জীবন বিনিময় কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

গোলাম মোস্তফার “জীবন বিনিময়” কবিতাটি পিতৃস্নেহ ও আত্মত্যাগের গাথা। এটি মুঘল সম্রাট বাবর ও তাঁর পুত্র হুমায়ুনের ঐতিহাসিক ঘটনাকে ভিত্তি করে রচিত। এই পোস্টে জীবন বিনিময় কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর লিখে দিলাম।

জীবন বিনিময় কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

১। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটি কার রচিত?
উত্তর: গোলাম মোস্তফা।

২। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: বুলবুলিস্তান।

৩। গোলাম মোস্তফার জন্মস্থান কোথায়?
উত্তর: যশোর জেলার শৈলকুপা থানার মনোহরপুর গ্রামে।

৪। গোলাম মোস্তফা কবে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৮৯৭ সালে।

৫। গোলাম মোস্তফা কোথা থেকে বি.এ. পাস করেন?
উত্তর: কলকাতার রিপন কলেজ থেকে।

৬। কাব্যচর্চার ক্ষেত্রে গোলাম মোস্তফা কোথা থেকে প্রেরণা পেয়েছিলেন?
উত্তর: ইসলামি ঐতিহ্য থেকে।

৭। গোলাম মোস্তফা কখন মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ১৯৬৪ সালে।

৮। ‘বিশ্বনবী’ ও ‘মরুদুলাল’ কী ধরনের রচনা?
উত্তর: জীবনী।

৯। ‘শিকওয়া’ ও ‘জওয়াবে শিকওয়া’ কার লেখা অনুবাদ?
উত্তর: আল্লামা ইকবালের লেখা।

১০। ‘রক্তরাগ’ কোন ধরণের সাহিত্যকর্ম?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

১১। কোন সম্রাটের পুত্র হুমায়ুন?
উত্তর: সম্রাট বাবরের।

১২। হুমায়ুন কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল?
উত্তর: কবিতায় নির্দিষ্ট রোগের নাম উল্লেখ নেই, তবে এটি ছিল গুরুতর।

১৩। বাদশা বাবর কেন কাঁদছিলেন?
উত্তর: তাঁর পুত্র হুমায়ুন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ছিল।

১৪। কোন কোন ব্যক্তি হুমায়ুনের চিকিৎসার জন্য এসেছিল?
উত্তর: হেকিম, কবিরাজ ও দরবেশরা।

১৫। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টার পরও হুমায়ুনের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: তার অবস্থার আরও অবনতি হতে লাগল।

১৬। ‘বিনিময়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বদল।

১৭। বাবর চিকিৎসকদের কী প্রশ্ন করেছিলেন?
উত্তর: তিনি জানতে চেয়েছিলেন, হুমায়ুন বাঁচবে কি না।

১৮। চিকিৎসকরা কী উত্তর দিয়েছিলেন?
উত্তর: তারা নীরব ছিল, যা নেতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছিল।

১৯। এক দরবেশ বাবরকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন?
উত্তর: বাবর যদি সবচেয়ে মূল্যবান কিছু কোরবানি দেন, তবে আল্লাহ হুমায়ুনকে বাঁচাবেন।

২০। বাবরের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু কী ছিল?
উত্তর: তার নিজের জীবন।

২১। ‘নিদ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ঘুম।

২২। দরবেশের কথা শুনে বাবর কী সিদ্ধান্ত নিলেন?
উত্তর: নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হলেন।

২৩। বাবর কোথায় বসে প্রার্থনা করলেন?
উত্তর: নিরিবিলি গৃহতলে।

২৪। বাবর কী প্রার্থনা করলেন?
উত্তর: নিজের প্রাণের বিনিময়ে হুমায়ুনের জীবন চাইলেন।

২৫। বাবরের প্রার্থনার পর তিনি কী অনুভব করলেন?
উত্তর: মনে হলো, আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করেছেন।

২৬। ‘শঙ্কা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ভয়।

২৭। ‘ভিষকবৃন্দ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: চিকিৎসকগণ।

২৮। প্রার্থনার পর বাবরের শরীরে কী পরিবর্তন দেখা দিল?
উত্তর: তিনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন।

২৯। কবি বাবরের মৃত্যুকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন?
উত্তর: তিনি মরেননি, বরং অমর হয়ে গেছেন।

৩০। কবিতায় বাবরের আত্মত্যাগকে কীভাবে দেখানো হয়েছে?
উত্তর: পিতার ভালোবাসা মৃত্যুকেও পরাজিত করতে পারে।

৩১। ‘শেলসম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো।

৩২। ‘জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে’—এর অর্থ কী?
উত্তর: হুমায়ুনের জীবন প্রায় শেষ হয়ে আসছিল।

৩৩। ‘সবচেয়ে তব শ্রেষ্ঠ যে-ধন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বাবরের নিজের জীবন।

৩৪। ‘ফুকারি উঠিল’—এর অর্থ কী?
উত্তর: উচ্চস্বরে বলে উঠলেন।

৩৫। ‘বাদশাজাদা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সম্রাটের পুত্র, এখানে হুমায়ুন।

৩৬। ‘অন্তরবি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অস্তগামী সূর্য।

৩৭। ‘দৃপ্ত’ শব্দটি এখানে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: উদ্দীপিত অর্থে।

৩৮। সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন কী?
উত্তর: নিজের জীবন।

৩৯। জীবন বিনিময় কবিতা কোন সাহিত্যরীতি অনুসারে রচিত?
উত্তর: ঐতিহাসিক কাব্যধারা।

৪০। ‘তিমির রাতের তোরণে তোরণে উষার পূর্বাভাস’—এর অর্থ কী?
উত্তর: অন্ধকার শেষে নতুন আশার সূচনা।

৪১। কবিতায় কোরবানি শব্দটি কী বোঝায়?
উত্তর: বাবরের নিজের জীবন উৎসর্গ করা।।

৪২। ‘বাদশাজাদার’ অর্থ কী?
উত্তর: বাদশার পুত্র, অর্থাৎ হুমায়ুন।

৪৩। বাবরের আত্মত্যাগের ফলে কী ঘটল?
উত্তর: হুমায়ুন নতুন জীবন পেল।

৪৪। কবিতার প্রধান চরিত্র কে?
উত্তর: সম্রাট বাবর।

৪৫। বাদশা বাবর কেন কাঁদছিলেন?
উত্তর: পুত্র হুমায়ুনের মৃত্যুশয্যা দেখে।

৪৬। হুমায়ুনের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: সে মৃত্যুর কাছাকাছি ছিল।

৪৭। “নিদ নাহি চোখে তাঁর”- এখানে ‘তাঁর’ কে?
উত্তর: বাদশা বাবর।

৪৮। “মরণ-অন্ধকার” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মৃত্যুর নিকটবর্তী অবস্থা।

৪৯। হুমায়ুন কে ছিলেন?
উত্তর: বাবরের পুত্র ও পরবর্তী মুঘল সম্রাট।

৫০। “চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে”- ‘তার’ কে?
উত্তর: হুমায়ুন।

৫১। ‘ফুকারি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: চিৎকার করে।

৫২। হুমায়ুনের চিকিৎসার জন্য কারা এসেছিলেন?
উত্তর: হেকিম, কবিরাজ ও দরবেশ।

৫৩। “ব্যবস্থা সবিশেষ” অর্থ কি?
উত্তর: পূর্ণ চিকিৎসা পরামর্শ।

৫৪। “দুরন্ত রোগ” কি বোঝায়?
উত্তর: মৃত্যুর অপ্রতিরোধ্য শক্তি।

৫৫। “জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে”- এখানে কার জীবনের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: হুমায়ুনের।

৫৬। “অন্তরবির প্রায়” বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রায় নিভে যাওয়া।

৫৭। বাবর চিকিৎসকদের কী জিজ্ঞাসা করেছিলেন?
উত্তর: হুমায়ুনের রোগ থেকে মুক্তি মিলবে কি না।

৫৮। ‘ধেয়ানে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ধ্যানে।

৫৯। “নিষ্ঠুর নীরবতা” কবিতায় কি প্রকাশ করে?
উত্তর: কারণ এটি হুমায়ুনের মৃত্যুই নির্দেশ করছিল।

৬০। “ব্যগ্রকণ্ঠে” বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: উদ্বেগপূর্ণ কণ্ঠে।

৬১। চিকিৎসকদের নীরবতা কী প্রকাশ করে?
উত্তর: হুমায়ুনের মৃত্যু অনিবার্য।

৬২। দরবেশ বাবরকে কী পরামর্শ দেন?
উত্তর: সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন দান করতে।

৬৩। ‘সুপ্তিমগ্ন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ঘুমে অচেতন।

৬৪। বাবর দরবেশের প্রস্তাবে কী সিদ্ধান্ত নেন?
উত্তর: তিনি কোরবানি দিতে রাজি হন।

৬৫। বাবর কোথায় প্রার্থনা করেছিলেন?
উত্তর: নিরিবিলি গৃহতলে।

৬৬। বাবর আল্লাহর কাছে কী চেয়েছিলেন?
উত্তর: নিজের প্রাণের বিনিময়ে পুত্রের প্রাণ।

৬৭। “স্তব্ধ-নীরব গৃহতল”- এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

৬৮। কবিতায় কোন মুঘল সম্রাটের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বাবর ও হুমায়ুন।


জীবন বিনিময় কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন কেন?

উত্তরঃ বাদশা বাবর যখন চিকিৎসকদের কাছে জানতে চান, তার পুত্র হুমায়ুন কি বাঁচবে, তখন তারা চুপ করে থাকেন। এই নীরবতা বোঝায় যে, হুমায়ুনের বাঁচার আশা নেই। বাবর ভীষণ ব্যথা অনুভব করেন, কারণ চিকিৎসকদের কোনো উত্তর না দেওয়াই তার জন্য সবচেয়ে কঠিন সত্য প্রকাশ করে। তাই, কবি নীরবতাকে ‘নিষ্ঠুর’ বলেছেন, কারণ এটি বাবরের মনে মৃত্যুর ভয় আরও গভীরভাবে বসিয়ে দেয়।


২। “জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অন্তরবির প্রায়” – ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ এখানে ‘জীবন-প্রদীপ’ বলতে মানুষের জীবনকে একটি জ্বলন্ত দীপশিখার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ‘নিভিয়া আসিছে’ অর্থ হলো, সেই দীপশিখা ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে, অর্থাৎ হুমায়ুন মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ‘অন্তরবির প্রায়’ বলতে বোঝানো হয়েছে, সে যেন শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় আছে। কবি এই উপমার মাধ্যমে হুমায়ুনের সংকটজনক অবস্থাকে বোঝাতে চেয়েছেন।


৩। “নিদ নাহি চোখে তাঁর।” – ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ এই পঙ্‌ক্তির অর্থ হলো, বাদশা বাবরের চোখে ঘুম নেই। তার প্রিয় পুত্র হুমায়ুনের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। বাবর চিন্তিত ও শোকাহত, তাই ঘুম তার চোখের কাছে ভিড়তে পারে না। পুত্রকে বাঁচানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও অসহায়ত্বই তাকে জাগিয়ে রাখে।


৪। কেন বাদশা বাবর শান্ত ও অচঞ্চল হয়ে বসেন? – ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ বাদশা বাবর উপলব্ধি করেন যে, নিজের প্রাণই তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি আল্লাহর দরবারে তিনি তার নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, তবে হুমায়ুনের জীবন রক্ষা পাবে। তাই, তিনি ধ্যানে মগ্ন হয়ে, শান্ত ও অচঞ্চল হয়ে আল্লাহর কাছে প্রাণ বিসর্জনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চান। তার এই আত্মত্যাগ ও গভীর বিশ্বাসই কবিতার মূল ভাবকে প্রকাশ করে।


৫। রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম কবিরাজ কেন ব্যতিব্যস্ত ছিলেন?

উত্তরঃ সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। রাজ্যের সেরা চিকিৎসক, কবিরাজ এবং দরবেশরা তাকে সুস্থ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন। তারা বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। তবুও হুমায়ুনের অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না, বরং সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। পুত্রের জীবন বিপন্ন দেখে বাদশা বাবর চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাই, রাজ্যের সব চিকিৎসক ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠেন হুমায়ুনকে বাঁচানোর জন্য।


৬। বাদশা বাবর পুত্রের চারপাশে ঘুরতে লাগলেন কেন?

উত্তরঃ বাদশা বাবর যখন জানতে পারেন যে আল্লাহ তার প্রাণ উৎসর্গের বিনিময়ে হুমায়ুনের জীবন দান করেছেন, তখন তিনি আনন্দিত হন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে তার প্রার্থনা কবুল হয়েছে। এ বিশ্বাস থেকে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে হুমায়ুনের চারপাশে ঘুরতে থাকেন। এটি তার আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশের একটি প্রতীক। পাশাপাশি, এটি বোঝায় যে তিনি পুত্রের সুস্থতার লক্ষণ দেখতে আগ্রহী এবং আশাবাদী।


৭। বাদশা বাবর চোখে অন্ধকার দেখছিলেন কেন?

উত্তরঃ যখন বাবর জানতে পারেন যে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তখন তিনি চরম হতাশায় পড়েন। প্রিয় পুত্রের মৃত্যুর সম্ভাবনা তার কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। পিতার জন্য সন্তানের মৃত্যু ভাবাই সবচেয়ে কঠিন বিষয়। তিনি কেমন যেন অসহায় হয়ে পড়েন এবং তার চারপাশের পৃথিবী অন্ধকারময় বলে মনে হতে থাকে। তাই, কবি বলেছেন যে বাবরের চোখে অন্ধকার নেমে এসেছিল।


৮। বাদশা বাবরের ছেলে কীভাবে সুস্থ হয়?

উত্তরঃ এক দরবেশ বাবরকে বলেন, যদি তিনি তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ আল্লাহর উদ্দেশ্যে দান করেন, তবে হুমায়ুন সুস্থ হবে। বাবর উপলব্ধি করেন যে তার নিজের জীবনই তার সবচেয়ে মূল্যবান ধন। তাই, তিনি আল্লাহর কাছে নিজের প্রাণ বিসর্জনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চান। আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করেন। এরপর বাবর নিজে অসুস্থ হয়ে পড়েন, আর হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।


৯। বাদশা বাবর কী কোরবানি দিতে প্রস্তুত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ হুমায়ুনের জীবন সংকটাপন্ন হলে এক দরবেশ বলেন, যদি সম্রাট তার সবচেয়ে মূল্যবান ধন আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেন, তবে হুমায়ুন বাঁচতে পারে। বাদশা বাবর বুঝতে পারেন, তার নিজের প্রাণই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই, তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের প্রাণ কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আল্লাহর দরবারে প্রাণ উৎসর্গের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চান। বাবরের এই আত্মত্যাগী মানসিকতা প্রমাণ করে যে, তিনি নিঃস্বার্থভাবে কোরবানি দিতে প্রস্তুত ছিলেন।


১০। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় মরণের পরাজয় ঘটেছে কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ মরণের পরাজয় বোঝানোর জন্য কবি দেখিয়েছেন, বাবর নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে তার পুত্রের জীবন বাঁচিয়েছেন। সাধারণত মৃত্যু চূড়ান্ত সত্য, কিন্তু বাবরের পিতৃস্নেহ এত গভীর ছিল যে, তার আত্মত্যাগ মৃত্যুকেও হার মানিয়েছে। বাবরের মৃত্যু হলেও তার আত্মত্যাগের কারণে হুমায়ুন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। এইভাবে, মৃত্যুকে জয় করে বাবর অমর হয়ে গেছেন। তাই, কবিতায় বলা হয়েছে যে পিতৃস্নেহের কাছে মরণের পরাজয় ঘটেছে।


১১। “গভীর ধেয়ানে বসিল বাবর শান্ত অচঞ্চল”- কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ যখন বাবর বুঝতে পারেন যে তার নিজের জীবন উৎসর্গ করলেই হুমায়ুন বাঁচবে, তখন তিনি ধ্যানে মগ্ন হন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তার জীবন নিয়ে হুমায়ুনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, তার এই আত্মত্যাগ আল্লাহ গ্রহণ করবেন। তাই, তিনি শান্ত ও অচঞ্চল হয়ে ধ্যান করেন এবং নিজের ভাগ্য আল্লাহর ইচ্ছার হাতে সঁপে দেন।


১২। “হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করিল শয্যা সে মরণের”- কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ যখন বাবর নিশ্চিত হন যে তার প্রাণ উৎসর্গের বিনিময়ে হুমায়ুন সুস্থ হয়ে উঠছে, তখন তিনি আনন্দিত হন। তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে গ্রহণ করেন, কারণ তার আত্মত্যাগ সফল হয়েছে। একজন পিতা হিসেবে সন্তানের জীবন রক্ষা করতে পেরে তিনি পরিতৃপ্ত ছিলেন। তাই, তিনি দুঃখিত না হয়ে আনন্দের সঙ্গে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন। এই আত্মত্যাগই তাকে মহান করেছে এবং মৃত্যুকে জয়ী করে তুলেছে।


১৩। কেন সবাই নত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকলেন?- ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ সম্রাট বাবর যখন জানতে চান, তার পুত্র হুমায়ুন সুস্থ হবে কি না, তখন চিকিৎসকরা কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তারা জানতেন যে হুমায়ুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু তারা সরাসরি এই কঠিন সত্যটি বাবরকে বলতে পারেননি। তাই, সবাই নীরবে নত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তাদের এই নীরবতা বাবরের জন্য আরও কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে, কারণ নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক নির্মম বাস্তবতা।


১৪। কার চারি ধারে মরণ অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ কবিতায় বলা হয়েছে যে, বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুনের চারপাশে মরণ-অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। তার ভয়ংকর অসুস্থতা ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। চিকিৎসকরা ব্যর্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং দিন যত গড়াচ্ছিল, হুমায়ুনের অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছিল। বাবরও বুঝতে পারছিলেন যে, তার পুত্র হয়তো আর বেশি দিন বাঁচবে না। তাই, কবি এখানে ‘মরণ-অন্ধকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন, যা বোঝায় যে হুমায়ুনের জীবনপ্রদীপ নিভে আসছিল।


১৫। আকাশে বাতাসে কীসের কানাকানি? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ যখন বাদশা বাবর নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে পুত্রের জীবন চাইলেন, তখন প্রকৃতিতে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। মনে হয়, আকাশ-বাতাসেও যেন এক অদৃশ্য কথোপকথন চলছে। এই ‘কানাকানি’ বলতে বোঝানো হয়েছে এক রহস্যময় অনুভূতি, যেখানে প্রকৃতি যেন বাবরের আত্মত্যাগের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিল। এটি আসলে পিতার অসীম ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং অলৌকিক ঘটনার পূর্বাভাসের ইঙ্গিত দেয়।


১৬। “সেবাযত্নের বিধিবিধানের ত্রুটি নাহি এক লেশ” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তরঃ কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, হুমায়ুনের চিকিৎসার জন্য কোনো ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি করা হয়নি। রাজ্যের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক, কবিরাজ এবং দরবেশরা তাকে সুস্থ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। উন্নত চিকিৎসা, যত্ন এবং ওষুধ—সবকিছুই যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবুও হুমায়ুন সুস্থ হচ্ছিল না, যা চিকিৎসকদের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। তাই, কবি বলেছেন যে, সেবাযত্নের কোনো ঘাটতি ছিল না, কিন্তু ভাগ্যের লিখন পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।


১৭। “প্রার্থনা মোর কবুল করেছে আল্লাহ যে দয়াময়” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তরঃ বাদশা বাবর যখন নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চাইলেন, তখন তিনি বিশ্বাস করতেন যে আল্লাহ তার প্রার্থনা গ্রহণ করবেন। কিছুক্ষণ ধ্যানে বসার পর বাবর হঠাৎই আনন্দিত হয়ে ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেছেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তার আত্মত্যাগের বিনিময়ে হুমায়ুন সুস্থ হয়ে উঠবে। কবির এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, বাবরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ অলৌকিকভাবে ফলপ্রসূ হয়।


১৮। দিনের পর দিন হুমায়ুনের দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ার কারণ কী?

উত্তরঃ হুমায়ুন এক কঠিন ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। রাজ্যের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক ও কবিরাজরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে সুস্থ করতে পারছিলেন না। তার অসুস্থতা ধীরে ধীরে আরও গুরুতর হতে থাকে, এবং কোনো ওষুধ-চিকিৎসাই কাজ করছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দুর্ভোগও বাড়তে থাকে, কারণ শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি মৃত্যুর ছায়া তাকে গ্রাস করছিল। কবি এটিকে ‘মরণ-অন্ধকার’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা বোঝায় যে তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে আশার আলো ক্ষীণ হয়ে আসছিল।


১৯। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার প্রতিপাদ্য বিষয় কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূল প্রতিপাদ্য হলো পিতার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ। কবিতায় দেখা যায়, বাদশা বাবর নিজের সবচেয়ে মূল্যবান ধন—নিজের জীবন—আল্লাহর কাছে উৎসর্গ করেন, যেন তার পুত্র হুমায়ুন বেঁচে যায়। এই ঘটনা বোঝায় যে, একজন পিতা সন্তানের জন্য যে কোনো আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকেন। বাবরের আত্মত্যাগ ও বিশ্বাসের কারণে হুমায়ুন নতুন জীবন পায়, যা এই কবিতার মূল বার্তা। তাই, কবিতাটি আত্মত্যাগ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মরণকে জয় করার কাহিনি তুলে ধরে।


২০। মরণ কীভাবে পরাজিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ মরণকে পরাজিত করা সম্ভব হয় বাবরের আত্মত্যাগের মাধ্যমে। যখন হুমায়ুনের মৃত্যু নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, তখন বাবর নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, তার আত্মত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ হুমায়ুনকে বাঁচিয়ে দেবেন। অলৌকিকভাবে বাবরের প্রার্থনা কবুল হয়, এবং হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। বাবর নিজে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেও তার আত্মত্যাগ হুমায়ুনের জীবন রক্ষা করে। এইভাবে, পিতার ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কাছে মৃত্যু পরাজিত হয়।


২১। চিকিৎসার পরেও শাহজাদার অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তরঃ শাহজাদা হুমায়ুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, এবং রাজ্যের সেরা চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছিলেন। তারা সব ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা প্রয়োগ করলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাচ্ছিল। তার শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল, এবং জীবন প্রদীপ নিভে আসছিল। চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কারণ কোনো চিকিৎসাই কাজ করছিল না। তার চারপাশে মরণ-অন্ধকার ঘনিয়ে আসছিল, যা বুঝিয়ে দেয় যে মৃত্যু তার একেবারে কাছাকাছি ছিল।


২২। চিকিৎসকদের নীরবতা বাবরের বুকে শেলের মতো বিঁধে কেন?

উত্তরঃ বাদশা বাবর যখন চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসা করেন, তার পুত্র সুস্থ হবে কি না, তখন তারা চুপ করে থাকেন। তাদের নীরবতা আসলে এই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, হুমায়ুনের আর বাঁচার সম্ভাবনা নেই। বাবর এর উত্তর আশা করলেও চিকিৎসকরা কিছু না বলে নীরব থাকেন, যা তার মনে গভীর কষ্টের সৃষ্টি করে। এই নীরবতাই বাবরের মনে শেলের মতো বিঁধে যায়, কারণ তিনি বুঝতে পারেন যে তার প্রিয় পুত্রকে তিনি হয়তো হারাতে চলেছেন। চিকিৎসকদের মুখের কথা না শোনা গেলেও, তাদের নীরবতাই বাবরকে কঠিন সত্যটি বুঝিয়ে দেয়।


২৩। দরবেশ বাদশাকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ একজন দরবেশ বাদশা বাবরকে বলেন, যদি তিনি তার সবচেয়ে মূল্যবান ধন দান করেন, তাহলে তার পুত্র সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। দরবেশের মতে, এই কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহ খুশি হলে হুমায়ুনের জীবন বাঁচবে। তিনি আসলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বাবর যদি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, তাহলে হয়তো তার পুত্র বেঁচে যাবে। দরবেশের কথা শোনার পর বাবর বুঝতে পারেন যে, তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান ধন হলো তার নিজের প্রাণ। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চাইবেন।


২৪। দরবেশের কথা শুনে বাদশা কী বলেছিলেন?

উত্তরঃ দরবেশের কথা শোনার পর বাদশা বাবর বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন যে, যদি তার নিজের জীবন দিয়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়, তবে তিনি সেই কোরবানি দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান ধন তার নিজের জীবন, এবং সেটিই তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে দান করবেন। বাবর এক মুহূর্তের জন্যও নিজের সিদ্ধান্তে সন্দেহ প্রকাশ করেননি, কারণ তিনি পুত্রের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করতেন। তার মধ্যে কোনো ভয় ছিল না, বরং আত্মত্যাগের জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন।


২৫। দরবেশের কথায় রাজি হয়ে বাদশা কী করলেন?

উত্তরঃ দরবেশের পরামর্শ শুনে বাদশা বাবর গৃহতলে বসে গভীর ধ্যানে মগ্ন হন। তিনি শান্ত ও অচঞ্চল হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যাতে তার নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন বাঁচে। তিনি কেঁদে কেঁদে আল্লাহর দরবারে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার প্রার্থনা করেন। অলৌকিকভাবে তার প্রার্থনা কবুল হয়, এবং হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু বাবর নিজে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। তার এই আত্মত্যাগই প্রমাণ করে যে, একজন পিতা সন্তানের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন।


২৬। হঠাৎ “ভয় নেই” বলে বাবরের চিৎকারের কারণ কী?

উত্তরঃ বাদশা বাবর গভীর প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজের জীবন উৎসর্গ করে পুত্র হুমায়ুনের প্রাণ ভিক্ষা চান। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করছিলেন যে আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করবেন। হঠাৎ তিনি অনুভব করেন যে তার দোয়া কবুল হয়েছে এবং পুত্র সুস্থ হয়ে উঠবে। এই অনুভূতির আনন্দ ও আশ্বাস থেকে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে চিৎকার করে বলেন, “ভয় নেই, ভয় নেই!” তার মনে আর কোনো দ্বিধা বা শঙ্কা ছিল না। বাবর বিশ্বাস করলেন যে আল্লাহ দয়াময়, এবং হুমায়ুন আর মারা যাবে না।


২৭। “নিরাশ হৃদয় সে যেন আশার দৃপ্ত জয়োল্লাস” – চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ এই চরণটি বুঝিয়ে দেয় যে, বাবর শুরুতে পুত্রের জীবন নিয়ে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসকদের নীরবতা এবং হুমায়ুনের ক্রমশ অবনতিশীল অবস্থা তাকে হতাশ করে তুলেছিল। কিন্তু যখন তিনি অনুভব করলেন যে তার প্রার্থনা কবুল হয়েছে এবং হুমায়ুন সুস্থ হয়ে উঠবে, তখন তার মন একেবারে উজ্জীবিত হয়ে উঠল। তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়লেন, যেন বিজয় অর্জন করেছেন। এক সময় যে হৃদয় ছিল দুঃখে ভারাক্রান্ত, সেটিই এখন নতুন আশায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।


২৮। বাদশা বাবরের মৃত্যু হয় কীভাবে?

উত্তরঃ বাদশা বাবর আল্লাহর কাছে নিজের জীবন উৎসর্গ করার প্রার্থনা করেছিলেন, যাতে তার পুত্র হুমায়ুন বেঁচে যায়। অলৌকিকভাবে তার প্রার্থনা কবুল হয়, এবং হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু বাবর নিজে ক্রমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অবশেষে তিনি মারা যান। বাবরের মৃত্যু ছিল স্বেচ্ছায় আত্মত্যাগের ফল, কারণ তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে তার জীবন উৎসর্গ করলে তার পুত্র বেঁচে থাকবে।


২৯। “মরিয়া বাবর অমর হয়েছে, নাহি তার কোন ক্ষয়”- চরণটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর

উত্তরঃ এই চরণ দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, বাদশা বাবর শারীরিকভাবে মারা গেলেও তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। একজন পিতা হিসেবে তিনি যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বাবর নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন বাঁচিয়েছেন, যা তাকে অমর করেছে। প্রকৃত বীরত্ব শুধু যুদ্ধজয়ে প্রকাশ পায় না, কখনো কখনো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমেও তা প্রকাশিত হয়। বাবর তার আত্মত্যাগের মাধ্যমে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন মানুষের হৃদয়ে।


৩০। “পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়”- চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ এই চরণটি বোঝায় যে বাবরের পিতৃস্নেহ এতটাই গভীর ছিল যে তা মৃত্যুকেও পরাজিত করেছে। সাধারণত, মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী এবং কেউ মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। কিন্তু বাবর তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে পুত্রের জীবন বাঁচিয়েছেন। তার আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে একজন পিতা সন্তানের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত থাকেন। বাবরের মৃত্যু হলেও তার পুত্র হুমায়ুন বেঁচে গিয়েছে, যা দেখায় যে এক পিতার ভালোবাসা মৃত্যুর থেকেও শক্তিশালী হতে পারে।


Related Posts

Leave a Comment