিতার ‘ভালো মানব-সমাজ’ গঠনের প্রত্যাশারই প্রতিফলন”—বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৬। একজন সত্যিকারের মনীষী কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে লিপ্ত হন না। তিনি বরণ করে নেন কষ্ট, ঘৃণা, বঞ্চনা। শুধু এই আশায় যে, একদিন না একদিন পৃথিবী থেকে ধ্বংসের কালো ছায়া সরে যাবে। তার জীবন প্রমাণ করে আলো জ্বালানোর জন্য নিজেকে পুড়তে হয়। ক. ‘সুচেতনা’ সম্বোধনটি কার প্রতি? খ. ‘না এলেই ভালো হতো অনুভব করে’—কবি কেন একথা বলেন? গ. উদ্দীপকের ‘মনীষীর আত্মদান’ ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন চরণের ভাবের সঙ্গে মিলে যায়? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের ত্যাগ ও ‘সুচেতনা’ কবিতার পথচলা—উভয়েই মানবজাতির মুক্তির জন্য”—বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৭। বিজ্ঞানের এই যুগেও মিথ্যে, অসহিষ্ণুতা, অমানবিকতা যেন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। মানুষ আজ বোমা, গোলা, অস্ত্র তৈরিতে পটু, কিন্তু নিজের ভিতরের অন্ধকার দূর করতে অসমর্থ। কবি তাই আহ্বান জানান এসো, সুচেতনায় জাগ্রত হই। ক. জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোথায়? খ. মানুষ কেন পৃথিবীর কাছে ঋণী? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের ‘অস্ত্রের যুগের অসারতা’ ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন অংশে ইঙ্গিত পেয়েছে? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের বক্তব্য ‘সুচেতনা’ কবিতার গভীর অসুখ ও তার নিরাময়ের পথেরই আধুনিক প্রতিচ্ছবি”—বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৮। একজন নাবিক যেমন ঝড়-তুফান উপেক্ষা করে এগিয়ে যায় লক্ষ্যের দিকে, তেমনি কবিও পথের বাধা, ব্যর্থতা, ক্লান্তি উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে চান। তিনি জানেন, আজ না হোক, কাল না হোক—একদিন সেই কাঙ্ক্ষিত ভোর আসবেই। সেই ভোরেই গড়ে উঠবে সত্যিকার মানবসমাজ। ক. ‘সুচেতনা’ কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? খ. ‘সকলি অনন্ত সূর্যোদয়’—এই সূর্যোদয় কোথায় ঘটে? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের নাবিকের চেতনা ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন নাবিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের প্রত্যাশা ও ‘সুচেতনা’ কবিতার প্রান্তিক বিশ্বাস অভিন্ন লক্ষ্যে আবদ্ধ”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। |
| সৃজনশীল প্রশ্নঃ ৯। মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো অসহিষ্ণুতা জয় করে সহিষ্ণু পৃথিবী গড়া। সেই পৃথিবীতে রঙ, ধর্ম, ভাষার ভেদ যেন মানুষকে আলাদা না করে, বরং আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। সেই পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলেন ইতিহাসের সব মহামানব। ক. রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দের কাব্যশৈলীকে কী বলেছেন? খ. ‘ভালোবাসা দিতে গিয়েও নিহত ভাই’—কবি কেন একথা বলেছেন? গ. উদ্দীপকের ‘সহিষ্ণু পৃথিবীর স্বপ্ন’ ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন চেতনার পরিচায়ক? আলোচনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের স্বপ্ন ও ‘সুচেতনা’ কবিতার ‘ভালো মানব-সমাজ’ একই সত্যকে নির্দেশ করে”—বিশ্লেষণ করো। |
নিচে সুচেতনা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ ফাইল দেওয়া হল।