প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর

কবিতাটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ আল মাহমুদের গভীর এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির এক চমৎকার চিত্র। কবি শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেনটি ধরতে না পারার হতাশা ও ব্যর্থতা, পাশাপাশি মায়ের মমতা ও গ্রামের সহজ জীবনকে ফিরে পেয়ে পরিতৃপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। এই পোস্টে প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর লিখে দিলাম।

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

১। আল মাহমুদ কবে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।

২। আল মাহমুদ এর প্রকৃত নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদ এর প্রকৃত নাম মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।

৩। আল মাহমুদ এর পিতার নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদ এর পিতার নাম আবদুর রব মির।

৪। আল মাহমুদ এর মাতার নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদ এর মাতার নাম রওশন আরা মির।

৫। আল মাহমুদ কোথায় পড়াশোনা করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

৬। আল মাহমুদ কোন পেশায় জড়িত ছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন।

৭। আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ ও ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

৮। আল মাহমুদ কোন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেছিলেন।

৯। আল মাহমুদ এর প্রধান কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদ এর প্রধান কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সোনালী কাবিন’।

১০। আল মাহমুদ কবে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

১১। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতাটি আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

১২। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতার শুরুতে কবি কোথায় যাচ্ছিলেন?
উত্তর: কবি শহরে যাচ্ছিলেন।

১৩। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতায় কবি কেন ট্রেন ধরতে পারেননি?
উত্তর: ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে।

১৪। কবি কাদের সঙ্গে শহরে যেতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: কবি তাদের সঙ্গে শহরে যেতে চেয়েছিলেন যারা ট্রেনে ছিল।

১৫। কবি ট্রেন ধরতে না পারলে কেমন অনুভব করেছিলেন?
উত্তর: কবি হতাশ ও পরাজিত অনুভব করেছিলেন।

১৬। কবির বাবা-মায়ের কী পরামর্শ ছিল?
উত্তর: বাবা-মা তাকে ট্রেন ধরার জন্য তাড়াতাড়ি করতে বলেছিলেন।

১৭। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতায় কবি কোথায় ফিরে যাচ্ছিলেন?
উত্তর: কবি বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন।

১৮। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতায় কবির ভাইবোনরা কীভাবে প্রস্তুতি নিত?
উত্তর: তারা সতর্ক ও সচেতনভাবে প্রস্তুতি নিত।

১৯। কবি ট্রেন ধরতে না পেরে কোথায় ফিরে গিয়েছিলেন?
উত্তর: কবি বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন।

২০। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতায় কবি সূর্যের আলোতে কী দেখতে পেয়েছিলেন?
উত্তর: কবি পরিচিত নদী, গ্রাম, আটচালা ঘর দেখেছিলেন।

২১। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতায় কবি মাকে কীভাবে অনুভব করেছিলেন?
উত্তর: কবি মাকে জড়িয়ে ধরে তার লজ্জা মুছে ফেলেছিলেন।

২২। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতায় কবির জন্য কী জীবনের পরম স্বস্তি?
উত্তর: গ্রামীণ সহজ জীবন কবির জন্য পরম স্বস্তি।

২৩। কবি কোথায় ফিরে আসার পর তার মায়ের কী প্রতিক্রিয়া ছিল?
উত্তর: মায়ের মুখে হাসি ছিল।

২৪। কবি শহরের জীবন সম্পর্কে কী অনুভব করেন?
উত্তর: কবি শহরের জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা অনুভব করেন।

২৫। কবি কীভাবে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মুছে ফেললেন?
উত্তর: কবি মাকে জড়িয়ে ধরে লজ্জা মুছে ফেললেন।

২৬। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতায় কবি কোথায় হাঁটছিলেন?
উত্তর: কবি কুয়াশায় হাঁটছিলেন।

২৭। “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতায় কবির মায়ের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: মায়ের প্রতিক্রিয়া ছিল হাসি ও সান্ত্বনা।

২৮। কবি ট্রেন ধরতে না পেরে কী অনুভব করেছিলেন?
উত্তর: কবি পরাজিত ও হতাশ অনুভব করেছিলেন।

২৯। “নীলবর্ণ আলোর সংকেত” কী বোঝায়?
উত্তর: ট্রেন ছেড়ে দেবার সংকেত।

৩০। “উৎকণ্ঠিত” শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল।

৩১। “শীতের বিন্দু” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শীতের শিশির।

৩২। “বাসি বাসন” শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পূর্বদিনে ব্যবহৃত, অপরিষ্কার থালা।

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

১। “দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা” ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এই চরণের মাধ্যমে কবি তার বাড়ির প্রতি ফিরে আসার অনুভূতি এবং সেই সঙ্গে তার জীবনযাত্রার সাদাসিধে রূপ প্রকাশ করেছেন। “আটচালা” ঘরটি তার গ্রামের সহজ জীবন এবং শেকড়ের সাথে সম্পর্কিত। “দারুণ ভয়ের মতো” এই অংশে কবি সম্ভবত বোধ করছেন যে, তিনি নিজের জীবনের ব্যর্থতা ভুলে যেতে পারছেন না, কিন্তু সেই সাথে ঘরে ফিরে শান্তি পাবেন।

২। ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় কী?
উত্তর: কবিতার মূল বিষয় হল শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেনটি ধরতে না পারার পর যে হতাশা এবং পরাজয়ের অনুভূতি কবি অনুভব করেন, তারপর গ্রামে ফিরে এসে মায়ের কাছে শরণ নেয়ার মাধ্যমে সেই পরাজয়ের লজ্জা অতিক্রম করা। কবি শহরের জটিল জীবন থেকে মুক্তি পেতে চান এবং গ্রামে ফিরে এসে শান্তি অনুভব করেন, যা তার জন্য পরম স্বস্তির। মায়ের কাছে ফিরে এসে তিনি নিজের ব্যর্থতা ভুলে যান এবং শান্তি পান।

২। শহরে যাওয়ার ট্রেনটি ধরতে না পারার পর কবির কী অনুভূতি হয়?
উত্তর: কবি ট্রেনটি ধরতে না পারার পর গভীর হতাশায় ভুগেন। তার মনে হয়, সময় পেরিয়ে গিয়েছে এবং তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি যখন স্টেশনে পৌঁছান, তখন ট্রেন চলে গেছে এবং তার সঙ্গে শহরে যাওয়ার কথা ছিল এমন মানুষদের মুখ তার চোখে পড়ে, যারা তাকে জানালা দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে। এই অনুভূতি কবির জন্য একপ্রকার পরাজয়ের গ্লানি এবং অবিশ্বাস্য হতাশার সৃষ্টি করে।

৩। “কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবোব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এই চরণে কুয়াশার শাদা পর্দা দোলানোর মাধ্যমে কবি তার হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং জীবনের অন্ধকার সময়ের কথা স্মরণ করছেন। কুয়াশা যেন তার পথে একটি বাধা, যা তিনি অতিক্রম করে ঘরে ফিরে আসবেন। ঘরে ফিরে আসা মানে নিজেকে আবার নতুন করে খুঁজে পাওয়া এবং শান্তির সন্ধান পাওয়া।

৪। কবি মা-বাবার কথাগুলি কীভাবে মনে করেন?
উত্তর: কবি তার মায়ের কথাগুলি মনে করেন যখন তিনি ট্রেনটি ধরতে না পারার পর হতাশ হন। তার মা বলেছিলেন, “আজ রাত না হয় বই নিয়ে বসে থাক,” যা তাকে কিছুটা শান্তি দেয়। পাশাপাশি, তার বাবা তাকে বারবার তাড়না দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যে সময় চলে যাবে, কিন্তু তিনি আবার গাড়ি পাবেন। এসব কথাগুলি কবির মনে আশার সঞ্চার করে, যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রেন চলে গেছে।

৫। “শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে- এই চরণ দ্বারা কী বোঝায়?
উত্তর: এই চরণের মাধ্যমে কবি তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বর্ণনা করছেন। শিশিরে পাজামা ভিজে যাওয়া এক ধরনের স্নিগ্ধতা এবং শীতলতার অনুভূতি তৈরি করে, যা তার ঘরে ফেরার পথে এক ধরনের শান্তি এবং নবজীবনের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এটি তার ফিরে আসার অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত।

৬। কবির ভাইবোনদের সতর্ক প্রস্তুতির প্রতিচ্ছবি কীভাবে দেখা যায়?
উত্তর: কবির ভাইবোনেরা সবসময় খুবই সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকে, কখনোই কোনো ট্রেন বা গাড়ি ফেল করে না। কবি তাদের কথা উল্লেখ করেছেন যেমন, “জাহানারা কখনো ট্রেন ফেল করে না” এবং “ফরহাদ আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়,” যা তাদের সচেতনতা এবং প্রস্তুতির পরিচয় দেয়। এই দৃশ্য কবির নিজের ব্যর্থতার বিপরীতে আসছে, যা তার জন্য একটি তীব্র আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি করে।

৭। কবি তার ফিরে আসার সময় কী দেখতে পান?
উত্তর: কবি ফিরে আসার সময় সূর্যের আলো দেখতে পান এবং তিনি তার পরিচিত নদী, গ্রাম, এবং তাদের আটচালা ঘর দেখতে পান। এই দৃশ্য তার জন্য এক ধরনের শান্তির অনুভূতি নিয়ে আসে। পরাজয়ের পরে যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন সব কিছু যেন পুরানো অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এটি তাকে আত্মবিশ্বাস ও সান্ত্বনা দেয়।

৮। “পরাজিতের মতো আমার মুখের উপর রোদ নামলে” — ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এই লাইনটি কবির পরাজয় এবং ব্যর্থতার অনুভূতি প্রকাশ করে। “রোদ নামলে” মানে হলো সূর্যের আলো পরাজিতের মুখে এসে পড়েছে, যা তাকে আরও বেশি পরাজিত এবং লজ্জিত করে তোলে। এটি কবির হতাশাগ্রস্ত অবস্থা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবকে চিত্রিত করে।

৯। কবি মায়ের কাছে ফিরে আসার পর কী অনুভব করেন?
উত্তর: কবি মায়ের কাছে ফিরে এসে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মুছে ফেলেন। মায়ের স্নেহের কাছে ফিরে এসে তিনি তার ব্যর্থতা এবং পরাজয়ের অনুভূতি অতিক্রম করেন। মায়ের গা-ছোঁয়া ভালোবাসা তাকে শান্তি দেয়, যা তার শহরের জীবনযাত্রার কষ্ট এবং অস্থিরতা থেকে মুক্তি দেয়। কবি অনুভব করেন, মায়ের কাছে ফিরে আসা মানে নিজের ভিতরের শক্তি এবং শান্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

১০। কবি কেন “শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা” উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: কবি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা উল্লেখ করেছেন কারণ শহরের জীবন তার জন্য অত্যন্ত জটিল এবং চাপপূর্ণ। তিনি বুঝতে পারেন, গ্রামীণ জীবনই তার জন্য স্বাভাবিক এবং সহজ, যেখানে তিনি মায়ের কাছে ফিরে আসেন। শহরের জীবনে কষ্টের পর তিনি মায়ের আশ্রয়ে ফিরে আসার মাধ্যমে শান্তি খুঁজে পান।

১১। “ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান…” এই লাইনটি কবির জীবনে কী ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: এই লাইনটি সূরা আর-রাহমানের একটি আয়াত, যা কবি তার মায়ের মুখে শুনছেন। এই আয়াতটি ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তার অনুগ্রহের প্রতি কবির আস্থা প্রকাশ করে। মায়ের কাছে ফিরে এসে কবি এক ধরনের আধ্যাত্মিক শান্তি এবং স্বস্তি অনুভব করেন, যা তাকে তার ব্যর্থতা এবং লজ্জা থেকে মুক্তি দেয়।

১২। কবি কুয়াশায় কাঁপতে কাঁপতে কেন ফিরে আসছেন?
উত্তর: কবি কুয়াশায় কাঁপতে কাঁপতে ফিরে আসছেন, যা তার পথচলার অনিশ্চয়তা এবং ব্যর্থতার প্রতীক। কুয়াশা তার জীবনের অন্ধকার সময়কে তুলে ধরে, যখন তার সামনে কিছুই পরিষ্কার ছিল না। তবে, গ্রামে ফিরে আসার সময় সেই অন্ধকার সরিয়ে সূর্যের আলোয় তিনি শান্তি এবং আশার নতুন সঞ্চার দেখতে পান।

১৩। কবিতায় “ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান…” কেন উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: এই শব্দগুলি সূরা আর-রাহমান থেকে নেওয়া, যা কবি তার জীবনের সান্ত্বনা এবং দয়া প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছেন। মায়ের কাছে ফিরে এসে, কবি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই বাক্যটি কবির জীবনযাত্রার শাস্তি এবং ভোগান্তির পর মায়ের ভালোবাসা ও আল্লাহর দয়া অনুভব করার এক গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে।

১৪। কবিতায় গ্রামীণ জীবনের প্রাধান্য কেন দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় গ্রামীণ জীবনের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কারণ কবি শহরের জটিল জীবন থেকে মুক্তি খুঁজছেন। গ্রামীণ জীবন তার জন্য সহজ, শান্তিপূর্ণ এবং আত্মবিশ্বাসের উৎস। এখানে তিনি মায়ের কাছে ফিরে এসে তার পরাজয় এবং ব্যর্থতা অতিক্রম করেন, যা তাকে শান্তি এবং এক ধরনের সান্ত্বনা প্রদান করে।

১৫। “নীলবর্ণ আলোর সংকেত” এই চরণের অর্থ কী?
উত্তর: “নীলবর্ণ আলোর সংকেত” ট্রেন ছেড়ে দেবার সংকেত বোঝায়। এটি এমন একটি মুহূর্তের প্রতীক, যখন কবি ট্রেনটি ধরতে পারছেন না এবং হতাশা অনুভব করছেন। নীল আলোর সংকেতটি যেমন ট্রেনের গন্তব্যের নির্দেশক, তেমনি কবির জন্য এটি পরাজয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।

১৬। “হতাশার মতোন হঠাৎ গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে” এই লাইনটি কী বোঝায়?
উত্তর: এই লাইনটি কবির ট্রেন ধরতে না পারার হতাশা প্রকাশ করে। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর কবি অনুভব করেন যে, তাঁর সময় চলে গেছে এবং তিনি কিছুই করতে পারলেন না। এই অনুভূতি যেন এক ধরনের পরাজয়, যা কবির মনকে নিঃশেষ করে দেয়।

১৭। “এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম” — এই লাইনটি কী বোঝায়?
উত্তর: এই লাইনটি কবির মানসিক অবস্থাকে ব্যক্ত করে, যেখানে তিনি ব্যর্থতা ও হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে নিজের প্রতি হতাশ। “নিঃস্বপ্ন নিদ্রা” মানে হচ্ছে এক ধরনের অচেতন অবস্থা, যেখানে কোনো আশা বা স্বপ্ন নেই। কবি যেন তার জীবনের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলেছেন এবং তিনি নিঃশেষিত, পরাজিত অবস্থায় আছেন।

Related Posts

Leave a Comment