‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম ভাব এবং কাজের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন যে, শুধু ভাব নিয়ে থাকলে কোনো লাভ নেই, ভাবকে কাজে পরিণত করতে হবে। তিনি মানুষকে সতর্ক করেছেন যে, ভাবের আবেগে বিহ্বল হয়ে কাজে নামা উচিত নয়, বরং ভালোভাবে চিন্তা করে এবং পরিকল্পনা করে কাজে নামতে হবে। এই পোস্টে ভাব ও কাজ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর লিখে দিলাম।
Table of Contents
ভাব ও কাজ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
সৃজনশীল ১। তুমি স্বপ্নে রাজা হতে পার, কোটি কোটি টাকা, বাড়ি-গাড়ির মালিক হতে পার। কল্পলোকের সুন্দর গল্পও হতে পার, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন এক জগৎ। এখানে বড় হতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। শিক্ষার দ্বারা নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে সঠিক কর্মানুশীলনের মাধ্যমে বড়ো হতে হবে। সুতরাং কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক।
ক. যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাকে কেমন হতে হবে?
খ. লেখক ‘স্পিরিট’ বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের যে দিকটি নির্দেশ করে তা বর্ণনা করো।
ঘ. ‘কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক’-মন্তব্যটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তরঃ
ক) যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন, তাকে নিঃস্বার্থ ও ত্যাগী হতে হবে।
খ) লেখক ‘স্পিরিট’ বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন কারণ এটি মানুষকে কর্মে উদ্বুদ্ধ করে। শুধু ভাব দিয়ে মানুষকে মাতাল করে রাখলে কোনো কাজ হয় না, কিন্তু আত্মার শক্তি জাগ্রত হলে মানুষ সঠিক কাজে এগিয়ে আসে। এটি মানুষকে উদ্যমী ও কর্মঠ করে তোলে, যা দেশ ও সমাজের উন্নতির জন্য প্রয়োজন।
গ) উদ্দীপকটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের সেই দিকটি নির্দেশ করে, যেখানে লেখক বলেছেন যে শুধু ভাব বা কল্পনা নিয়ে থাকলে কোনো লাভ নেই, বরং ভাবকে কাজে রূপান্তর করতে হবে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে স্বপ্ন বা কল্পনার জগতে হারিয়ে গেলে বাস্তব জীবনে সফল হওয়া যায় না। বাস্তব জীবনে সফল হতে হলে পরিশ্রম, শিক্ষা এবং সঠিক কর্মানুশীলন প্রয়োজন। ঠিক যেমন ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, ভাবকে কাজের দাস করে নিতে হবে এবং ভাবের মাধ্যমে আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলে কাজে লাগাতে হবে। উদ্দীপক এবং প্রবন্ধ উভয়ই এই বার্তা দেয় যে, শুধু ভাব নিয়ে থাকলে চলবে না, বাস্তব জীবনে কাজ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
ঘ) ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন যে, শুধু ভাব নিয়ে থাকলে কোনো লাভ নেই, ভাবকে কাজে রূপান্তর করতে হবে। উদ্দীপকের মন্তব্যটিও একই ধারণা প্রকাশ করে। কল্পনার জগতে হারিয়ে গেলে বাস্তব জীবনে কোনো উন্নতি হয় না। বরং দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই প্রকৃত মনুষ্যত্বের পরিচয়। নজরুল বলেছেন, ভাবের মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে যদি কাজের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে তা অর্থহীন। ঠিক তেমনি উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, স্বপ্ন বা কল্পনা নিয়ে সময় নষ্ট না করে বাস্তব জীবনে পরিশ্রম ও কর্মের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নতি করতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভাব বা কল্পনা শুধু মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, তাকে কাজে পরিণত করতে হবে। এটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব এবং সমাজের প্রতি কর্তব্য। এইভাবে উদ্দীপকের মন্তব্যটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের মূল চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্ন
সৃজনশীল ২। “স্বপ্ন দেখো, কিন্তু স্বপ্ন দেখার পর তা বাস্তবায়নের জন্য পরিশ্রম করো। শুধু স্বপ্ন দেখলে তা কাগজে-কলমে থেকে যায়, কিন্তু পরিশ্রমের মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ নেয়। তাই স্বপ্নকে লক্ষ্যে পরিণত করতে হলে কাজে নামতে হবে।”
ক. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লেখক ভাব ও কাজের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক দেখিয়েছেন?
খ. “ভাব জিনিসটা পুষ্পবিহীন সৌরভের মতো”—উক্তিটি দ্বারা লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত “স্বপ্ন দেখো, কিন্তু স্বপ্ন দেখার পর তা বাস্তবায়নের জন্য পরিশ্রম করো” কথাটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের কোন দিকটি নির্দেশ করে?
ঘ. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের “স্বপ্নকে লক্ষ্যে পরিণত করতে হলে কাজে নামতে হবে” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল ৩। “ভাবনা বা চিন্তা শুধু মনের মধ্যে থাকলে তা কোনো কাজে আসে না। যেমন, একজন কৃষক যদি শুধু ফসল ফলানোর কথা ভাবে কিন্তু জমিতে চাষ না করে, তাহলে কোনো ফসল পাবে না। তাই ভাবনাকে কাজে পরিণত করাই সফলতার চাবিকাঠি।”
ক. দশচক্রে ভগবান ভূত কথাটির অর্থ কী?
খ. ‘উন্মত্ত ষাঁড়’ বলতে কি বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের “ভাবনা বা চিন্তা শুধু মনের মধ্যে থাকলে তা কোনো কাজে আসে না” কথাটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের কোন দিকটি নির্দেশ করে?
ঘ. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের “ভাবনাকে কাজে পরিণত করাই সফলতার চাবিকাঠি” মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
সৃজনশীল ৪। “কল্পনা আর বাস্তবতা দুটি আলাদা জগৎ। কল্পনায় আমরা অনেক বড় কিছু হতে পারি, কিন্তু বাস্তব জীবনে তা অর্জন করতে হলে পরিশ্রম, ধৈর্য এবং নিষ্ঠা প্রয়োজন। তাই কল্পনার জগতে হারিয়ে না গিয়ে বাস্তব জীবনে কাজ করে সফলতা অর্জন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
ক. কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
খ. “ভাবকে কার্যের দাসরূপে নিয়োগ করিতে না পারিলে ভাবের কোনো সার্থকতাই থাকে না”– ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের “কল্পনা আর বাস্তবতা দুটি আলাদা জগৎ” কথাটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের কোন দিকটি নির্দেশ করে?
ঘ. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের “কল্পনার জগতে হারিয়ে না গিয়ে বাস্তব জীবনে কাজ করে সফলতা অর্জন করাই বুদ্ধিমানের কাজ” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল ৫। “ভাবনা বা চিন্তা শুধু মনের মধ্যে থাকলে তা কোনো কাজে আসে না। যেমন, একজন কৃষক যদি শুধু ফসল ফলানোর কথা ভাবে কিন্তু জমিতে চাষ না করে, তাহলে কোনো ফসল পাবে না। তাই ভাবনাকে কাজে পরিণত করাই সফলতার চাবিকাঠি।”
ক. নজরুল ইসলাম কত বছর বয়সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হন?
খ. লেখক কেন তরুণদের হতাশা নিয়ে চিন্তিত?
গ. উদ্দীপকের “ভাবনা বা চিন্তা শুধু মনের মধ্যে থাকলে তা কোনো কাজে আসে না” কথাটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের কোন দিকটি নির্দেশ করে?
ঘ. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের “ভাবনাকে কাজে পরিণত করাই সফলতার চাবিকাঠি” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল ৬। “স্বপ্ন দেখো, কিন্তু স্বপ্ন দেখার পর তা বাস্তবায়নের জন্য পরিশ্রম করো। শুধু স্বপ্ন দেখলে তা কাগজে-কলমে থেকে যায়, কিন্তু পরিশ্রমের মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ নেয়। তাই স্বপ্নকে লক্ষ্যে পরিণত করতে হলে কাজে নামতে হবে।”
ক. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে ভাবকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
খ. ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’ কথাটি দিয়ে কি বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের “স্বপ্ন দেখো, কিন্তু স্বপ্ন দেখার পর তা বাস্তবায়নের জন্য পরিশ্রম করো” কথাটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের কোন দিকটি নির্দেশ করে?
ঘ. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের “স্বপ্নকে লক্ষ্যে পরিণত করতে হলে কাজে নামতে হবে” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।